হাল্যান্ডের গোলে আইভরি কোস্টকে হারিয়ে ব্রাজিলের মুখোমুখি নরওয়ে

ক্রীড়া ডেস্ক
আইভরি কোস্টের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করেন আর্লিং হাল্যান্ড। ছবি: সংগৃহীত

শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চলেছে। আইভরি কোস্ট সমতায় ফিরেছিল দুর্দান্ত এক গোলে, ম্যাচ গড়াচ্ছিল অতিরিক্ত সময়ের দিকে। কিন্তু ম্যানসিটি তারকা আর্লিং হাল্যান্ড ভাবছিলেন অন্য কথা। ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে গোল করে বসেন তিনি।

তার এ জয়সূচক গোলে আইভরি কোস্টকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় তুলে নিয়েছে নরওয়ে, উঠ গেছে শেষ ষোলোতে। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।

এই গোলের মাধ্যমে নরওয়ের জার্সিতে টানা ১৩টি প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোল করার অনন্য কীর্তিও গড়েছেন হাল্যান্ড। বিশ্বকাপেও নিজের গোলসংখ্যা নিয়ে গেলেন ৫-এ। তবে ম্যাচ জুড়ে শুধু হাল্যান্ড নন, নরওয়ের আন্তোনিও নুসা ও আইভরি কোস্টের আমাদ দিয়ালোও নিজেদের অসাধারণ নৈপুণ্যে ম্যাচটিকে জমিয়ে তুলেছিলেন।

বিশ্বকাপের আগে নরওয়ের কোচ স্টলে সলবাক্কেন কঠিন সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে তিনি হাল্যান্ডসহ প্রায় পুরো প্রথম একাদশকে বিশ্রাম দিয়েছিলেন। অনেকেই সেই সিদ্ধান্তকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেছিলেন। তবে সলবাক্কেন বলেছিলেন, এই সিদ্ধান্তের সাফল্য-ব্যর্থতা নির্ধারণ হবে নকআউট ম্যাচের ফলেই। শেষ পর্যন্ত আইভরি কোস্টকে হারিয়ে তার সেই সিদ্ধান্তই সঠিক প্রমাণিত হলো।

ম্যাচের শুরুতে বলের দখলে এগিয়ে ছিল আইভরি কোস্ট। কোচ এমার্স ফায়ে দলকে রক্ষণাত্মক ৪-১-৪-১ ছকে সাজালেও আক্রমণে কাঙ্ক্ষিত ধার আনতে পারেননি। বরং নিকোলা পেপের নেতৃত্বে উইং দিয়ে বেশ কয়েকবার আক্রমণ গড়লেও পরিষ্কার সুযোগ খুব বেশি তৈরি করতে পারেনি আফ্রিকার দলটি। প্রথমার্ধে তাদের সেরা সুযোগটি নষ্ট করেন পেপেই, যখন ইয়ান দিয়োমান্দের ক্রস থেকে ভলিতে লক্ষ্যভ্রষ্ট হন।

এরই মধ্যে ৩৯তম মিনিটে ম্যাচে এগিয়ে যায় নরওয়ে। অধিনায়ক মার্টিন ওদেগার্ডের বাড়ানো বল বাম প্রান্তে পেয়ে বক্সের ভেতরে ঢুকে ডান পায়ের দুর্দান্ত বাঁকানো শটে বল জালে জড়ান ২১ বছর বয়সী আন্তোনিও নুসা। হাল্যান্ডের ছায়ায় থাকা এই তরুণ উইঙ্গারের অসাধারণ গোলেই বিরতিতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় নরওয়ে।

দ্বিতীয়ার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর আক্রমণে গতি আনতে আমাদ দিয়ালোকে মাঠে নামান ফায়ে। বদলি হিসেবে নেমেই ম্যাচের চেহারা বদলে দেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই উইঙ্গার। ৭৪তম মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে এক-দুই পাস খেলে চার নরওয়েজিয়ান ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিচু শটে গোল করে সমতা ফেরান তিনি। এর কয়েক মিনিট আগেই নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দলের রক্ষাকর্তার ভূমিকাও পালন করেছিলেন আমাদ। গোললাইন থেকে টরবইর্ন হেগেমের ভলি ক্লিয়ার করে ম্যাচে আইভরি কোস্টকে টিকিয়ে রাখেন তিনি।

