ইনজুরি টাইমের গোলে জাপানকে কাঁদিয়ে শেষ ১৬-তে ব্রাজিল

ক্রীড়া ডেস্ক
আপডেট : ৩০ জুন ২০২৬, ০১: ৪৩
জয়সূচক গোলের পর মার্টিনেলির উল্লাস। ছবি: সংগৃহীত

১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে গিয়েছিল ব্রাজিল। বিরতির পর সেই গোল শোধ করতে সময় লাগল মাত্র ১০ মিনিট। তারপর বারবার চেষ্টা করেও মিলছিল না গোলের দেখা। শেষ পর্যন্ত ৯০ মিনিট শেষ করে খেলা যখন অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের দিকে গড়াচ্ছিল, তখনই সব উত্তেজনার যবনিকা পতন।

৬ মিনিটের ইনজুরি টাইমের শেষ মিনিটে দারুণ ফিনিশিংয়ে ব্রাজিলকে জয়সূচক গোল এনে দিলেন গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি। জাপানের রক্ষণদুর্গ ভেঙে ২-১ গোলের জয় নিয়ে হেক্সা মিশনে ব্রাজিল উঠল শেষ ষোলোতে।

সোমবার (২৯ জুন) হিউস্টনে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় রাউন্ড অব ৩২-এর খেলায় জাপানের মুখোমুখি হয় ব্রাজিল। নেইমারকে ছাড়া আগের ম্যাচের অপরিবর্তিত একাদশই মাঠে নামিয়েছিলেন আনচেলত্তি। সে একাদশ প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি, উলটো ২৯ মিনিটের মাথায় গোল খেয়ে ব্যাকফুটে চলে যায়। প্রথমার্ধে শত চেষ্টা করেও সে গোল শোধ করতে পারেনি ব্রাজিল।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই মুহুর্মুহু আক্রমণে জাপানের রক্ষণভাগকে তটস্থ করে রাখেন ব্রাজিলিয়ানরা। ৫০ মিনিটের ঠিক পরে পরে দুটি অবিশ্বাস্য সেভ গোলবঞ্চিত করে ব্রাজিলকে। তবে ৫৫ মিনিটের মাথায় আর শেষ রক্ষা হয়নি। গ্যাব্রিয়েলের দারুণ এক চিপ থেকে হেডারে বল জালে জড়িয়ে দেন অভিজ্ঞ ক্যাসেমিরো। ১-১ গোলে সমতায় ফেরে ব্রাজিল।

সমতায় ফেরার পরও ব্রাজিলের আক্রমণের ধার কমেনি। ম্যাচের বেশির ভাগ সময়ই বল নিজেদের দখলে রেখে আক্রমণ অব্যাহত থাকে। তিন মিনিট পরেই ৫৮ মিনিটের মাথায় ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দারুণ এক শটে জিয়ন সুজুকি কোনোমতে হাত লাগালেও আটকাতে পারেননি। পরে তা গিয়ে গোলবারে লাগলে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হারায় ব্রাজিল।

এরপরও ব্রাজিল একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকে। কখনো জাপানের গোলরক্ষক সুজুকি, কখনো রক্ষণের বাকি খেলোয়াড়দের দৃঢ়তায় তার কোনোটিই ফল বয়ে আনেনি। এর মধ্যে ৯০ মিনিটের ঠিক পরপরই ক্যাসেমিরোকে মাঠ ছাড়তে হয় আঘাত নিয়ে।

৯০ মিনিটের খেলা শেষে ৩০ মিনিটের অতিরিক্ত খেলা গড়ানোর আগে ৬ মিনিট ইনজুরি টাইম দিয়েছিলেন রেফারি। ৫ মিনিটের খেলাও তখন শেষ। ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর অপেক্ষায়। এমন সময় আবার আক্রমণে ওঠে ব্রাজিল। গুইমারেসের বাড়ানো দারুণ এক পাস ডি-বক্সের মধ্যে পেয়ে যান ৬৫ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামা মার্টিনেলি। তড়িৎ গতিতে ফার পোস্ট বরাবর শট নিলে তা আর রুখতে পারেননি সুজুকি। গোটা স্টেডিয়ামে তখন হলুদের উল্লাস।

