সপ্তাহের শেষভাগে ইরানের বেশ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পর, এর পালটা জবাব হিসেবে একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো সচল হয়ে উঠছে। মাটির নিচে সংরক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্রের বিশাল মজুতে পুনরায় প্রবেশাধিকার অর্জন ও ঘাঁটিগুলোর প্রবেশপথ পুনরুদ্ধারের পর তেহরান ফের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সক্ষমতা ফিরে পাচ্ছে বলে মনে করছ
এখন প্রশ্ন একটাই— পারস্পরিক অবিশ্বাস ও শর্তের দেয়াল ভেঙে দুই দেশ কি সত্যিই একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে, নাকি সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর ফের নতুন করে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়বে মধ্যপ্রাচ্যে?
তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ না থাকলে ইরান ইতোমধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করে ফেলতো। তার ভাষায়, “আমরা যদি নয় মাস আগে বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে তাদের ওপর হামলা না করতাম, তাহলে তারা এখনই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতো এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হতো।”
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনার পর একটি খসড়া চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, যা এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে আলোচনার টেবিলে অগ্রগতির খবর মিললেও সামরিক উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ নেই। গত কয়েক দিনে ইরানে দ্বিতীয় দফায়
গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী আবাসন আবেদনকারীদের আবেদন পর্যালোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যেতে হবে বলে জারি করা নির্দেশনা স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) জানিয়েছে, স্থায়ী আবাসনের আবেদন পর্যালোনাধীন থাকা অবস্থায় অধিকাংশ আবেদনকারীকেই যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যেতে হবে ন
শনিবার (৩০ মে) বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বৈঠকের পর এশিয়ার এ নিরাপত্তা মঞ্চে ওয়াশিংটনের নীতিগত অবস্থান কেমন হবে, তা নিয়ে নানামুখী জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এ বক্তব্য সামনে এলো।
ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানকে অবশ্যই প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। পাশাপাশি উভয় দিকের জন্য ‘অবাধ নৌ চলাচলের’ উপযোগী করে হরমুজ প্রণালিকে পুনরায় খুলে দিতে হবে এবং ওই জলপথে পাতা সব মাইন ধ্বংস করতে হবে।
শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, তিনি হোয়াইট হাউজের সিচুয়েশন রুমে জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রস্তাবিত সমঝোতা নিয়ে ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ নেবেন। এই চুক্তি কার্যকর হলে এপ্রিলের শুরুতে হওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়বে এবং স্থায়ী শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য অতিরিক্ত সময় পাওয়া যাবে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর তথ্য বলছে, ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির যে খসড়া, তাতে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ও এ প্রণালি থেকে অবরোধ প্রত্যাহার এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ইরানের আটকে থাকা ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের প্রস্তাব রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বিবদমান এসব ইস্যুতে সমঝোতা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। তবে এখনো চূড়ান
নতুন এই সমঝোতার আওতায় দুই দেশের মধ্যকার চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বৃদ্ধি পাবে। এই সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিকভাবে নৌযান চলাচল করতে পারবে। আর দুই দেশের কূটনীতিক ও মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো অত্যন্ত জটিল ও স্পর্শকাতর ইস্যুগুলো সমাধানের জন্য আলোচনা চালিয়ে যাবেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বর্তমান সম্পর্কটা চরম গোলমেলে ও বিভ্রান্তিকর। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে— দুই দেশ কি আসলেই শান্তির কাছাকাছি রয়েছে, নাকি ফের একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে?
ওই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৮ মে) এ হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, হামলার পাশাপাশি ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের পূর্বাঞ্চলে অন্তত তিনটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।
দুই মার্কিন কর্মকর্তা আরও জানান, ট্রাম্প মুসলিম দেশগুলোর নেতাদের স্পষ্ট করে বলেন, যারা এখনো আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের অংশ নন বা ইসরায়েলের সঙ্গে যাদের কোনো শান্তি চুক্তি নেই, তারা যেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এই জোটে যোগ দেন এবং ইহুদি রাষ্ট্রটির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে ফেলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবশেষ এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, সমঝোতার আলোচনা ‘গঠনমূলকভাবে এগোচ্ছে’। তবে এ নিয়ে তাড়াহুড়া না করতে বলেছেন তিনি। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, এ চুক্তি নিয়ে দুই দেশ ‘খুব কাছাকাছি এলেও এখনো দূরেও রয়ে গেছে’।
চলতি সপ্তাহের শুরুতেই ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন যে একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছাতে সময় দ্রুত শেষ হয়ে আসছে। পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, হামলা পুনরায় শুরু করার একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েও তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোর অনুরোধে তা ‘স্থগিত’ করেছেন।
এ ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তিনি হলেন একুশ বছর বয়সী নাসেয়ার বেস্ট।