কেপ ভার্দেকে নিয়ে সতর্ক স্কালোনি, বললেন ‘আসল লড়াই’ শুরু

ক্রীড়া ডেস্ক
আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। ছবি: সংগৃহীত

গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর এবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পা রাখছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শেষ ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে এসে ইতিহাস গড়া কেপ ভার্দে। তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষ হলেও তাদের হালকাভাবে নিতে মোটেও রাজি নন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। বরং তার মতে, এই ম্যাচ দিয়েই শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপের ‘আসল লড়াই’।

বাংলাদেশ সময় শনিবার (৪ জুলাই) ভোর ৪টায় কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। ম্যাচের আগে অনুশীলনের সময় স্কালোনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখনই শুরু আসল লড়াই। কেপ ভার্দে নকআউটে উঠেছে দেখে আমি অবাক হইনি। তারা প্রতিটি প্রতিপক্ষের জীবন কঠিন করে তুলেছে। তারা খুবই কঠিন দল এবং আমাদের জন্যও ম্যাচটা সহজ হবে না।’

আর্জেন্টিনা কোচ মনে করেন, কেপ ভার্দের গ্রুপ পর্বের পারফরম্যান্সই তাদের সামর্থ্যের বড় প্রমাণ।

‘তারা স্পেনকে হতাশ করেছে, যে দলকে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট ধরা হচ্ছে। উরুগুয়ে তাদের হারাতে পারেনি, সৌদি আরবও পারেনি। এই বিশ্বকাপে আমরা যা দেখেছি, তাতে আমাদের খুব সতর্ক থাকতে হবে। তারা ভালো ফুটবল খেলে, তাদের দলে মানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছে, তারা দ্রুতগতির এবং প্রতিপক্ষকে ভোগাতে জানে,’— বলেন স্কালোনি।

বিশ্বকাপে এবার কেপ ভার্দের যাত্রা সত্যিই চমকপ্রদ। অভিষেক আসরেই তারা গ্রুপ পর্বে সাবেক চ্যাম্পিয়ন ও এবারের আসরের অন্যতম ফেবারিট স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে টুর্নামেন্ট শুরু করে।

এরপর দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে আরও বড় চমক দেখায়। শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষেও গোলশূন্য ড্র করে গ্রুপ এইচ-এর রানার-আপ হিসেবে শেষ ৩২ নিশ্চিত করে আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটি।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনা গ্রুপ পর্বে নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখেই নকআউটে উঠেছে। উদ্বোধনী ম্যাচে আলজেরিয়াকে মেসির হ্যাটট্রিকে ৩-০ ব্যবধানে হারানোর পর দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও জয় পায় মেসিরই জোড়া গোলে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানকে হারিয়ে শতভাগ জয় নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

তবে গ্রুপ পর্বের সাফল্যে আত্মতুষ্ট হওয়ার কোনো সুযোগ দেখছেন না স্কালোনি।

তিনি বলেন, ‘আমি আজও ঠিক সেই অনুভূতিই পাই, যেটা কোচ হিসেবে প্রথম দিন পেয়েছিলাম। প্রীতি ম্যাচ হোক বা বিশ্বকাপের ফাইনাল— প্রতিটি ম্যাচের আগে পেটে একটা চাপ অনুভব হয়। আমাদের কোচিং স্টাফ সব সময় বলে, সহজ কোনো ম্যাচ নেই। যেদিন এই অনুভূতি থাকবে না, সেদিনই সমস্যা শুরু হবে।’

আর্জেন্টিনা কোচের মতে, নকআউট পর্বে সাফল্যের একমাত্র উপায় হলো নিজেদের খেলার ধারা ধরে রাখা।

স্কালোনি বলেন, ‘আমরা আত্মতুষ্ট হতে পারি না। আমাদের একইভাবে খেলতে হবে এবং প্রতিটি ম্যাচে সর্বোচ্চটা দিতে হবে। আর্জেন্টিনার এই জার্সি সেটাই দাবি করে। এর অর্থ হলো নিজের সেরাটা খেলতে হবে এবং সব সময় জয়ের চেষ্টা করতে হবে। এই দল সেই মানসিকতাই ধারণ করে। আমি যত দিন কোচ থাকব, এই দর্শন বদলাবে না। আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা সবসময় এই জার্সির মর্যাদা রেখেছে, আমি শুধু চাই তারা মাঠে সেটাই দেখিয়ে যাক।’

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তাই কাগজে-কলমে ফেবারিট আর্জেন্টিনা হলেও প্রতিপক্ষকে একটুও হালকাভাবে নিতে রাজি নন স্কালোনি। তার বিশ্বাস, ইতিহাস গড়ে শেষ ৩২-এ ওঠা কেপ ভার্দে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের সামনেও কঠিন পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

ad
ad

খেলা থেকে আরও পড়ুন

নকআউটের জয় উদ্‌যাপনের সময় মেক্সিকো সিটিতে নিহত ৩

স্বাগতিক দেশ হিসেবে এস্তাদিও আজতেকায় অর্জিত এই জয়ের পর সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে পুরো রাজধানীতে। মেক্সিকো সিটির স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, রাজধানীর অন্যতম প্রধান সড়ক পাসেও দে লা রিফর্মা ও এর আশপাশের এলাকায় উদ্‌যাপনের জন্য যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সেই এলাকাতেই তিনটি ভিন্ন স্থানে অচেতন অবস্থায়

১ দিন আগে

৪০ বছরের অপেক্ষার অবসান, ইকুয়েডরকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় মেক্সিকো

চার দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটাল মেক্সিকো। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানা ৪০ বছর জয়ের দেখা না পাওয়া স্বাগতিকরা শেষ ৩২ দলের ম্যাচে ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে জায়গা করে নিয়েছে শেষ ষোলোয়। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে বুলগেরিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর এবারই প্রথম নকআউট পর্বে জয়ের স্বাদ পেল মেক্সিকানরা।

১ দিন আগে

ফের জিতল নরওয়ে, ফিরল ‘ভাইকিং রো’, কেন জলদস্যুদের এ উদ্‌যাপন

২৮ বছর পর বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়েই প্রথমবারের মতো নকআউটে জয় তুলে নিয়েছে নরওয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস স্টেডিয়ামে আইভরি কোস্টকে হারিয়ে আর্লিং হাল্যান্ড-মার্টিন ওডেগার্ডরা মাতলেন বুনো উল্লাসে। মাঠ ঘুরে উইনিং ল্যাপও দিলেন। সেই সঙ্গে সঙ্গে ফের ফিরিয়ে আনলেন ‘ভাইকিং রো’।

২ দিন আগে

সুইডেনকে উড়িয়ে শেষ ষোলোয় ফ্রান্স, প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে

বিরতির পর সুইডেন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মাইগনানকে তেমন কোনো কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি। উল্টো ৫৩তম মিনিটে সুইডিশ রক্ষণভাগকে বোকা বানিয়ে ব্যবধান ২-০ করেন ফ্রান্সের তরুণ ফরোয়ার্ড ব্র্যাডলি বারকোলা। দুই গোলে এগিয়ে থেকেও খেলার গতি কমায়নি ফ্রান্স, বরং একের পর এক আক্রমণে সুইডেনের

২ দিন আগে