সার্বিক চিত্র বলছে, এক সপ্তাহ পেরিয়ে গিয়ে ইরান যুদ্ধের সূত্র ধরে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠেছে। ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একের পর এক নতুন ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ অবস্থায় শেষ পর্যন্ত ইরানে সামরিক সাফল্য অর্জন করা গেলেও তাকে স্পষ্ট কোনো ভূরাজনৈ
শুক্রবার ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, আমেরিকা ইরানে ‘খুব ভালো’ করছে- ‘এটা অসাধারণ হয়েছে’।
প্রসঙ্গত, ইরান তার আশপাশের যেসব দেশে হামলা চালিয়ে সেগুলোর কাছে আজ দুঃখপ্রকাশ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। কোনো দেশ থেকে ‘প্রথমে হামলা না হলে’ আক্রমণ করা হবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, "দুবাই কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে একটি হামলা প্রতিহত করার সময় কিছু ধ্বংসাবশেষ পড়ে সৃষ্ট একটি ছোটখাটো ঘটনা সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি"।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) জানিয়েছে, অভিযানের প্রথম ১০০ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হয়েছে প্রায় ৩৭০ কোটি মার্কিন ডলার, যার মধ্যে ৩৫০ কোটি ডলারই আগে বাজেটে ধরা ছিল না। এ হিসাব বলছে, এ যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদিন খরচ হচ্ছে প্রায় ৯০ কোটি ডলার।
ট্রাম্প বলেন, “তারা এখন ডাকছে। বলছে— ‘একটি চুক্তি করলে কেমন হয়?’ কিন্তু আমি বলেছি, তোমরা খানিকটা দেরি করে ফেলেছ।”
বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সাগরে আটকে থাকা রাশিয়ার জ্বালানি তেল কেনার ক্ষেত্রে ভারতকে সাময়িক ছাড় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ। ৩০ দিনের জন্য এই বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
শুধু অস্ত্রের ভাণ্ডার আর সরবরাহের ওপরে ইরান যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারিত হবে না, সেটি ঠিক। তবে নিশ্চিতভাবেই অস্ত্রের সংখ্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্ণায়ক। যেমন— অস্ত্র আর গোলাবারুদের সংখ্যার দিক থেকে রাশিয়া ইউক্রেনকে অনেক আগেই পিছনে ফেলে দিয়েছে। কিন্তু তবু যুদ্ধ চলছে সেখানে।
এবারে আরও একটি দেশে সরকার পতন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করবে বলে হুমকি দিয়ে রাখলেন ট্রাম্প। কিউবার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ইরানে ‘কাজ’ শেষ হলে কিউবায় সে কাজ হবে ‘সময়ের ব্যাপার’।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ যখন ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে, ঠিক সেই সময় পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম একটি আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইসিবিএম) পরীক্ষা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রের নাম ‘এলজিএম-৩০ মিনিটম্যান থ্রি’, সক্ষমতা
নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য এই যুদ্ধ কেবল একটি সামরিক অভিযান নয়, বরং তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় ‘জুয়া’ও এটি। একদিকে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মার্কিন সেনাদের মৃত্যু, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যুদ্ধের বিস্তার— সব মিলিয়ে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান এখন খাদের কিনারায়।
ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে একটি গণঅভ্যুত্থান ঘটাতে কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করছে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ)। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে একটি গোপন পরিকল্পনাও চূড়ান্ত হয়েছে।
তিনি বলেছিলেন, খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের বর্তমান নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। কিন্তু সেটি উড়িয়ে দিয়েছিল তেহরান।
মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত অবনতি হওয়া নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে ১৪টি দেশ অবিলম্বে ত্যাগ করতে মার্কিন নাগরিকদের সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন— যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মাঝারি ও মাঝারির থেকে কিছুটা উন্নতমানের অস্ত্রের ‘পর্যাপ্ত’ মজুত আছে এবং তা দিয়ে ‘চিরকাল’ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।
ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে আনুমানিক ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ২০২৬ সালের পুরো মার্কিন প্রতিরক্ষা বাজেটের প্রায় ০.১ শতাংশের সমান।
বৈরুতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তাদের এক্স পোস্টে লিখেছে, “আমরা মার্কিন নাগরিকদের লেবাননে ভ্রমণ না করার আহ্বান জানাচ্ছি। কেউ যদি বর্তমানে দেশটিতে অবস্থান করে থাকেন, তাহলে ফ্লাইট চালু থাকা অবস্থায় এখনই লেবানন ত্যাগ করুন।”