top ad image
top ad image
home iconarrow iconছাত্র রাজনীতি

ঢাবির আধিপত্যর’ অভিযোগ

গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ থেকে মেহেদী ও আম্মারের পদত্যাগ

গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ থেকে মেহেদী ও আম্মারের পদত্যাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করছেন সালাহউদ্দিন আম্মার ও মেহেদী সজীব

সদ্য আত্মপ্রকাশ করা ছাত্র সংগঠন ‘বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ’ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী সজীব ও যুগ্ম সদস্যসচিব সালাহউদ্দিন আম্মার। পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া দুজনই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী। শুক্রবার দুপুরে ক্যাম্পাসের পরিবহন মার্কেটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন তারা।

জানা যায়, গত বুধবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাংশের নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ করে নতুন ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ। এতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদারকে আহ্বায়ক ও জাহিদ আহসানকে সদস্য সচিব করে প্রাথমিকভাবে ছয় সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। আর বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাবির মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে ২০৫ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে ৬ নাম্বার যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে মেহেদী সজীব এবং এক নাম্বার যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে সালাহউদ্দিন আম্মারের নাম ঘোষণা করা হয়। কমিটি ঘোষণার পরের দিন শুক্রবার পদত্যাগ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এই দুই সমন্বয়ক।

পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে শুক্রবার দুপুরে ক্যাম্পাসের পরিবহন মার্কেটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এই দুই সমন্বয়ক দাবি করেন, বিভাজন ও আধিপত্য বিস্তারের রাজনীতি আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। জনগণের আকাঙ্খা এবং জুলাই বিপ্লবের প্রেক্ষিতে কাঙ্খিত বৈষম্যহীন ও আধিপত্য বিহীন বাংলাদেশ এখনও বাস্তবায়ন করা যায়নি। ফলে জুলাই অভ্যুত্থানের বিভিন্ন স্টেইকহোল্ডারসহ সর্বক্ষেত্রে বিভাজন লক্ষ্যণীয়। এ বিভাজনকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন না করে বৈষম্যহীন দেশ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনার সালাউদ্দিন আম্মার। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের মূলে ছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন; কিন্তু বৈষম্য যদি নতুন মোড়কে আধিবত্যবাদ বা আঞ্চলিকতার মোড়কে ফিরে আসে তবে তা হবে দুঃখজনক। এর বিরুদ্ধে আবারও সোচ্চার হতে হবে।

নতুনদের কাউকে দলের দায়িত্ব না নেয়ার পরামর্শ দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে সালাউদ্দিন দাবি করেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ম্যান্ডেটের বাহিরে গিয়ে তাদের পক্ষে কোনো দল, গোষ্ঠী বা প্রেসার গ্রুপে নিজেদের একীভূত করা যুক্তিযুক্ত হবে না। তাই আমরা পদত্যাগ করেছি।

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দলটা সর্বজনীন হতে পারত, কিন্তু তাদের বর্তমান অবস্থানের কারণে দলটার প্রতি শিক্ষার্থীরা বিশ্বাস রাখতে পারছে না। আমাদের জুলাই অভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল শিক্ষার্থীরা। সেই শিক্ষার্থীদের পাল্সের বাইরে গিয়ে আমাদের রাজনীতি করা সম্ভব নয়।’

সংবাদ সম্মেলনে আরেক প্রশ্নের জবাবে মেহেদী সজীব বলেন, ‘নতুন বন্দোবস্তের নামে ঢাকা ও ঢাবি কেন্দ্রিক নয়া ফ্যাসিবাদী মনোভাবের যে উত্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে তার প্রতিবাদেই আমরা এই প্লাটফর্মে থাকতে রাজি না।’

তিনি বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্যই আমি আজ মেহেদী সজীব হিসেবে গড়ে উঠতে পেরেছি। আমার স্পষ্ট বার্তা হলো, ঢাকা ও ঢাবি কেন্দ্রিক ফ্যাসিবাদী মনোভাব থেকে যতদিন না এই দলের অংশীজনরা বেরিয়ে আসতে পারবে, বিকেন্দ্রীকরণের দিকে মনোনিবেশ করবে, ততদিন অবধি আমি তাদের সাথে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বোঝাপড়ায় যাবো না। আর তাই আমি উক্ত পদ থেকে পদত্যাগ করলাম।’

r1 ad
r1 ad
top ad image