সমতাসূচক গোলের পর ম্যাচে গতি বেড়ে যায়। মনে হচ্ছিল অতিরিক্ত সময়ই অপেক্ষা করছে দুই দলের জন্য। কিন্তু শেষ হাসি হাসেন হাল্যান্ড। ৮৬তম মিনিটে প্যাট্রিক বার্গের কাটব্যাক থেকে ছয় গজের মধ্যে কিছুটা অপ্রস্তুত অবস্থায় শট নিলেও বল জালে পাঠাতে ভুল করেননি ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার। নিখুঁত না হলেও সেটিই হয়ে ওঠে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণকারী মুহূর্ত।

যোগ করা সময়ে আবারও হুমকি তৈরি করেন আমাদ। তার দারুণ এক ফ্রি-কিক অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক অরইয়ান নিল্যান্ড। সেই সেভের পরই নিশ্চিত হয় নরওয়ের ঐতিহাসিক জয়।

বিশ্বকাপে এর আগে কখনো নকআউট পর্বে জয়ের স্বাদ পায়নি নরওয়ে। ১৯৩৮ ও ১৯৯৮— দুবারই বিদায় নিতে হয়েছিল ইতালির কাছে। এবার ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেই সে অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে শেষ ষোলোতে উঠেছে ইউরোপের দলটি। অন্যদিকে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আইভরি কোস্ট আরেকটি সাহসী লড়াই উপহার দিলেও বিদায় নিতে হয়েছে শেষ ৩২ থেকেই।

এখন নরওয়ের সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা। শেষ ষোলোতে তাদের প্রতিপক্ষ ব্রাজিল। হাল্যান্ড-ওদেগার্ডদের স্বপ্নযাত্রা অব্যাহত থাকবে, নাকি ব্রাজিলই থামিয়ে দেবে সেই পথচলা— সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।

ad
ad

খেলা থেকে আরও পড়ুন

জার্মানদের স্তব্ধ করে শেষ ১৬-তে প্যারাগুয়ে

যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর টিকিটের এই লড়াইয়ে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে ১-১ সমতায় থাকার পর টাইব্রেকারে জিতে বিশ্বকাপের শেষ ১৬ নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টাইব্রেকারে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা পেল জার্মানি।

১ দিন আগে

ইনজুরি টাইমের গোলে জাপানকে কাঁদিয়ে শেষ ১৬-তে ব্রাজিল

৬ মিনিটের ইনজুরি টাইমের শেষ মিনিটে দারুণ ফিনিশিংয়ে ব্রাজিলকে জয়সূচক গোল এনে দিলেন গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি। জাপানের রক্ষণদুর্গ ভেঙে ২-১ গোলের জয় নিয়ে হেক্সা মিশনে ব্রাজিল উঠল শেষ ষোলোতে।

১ দিন আগে

নেইমারহীন ব্রাজিল পিছিয়ে পড়ল প্রথমার্ধেই

নকআউট মিশনেও নেইমারকে ছাড়াই মাঠে নেমছে ব্রাজিল। কার্লোস আনিচেলত্তির দল বলের দখল আর আক্রমণের ধারা অব্যাহত রেখেছিল। কিন্তু প্রথমার্ধেই গোল করে এগিয়ে গেছে এশিয়ার পরাশক্তি জাপান।

১ দিন আগে

সমালোচনায় কান দিচ্ছেন না অ্যানচেলোত্তি

দলকে ঘিরে সমালোচনা কিংবা প্রশংসা—কোনোটিকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন না কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তিনি বলেন, ‘অন্যরা কী বলছেন, সেটার পুনরাবৃত্তি আমরা করছি না। আমরা পুরোপুরি ম্যাচ, প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা এবং কীভাবে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে সমস্যাগুলো এড়ানো যায়—সেদিকেই মনোযোগ দিচ্ছি।

২ দিন আগে