
ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা পিছিয়ে পড়েছিল ১৫ মিনিটেই। ৫৮ মিনিটে এক গোল ভিএআর যাচাইয়ে বাতিল। ৬৭ মিনিটে আরও এক গোল। মোহাম্মদ সালাহর মিসরের কাছে ২-০ গোলে পিছিয়ে তখন আর্জেন্টিনা। সেখান থেকে মাত্র ১৩ মিনিটের ব্যবধানে তিন তিনটি গোল করে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করলেন লিওনেল মেসিরা। ৩-২ ব্যবধানের জয় নিয়ে মিসর ফাঁড়া কাটিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা।
এই ১৩ মিনিটের মধ্যে প্রথম গোলটি এলো মেসির অ্যাসিস্ট আর ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর দুর্দান্ত হেড থেকে। নিজের সূচনা করা আক্রমণ থেকে মেসিই করলেন দ্বিতীয় গোল, প্রথম গোলের মাত্র ৪ মিনিট ১৮ সেকেন্ডের মাথায়। ৯ মিনিট পর লাউতারো মার্টিনেজের বাড়িয়ে দেওয়া বলে এনজো ফের্নান্দেসের হেডে বল জালে।
বিশ্বকাপে এই প্রথম ২ গোলে পিছিয়ে পড়েও জয় ছিনিয়ে নিল আলবিসেলেস্তেরা। হতাশায় পুড়ল মিসর। মোহাম্মদ সালাহ-জিকোদের মাঠ ছাড়তে হলো আর্জেন্টিনাকে ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২ গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে রেখেও ম্যাচ হারের ক্ষত নিয়ে।

বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত ১০টায় আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর ম্যাচে মিসরের মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা। আগের ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয়ের পর আর্জেন্টিনার খেলার কৌশল নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সে ম্যাচ থেকে তিনটি পরিবর্তন নিয়ে একাদশ সাজান লিওনেল স্কালোনি।
নতুন একাদশ নিয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবলই শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা। শুরুর দিকেই খুব সুস্পষ্ট না হলেও সুযোগও পেয়েছিল। কিন্তু সেগুলো কাজে লাগেনি। খেলার ধারার বিপরীতে বরং ১৫ মিনিটের মাথায় এগিয়ে যায় মিসর।
শর্ট কর্নার থেকে দারুণ এক আক্রমণ সাজায় সালাহর দল। বল পেয়ে চমৎকারভাবে বক্সে ক্রস বাড়ান মারওয়ান আত্তিয়া। সেখানে লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে পরাস্ত করে নিখুঁত টাইমিংয়ে লাফিয়ে উঠে ইয়াসের ইব্রাহিম হেড করে বল পাঠিয়ে দেন জালে। এমিলিয়ানো মার্টিনেজ সে হেড ঠেকাতে পারেননি। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মিসর।
চার মিনিট পরেই পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। মিসরের হাইসেম হাসান বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে গিয়ে বক্সের ভেতর ফাউল করে বসেন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়কে। রেফারি ফ্রঁসোয়া ল্যতেক্সিয়ে বাঁশি বাজিয়ে পেনাল্টির নির্দেশ দেন। স্পট কিক থেকে শট নেন মেসি। তার ডান দিকের নিচু কোণ ঘেঁষে নেওয়া শট দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবের। তাতে আর সমতায় ফেরা হয়নি আর্জেন্টিনার।

