উত্তর কোরিয়ায় রাজকীয় অভ্যর্থনা, জিনপিং বললেন ‘নতুন ঐতিহাসিক সূচনাবিন্দু’

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
সোমবার উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ং পৌঁছালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে রাজকীয় সম্মাননা জানানো হয়। ছবি: সিনহুয়া

উত্তর কোরিয়া সফরে গিয়ে রাজকীয় অভ্যর্থনা পেয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের কিম ইল সুং স্কয়ারে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ও তার স্ত্রী রি সল জু ব্যক্তিগতভাবে শি ও তার স্ত্রী পেং লিউয়ানকে স্বাগত জানান। এ সফর ঘিরে দুই দেশের সম্পর্ককে ‘নতুন ঐতিহাসিক সূচনাবিন্দুতে’ দাঁড়িয়ে থাকা বলে মন্তব্য করেছেন শি।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, সাত বছর পর এই প্রথম উত্তর কোরিয়া সফরে গেলেন শি জিনপিং। তার আগমনকে কেন্দ্র করে রাজধানী পিয়ংইয়ং জুড়ে ব্যাপক আয়োজন করা হয়। কিম ইল সুং স্কয়ারে সামরিক ব্যান্ড, সম্মানরক্ষী বাহিনী ও হাজারও মানুষের উপস্থিতিতে তাকে স্বাগত জানানো হয়।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, শি ও পেং গাড়িতে করে স্কয়ারে পৌঁছালে উচ্ছ্বসিত জনতা চীন ও উত্তর কোরিয়ার পতাকা নাড়িয়ে তাদের অভিবাদন জানায়। অনেকের হাতে ছিল ফুলের তোড়া। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিশুদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসও ছিল চোখে পড়ার মতো।

সামরিক কুচকাওয়াজ ও সম্মাননা

সফরের আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে শি জিনপিং উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনীর অভিজাত আনুষ্ঠানিক ইউনিট ‘কোরিয়ান পিপলস আর্মি’র গার্ড অব অনার পরিদর্শন করেন। এ সময় সেনাসদস্যরা কোরিয়ান ভাষায় তার সুস্বাস্থ্য কামনা করে স্লোগান দেন।

চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভির প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, কিম জং উন ও রি সল জু হাসিমুখে করতালি দিয়ে অতিথিদের স্বাগত জানাচ্ছেন। এ সময় লাল গালিচা বিছিয়ে দেওয়া হয় এবং তার দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকেন উত্তর কোরিয়ার সেনারা। সিনহুয়ার তথ্যমতে, দুই নেতা করমর্দন করেন এবং উত্তর কোরিয়ার শিশুরা শি ও পেংকে ফুল উপহার দেয়।

অনুষ্ঠানস্থলে ‘উত্তর কোরিয়া ও চীনের চিরন্তন বন্ধুত্ব’ এবং ‘উত্তর কোরিয়া ও চীনের অবিচ্ছেদ্য বন্ধুত্ব ও ঐক্য দীর্ঘজীবী হোক’ লেখা ব্যানারও প্রদর্শন করা হয়।

শি জিনপিং ও তার স্ত্রীকে সাদর অভ্যর্থনা জানান উত্তর কোরিয়ার প্রধান নেতা কিম জং উন ও তার স্ত্রী। ছবি: সিনহুয়া
শি জিনপিং ও তার স্ত্রীকে সাদর অভ্যর্থনা জানান উত্তর কোরিয়ার প্রধান নেতা কিম জং উন ও তার স্ত্রী। ছবি: সিনহুয়া

‘নতুন ঐতিহাসিক সূচনাবিন্দু’

সফর উপলক্ষ্যে দেওয়া বক্তব্যে শি জিনপিং বলেন, চীন ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক এখন ‘নতুন একটি ঐতিহাসিক সূচনাবিন্দু’তে রয়েছে। তার ভাষায়, দুই দেশ ‘সময়ের নতুন দায়িত্ব’ কাঁধে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা এবং কৌশলগত সহযোগিতার প্রশ্নে বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের ঘনিষ্ঠতা আগের তুলনায় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শি জিনপিংয়ের এ সফর সেই সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের রাজনৈতিক ঐক্যেরও শক্তিশালী বার্তা বহন করছে।

তবে দুই নেতা বৈঠকে কী বিষয়ে আলোচনা করেছেন, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি চীন বা উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। ফলে সফরের রাজনৈতিক ও কৌশলগত ফলাফল নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আগ্রহ অব্যাহত রয়েছে।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা: সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন উইটকফ ও আরাগচি

লেবাননে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর অন্তর্বর্তীকালীন ইরান যুদ্ধ চুক্তিকে একটি স্থায়ী আঞ্চলিক চুক্তিতে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা আবারও জোরদার হয়েছে। এই আলোচনার অংশ হিসেবে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি উভয়েই সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে এক্সিওসের বরাতে জানিয়ে

৬ ঘণ্টা আগে

ইরান ইস্যুই গড়তে পারে জে ডি ভ্যান্সের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ

কূটনৈতিক প্রথা অনুযায়ী এ ধরনের হাই-প্রোফাইল আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর। কিন্তু ট্রাম্প দৃশ্যত রুবিওর পরিবর্তে ভ্যান্সকেই সামনে নিয়ে এসেছেন। ফলে প্রশাসনের ভেতরে রুবিওর প্রকৃত ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

৬ ঘণ্টা আগে

লেবাননে 'যুদ্ধবিরতিতে সম্মত' ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ, জানালেন মার্কিন কর্মকর্তা

লেবাননে নতুন করে ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ায় ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা চুক্তিটিকে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে রূপান্তরের সম্ভাবনা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। এরপরই এই যুদ্ধবিরতির খবর এলো।

২০ ঘণ্টা আগে

হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ: ৪৮ ঘণ্টা আগে ইরানের অনুমতি বাধ্যতামূলক

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জাহাজ পরিচালনাকারীদের হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করার অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে কর্তৃপক্ষের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা সরকারি ই-মেইলের মাধ্যমে আবেদন জমা দিতে হবে। আবেদনে জাহাজের সঠিক যোগাযোগ তথ্য, রুট ও সময়সূচি উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন না করলে প্রণালিতে প্রবেশ কিংবা বের

২১ ঘণ্টা আগে