
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটকে আসন্ন নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে। গাজা যুদ্ধে নিজের এক ছেলেকে হারানো এবং শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে ‘অসম মাত্রার শক্তি’ প্রয়োগের ‘দাহিয়াহ নীতি’র প্রবক্তা হিসেবে পরিচিত এই সাবেক সেনাপ্রধান সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করছেন। নির্বাচনে তাকে নেতানিয়াহুর জন্য শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী বিবেচনা করা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬৬ বছর বয়সী আইজেনকট নিজেকে একজন রাজনৈতিক বহিরাগত, সাবেক সেনা কর্মকর্তা এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কঠোর অবস্থানের নেতা হিসেবে তুলে ধরেছেন। সাধারণ পারিবারিক পটভূমি ও পরিবারের আত্মত্যাগের বিষয়টি দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা নেতানিয়াহু এবং তার বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির মামলাগুলোর সঙ্গে স্পষ্ট বৈপরীত্য তৈরি করেছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার ভয়াবহতার পর গাজা, লেবানন ও ইরানে ইসরায়েলের ধ্বংসাত্মক হলেও চূড়ান্ত ফলহীন সামরিক অভিযানের পর এবারই প্রথম ভোট দিতে যাচ্ছেন ইসরায়েলিরা। জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, অনেক ভোটার বর্তমান সরকার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
জরিপ অনুযায়ী, আইজেনকটের নতুন রাজনৈতিক দল ‘ইয়াশার’ পার্লামেন্টে আসন সংখ্যার দিক থেকে নেতানিয়াহুর ‘লিকুদ পার্টি’র পর দ্বিতীয় অবস্থানে থাকতে পারে। তবে দুটি দলই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার মতো অবস্থানে নেই। হিব্রু ভাষায় ‘সোজা’ বা ‘সৎ’ অর্থ বহনকারী ইয়াশার দলটি ইসরায়েলের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমঝোতা করে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে লিকুদের তুলনায় ভালো অবস্থানে থাকতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
এখনও নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। আগামী অক্টোবরের শেষ নাগাদ ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ইসরায়েলের সংসদীয় ব্যবস্থায় নির্বাচনের ফল আগাম অনুমান করা কঠিন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের নেতৃত্বাধীন আরেকটি দলও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে।
নিরাপত্তা ইস্যুতে কঠোর অবস্থান
রয়টার্স বলছে, আইজেনকট নির্বাচিত হলেও ইসরায়েলের আঞ্চলিক নীতিতে বড় ধরনের নমনীয়তা আসবে—এমন সম্ভাবনা কম। নেতানিয়াহুর কঠোর নীতির কারণে পশ্চিমা দেশগুলোতে যে সমালোচনা তৈরি হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের জনপ্রিয়তা যে কমেছে, আইজেনকটের অবস্থানেও তেমন বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই।
গাজা যুদ্ধ তদারককারী যুদ্ধ মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে কিছুদিন দায়িত্ব পালন করা আইজেনকট অভিযোগ করেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়ে ইরান-সংকট নিরসনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নেতানিয়াহু খুব সহজে নতি স্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিকে 'অপ্রাসঙ্গিক' বলে মন্তব্য করেন।
২০০৬ সালে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে লেবানন যুদ্ধে কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আইজেনকট এমন একটি প্রতিরোধ কৌশল প্রণয়ন করেন, যেখানে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলার জবাবে তারা যেসব এলাকা ব্যবহার করে, সেখানকার বেসামরিক অবকাঠামোসহ ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর নীতি গ্রহণ করা হয়।
হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহর দাহিয়াহে ব্যাপক বোমাবর্ষণের মাধ্যমে ওই কৌশল বাস্তবায়ন করা হয়। চলতি সপ্তাহে এক সম্মেলনে আইজেনকট বলেন, তিনি নিজেই যাকে ‘অসম মাত্রার হামলা’ বলে উল্লেখ করেন, সেই ‘দাহিয়াহ নীতি’ তিনি বাস্তবায়ন করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, লেবাননের যেকোনো স্থানে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হামলা চালানোর স্বাধীনতা ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর থাকা উচিত। আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী হওয়া যুদ্ধবিরতি এমন এক ‘উন্মাদ বাস্তবতা’ তৈরি করেছে, যাতে ইসরায়েলি বাহিনীর হাত-পা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