এরপর প্রথমার্ধের বাকি সময় মূলত মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেরের বীরত্বের গল্প। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে রীতিমতো চীনের প্রচীর হয়ে ওঠেন তিনি, যেন আগের ম্যাচের কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার পারফরম্যান্সের অ্যাকশন রিপ্লে!
ম্যাচের ২৮ মিনিটের মাথায় মিসরীয় ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে বক্সে আসা একটি চমৎকার ক্রসে হেড করেছিলেন আলেক্সিস ম্যাকআলিস্টার। জালের দিয়ে ধেয়ে যাওয়া হেডটি দারুণ রিফ্লেক্সে সেভ করেন মিসরের গোলরক্ষক শোবের।
তিন মিনিট পর আবারও সমতায় ফেরার সুযোগ আর্জেন্টিনার। ডি-বক্সের বেশ কিছুটা দূর থেকে বাঁ পায়ে এক দুর্দান্ত বুলেট গতির শট নিয়েছিলেন মেসি। এবার গোলরক্ষক শোবের পরাস্ত করলেও শটটি গিয়ে লাগে গোলবারে। সমতায় ফেরা হয়নি আলবিসেলেস্তেদের।
তবে ৩৯ মিনিটের মাথায় ফের শোবেরের ক্ষিপ্রতায় গোলবঞ্চিত আর্জেন্টিনা। রক্ষণ থেকে আসা দারুণ এক পাস খুঁজে নিয়েছিল লেফট উইংয়ে থাকা তালিয়াফিকোকে। দারুণ দক্ষতায় বল রিসিভ করে ডি-বক্সে ঠেলে দেন তিনি। দারুণ পজিশনে থাকা হুলিয়ান আলভারেজও নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শট নেন গোলপোস্টে। আবার শোবেরের অবিশ্বাস্য সেভ। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে কোনোমতে হাত দিয়ে বল ক্লিয়ার করেন তিনি।

আর্জেন্টিনা বঞ্চিত হয় প্রায় নিশ্চিত এক গোল থেকে। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে চাপ ধরে রেখেও গোল আদায় করে নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা। তাতে ১-০ গোলের লিড নিয়ে মিসর বিরতিতে যায়।
প্রথমার্ধে পিছিয়ে থেকে গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে দ্বিতীয়ার্ধে খেলা শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা। অলআউট খেলতে গিয়ে ৫৮ মিনিটে উলটো গোল খেয়ে বসে তারা। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে দারুণ আক্রমণ গড়ে মিসরকে ২-০ গোলে এগিয়ে দেন জিকো। মিসর যখন বুনো উল্লাসে মেতে উঠেছে, তখনই ছেদ পড়ে ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) হস্তক্ষেপে। ভিএআর চেক করে রেফারি সিদ্ধান্ত দেন, সে গোলের আক্রমণে যাওয়ার আগেই ফাউলের শিকার হয়েছিলেন আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। শেষ পর্যন্ত মিসরের গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি।
ভিএআরের কল্যাণে আর্জেন্টিনা স্বস্তি পেলেও তা স্থায়ী হয় মাত্র ৯ মিনিট। ম্যাচের ৬৭ মিনিটের মাথায় আর্জেন্টিনারই এক আক্রমণ ঠেকিয়ে বল ছিনিয়ে নিয়ে পালটা আক্রমণের সূচনা করেন মোহাম্মদ সালাহ। ডান প্রান্তে বল বাড়িয়ে দেন দুর্দান্ত খেলতে থাকা হাইসেম হাসানের কাছে। হাসান নিচু ক্রসে বল বাড়িয়ে দেন বক্সের মাঝখানে। এমি মার্টিনেজকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান সেই জিকো, যার গোল একটু আগেই বাতিল হয়েছে। এবার আর গোল বাতিলের কোনো সুযোগ ছিল না। ২-০ গোলে এগিয়ে উল্লাসে মেতে ওঠে লাল শিবির।
পরাজয়ের শঙ্কা আর কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কা তখন ঘিরে ধরেছে আর্জেন্টিনাকে। বারবার চেষ্টা করেও কোনো লাভ হচ্ছিল না। মিসরের ডিপ লো ব্লকের পাশাপাশি গোলরক্ষক শোবেরের বীরত্বে বারবারই গোলমুখ থেকে ফিরে আসতে হচ্ছিল মেসিদের। তাতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের হার্টবিট পাল্লা দিয়ে বাড়ছিল।

