
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

ফ্রান্সের কট্টর ডানপন্থি নেতা মেরিন লা পেনের প্রেসিডেন্ট হওয়ার স্বপ্ন আবারও বড় ধাক্কা খেয়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের তহবিল আত্মসাতের মামলায় তার দণ্ড বহাল রেখেছেন প্যারিসের আপিল আদালত। তবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অযোগ্য থাকার সময়সীমা আগের রায়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়ায় ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।
তবে আদালতের নতুন রায়ে লা পেনের জন্য আরেকটি বড় জটিলতা তৈরি হয়েছে। আদালত তিন বছরের কারাদণ্ড বহাল রাখলেও এর মধ্যে দুই বছর স্থগিত রাখা হয়েছে। বাকি এক বছর তাকে ইলেকট্রনিক অ্যাংকল ট্যাগ বা গোড়ালিতে ইলেকট্রনিক নজরদারি যন্ত্র পরে কাটাতে হবে। এর ফলে তিনি আইনিভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেও বাস্তবে সারা দেশে ঘুরে প্রচার চালানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, ৫৭ বছর বয়সী লা পেন নিজেও রায় ঘোষণার আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যদি এমন কোনো শাস্তি দেওয়া হয় যাতে তার চলাচল সীমিত হয়ে যায় কিংবা ইলেকট্রনিক ট্যাগ পরে থাকতে হয়, তাহলে কার্যকরভাবে নির্বাচনি প্রচার চালানো সম্ভব হবে না।
গত সপ্তাহে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লা পেন বলেন, ‘আমি যদি প্রার্থী হতে পারি, কিন্তু স্বাধীনভাবে প্রচার চালাতেই না পারি, তাহলে আপনারাই বুঝতে পারছেন সেটা সম্ভব হবে না।’
লা পেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না, রায় ঘোষণার পরপরই সে বিষয়ে কোনো তাৎক্ষণিক ঘোষণা দেননি। আদালতও জানিয়েছে, তার ইলেকট্রনিক নজরদারির শর্ত কী হবে এবং চলাচলের ওপর কতটা বিধিনিষেধ থাকবে, তা পরে অন্য একজন বিচারক নির্ধারণ করবেন।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, লা পেন মঙ্গলবারই নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অবস্থান পরিষ্কার করতে পারেন।
আপিল আদালত রায়ে বলেছেন, ২০০৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সহকারীদের জন্য বরাদ্দ অর্থ একটি সুপরিকল্পিত উপায়ে দলীয় কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। আদালতের মতে, লা পেন এই পুরো ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় ভূমিকায় ছিলেন।
রায়ে বলা হয়, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের ব্রাসেলস বা স্ট্রাসবুর্গে কাজ করা সহকারীদের বেতন দেওয়ার জন্য যে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল, সেটি নিয়ম ভঙ্গ করে ফ্রান্সে তার দলের কর্মীদের বেতন পরিশোধে ব্যবহার করা হয়।
প্রসিকিউটরদের ভাষ্য, এসব কর্মীর ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কাজে কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। এই পদ্ধতির মাধ্যমে প্রায় ৪ দশমিক ৮ মিলিয়ন ইউরো আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সে সময় দলটির নাম ছিল ‘ফ্রন্ট ন্যাশনাল’, যা পরে পরিবর্তন করে ‘ন্যাশনাল র্যালি (আরএন)’ রাখা হয়।
আপিল আদালত লা পেনকে এক লাখ ইউরো জরিমানাও করেছেন।
গত মার্চে নিম্ন আদালত লা পেনকে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করেছিল, যা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে যায়।
কিন্তু আপিল আদালত সেই নিষেধাজ্ঞা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনেছে। নতুন রায়ে তাকে মোট ৪৫ মাসের জন্য নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অযোগ্য রাখা হলেও এর মধ্যে ৩০ মাস স্থগিত করা হয়েছে। ফলে কার্যকর নিষেধাজ্ঞা থাকছে মাত্র ১৫ মাস।
এই সিদ্ধান্তে আইনিভাবে তার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা আবারও তৈরি হয়েছে। তবে ইলেকট্রনিক ট্যাগের শর্ত ও চলাচলের সীমাবদ্ধতা শেষ পর্যন্ত তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
