অভিষেক-গিল ঝড় থামিয়ে শ্রীলংকা ম্যাচের সমান লক্ষ্য পেল বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক
আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ২২: ৫৩
ভারতীয়দের প্রথম ২ উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান রিশাদ হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

প্রথম ৩ ওভারে ভারতের দুই ওপেনারকে আটকে রেখেছিলেন তানজিম হাসান সাকিব ও নাসুম আহমেদ। ৩ ওভারে মাত্র একটি বাউন্ডারি, রান ১৭। থমথমে সে অবস্থা যে ঝড়ের পূর্বাভাস, সেটিই প্রমাণ করলেন ভারতের দুই ওপেনার অভিষেক শর্মা ও শুভমান গিল। পরের ৩ ওভারেই রান ৫৫।

ভারতীয় ওপেনারদের ব্যাটিংয়ে একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল রান ২০০’র ঘরে পৌঁছে যাবে সহজেই। সেখান থেকেই ‘ফাইট ব্যাক’ বাংলাদেশের বোলারদের। শুরুটা করেছিলেন রিশাদ হোসেন। বাকিদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সঙ্গে যুৎসই ফিল্ডিংয়ে শেষ পর্যন্ত ভারতকে ১৬৮ রানে বেঁধে রাখতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচে শ্রীলংকাকেও একই রানে আটকে দিয়ে ম্যাচ জিতেছিল টাইগাররা।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সুপার ফোরে নিজ নিজ দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ ও ভারত। নিয়মিত অধিনায়ক লিটনকে ইনজুরির কারণে হারিয়ে দলের নেতৃত্বে ছিলেন জাকের আলী। টসে জিতে বোলিং বেছে নেন, ভারতকে পাঠান ব্যাটিংয়ে।

তানজিম হাসান সাকিব প্রথম ওভারে দেন মাত্র ৩ রান। নাসুমের করা দ্বিতীয় ওভারে আসে ৭ রান। সাকিব টানা দ্বিতীয় ওভার করেন, তিনিও রান দেন ৭। ৩ ওভারে ১৭ রান দিয়ে বাংলাদেশি বোলাররা চেপে ধরেছিলেন দুই ভারতীয় ওপেনারকে।

চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে বাউন্ডারি আর দ্বিতীয় বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ইনিংসের গতিপথ বদলে দিতে শুরু করেন শুভমান গিল। শেষ বলে অভিষেকও ছক্কা হাঁকান। সব মিলিয়ে ২১ রান আসে ওই ওভার থেকে।

পরের দুটি ওভার করেন মোস্তাফিজুর রহমান ও সাইফুদ্দীন আহমেদ। দুজনেই রান দেন ১৭ করে। ৩ ওভার শেষে ১৭ রানে থাকা ভারত পাওয়ারপ্লে শেষ করে বিনা উইকেটে ৭২ রানে!

সপ্তম ওভারে রিশাদ হোসেন বোলিংয়ে এসে প্রথম বলেই বাউন্ডারি খান। তবে সাফল্যও আসে ওই ওভারেই। তানজিমের ম্যাচ বানিয়ে তৃতীয় ওভারে ফেরান গিলকে। অন্য পাশ থেকে পার্টটাইমার সাইফ হাসানও ২ রান দিয়ে চাপ তৈরি করেন। পরের ওভারে ফিরে প্রথম বলেই ওয়ান ডাউনে নামা শিভাম দুবেকে ফেরান রিশাদই।

পাওয়ারপ্লের পর দশম ওভার পর্যন্ত ভারতীয় ব্যাটারদের নিয়ন্ত্রণেই রেখেছিলেন টাইগার বোলাররা। ১০ ওভার শেষে ভারতের রান দাঁড়ায় ২ উইকেটে ৯৬। সাইফুদ্দিনের করা একাদশ ওভারেই অবশ্য আবারও ১৬ রান আসে। অভিষেক শর্মাকে যে কোনোভাবেই দমিয়ে রাখা যাচ্ছিল না।