ম্যাচে আর্জেন্টিনা ‘লাইফলাইন’টা পায় ৭৯ মিনিটে। দল আক্রমণেই ছিল। কয়েকজন খেলোয়াড় ঘুরে ডি-বক্সের বাইরের ডান কোনায় দাঁড়িয়ে থাকা মেসির পায়ে যায় বল। ডান প্রান্ত থেকে দুর্দান্ত এক ক্রস ভাসিয়ে দেন তিনি। গোলের জন্য মরিয়া আর্জেন্টিনার রক্ষণ ছেড়ে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে তখন ডিফেন্ডার কুটি রোমেরো। মেসির হেড খুঁজে নেয় তাকে। জোরালো হেডে বল পাঠিয়ে দেন জালে। এবার শোবের ডাইভ দিলেও সে বল ঠেকানোর সাধ্য ছিল না।
৪ মিনিট ১৮ সেকেন্ড পর এবার গোল পেলেন মেসি নিজেই। আক্রমণের সূচনাও করেন তিনি। প্রথম শটটি ডি-বক্সের মাথায় দাঁড়ানো মিসরের একজন ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে মেসির পায়েই ফিরে আসে। মেসি আবারও ডান দিক থেকে ক্রস তোলেন। বলটি বেরিয়ে যাওয়ার মুখে লাউতারো ব্যাকহিল করে বলটি ডি-বক্সে ফিরিয়ে আনেন।
আলভারেজকে বলটি স্পর্শ করতে হয় গোলের বিপরীতমুখে। তার পায়ের স্পর্শে বলটি ডি-বক্সের মাঝামাঝি ফাঁকা জায়গায় চলে যায়। আলভারেজ আরও সামনে গিয়ে বলটি এবার ডান পায়ে নিচে নামিয়ে আনেন। ততক্ষণে মেসি চলে এসেছেন দৃশ্যপটে। তার সেই বাঁ পায়ের ট্রেডমার্ক ফিনিশিং শোবেরের হাতের পর ক্রসবার ছুঁয়ে খুঁজে নেয় জাল। ৪ মিনিটের ব্যবধানে ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা দলটি ২-২ গোলের সমতায় ফেরে।
সমতায় ফেরার পর আর্জেন্টিনা একটু গুছিয়ে আক্রমণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে। মিসরও তখন গোলের জন্য কিছুটা উঠে খেলার চেষ্টা করে। ৯০ মিনিটের শেষে তখন ইনজুরি টাইমের খেলা চলছে। যোগ করা সময়ের দেড় মিনিটের মাথায় মিসর আক্রমণে যায়। মোহাম্মদ সালাহ বল নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন। ডি-বক্সের মাথায় তার কাছ থেকে বল কেড়ে নেন আলভারেজ। বাঁ প্রান্ত থেকে একদম ডান প্রান্তে সামনের দিকে ছুটে যাওয়া লাউতারো মার্টিনেজের দিকে বাড়িয়ে দেন বল।

আক্রমণভাগে লাউতারো তখন একা। এদিকে হাফলাইন বরাবর দৌড়ে যাচ্ছিলেন এনজো ফের্নান্দেস। ডি-বক্সের বাম কোণে যখন লাউতারো, তখন ডি-বক্সে ঢোকার মুখে এনজো। তার সামনে কেবল মিসরের একজন ডিফেন্ডার। তবে লাউতারো ক্রস করলে এনজোই নেন নিখুঁত ক্রস। গোলরক্ষক শোবেরের চেয়ে চেয়ে বল জালে জড়িয়ে দেখা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না। ঘড়ির কাঁটায় তখন ৯০ মিনিট পেরিয়ে ইনজুরি টাইমের ১ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা আর্জেন্টিনা তখন ১৩ মিনিটের ব্যবদানে ৩-২ গোলে এগিয়ে!
অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের এই গল্প লিখে শেষ ষোলোর ধাক্কা পার হলো আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপে ২ গোলে পিছিয়ে থাকার পর এই প্রথম তারা জয় পেল। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে এনজোর করা গোলটি আর্জেন্টিনার ইতিহাসে সবচেয়ে দেরি করে পাওয়া জয়সূচক গোল। আর সেই গোলের হাত ধরেই কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেল মেসি অ্যান্ড কোং। সকালে কলম্বিয়া-সুইজারল্যান্ড ম্যাচের বিজয়ীদের মুখোমুখি হতে হবে তাদের কোয়ার্টার ফাইনালে।

বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা পিছিয়ে পড়েছিল ১৫ মিনিটেই। ৫৮ মিনিটে এক গোল ভিএআর যাচাইয়ে বাতিল। ৬৭ মিনিটে আরও এক গোল। মোহাম্মদ সালাহর মিসরের কাছে ২-০ গোলে পিছিয়ে তখন আর্জেন্টিনা। সেখান থেকে মাত্র ১৩ মিনিটের ব্যবধানে তিন তিনটি গোল করে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করলেন লিওনেল মেসিরা। ৩-২ ব্যবধানের জয় নিয়ে মিসর ফাঁড়া কাটিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা।
এই ১৩ মিনিটের মধ্যে প্রথম গোলটি এলো মেসির অ্যাসিস্ট আর ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর দুর্দান্ত হেড থেকে। নিজের সূচনা করা আক্রমণ থেকে মেসিই করলেন দ্বিতীয় গোল, প্রথম গোলের মাত্র ৪ মিনিট ১৮ সেকেন্ডের মাথায়। ৯ মিনিট পর লাউতারো মার্টিনেজের বাড়িয়ে দেওয়া বলে এনজো ফের্নান্দেসের হেডে বল জালে।
বিশ্বকাপে এই প্রথম ২ গোলে পিছিয়ে পড়েও জয় ছিনিয়ে নিল আলবিসেলেস্তেরা। হতাশায় পুড়ল মিসর। মোহাম্মদ সালাহ-জিকোদের মাঠ ছাড়তে হলো আর্জেন্টিনাকে ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২ গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে রেখেও ম্যাচ হারের ক্ষত নিয়ে।

বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত ১০টায় আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর ম্যাচে মিসরের মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা। আগের ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয়ের পর আর্জেন্টিনার খেলার কৌশল নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সে ম্যাচ থেকে তিনটি পরিবর্তন নিয়ে একাদশ সাজান লিওনেল স্কালোনি।
নতুন একাদশ নিয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবলই শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা। শুরুর দিকেই খুব সুস্পষ্ট না হলেও সুযোগও পেয়েছিল। কিন্তু সেগুলো কাজে লাগেনি। খেলার ধারার বিপরীতে বরং ১৫ মিনিটের মাথায় এগিয়ে যায় মিসর।
শর্ট কর্নার থেকে দারুণ এক আক্রমণ সাজায় সালাহর দল। বল পেয়ে চমৎকারভাবে বক্সে ক্রস বাড়ান মারওয়ান আত্তিয়া। সেখানে লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে পরাস্ত করে নিখুঁত টাইমিংয়ে লাফিয়ে উঠে ইয়াসের ইব্রাহিম হেড করে বল পাঠিয়ে দেন জালে। এমিলিয়ানো মার্টিনেজ সে হেড ঠেকাতে পারেননি। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মিসর।
চার মিনিট পরেই পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। মিসরের হাইসেম হাসান বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে গিয়ে বক্সের ভেতর ফাউল করে বসেন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়কে। রেফারি ফ্রঁসোয়া ল্যতেক্সিয়ে বাঁশি বাজিয়ে পেনাল্টির নির্দেশ দেন। স্পট কিক থেকে শট নেন মেসি। তার ডান দিকের নিচু কোণ ঘেঁষে নেওয়া শট দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবের। তাতে আর সমতায় ফেরা হয়নি আর্জেন্টিনার।

এরপর প্রথমার্ধের বাকি সময় মূলত মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেরের বীরত্বের গল্প। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে রীতিমতো চীনের প্রচীর হয়ে ওঠেন তিনি, যেন আগের ম্যাচের কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার পারফরম্যান্সের অ্যাকশন রিপ্লে!
ম্যাচের ২৮ মিনিটের মাথায় মিসরীয় ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে বক্সে আসা একটি চমৎকার ক্রসে হেড করেছিলেন আলেক্সিস ম্যাকআলিস্টার। জালের দিয়ে ধেয়ে যাওয়া হেডটি দারুণ রিফ্লেক্সে সেভ করেন মিসরের গোলরক্ষক শোবের।
তিন মিনিট পর আবারও সমতায় ফেরার সুযোগ আর্জেন্টিনার। ডি-বক্সের বেশ কিছুটা দূর থেকে বাঁ পায়ে এক দুর্দান্ত বুলেট গতির শট নিয়েছিলেন মেসি। এবার গোলরক্ষক শোবের পরাস্ত করলেও শটটি গিয়ে লাগে গোলবারে। সমতায় ফেরা হয়নি আলবিসেলেস্তেদের।
তবে ৩৯ মিনিটের মাথায় ফের শোবেরের ক্ষিপ্রতায় গোলবঞ্চিত আর্জেন্টিনা। রক্ষণ থেকে আসা দারুণ এক পাস খুঁজে নিয়েছিল লেফট উইংয়ে থাকা তালিয়াফিকোকে। দারুণ দক্ষতায় বল রিসিভ করে ডি-বক্সে ঠেলে দেন তিনি। দারুণ পজিশনে থাকা হুলিয়ান আলভারেজও নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শট নেন গোলপোস্টে। আবার শোবেরের অবিশ্বাস্য সেভ। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে কোনোমতে হাত দিয়ে বল ক্লিয়ার করেন তিনি।