লা পেনের রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল র্যালি অনেক দিন ধরেই বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করে রেখেছিল। লা পেন শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে তার বদলে দলের সভাপতি ৩০ বছর বয়সী জর্ডান বারদেলাকে সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। বারদেলা বর্তমানে দল পরিচালনা করছেন। তিনি ইউরোপীয় পার্লামেন্টে কট্টর ডানপন্থি জোট ‘প্যাট্রিয়টস ফর ইউরোপে’র নেতৃত্বও দিচ্ছেন।
রায় ঘোষণার আগে লা পেন বলেছিলেন, প্রয়োজনে তিনি বারদেলার পক্ষেই কাজ করবেন। তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে আমি জর্ডান বারদেলাকে শক্তি, আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে সমর্থন দেবো। আমরা কখনো হাল ছাড়ি না।’
সাম্প্রতিক কয়েকটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, বারদেলা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় পৌঁছানোর মতো সমর্থন পাচ্ছেন। কিছু জরিপে তার জনপ্রিয়তা লা পেনের চেয়েও বেশি দেখা গেছে।
যদি শেষ পর্যন্ত লা পেন নির্বাচন না করেন, তাহলে প্রায় তিন দশকের মধ্যে এই প্রথম ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লা পেন পরিবারের কেউ প্রার্থী থাকবেন না। তার বাবা জ্যঁ-মারি লা পেন ২০০২ সালের নির্বাচনের দ্বিতীয় পর্ব পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। পরে মেরিন লা পেন ২০১২, ২০১৭ ও ২০২২ সালে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২০১৭ ও ২০২২ সালে তিনি বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর কাছে পরাজিত হন। তবে ২০২২ সালের নির্বাচনে তিনি ৪১ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে কট্টর ডানপন্থিদের সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেন।
আপিল শুনানির সময় লা পেন আদালতে দাবি করেন, তার দল কখনো ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অর্থ অপব্যবহারের জন্য কোনো ‘সিস্টেম’ গড়ে তোলেনি। তার ভাষায়, ‘আমরা মনে করি না যে আমরা সামান্যতম কোনো অপরাধও করেছি।’
কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী থিয়েরি রামোনাৎসো আদালতে বলেন, পুরো আত্মসাতের প্রক্রিয়াটি ছিল সুপরিকল্পিত, কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত এবং প্রায় শিল্পকারখানার মতো সংগঠিত একটি ব্যবস্থা। তিনি বলেন, ইউরোপীয় করদাতাদের অর্থ নিয়ম ভঙ্গ করে দলীয় কাজে ব্যবহার করা হয়েছে এবং ই-মেইলসহ বিভিন্ন দলীয় নথিতে সেই প্রক্রিয়ার স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষ আরও অভিযোগ করে, নিম্ন আদালতের রায়ের পর লা পেন বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে যে মন্তব্য করেছেন, তা বিচারব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা দুর্বল করার ঝুঁকি তৈরি করেছে। গত বছরের রায়ের পর লা পেন ‘বিচারকদের স্বৈরতন্ত্র’, ‘আইনের শাসনের লঙ্ঘন’ ও ‘রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে’র মতো অভিযোগ তুলেছিলেন বিচারকদের বিরুদ্ধে।
রামোনাৎসো আদালতে বলেন, বিচারকরা শুধু সংসদে পাস হওয়া আইনই প্রয়োগ করেন। বিচার বিভাগকে রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ করা গণতান্ত্রিক বিতর্কের অংশ নয়; বরং তা পুরো বিচারব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা।
তিনি আরও বলেন, এসব বক্তব্যের কারণে বিচারকদের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকিও বেড়েছে।
এ মামলায় প্রথম বিচারে লা পেনসহ মোট ২৪ জন দোষী সাব্যস্ত হন। তাদের মধ্যে লা পেন ও আরও ১০ জন আপিল করেন। আপিল আদালতের নতুন রায়ে তার নির্বাচনি নিষেধাজ্ঞা কমলেও দণ্ড বহাল থাকায় ফ্রান্সের রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। একদিকে আইনিভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, অন্যদিকে ইলেকট্রনিক নজরদারির বাধ্যবাধকতা তার প্রচার পরিচালনা প্রায় অসম্ভব করে তুলতে পারে।
ফলে লা পেন নিজে নির্বাচন করবেন, নাকি দলের নতুন মুখ হিসেবে জর্ডান বারদেলাকে সামনে আনা হবে— সেটিই এখন ফ্রান্সের রাজনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে হয়তো সে প্রশ্নের জবাব মিলবে।