গাজা, লেবানন ও ইরানের যুদ্ধ নিয়ে তার এই আপসহীন অবস্থান, পাশাপাশি নেতানিয়াহুর সামগ্রিক কৌশল ও ট্রাম্পকে সামাল দেওয়ার পদ্ধতির সমালোচনা— পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়লেও দেশটির অনেক ভোটারের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
ব্যক্তিগত আত্মত্যাগ আকৃষ্ট করছে ভোটারদের
মরক্কো থেকে আসা অভিবাসী পরিবারের সন্তান আইজেনকট মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকীয় বংশোদ্ভূত ইহুদিদের (মিজরাহি) মধ্যেও জনপ্রিয়তা অর্জন করছেন। ইসরায়েলি সমাজে তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকা এই জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে নেতানিয়াহুর গুরুত্বপূর্ণ ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীতে (আইডিএফ) ধাপে ধাপে উন্নতি করে তিনি ২০০৬ সালের হিজবুল্লাহ যুদ্ধের অন্যতম শীর্ষ কমান্ডার হন। পরে ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পারিবারিক পটভূমি ও দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতার কারণেই ইসরায়েলিদের কাছে তিনি নিরাপত্তা ইস্যুতে গ্রহণযোগ্য ছিলেন। এর সঙ্গে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গাজায় দায়িত্ব পালনকালে তার ২৫ বছর বয়সী ছেলে গাল মেইর নিহত হওয়ার ঘটনা তার গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়িয়েছে। যুদ্ধে তার দুই ভাতিজাও নিহত হয়েছেন।
গাজা যুদ্ধে শত শত ইসরায়েলি সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে নিজের ছেলে ও দুই ভাতিজাকে হারানোর আইজেনকটের ব্যক্তিগত শোক দেশটির সাধারণ মানুষের কাছে গভীরভাবে অনুরণিত হয়েছে। ফলে নিরাপত্তা ও যুদ্ধসংক্রান্ত বিষয়ে তার প্রতি জনসমর্থন ও গ্রহণযোগ্যতা আরও দৃঢ় হয়েছে।
বার-ইলান বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগিন-সাদাত সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের পরিচালক এইতান শামির বলেন, ‘তিনি একজন আন্তরিক মানুষ বলে মনে হয়। তাকে খুব সহজেই ভালো লেগে যায়। তিনি পেশাদার রাজনীতিবিদ নন, বরং সাধারণ একজন মানুষ—যিনি আপনার প্রতিবেশী বা সহকর্মীও হতে পারেন। তিনি অতিরিক্ত কৌশলী নন। মানুষ মনে করে, তার সঙ্গে নিজেদের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।’
অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর শিবির এসব গুণকেই কাজে লাগিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সাবলীল ইংরেজি দক্ষতা আইজেনকটের আছে কি না।
গত কয়েক দশকে ইসরায়েলের রাজনীতি ক্রমেই ডানপন্থার দিকে ঝুঁকেছে। সেই প্রেক্ষাপটে আইজেনকটকে মধ্যপন্থী হিসেবে দেখা হয়। তিনি বামপন্থী দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনে আগ্রহী। একই সঙ্গে সীমিত কিছু ছাড় রেখে আরব ও অতিরক্ষণশীল ইহুদিদেরও সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের পক্ষে তিনি।
মাত্র চার বছর আগে রাজনীতিতে আসেন আইজেনকট। ২০২২ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন। ৭ অক্টোবরের হামলার পর তিনি আট মাস যুদ্ধ মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। পরে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের সমালোচনা করে পদত্যাগ করেন।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে জনমত জরিপে সমর্থন বাড়তে থাকায় নতুন দল ইয়াশার নির্বাচনের আগে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
তবে ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক তামার হারম্যান মনে করেন, নেতানিয়াহু এখনও ঘুরে দাঁড়াতে পারেন। তার ভাষায়, ‘এক অর্থে নেতানিয়াহু একজন রাজনৈতিক হুডিনির মতো। তিনি এমন সব কঠিন পরিস্থিতি থেকেও বেরিয়ে আসতে পারেন, যা কল্পনা করাও কঠিন।’

ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটকে আসন্ন নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে। গাজা যুদ্ধে নিজের এক ছেলেকে হারানো এবং শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে ‘অসম মাত্রার শক্তি’ প্রয়োগের ‘দাহিয়াহ নীতি’র প্রবক্তা হিসেবে পরিচিত এই সাবেক সেনাপ্রধান সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করছেন। নির্বাচনে তাকে নেতানিয়াহুর জন্য শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী বিবেচনা করা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬৬ বছর বয়সী আইজেনকট নিজেকে একজন রাজনৈতিক বহিরাগত, সাবেক সেনা কর্মকর্তা এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কঠোর অবস্থানের নেতা হিসেবে তুলে ধরেছেন। সাধারণ পারিবারিক পটভূমি ও পরিবারের আত্মত্যাগের বিষয়টি দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা নেতানিয়াহু এবং তার বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির মামলাগুলোর সঙ্গে স্পষ্ট বৈপরীত্য তৈরি করেছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার ভয়াবহতার পর গাজা, লেবানন ও ইরানে ইসরায়েলের ধ্বংসাত্মক হলেও চূড়ান্ত ফলহীন সামরিক অভিযানের পর এবারই প্রথম ভোট দিতে যাচ্ছেন ইসরায়েলিরা। জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, অনেক ভোটার বর্তমান সরকার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
জরিপ অনুযায়ী, আইজেনকটের নতুন রাজনৈতিক দল ‘ইয়াশার’ পার্লামেন্টে আসন সংখ্যার দিক থেকে নেতানিয়াহুর ‘লিকুদ পার্টি’র পর দ্বিতীয় অবস্থানে থাকতে পারে। তবে দুটি দলই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার মতো অবস্থানে নেই। হিব্রু ভাষায় ‘সোজা’ বা ‘সৎ’ অর্থ বহনকারী ইয়াশার দলটি ইসরায়েলের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমঝোতা করে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে লিকুদের তুলনায় ভালো অবস্থানে থাকতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
এখনও নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। আগামী অক্টোবরের শেষ নাগাদ ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ইসরায়েলের সংসদীয় ব্যবস্থায় নির্বাচনের ফল আগাম অনুমান করা কঠিন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের নেতৃত্বাধীন আরেকটি দলও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে।
নিরাপত্তা ইস্যুতে কঠোর অবস্থান
রয়টার্স বলছে, আইজেনকট নির্বাচিত হলেও ইসরায়েলের আঞ্চলিক নীতিতে বড় ধরনের নমনীয়তা আসবে—এমন সম্ভাবনা কম। নেতানিয়াহুর কঠোর নীতির কারণে পশ্চিমা দেশগুলোতে যে সমালোচনা তৈরি হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের জনপ্রিয়তা যে কমেছে, আইজেনকটের অবস্থানেও তেমন বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই।
গাজা যুদ্ধ তদারককারী যুদ্ধ মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে কিছুদিন দায়িত্ব পালন করা আইজেনকট অভিযোগ করেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়ে ইরান-সংকট নিরসনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নেতানিয়াহু খুব সহজে নতি স্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিকে 'অপ্রাসঙ্গিক' বলে মন্তব্য করেন।
২০০৬ সালে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে লেবানন যুদ্ধে কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আইজেনকট এমন একটি প্রতিরোধ কৌশল প্রণয়ন করেন, যেখানে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলার জবাবে তারা যেসব এলাকা ব্যবহার করে, সেখানকার বেসামরিক অবকাঠামোসহ ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর নীতি গ্রহণ করা হয়।
হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহর দাহিয়াহে ব্যাপক বোমাবর্ষণের মাধ্যমে ওই কৌশল বাস্তবায়ন করা হয়। চলতি সপ্তাহে এক সম্মেলনে আইজেনকট বলেন, তিনি নিজেই যাকে ‘অসম মাত্রার হামলা’ বলে উল্লেখ করেন, সেই ‘দাহিয়াহ নীতি’ তিনি বাস্তবায়ন করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, লেবাননের যেকোনো স্থানে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হামলা চালানোর স্বাধীনতা ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর থাকা উচিত। আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী হওয়া যুদ্ধবিরতি এমন এক ‘উন্মাদ বাস্তবতা’ তৈরি করেছে, যাতে ইসরায়েলি বাহিনীর হাত-পা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
গাজা, লেবানন ও ইরানের যুদ্ধ নিয়ে তার এই আপসহীন অবস্থান, পাশাপাশি নেতানিয়াহুর সামগ্রিক কৌশল ও ট্রাম্পকে সামাল দেওয়ার পদ্ধতির সমালোচনা— পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়লেও দেশটির অনেক ভোটারের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
ব্যক্তিগত আত্মত্যাগ আকৃষ্ট করছে ভোটারদের