আর্জেন্টিনা বঞ্চিত হয় প্রায় নিশ্চিত এক গোল থেকে। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে চাপ ধরে রেখেও গোল আদায় করে নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা। তাতে ১-০ গোলের লিড নিয়ে মিসর বিরতিতে যায়।
প্রথমার্ধে পিছিয়ে থেকে গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে দ্বিতীয়ার্ধে খেলা শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা। অলআউট খেলতে গিয়ে ৫৮ মিনিটে উলটো গোল খেয়ে বসে তারা। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে দারুণ আক্রমণ গড়ে মিসরকে ২-০ গোলে এগিয়ে দেন জিকো। মিসর যখন বুনো উল্লাসে মেতে উঠেছে, তখনই ছেদ পড়ে ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) হস্তক্ষেপে। ভিএআর চেক করে রেফারি সিদ্ধান্ত দেন, সে গোলের আক্রমণে যাওয়ার আগেই ফাউলের শিকার হয়েছিলেন আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। শেষ পর্যন্ত মিসরের গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি।
ভিএআরের কল্যাণে আর্জেন্টিনা স্বস্তি পেলেও তা স্থায়ী হয় মাত্র ৯ মিনিট। ম্যাচের ৬৭ মিনিটের মাথায় আর্জেন্টিনারই এক আক্রমণ ঠেকিয়ে বল ছিনিয়ে নিয়ে পালটা আক্রমণের সূচনা করেন মোহাম্মদ সালাহ। ডান প্রান্তে বল বাড়িয়ে দেন দুর্দান্ত খেলতে থাকা হাইসেম হাসানের কাছে। হাসান নিচু ক্রসে বল বাড়িয়ে দেন বক্সের মাঝখানে। এমি মার্টিনেজকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান সেই জিকো, যার গোল একটু আগেই বাতিল হয়েছে। এবার আর গোল বাতিলের কোনো সুযোগ ছিল না। ২-০ গোলে এগিয়ে উল্লাসে মেতে ওঠে লাল শিবির।
পরাজয়ের শঙ্কা আর কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কা তখন ঘিরে ধরেছে আর্জেন্টিনাকে। বারবার চেষ্টা করেও কোনো লাভ হচ্ছিল না। মিসরের ডিপ লো ব্লকের পাশাপাশি গোলরক্ষক শোবেরের বীরত্বে বারবারই গোলমুখ থেকে ফিরে আসতে হচ্ছিল মেসিদের। তাতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের হার্টবিট পাল্লা দিয়ে বাড়ছিল।