ফ্রান্সের কট্টর ডানপন্থি নেতা মেরিন লা পেনের প্রেসিডেন্ট হওয়ার স্বপ্ন আবারও বড় ধাক্কা খেয়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের তহবিল আত্মসাতের মামলায় তার দণ্ড বহাল রেখেছেন প্যারিসের আপিল আদালত। তবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অযোগ্য থাকার সময়সীমা আগের রায়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়ায় ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।
তবে আদালতের নতুন রায়ে লা পেনের জন্য আরেকটি বড় জটিলতা তৈরি হয়েছে। আদালত তিন বছরের কারাদণ্ড বহাল রাখলেও এর মধ্যে দুই বছর স্থগিত রাখা হয়েছে। বাকি এক বছর তাকে ইলেকট্রনিক অ্যাংকল ট্যাগ বা গোড়ালিতে ইলেকট্রনিক নজরদারি যন্ত্র পরে কাটাতে হবে। এর ফলে তিনি আইনিভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেও বাস্তবে সারা দেশে ঘুরে প্রচার চালানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, ৫৭ বছর বয়সী লা পেন নিজেও রায় ঘোষণার আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যদি এমন কোনো শাস্তি দেওয়া হয় যাতে তার চলাচল সীমিত হয়ে যায় কিংবা ইলেকট্রনিক ট্যাগ পরে থাকতে হয়, তাহলে কার্যকরভাবে নির্বাচনি প্রচার চালানো সম্ভব হবে না।
গত সপ্তাহে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লা পেন বলেন, ‘আমি যদি প্রার্থী হতে পারি, কিন্তু স্বাধীনভাবে প্রচার চালাতেই না পারি, তাহলে আপনারাই বুঝতে পারছেন সেটা সম্ভব হবে না।’
লা পেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না, রায় ঘোষণার পরপরই সে বিষয়ে কোনো তাৎক্ষণিক ঘোষণা দেননি। আদালতও জানিয়েছে, তার ইলেকট্রনিক নজরদারির শর্ত কী হবে এবং চলাচলের ওপর কতটা বিধিনিষেধ থাকবে, তা পরে অন্য একজন বিচারক নির্ধারণ করবেন।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, লা পেন মঙ্গলবারই নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অবস্থান পরিষ্কার করতে পারেন।
আপিল আদালত রায়ে বলেছেন, ২০০৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সহকারীদের জন্য বরাদ্দ অর্থ একটি সুপরিকল্পিত উপায়ে দলীয় কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। আদালতের মতে, লা পেন এই পুরো ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় ভূমিকায় ছিলেন।
রায়ে বলা হয়, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের ব্রাসেলস বা স্ট্রাসবুর্গে কাজ করা সহকারীদের বেতন দেওয়ার জন্য যে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল, সেটি নিয়ম ভঙ্গ করে ফ্রান্সে তার দলের কর্মীদের বেতন পরিশোধে ব্যবহার করা হয়।
প্রসিকিউটরদের ভাষ্য, এসব কর্মীর ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কাজে কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। এই পদ্ধতির মাধ্যমে প্রায় ৪ দশমিক ৮ মিলিয়ন ইউরো আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সে সময় দলটির নাম ছিল ‘ফ্রন্ট ন্যাশনাল’, যা পরে পরিবর্তন করে ‘ন্যাশনাল র্যালি (আরএন)’ রাখা হয়।
আপিল আদালত লা পেনকে এক লাখ ইউরো জরিমানাও করেছেন।
গত মার্চে নিম্ন আদালত লা পেনকে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করেছিল, যা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে যায়।
কিন্তু আপিল আদালত সেই নিষেধাজ্ঞা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনেছে। নতুন রায়ে তাকে মোট ৪৫ মাসের জন্য নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অযোগ্য রাখা হলেও এর মধ্যে ৩০ মাস স্থগিত করা হয়েছে। ফলে কার্যকর নিষেধাজ্ঞা থাকছে মাত্র ১৫ মাস।
এই সিদ্ধান্তে আইনিভাবে তার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা আবারও তৈরি হয়েছে। তবে ইলেকট্রনিক ট্যাগের শর্ত ও চলাচলের সীমাবদ্ধতা শেষ পর্যন্ত তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
