ট্রাম্পের 'রাজনৈতিক প্রতিহিংসা'র শিকার, লুইজিয়ানা প্রাইমারিতে হারলেন ক্যাসিডি

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ডোনাল্ড ট্রাম্প (বাঁয়ে) ও বিল কাসিডি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরোধিতা করে এবার খোদ নিজের দলের ভেতরেই 'রাজনৈতিক প্রতিশোধে'র শিকার হলেন লুইজিয়ানার দুই মেয়াদের অভিজ্ঞ রিপাবলিকান সিনেটর বিল কাসিডি। লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের দলীয় প্রাইমারি নির্বাচনে তিনি ট্রাম্প সমর্থিত দুই প্রার্থী জুলিয়া লেটলো ও স্টেট ট্রেজারার জন ফ্লেমিংয়ের কাছে হেরে গেছেন। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই ত্রিমুখী লড়াইয়ের পর শীর্ষ দুই প্রার্থী লেটলো ও ফ্লেমিং এখন আগামী জুনের রান-অফ তথা দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে মুখোমুখি হবেন।

কাসিডি যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার, তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ট্রাম্পের নিজেরই এক পোস্টে স্পষ্ট হয়েছে। লেটলোকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি কাসিডির পরাজয় নিয়ে উষ্মা ও খোঁচা দিয়ে তিনি লিখেছেন, 'যে মানুষটি তাকে নির্বাচিত হতে সাহায্য করেছিল, তার প্রতি কাসিডির এই বেইমানি এখন একটি ইতিহাস হয়ে থাকবে। এটা দেখে ভালো লাগছে যে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এখন পুরোপুরি শেষ!'

পেশায় চিকিৎসক বিল কাসিডি প্রথমবার ট্রাম্পের রোষানলে পড়েন ২০২১ সালে, যখন তিনি ট্রাম্পের দ্বিতীয় অভিশংসন ট্রায়ালে ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। প্রাথমিক ভোট গণনা অনুযায়ী কাসিডি পেয়েছেন তৃতীয় স্থান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কাসিডি মূলত ট্রাম্পের ‘রাজনৈতিক প্রতিশোধমূলক প্রচারণা’র বড় শিকার হয়েছেন।

এর আগে ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যেও ট্রাম্পের কংগ্রেসনাল সীমানা পুনর্নির্ধারণ পরিকল্পনার বিরোধিতা করায় কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটরকে এভাবেই পদচ্যুত হতে হয়েছিল। ২০১২ সালের পর কাসিডিই প্রথম কোনো নির্বাচিত মার্কিন সিনেটর, যিনি নিজ দলের প্রাথমিক বাছাইয়েই হেরে গেলেন।

বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (১৬ মে) লুইজিয়ানার প্রাইমারি নির্বাচনে শতকরা ৯৮ ভাগ ভোট গণনাকেন্দ্রে ট্রাম্পের আগাম সমর্থনপুষ্ট প্রার্থী জুলিয়া লেটলো ৪৫ দশমিক ২ শতাংশ ভোট পেয়ে সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জন ফ্লেমিং পেয়েছেন ২৮ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট।

আগামী ২৭ জুন এই দুজন রান-অফ নির্বাচনে লড়বেন এবং সেখান থেকে বিজয়ী প্রার্থী আগামী নভেম্বরের চূড়ান্ত নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনীত প্রার্থী জেমি ডেভিসের মুখোমুখি হবেন। তবে লুইজিয়ানা ঐতিহ্যগতভাবেই কট্টর রিপাবলিকান ঘাঁটি হওয়ায় জুনের রান-অফ বিজয়ীরই সিনেট আসনটি পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত।

নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর জুলিয়া লেটলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, 'ধন্যবাদ, লুইজিয়ানা! লুইজিয়ানা আজ রাতে স্পষ্ট করে দিয়েছে: আমরা এমন এক শক্তিশালী রক্ষণশীল নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত যারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পাশে দাঁড়াবে এবং কখনো বিচ্যুত হবে না।'

অন্যদিকে পরাজয় মেনে নিয়ে দেওয়া এক বক্তৃতায় ৬৮ বছর বয়সী বিল কাসিডি গত ১২ বছর ধরে লুইজিয়ানার প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দেওয়ার জন্য তার সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, 'গণতন্ত্রে অংশ নিলে মাঝে মাঝে ফলাফল আপনার মনের মতো নাও হতে পারে। কিন্তু তা নিয়ে কান্নাকাটি বা অসন্তোষ প্রকাশের কিছু নেই। ভোটাররা আপনাকে যতদিন সুযোগ দিয়েছেন, তার জন্য ধন্যবাদ জানানোই প্রকৃত নিয়ম।'

ট্রাম্পের প্রতিশোধের রাজনীতি ও লেটলোর উত্থান

লুইজিয়ানার এই প্রাইমারি মূলত ট্রাম্পের দেশব্যাপী চলমান রাজনৈতিক প্রতিশোধের সর্বশেষ নজির। চলতি মাসেই ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের অন্তত পাঁচজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাকে ট্রাম্পের বিরোধিতার কারণে প্রাইমারিতে হারতে হয়েছে। আগামী সপ্তাহে ট্রাম্পের এই প্রচারণার লক্ষ্য কেনটাকি অঙ্গরাজ্য, যেখানে ট্রাম্প তার পছন্দের প্রার্থী এড গ্যালরেইনকে দিয়ে তার কট্টর সমালোচক ও রিপাবলিকান রিপ্রেজেন্টেটিভ টমাস ম্যাসিকে হারাতে চান।

