ডারউইনে তৃতীয় দিন শেষে জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক
হাসান মাহমুদের বল স্টাম্পে টেনে নিয়ে ফের বোল্ড অজি ওপেনারের ট্রাভিস হেড। ছবি: সংগৃহীত

প্রথম দুই দিনের মতো নিরঙ্কুশ একক আধিপত্যটা থাকল না। বাংলাদেশের সঙ্গে এ দিন লড়াই করল অস্ট্রেলিয়াও। তবু তৃতীয় দিন শেষের ছবিটা বলছে, ডারউইন টেস্টে জয়ের ছবিটা বাংলাদেশের জন্য অনেকটাই স্পষ্ট।

১৫৩ রানের লিড নিয়ে দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। মেহেদি হাসান মিরাজের দায়িত্বশীলতার পাশাপাশি টেলএন্ডারদের দৃঢ়তায় সে লিড থামে ২২৮ রানে। এরপর আবার হাসান মাহমুদের তোপে দুই ওপেনার সাজঘরে৷ পরে তাইজুল ইসলাম আর মিরাজ যথাক্রমে মারনাস লাবুশেন আর স্টিভেন স্মিথের উইকেট তুলে নিলে বাংলাদেশের হাসিটা চওড়া হয়েছে।

দিন শেষের হিসাব বলছে, বাংলাদেশ ৪২৬ রানে অলআউট হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৬১ রান। বাংলাদেশ এখনো এগিয়ে ৬৭ রানে। চতুর্থ দিনে অস্ট্রেলিয়াকে এই ব্যবধান পেরিয়ে তবেই টার্গেট দিতে হবে বাংলাদেশকে। উইকেটে থাকা ক্যামেরন গ্রিন আর অ্যালেক্স ক্যারির পর বিউ ওয়েবস্টারই কেবল তাদের স্বীকৃত ব্যাটার হওয়ায় সে টার্গেট বাংলাদেশি বোলাররা নাগালের মধ্যেই রাখার চেষ্টা করবে। সেটি করতে পারলে ২৩ বছর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে গিয়েই জয়ের দেখা পাওয়াও অসম্ভব মনে হচ্ছে না একেবারেই।

দুই দিনের তুলনায় এদিন অস্ট্রেলিয়া ব্যাট ও বল দুই বিভাগেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। তার আগে সকালে শেষ চার উইকেটে আরও ৭৫ রান যোগ করে বাংলাদেশ। মূল কৃতিত্ব মেহেদী হাসান মিরাজের। তার ৬৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস এবং লোয়ার অর্ডারের প্রতিরোধ বাংলাদেশকে প্রথম ইনিংসে বড় লিড এনে দেয়।

অন্যদিকে জশ হ্যাজলউড ছিলেন দুর্দান্ত। তিনি একাই তুলে নেন ৬ উইকেট। এর মাধ্যনে তিনি স্পর্শ করেন টেস্ট ক্রিকেটে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ের ফলে বাংলাদেশের লিড থামে ২২৮ রানে। হ্যাজলউডের ৬ উইকেট ছাড়াও দুটি নেন মিচেল স্টার্ক। একটি করে নেন প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়ন।

দ্বিতীয় ইনিংসে নতুন বল হাতে বাংলাদেশের বোলাররা আবারও ত্রাস ছড়াতে থাকেন। আবারও হন্তারক হয়ে ওঠেন হাসান মাহমুদ। প্রথম ইনিংসের মতো এ ইনিংসেও ফিরিয়ে দেন দুই অজি ওপেনারকে। জ্যাক ওয়েদারাল্ডকে বোল্ড করেন ০ রানে। আগের ইনিংসের মতোই বল স্টাম্পে টেনে নিয়ে বোল্ড হন ট্রাভিস হেড, তার রান তখন ১৭।

মারনাস লাবুশেন (৩১) আর স্টিভেন স্মিথ (৪৪) সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ান। বড় জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়াকে পথ দেখাতে শুরু করেন। তবে শুরুটা ভালো করেও ইনিংস বড় করতে পারেননি দুজনের কেউই। লাবুশেন তাইজুলের শিকার হন। আর মিরাজের দুর্দান্ত বোলিংয়ে কাটা পড়েন স্মিথ।

ক্যামেরন গ্রিন আর অ্যালেক্স ক্যারি দিনের শেষ পর্যন্ত আর কোনো বিপদ হতে দেননি। গ্রিন ৪৩ রানে অপরাজিত, আর ক্যারি অপরাজিত ১৯ রানে। দুজনে অবিচ্ছিন্ন ৩৯ রানে। চতুর্থ দিনের শুরুতেই এই জুটি ভাঙার চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নামবেন হাসান-তাসকিনরা।

এই ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে ৩৩ রানে দুটি উইকেট নিয়েছেন হাসান মাহমুদ। একটি করে নেন তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ।

Ad
Ad
ad
ad
ad

খেলা থেকে আরও পড়ুন

হাসানের গতির ঝড়ে ১৯৮ রানেই অলআউট অস্ট্রেলিয়া

টস জিতে ব্যাটিং নেওয়ার পরও বাংলাদেশের পেসারদের নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেন্থের সামনে স্বাগতিক ব্যাটাররা স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে পারেননি। মাত্র ৭৪ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বসে অস্ট্রেলিয়া।লাঞ্চের আগেই তাদের টপ অর্ডারকে ধসিয়ে দিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই নিজেদের হাতে তুলে নেয় বাংলাদেশ।

২ দিন আগে

৪ উইকেট হারিয়ে চাপের মুখে অস্ট্রেলিয়া, স্মিথ-ক্যারির প্রতিরোধ

ইনিংসে দুইবার জীবন পাওয়া স্মিথ সেই সুযোগটা বেশ ভালোভাবেই কাজে লাগাচ্ছেন। ২৯ রানে অপরাজিত আছেন তিনি, তাঁর সঙ্গে অপর প্রান্তে ১৬ রানে ব্যাট করছেন ক্যারি। দুজনের অবিচ্ছিন্ন পঞ্চদশ জুটিতে এরই মধ্যে ৩৯ রান যোগ হয়েছে।

২ দিন আগে

১০ বছর একসঙ্গে, অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে রোনালদো-জর্জিনা

৩ দিন আগে

বাবা হারালেন লিওনেল মেসি

বাবার অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই মেসির ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। গত জুনে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার হয়ে গোল করার পর মেসিকে আবেগে কাঁদতে দেখা যায়।

৭ দিন আগে