ম্যাচে আর্জেন্টিনা ‘লাইফলাইন’টা পায় ৭৯ মিনিটে। দল আক্রমণেই ছিল। কয়েকজন খেলোয়াড় ঘুরে ডি-বক্সের বাইরের ডান কোনায় দাঁড়িয়ে থাকা মেসির পায়ে যায় বল। ডান প্রান্ত থেকে দুর্দান্ত এক ক্রস ভাসিয়ে দেন তিনি। গোলের জন্য মরিয়া আর্জেন্টিনার রক্ষণ ছেড়ে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে তখন ডিফেন্ডার কুটি রোমেরো। মেসির হেড খুঁজে নেয় তাকে। জোরালো হেডে বল পাঠিয়ে দেন জালে। এবার শোবের ডাইভ দিলেও সে বল ঠেকানোর সাধ্য ছিল না।
৪ মিনিট ১৮ সেকেন্ড পর এবার গোল পেলেন মেসি নিজেই। আক্রমণের সূচনাও করেন তিনি। প্রথম শটটি ডি-বক্সের মাথায় দাঁড়ানো মিসরের একজন ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে মেসির পায়েই ফিরে আসে। মেসি আবারও ডান দিক থেকে ক্রস তোলেন। বলটি বেরিয়ে যাওয়ার মুখে লাউতারো ব্যাকহিল করে বলটি ডি-বক্সে ফিরিয়ে আনেন।
আলভারেজকে বলটি স্পর্শ করতে হয় গোলের বিপরীতমুখে। তার পায়ের স্পর্শে বলটি ডি-বক্সের মাঝামাঝি ফাঁকা জায়গায় চলে যায়। আলভারেজ আরও সামনে গিয়ে বলটি এবার ডান পায়ে নিচে নামিয়ে আনেন। ততক্ষণে মেসি চলে এসেছেন দৃশ্যপটে। তার সেই বাঁ পায়ের ট্রেডমার্ক ফিনিশিং শোবেরের হাতের পর ক্রসবার ছুঁয়ে খুঁজে নেয় জাল। ৪ মিনিটের ব্যবধানে ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা দলটি ২-২ গোলের সমতায় ফেরে।
সমতায় ফেরার পর আর্জেন্টিনা একটু গুছিয়ে আক্রমণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে। মিসরও তখন গোলের জন্য কিছুটা উঠে খেলার চেষ্টা করে। ৯০ মিনিটের শেষে তখন ইনজুরি টাইমের খেলা চলছে। যোগ করা সময়ের দেড় মিনিটের মাথায় মিসর আক্রমণে যায়। মোহাম্মদ সালাহ বল নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন। ডি-বক্সের মাথায় তার কাছ থেকে বল কেড়ে নেন আলভারেজ। বাঁ প্রান্ত থেকে একদম ডান প্রান্তে সামনের দিকে ছুটে যাওয়া লাউতারো মার্টিনেজের দিকে বাড়িয়ে দেন বল।

আক্রমণভাগে লাউতারো তখন একা। এদিকে হাফলাইন বরাবর দৌড়ে যাচ্ছিলেন এনজো ফের্নান্দেস। ডি-বক্সের বাম কোণে যখন লাউতারো, তখন ডি-বক্সে ঢোকার মুখে এনজো। তার সামনে কেবল মিসরের একজন ডিফেন্ডার। তবে লাউতারো ক্রস করলে এনজোই নেন নিখুঁত ক্রস। গোলরক্ষক শোবেরের চেয়ে চেয়ে বল জালে জড়িয়ে দেখা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না। ঘড়ির কাঁটায় তখন ৯০ মিনিট পেরিয়ে ইনজুরি টাইমের ১ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা আর্জেন্টিনা তখন ১৩ মিনিটের ব্যবদানে ৩-২ গোলে এগিয়ে!
অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের এই গল্প লিখে শেষ ষোলোর ধাক্কা পার হলো আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপে ২ গোলে পিছিয়ে থাকার পর এই প্রথম তারা জয় পেল। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে এনজোর করা গোলটি আর্জেন্টিনার ইতিহাসে সবচেয়ে দেরি করে পাওয়া জয়সূচক গোল। আর সেই গোলের হাত ধরেই কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেল মেসি অ্যান্ড কোং। সকালে কলম্বিয়া-সুইজারল্যান্ড ম্যাচের বিজয়ীদের মুখোমুখি হতে হবে তাদের কোয়ার্টার ফাইনালে।

বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত ১০টায় তথা আর ঘণ্টাখানেক পরেই আটলান্টায় শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এ ম্যাচে রক্ষণ, মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগে একটি করে পরিবর্তন দেখা যাবে।
৫ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনার পর ব্রাজিলের রেফারি রাফায়েল ক্লাউসের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানকে লাল কার্ড দেখানোর ঘটনাকে ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্কের পর গতকাল সোমবার ফিফা এ অবস্থান জানায়।
৮ ঘণ্টা আগে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যারা এবার বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক, তাদের হয়ে এখন পর্যন্ত তিনটি গোল করে দলের সবচেয়ে উজ্জ্বল খেলোয়াড় বালোগান। কিন্তু তিনি লাল কার্ড পেয়েছিলেন।
১৫ ঘণ্টা আগে
ট্রাম্প বললেন, তার কাছে বালোগানের লাল কার্ড খাওয়ার ঘটনাকে ফাউলই মনে হয়নি। তাই সে সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করতে অনুরোধ জানিয়েছিলেন ফিফা সভাপতিকে। তবে কোনোভাবেই এ বিষয়ে চাপ তৈরি করেননি বলেও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
১৬ ঘণ্টা আগে