রেফারি অবশ্য আরও ৪ মিনিট খেলা চালিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু এর মধ্যে জাপান বল পেলেও সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধের বাকি সময়েও তারা কাউন্টার অ্যাটাকে বেশকিছু বল টেনে নিয়েছিল ব্রাজিলের ডি-বক্সে। কিন্তু ব্রাজিলের রক্ষণের সামনে বারবারেই খেই হারিয়ে ফেললে অ্যালিসন বেকারকে কোনো পরীক্ষাই দিতে হয়নি।

এর আগে প্রথমার্ধেও ব্রাজিল বল দখলে এগিয়ে ছিল। এগিয়ে ছিল আক্রমণেও। জাপান সুযোগ বুঝে ফাঁকে ফাঁকে আক্রমণের চেষ্টা চালিয়েছে। ২৯ মিনিটের মাথায় এমনই এক আক্রমণ চমকে দেয় ব্রাজিলকে।

মধ্যমাঠ পেরিয়ে বল পেয়ে গিয়েছিলেন কেইশু সানো। ক্যাসেমিরোকে কাটিয়ে বল নিয়ে সোজা এগিয়ে যান ডি-বক্স বরাবর। বক্সে ঢোকার আগ মুহূর্তেই দারুণ এক শটে বেকারকে পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে দেন। সে লিড শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলের সামনে যথেষ্ট প্রমাণিত হলো না।

এ ম্যাচ জয়ে শেষ ষোলোতে পৌঁছে গেল কার্লো আনচেলত্তির দল। বাংলাদেশ সময় ৫ জুলাই দিবাগত রাত ২টায় তারা মাঠে নামবে। প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হবে মঙ্গলবার রাতে হতে যাওয়া আইভরি কোস্ট ও নরওয়ের ম্যাচে।

ad
ad

খেলা থেকে আরও পড়ুন

বিশ্বকাপের নকআউটে উঠল যে ৩২ দল, দেখে নিন সময়সূচি

এখান থেকে জয়ী ১৬টি দল উঠবে শেষ ষোলোতে (রাউন্ড অব ১৬)। এরপর পর্যায়ক্রমে কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ শেষে আগামী ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল।

২ দিন আগে

গ্রুপে তৃতীয় হয়েও নকআউটে উঠল যে ৮ দল

১২ গ্রুপ থেকে তৃতীয় হওয়া ১২ দলের মধ্যে সাতটি দলের পয়েন্ট ছিল ৪। তারা সবাই নকআউটে কোয়ালিফাই করেছে। ৩ পয়েন্ট পাওয়া ৪ দলের মধ্যে গোল ব্যবধানে শেষ পর্যন্ত নকআউটে স্থান করে নিয়েছে আলজেরিয়া।

২ দিন আগে

ড্র করে নকআউটে আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়া, ইরানের স্বপ্নভঙ্গ

ম্যাচের ২৭ মিনিটে মার্কো আর্নাতোভিচের দুর্দান্ত গোলে প্রথমে এগিয়ে যায় অস্ট্রিয়া। তবে আলজেরিয়া সমতায় ফিরতে খুব বেশি সময় নেয়নি। প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে (৪৫ মিনিটে) রাফিক বেলঘালির গোলে সমতা ফেরায় তারা। ফলে ১-১ সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।

২ দিন আগে

টানা ৭ বিশ্বকাপ ম্যাচে গোলসহ ৩ রেকর্ড মেসির

বিশ্বকাপে রেকর্ড যেন লিওনেল মেসির নিত্যসঙ্গী। জর্ডানের বিপক্ষে ফ্রি-কিক থেকে গোল করে আরেকটি অনন্য কীর্তি গড়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা সাতটি ম্যাচে গোল করার রেকর্ড এখন শুধুই তার।

২ দিন আগে