মরক্কো থেকে আসা অভিবাসী পরিবারের সন্তান আইজেনকট মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকীয় বংশোদ্ভূত ইহুদিদের (মিজরাহি) মধ্যেও জনপ্রিয়তা অর্জন করছেন। ইসরায়েলি সমাজে তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকা এই জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে নেতানিয়াহুর গুরুত্বপূর্ণ ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীতে (আইডিএফ) ধাপে ধাপে উন্নতি করে তিনি ২০০৬ সালের হিজবুল্লাহ যুদ্ধের অন্যতম শীর্ষ কমান্ডার হন। পরে ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পারিবারিক পটভূমি ও দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতার কারণেই ইসরায়েলিদের কাছে তিনি নিরাপত্তা ইস্যুতে গ্রহণযোগ্য ছিলেন। এর সঙ্গে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গাজায় দায়িত্ব পালনকালে তার ২৫ বছর বয়সী ছেলে গাল মেইর নিহত হওয়ার ঘটনা তার গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়িয়েছে। যুদ্ধে তার দুই ভাতিজাও নিহত হয়েছেন।
গাজা যুদ্ধে শত শত ইসরায়েলি সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে নিজের ছেলে ও দুই ভাতিজাকে হারানোর আইজেনকটের ব্যক্তিগত শোক দেশটির সাধারণ মানুষের কাছে গভীরভাবে অনুরণিত হয়েছে। ফলে নিরাপত্তা ও যুদ্ধসংক্রান্ত বিষয়ে তার প্রতি জনসমর্থন ও গ্রহণযোগ্যতা আরও দৃঢ় হয়েছে।
বার-ইলান বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগিন-সাদাত সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের পরিচালক এইতান শামির বলেন, ‘তিনি একজন আন্তরিক মানুষ বলে মনে হয়। তাকে খুব সহজেই ভালো লেগে যায়। তিনি পেশাদার রাজনীতিবিদ নন, বরং সাধারণ একজন মানুষ—যিনি আপনার প্রতিবেশী বা সহকর্মীও হতে পারেন। তিনি অতিরিক্ত কৌশলী নন। মানুষ মনে করে, তার সঙ্গে নিজেদের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।’
অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর শিবির এসব গুণকেই কাজে লাগিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সাবলীল ইংরেজি দক্ষতা আইজেনকটের আছে কি না।
গত কয়েক দশকে ইসরায়েলের রাজনীতি ক্রমেই ডানপন্থার দিকে ঝুঁকেছে। সেই প্রেক্ষাপটে আইজেনকটকে মধ্যপন্থী হিসেবে দেখা হয়। তিনি বামপন্থী দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনে আগ্রহী। একই সঙ্গে সীমিত কিছু ছাড় রেখে আরব ও অতিরক্ষণশীল ইহুদিদেরও সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের পক্ষে তিনি।
মাত্র চার বছর আগে রাজনীতিতে আসেন আইজেনকট। ২০২২ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন। ৭ অক্টোবরের হামলার পর তিনি আট মাস যুদ্ধ মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। পরে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের সমালোচনা করে পদত্যাগ করেন।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে জনমত জরিপে সমর্থন বাড়তে থাকায় নতুন দল ইয়াশার নির্বাচনের আগে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
তবে ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক তামার হারম্যান মনে করেন, নেতানিয়াহু এখনও ঘুরে দাঁড়াতে পারেন। তার ভাষায়, ‘এক অর্থে নেতানিয়াহু একজন রাজনৈতিক হুডিনির মতো। তিনি এমন সব কঠিন পরিস্থিতি থেকেও বেরিয়ে আসতে পারেন, যা কল্পনা করাও কঠিন।’

আল জাজিরা জানিয়েছে, সেন্টকমের এ ঘোষণার পরপরই দক্ষিণ ইরানের সিরিক বন্দরের কাছে মার্কিন হামলা হয়েছে। এর জবাবে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
৮ ঘণ্টা আগে
ভূ-কম্পনের ৪০ ঘণ্টা পেরিয়ে পেলেও এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে অসংখ্য মানুষ। তাদের উদ্ধারে দিন-রাত এক করে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন বাহিনী। ভেনেজুয়েলা ছাড়াও, উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কলম্বিয়াসহ বিভিন্ন দেশের কর্মীরা।
৯ ঘণ্টা আগে
হরমুজ প্রণালিতে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলার জবাবে শুক্রবার মধ্যরাতে ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। একই সঙ্গে জাহাজে ইরানের হামলাকে 'অযৌক্তিক আগ্রাসন' বলে উল্লেখ করেছে তারা। নতুন করে এ হামলার ঘটনায় সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী
১৪ ঘণ্টা আগে
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক শান্তি চুক্তিকে সামনে রেখে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। তবে গত এক সপ্তাহে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বক্তব্যে ইরান ও ইসরায়েলকে ঘিরে ভিন্ন সুর শোনা গেছে।
১৮ ঘণ্টা আগে