ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতাকে জি৭-এ স্বাগত

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ সামিটে শীর্ষ নেতারা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছে বিশ্বের শীর্ষ শিল্পোন্নত সাত দেশের জোট জি৭। একই সঙ্গে লেবাননে অবিলম্বে শক্তিশালী যুদ্ধবিরতি কার্যকর, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ ও জ্বালানি সরবরাহে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে জোটটি।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁ শহরে অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলন শেষে বুধবার (১৭ জুন) প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে নেতারা বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান আলোচনা অবশ্যই এমন একটি সমাধানে পৌঁছাতে হবে, যেন তেহরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে।

চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতির একটি কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছেছে। শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে সমঝোতা স্মারক সইয়ের কথা রয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তির বিষয়ে আলোচনা চালাবে দুই দেশ।

জি৭ নেতারা বলেছেন, সমঝোতা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতেও তারা প্রস্তুত। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হলে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করবে।

ইরান যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যাপক বেড়ে যায়। এ অভিজ্ঞতার পর জি৭ নেতারা ভবিষ্যতে এই রুটের ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন।

সমঝোতার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও কমতে শুরু করেছে। বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের নিচে নেমে আসে, যা সংঘাত শুরুর পর সর্বনিম্ন।

লেবানন নিয়ে উদ্বেগ

জি৭ নেতারা তাদের বিবৃতিতে লেবাননে ‘তাৎক্ষণিক ও কার্যকর যুদ্ধবিরতি’র আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেছেন।

বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননের একটি অংশে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী অবস্থান করছে। ইরান দাবি করছে, স্থায়ী শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে ইসরায়েলকে সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। তবে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা ওই এলাকা ছাড়বে না এবং প্রয়োজন হলে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর অধিকার সংরক্ষণ করবে। এ অবস্থায় লেবানন ইস্যুই যুদ্ধবিরতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতাকে আন্তর্জাতিক সমর্থন মিললেও মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা অনেকটাই নির্ভর করবে আগামী ৬০ দিনের আলোচনা এবং লেবানন সংকটের সমাধানের ওপর।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

‘বিশ্বাসঘাতক’ ট্রাম্পের ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় ক্ষোভ, এককভাবে লড়াইয়ের পক্ষে ইসরায়েলিরা

৭৬ বছর বয়সী নেতানিয়াহুর জন্য পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবেও কঠিন হয়ে উঠেছে। দুর্নীতির মামলায় বিচারাধীন এই নেতা এখন ভোটারদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এখনও তিনিই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি।

৪ ঘণ্টা আগে

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা: সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন উইটকফ ও আরাগচি

লেবাননে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর অন্তর্বর্তীকালীন ইরান যুদ্ধ চুক্তিকে একটি স্থায়ী আঞ্চলিক চুক্তিতে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা আবারও জোরদার হয়েছে। এই আলোচনার অংশ হিসেবে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি উভয়েই সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে এক্সিওসের বরাতে জানিয়ে

৬ ঘণ্টা আগে

ইরান ইস্যুই গড়তে পারে জে ডি ভ্যান্সের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ

কূটনৈতিক প্রথা অনুযায়ী এ ধরনের হাই-প্রোফাইল আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর। কিন্তু ট্রাম্প দৃশ্যত রুবিওর পরিবর্তে ভ্যান্সকেই সামনে নিয়ে এসেছেন। ফলে প্রশাসনের ভেতরে রুবিওর প্রকৃত ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

৬ ঘণ্টা আগে

লেবাননে 'যুদ্ধবিরতিতে সম্মত' ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ, জানালেন মার্কিন কর্মকর্তা

লেবাননে নতুন করে ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ায় ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা চুক্তিটিকে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে রূপান্তরের সম্ভাবনা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। এরপরই এই যুদ্ধবিরতির খবর এলো।

২০ ঘণ্টা আগে