৪৫ বছর বয়সী জুলিয়া লেটলোর রাজনীতিতে আগমন ঘটে ২০২০ সালে, যখন তার স্বামী লিউক লেটলো হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে নির্বাচিত হওয়ার পরপরই করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরে ট্রাম্পের সমর্থনে বিশেষ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি জয়ী হন। নির্বাচনি প্রচারে কাসিডি লেটলোর অতীতের কিছু প্রাতিষ্ঠানিক নীতির সমালোচনা করলেও লেটলো পালটা বিজ্ঞাপনে কাসিডি ও ফ্লেমিংকে 'নেভার ট্রাম্পার' (ট্রাম্প-বিরোধী) হিসেবে আখ্যা দিয়ে ট্রাম্পের অন্ধ সমর্থনকে কাজে লাগিয়েছেন।

হেরে যাওয়া সিনেটর বিল কাসিডি একজন লিভার বিশেষজ্ঞ। নিম্নআয়ের মানুষের চিকিৎসায় ব্যাটন রুজে একটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার পেছনে তার বড় ভূমিকা ছিল। ২০১৪ সালে তিনি দীর্ঘকাল পর প্রথম রিপাবলিকান হিসেবে এই আসনে ডেমোক্র্যাট মেরি ল্যান্ড্রিউকে হারিয়ে জয়ী হন এবং ২০২০ সালেও প্রায় ৬০ শতাংশ ভোট পেয়ে পুনরায় নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি সিনেটের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হেলথ, এডুকেশন, লেবার অ্যান্ড পেনশন কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

যে কারণে ট্রাম্পের চক্ষুশূল কাসিডি

২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে ট্রাম্প সমর্থকদের হামলার পর যে সাতজন রিপাবলিকান সিনেটর ট্রাম্পের অভিশংসনের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন, কাসিডি ছিলেন তাদের একজন। বর্তমানে ওই সাতজনের মধ্যে মাত্র তিনজন সিনেটর এখনো পদে বহাল আছেন।

পরে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্লাসিফায়েড নথি বা রাষ্ট্রীয় গোপন ফাইল অবহেলার অভিযোগ উঠলে কাসিডি তাকে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং ট্রাম্প রিপাবলিকান মনোনয়ন পাওয়ার পরও তাকে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানান।

অবশ্য ট্রাম্প পুনরায় হোয়াইট হাউজে ফিরে আসার পর কাসিডি সম্পর্ক জোড়া লাগানোর কিছুটা চেষ্টা করেছিলেন। তিনি ট্রাম্পের স্বাস্থ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়রের মনোনয়নকে সমর্থন করেন। তবে সেই সখ্য বেশিদিন টেকেনি। মার্কিন ভ্যাকসিন নীতি পরিবর্তন নিয়ে কেনেডি জুনিয়রের পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেন কাসিডি এবং সিনেটর সুসান কলিন্স ও লিসা মারকোভস্কির সঙ্গে মিলে ট্রাম্পের স্বাস্থ্য এজেন্ডাকে কংগ্রেসে ধীরগতির করে দেন।

সর্বশেষ বিরোধটি ঘটে গত মাসে, যখন ট্রাম্প সরাসরি কাসিডির বিরুদ্ধে সার্জেন্ট জেনারেল পদের জন্য কেসি মিনসের মনোনয়ন আটকে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। এর ফলে ট্রাম্প তার তৃতীয় পছন্দ হিসেবে ফক্স নিউজের কন্ট্রিবিউটর নিকোল স্যাফিয়ারকে মনোনীত করতে বাধ্য হন। মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সঙ্গে এই দীর্ঘস্থায়ী ধারাবাহিক সংঘাতই শেষ পর্যন্ত কাসিডির দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ওপর যবনিকা টেনে দিলো।

রাজনীতি/আইআর

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

হামলার হুমকির জবাবে পাল্টা যুদ্ধের ঘোষণা ইরানের

হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় ওয়াশিংটনে জ্বালানি ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং গৃহঋণের সুদের হার যেভাবে বাড়ছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের অর্থনৈতিক মন্দার দিকে যেতে পারে বলে দাবি তেহরানের। আল-জাজিরার বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।

১২ ঘণ্টা আগে

আগামী সপ্তাহের মধ্যেই ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস ও ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বরাতে মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধ অত্যাসন্ন ধরে নিয়ে ইতিমধ্যেই সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে এবং চূড়ান্ত পদক্ষেপের জন্য এখন কেবল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শেষ সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

১৩ ঘণ্টা আগে

চুক্তি না হলে ইরানের জন্য খুব খারাপ সময় অপেক্ষা করছে: ট্রাম্প

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান সংকট নিয়ে যেকোনো সময় বড় ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলমান অচলাবস্থা ভাঙতে তিনি আরও বড় পরিসরে বোমা হামলার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, এমন আশঙ্কা থেকে মার্কিন শীর্ষ উপদেষ্টারা ইতোমধ্যে পুনরায় সামরিক অভিযান

১৩ ঘণ্টা আগে

থাইল্যান্ডে ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ভয়াবহ আগুন, নিহত ৮

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে বাসে ভয়াবহ আগুন লেগে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন। শনিবার দেশটির উদ্ধারকর্মী ও পুলিশের বরাত দিয়ে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

১ দিন আগে