৪৩ দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছেন ট্রাম্প

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২৫, ১৫: ২২

বিশ্বের ৪৩টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে আগমন ও ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন। সূত্র ও এ সংক্রান্ত সরকারি নথির বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

সম্ভাব্য এই নিষেধাজ্ঞাকে তিনটি ধাপ বা স্তরে ভাগ করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী এই ৪১টি দেশকেও ভাগ করা হয়েছে তিনটি গ্রুপে। প্রথম গ্রুপে রয়েছে ১০টি দেশ—আফগানিস্তান, ইরান, কিউবা, উত্তর কোরিয়া, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া, ভেনেজুয়েলা এবং ইয়েমেন। এই দেশগুলোর নাগরিকদের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আদেশ কার্যকর হলে এসব দেশের নাগরিকরা কোনো প্রকার মার্কিন ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

দ্বিতীয় গ্রুপে রয়েছে ৫টি দেশ— ইরিত্রিয়া, হাইতি, লাওস, মিয়ানমার এবং দক্ষিণ সুদান। নিষেধাজ্ঞার আদেশ কার্যকর হলে এসব দেশের নাগরিকরা শিক্ষার্থী ও ভ্রমণ ব্যতীত অন্যান্য ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

বাদবাকি ২৬টি দেশ রয়েছে তৃতীয় গ্রুপে। এই দেশগুলো হলো অ্যাঙ্গোলা, অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবোডা, বেনিন, ভুটান, বুরকিনা ফাসো, বেলারুশ, পাকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, কেপ ভার্দে, কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, চাদ, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব (ডি আর) কঙ্গো, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, ডমিনিকা, গাম্বিয়া, লাইবেরিয়া, রিপাবলিক অব কঙ্গো, মালাউই, মৌরিতানিয়া, সেইন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেইন্ট লুসিয়া, সাও তোম অ্যান্ড প্রিনসিপি, সিয়েরা লিওন, পূর্ব তিমুর এবং ভানুয়াতু।

সরকারি নথি অনুসারে, ২৬টি দেশকে কিছু শর্ত দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন এবং সেসব শর্তপূরণের জন্য এসব দেশের সরকারকে ৬০ দিন সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। যদি এই সময়সীমার মধ্যে সেসব শর্ত পূরণ না হয়, তাহলে এই ২৬টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর ওপর সম্পূর্ণ কিংবা আংশিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে।

গত ২০ জানুয়ারি শপথ গ্রহণের সময়ে বেশ কয়েকটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন ট্রাম্প। সেসব আদেশের মধ্যে যেসব বিদেশি প্রতিদিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করছেন, তাদেরকে সার্বিক রেকর্ড ভালোভাবে যাচাইয়ের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এর আগে ২০১৮ সালে যখন প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় এসেছিলেন ট্রাম্প, সে সময় সাতটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। এসব দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মুসলিম হওয়ায় এ নিয়ে সে সময় বেশ আলোচনা-সমালোচনাও শুরু হয়েছিল। পরে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে সেই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয়।

সাম্প্রতিক এই সম্ভাব্য নিষেধজ্ঞার ব্যাপারে আরও তথ্য জানতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। তবে কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সূত্র : রয়টার্স

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

‘খামেনিকে কখনও বিদায় জানাব না’— ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের আবেগঘন বক্তব্য

শনিবার তেহরানে অনুষ্ঠিত ‘ইমাম খামেনেয়ী; প্রতিরোধের চিরন্তন নেতা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ কথা বলেন পেজেশকিয়ান। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে পার্সটুডে।

১৫ ঘণ্টা আগে

আলি খামেনির জানাজায় উপস্থিত ৩ ছেলে, ছিলেন না মোজতবা

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, খামেনির তিন ছেলে— মোস্তাফা, মেইসাম ও মাসউদ খামেনি তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে বাবার কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে জানাজার নামাজে অংশ নিচ্ছেন। তবে উত্তরসূরি মোজতবা খামেনির কোনো উপস্থিতি দেখা যায়নি।

১৫ ঘণ্টা আগে

২৫০ বছরের পুরনো বিতর্ক সামনে— ট্রাম্প কি প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সীমা বদলে দিচ্ছেন?

দ্বিতীয় মেয়াদের প্রায় অর্ধেক পথ পেরিয়ে আসার সময়ে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, তার ক্ষমতার ‘কোনো সীমা নেই’। এ মন্তব্যকে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মূল দর্শনের সম্পূর্ণ বিপরীত বলে মনে করছেন। প্রায় আড়াই শ বছর আগে ব্রিটিশ রাজতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা ঘোষণা করে যে রাষ্ট্রের জন

১৮ ঘণ্টা আগে

আমেরিকার সোনালি যুগের স্বপ্ন ফিরিয়ে এনেছি— স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে ট্রাম্প

প্রায় ৪০ মিনিটের ভাষণে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস, সামরিক শক্তি ও নিজের প্রশাসনের বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমেরিকান ড্রিম ফিরে এসেছে।’ তার দাবি, বর্তমানে সামরিক বাহিনী ও পুলিশে এত বেশি মানুষ যোগ দিতে আগ্রহী যে এসব পেশায় চাকরি পাওয়া এখন ‘কঠিন’ হয়ে গেছে।

২০ ঘণ্টা আগে