বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্ত চায় ইউরোপীয় পার্লামেন্ট

ক্রীড়া ডেস্ক
আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৬, ১৩: ৪০
২০১৮ সালে হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে বৈঠকের সময় লাল কার্ড হাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের শাস্তি প্রত্যাহারকে ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। এবার ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি তুলেছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একাধিক সদস্য। তাদের অভিযোগ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগের পর ফিফার নেওয়া সিদ্ধান্ত ফুটবলের ন্যায়বিচার ও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ব্যারি অ্যান্ড্রুজ, লারা ওল্টার্স এবং নিলস ফুগলসাং যৌথ বিবৃতিতে বিশ্বকাপ চলাকালে লাল কার্ডের শাস্তি কার্যকরের নিয়ম কার্যত পরিবর্তন করাকে ‘লজ্জাজনক’ এবং ‘ন্যায়বিচারের বিকৃতি’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের কোনো প্রভাব ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা ফিফার নৈতিকতা কমিটির কাছে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্তের দাবি তোলে। একই সঙ্গে ট্রাম্পকে ফিফা ‘পিস প্রাইজ’ দেওয়াসহ রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা লঙ্ঘনের অভিযোগে অন্যান্য ঘটনাও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিবৃতিতে পার্লামেন্ট সদস্যরা বলেন, ‘আরও একবার আমরা দেখলাম, ইনফান্তিনো ও ফিফা ট্রাম্প প্রশাসনের দাবির কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।’ তারা বলেন, ‘খেলাধুলার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো এটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নিয়মের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। কিন্তু রাজনৈতিক চাপের কারণে কে খেলবে আর কে খেলবে না, যদি তা নির্ধারিত হতে শুরু করে, তাহলে ন্যায়সংগত প্রতিযোগিতার ধারণাই ধ্বংস হয়ে যাবে।’

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নতুন এই উদ্যোগের ফলে বিতর্কটি এখন আর শুধু মাঠের সিদ্ধান্তে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা হিসেবে ফিফার স্বাধীনতা, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকা এবং সুশাসন নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে এ পর্যন্ত ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অন্তত ৩৫ জন সদস্য এই তদন্ত দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে।

বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনকে লাল কার্ড দেখাচ্ছেন ব্রাজিলের রেফারি রাফায়েল ক্লাউস। পরে বালোগুনের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ছবি: এপি
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনকে লাল কার্ড দেখাচ্ছেন ব্রাজিলের রেফারি রাফায়েল ক্লাউস। পরে বালোগুনের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ছবি: এপি

বিতর্কের সূত্রপাত যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানকে ঘিরে। গত ২ জুলাই বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে তিনি সরাসরি লাল কার্ড দেখেন। ফিফার শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী, এ কারণে পরবর্তী ম্যাচে তার নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল। এ ধরনের শাস্তির বিরুদ্ধে সাধারণত আপিলের সুযোগও থাকে না।

তবে শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে হঠাৎ করেই বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে ফিফা। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ইনফান্তিনোকে ফোন করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছিলেন। যদিও তিনি দাবি করেন, ফিফার ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করেননি; শুধু সিদ্ধান্তটি পুনরায় বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

অন্যদিকে ইনফান্তিনোও নিশ্চিত করেছেন যে তিনি ট্রাম্পের ফোন পেয়েছিলেন। তবে তার দাবি, বিষয়টি ফিফার স্বাধীন বিচারিক সংস্থার বিবেচনায় ছিল এবং সিদ্ধান্তটি তারা সম্পূর্ণ স্বতন্ত্রভাবেই নিয়েছে।

ফিফাও একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছে, বালোগানের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থার শৃঙ্খলা কমিটি। তবে বিশ্বকাপ চলাকালে কী আইনি ভিত্তিতে এমন নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর থেকেই ইউরোপের ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এর আগে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ইউয়েফা) অভিযোগ করেছিল, ফিফা রাজনৈতিক কারণে নিজেদের নিয়মবিধি উপেক্ষা করেছে। একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বেলজিয়াম ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন, জার্মান ফুটবল ফেডারেশন ও নরওয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। ফিফার সাবেক সভাপতি সেপ ব্লাটারও এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ট্রাম্পের শুরু করা ইরান যুদ্ধ নিয়ে অমীমাংসিত ৬ প্রশ্ন

বর্তমানে সবচেয়ে লক্ষণীয় পরিবর্তন হচ্ছে, যুদ্ধের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে যে সীমিত সমর্থন ছিল, সেটিও টালমাটাল হয়ে পড়ছে। প্রায় টানা দুই সপ্তাহ রাতভর হামলার পর আপাতত মার্কিন সামরিক অভিযান স্থগিত রয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন বিভিন্ন সময়ই সংঘাত আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়ে আসছে।

১৫ ঘণ্টা আগে

পশ্চিম তীরে হামলা: ইসরায়েলকে সতর্ক করল আরব আমিরাত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এ ধরনের হামলা মুসলমানদের বিরুদ্ধে চরমপন্থী ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের শামিল, যা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।

১ দিন আগে

গ্রেফতারি পরোয়ানা উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্র সফরে নেতানিয়াহু

সফরকালে দুই নেতা ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি সহ উভয় দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নানা ইস্যুতে আলোচনা করবেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি হতে যাচ্ছে নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সপ্তম বৈঠক। ট্রাম্পের চলতি মেয়াদে অন্

১ দিন আগে

ট্রাম্পের ক্ষমার পর দেশে ফিরলেন হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হার্নান্দেজ

২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে ছিলেন হার্নান্দেজ। ২০২২ সালের এপ্রিলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয় এবং ২০২৪ সালে মার্কিন আদালত তাকে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড দেন। তবে শুরু থেকেই তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন। পরবর্তীতে ট্রাম্প তাকে ক্ষমা করেন।

১ দিন আগে