অভিষেকের হাত থেকে শেষ পর্যন্ত মুক্তি মেলে দ্বাদশ ওভারের প্রথম বলে। মোস্তাফিজের করা বল ভারতীয় ক্যাপ্টেন সূর্যকুমার যাদব ঠেলে দিয়েছিলেন ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে। রিশাদ হোসেনের কিছুটা মিসফিল্ডিংয়ের সুযোগ রান নিতে এগিয়ে গিয়েছিলেন অভিষেক, তবে সময়মতো ফিরতে পারেননি। রানআউট হয়ে গেছেন।

ওই ওভারের শেষ বলেই সূর্যকে ড্রেসিং রুমে ফেরান মোস্তাফিজ। ২ রানে ২ উইকেটের ওভারটি বাংলাদেশকে অনেকটাই চাঙ্গা করে তোলে।

শেষের দিকে টাইগার বোলাররা আরও চেপে ধরে ভারতীয় ব্যাটারদের। একমাত্র হার্দিক পান্ডিয়া ছাড়া আর কেউই হাত খুলে খেলতে পারছিলেন না। ইনিংসের শেষ বলে পান্ডিয়াও আউট হয়ে যান। সব মিলিয়ে ভারতের ইনিংস থামে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৬৮ রানে।

৩৭ বলে ৭৫ রান করা অভিষেক শর্মা ভারতের সেরা ব্যাটার। আরেক ওপেনার গিলের সংগ্রহ ছিল ১৯ বলে ২৯ রান। এ ছাড়া হার্দিক করেন ২৯ বলে ৩৮ রান। অক্ষর প্যাটেল ১০ রান করলেও তার জন্য ১৫ বল খেলতে হয় তার। শিভাব দুবে, সূর্যকুমার আর তিলক ভার্সা এক অঙ্কে আউট হয়েছেন।

৩ ওভারে ২৭ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়ে সবচেয়ে সফল বাংলাদেশি বোলার রিশাদ হোসেন। একটি করে উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজ, তানজিম সাকিব ও সাইফুদ্দিন। তবে উইকেট না পেলেও ২ ওভারে ৭ রান দিয়ে ভারতের সংগ্রহ বেঁধে রাখতে ভূমিকা রেখেছেন পার্টটাইমার সাইফ হাসান।

ad
ad

খেলা থেকে আরও পড়ুন

ডাচ ম্যাজিকে বিধ্বস্ত সুইডেন

ব্রায়ান ব্রবি ও কোডি গাকপোর জোড়া গোলে সুইডেনকে ৫-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে টুর্নামেন্টে প্রথম জয় তুলে নিয়েছে রোনাল্ড কোম্যানের দল। এই জয়ে চার পয়েন্ট নিয়ে ‘এফ’ গ্রুপের শীর্ষে উঠে শেষ ৩২-এ ওঠার পথও অনেকটাই পরিষ্কার করেছে তারা।

১৭ ঘণ্টা আগে

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস

এ ম্যাচ জয়ের সঙ্গে নতুন ইতিহাসও হয়েছে। মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই প্রথম এলো একাধিক জয়। এর আগে কখনোই এক বিশ্বকাপে একাধিক জয় পায়নি বাংলাদেশ। আবার প্রথম তিন ম্যাচেই এলো দুই জয়।

১৮ ঘণ্টা আগে

পরের ম্যাচেই বিশ্বকাপে ফিরছেন নেইমার

অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। আগামী ২৫ জুন গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই বিশ্বকাপে ফিরতে যাচ্ছেন নেইমার।

১ দিন আগে

৬৫ সেকেন্ডেই গোল, তুরস্কের বিপক্ষে দাপুটে জয় ১০ জনের প্যারাগুয়ের

ম্যাচ শুরুর পরপরই আক্রমণে উঠে আসে প্যারাগুয়ে। তুরস্কের রক্ষণভাগকে অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলে মাত্র ৬৫ সেকেন্ডের মাথায় গোল করেন মাতিয়াস গালারজা। এটি এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম দ্রুততম গোল। এর আগে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মরক্কোর ইসমাইল সাইবারির ৭১ সেকেন্ডে গোল করেন।

১ দিন আগে