লা পেনের রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল র্যালি অনেক দিন ধরেই বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করে রেখেছিল। লা পেন শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে তার বদলে দলের সভাপতি ৩০ বছর বয়সী জর্ডান বারদেলাকে সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। বারদেলা বর্তমানে দল পরিচালনা করছেন। তিনি ইউরোপীয় পার্লামেন্টে কট্টর ডানপন্থি জোট ‘প্যাট্রিয়টস ফর ইউরোপে’র নেতৃত্বও দিচ্ছেন।
রায় ঘোষণার আগে লা পেন বলেছিলেন, প্রয়োজনে তিনি বারদেলার পক্ষেই কাজ করবেন। তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে আমি জর্ডান বারদেলাকে শক্তি, আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে সমর্থন দেবো। আমরা কখনো হাল ছাড়ি না।’
সাম্প্রতিক কয়েকটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, বারদেলা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় পৌঁছানোর মতো সমর্থন পাচ্ছেন। কিছু জরিপে তার জনপ্রিয়তা লা পেনের চেয়েও বেশি দেখা গেছে।
যদি শেষ পর্যন্ত লা পেন নির্বাচন না করেন, তাহলে প্রায় তিন দশকের মধ্যে এই প্রথম ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লা পেন পরিবারের কেউ প্রার্থী থাকবেন না। তার বাবা জ্যঁ-মারি লা পেন ২০০২ সালের নির্বাচনের দ্বিতীয় পর্ব পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। পরে মেরিন লা পেন ২০১২, ২০১৭ ও ২০২২ সালে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২০১৭ ও ২০২২ সালে তিনি বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর কাছে পরাজিত হন। তবে ২০২২ সালের নির্বাচনে তিনি ৪১ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে কট্টর ডানপন্থিদের সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেন।
আপিল শুনানির সময় লা পেন আদালতে দাবি করেন, তার দল কখনো ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অর্থ অপব্যবহারের জন্য কোনো ‘সিস্টেম’ গড়ে তোলেনি। তার ভাষায়, ‘আমরা মনে করি না যে আমরা সামান্যতম কোনো অপরাধও করেছি।’
কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী থিয়েরি রামোনাৎসো আদালতে বলেন, পুরো আত্মসাতের প্রক্রিয়াটি ছিল সুপরিকল্পিত, কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত এবং প্রায় শিল্পকারখানার মতো সংগঠিত একটি ব্যবস্থা। তিনি বলেন, ইউরোপীয় করদাতাদের অর্থ নিয়ম ভঙ্গ করে দলীয় কাজে ব্যবহার করা হয়েছে এবং ই-মেইলসহ বিভিন্ন দলীয় নথিতে সেই প্রক্রিয়ার স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষ আরও অভিযোগ করে, নিম্ন আদালতের রায়ের পর লা পেন বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে যে মন্তব্য করেছেন, তা বিচারব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা দুর্বল করার ঝুঁকি তৈরি করেছে। গত বছরের রায়ের পর লা পেন ‘বিচারকদের স্বৈরতন্ত্র’, ‘আইনের শাসনের লঙ্ঘন’ ও ‘রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে’র মতো অভিযোগ তুলেছিলেন বিচারকদের বিরুদ্ধে।
রামোনাৎসো আদালতে বলেন, বিচারকরা শুধু সংসদে পাস হওয়া আইনই প্রয়োগ করেন। বিচার বিভাগকে রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ করা গণতান্ত্রিক বিতর্কের অংশ নয়; বরং তা পুরো বিচারব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা।
তিনি আরও বলেন, এসব বক্তব্যের কারণে বিচারকদের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকিও বেড়েছে।
এ মামলায় প্রথম বিচারে লা পেনসহ মোট ২৪ জন দোষী সাব্যস্ত হন। তাদের মধ্যে লা পেন ও আরও ১০ জন আপিল করেন। আপিল আদালতের নতুন রায়ে তার নির্বাচনি নিষেধাজ্ঞা কমলেও দণ্ড বহাল থাকায় ফ্রান্সের রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। একদিকে আইনিভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, অন্যদিকে ইলেকট্রনিক নজরদারির বাধ্যবাধকতা তার প্রচার পরিচালনা প্রায় অসম্ভব করে তুলতে পারে।
ফলে লা পেন নিজে নির্বাচন করবেন, নাকি দলের নতুন মুখ হিসেবে জর্ডান বারদেলাকে সামনে আনা হবে— সেটিই এখন ফ্রান্সের রাজনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে হয়তো সে প্রশ্নের জবাব মিলবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আটলান্টিক উপকূল থেকে পূর্ব ভূমধ্যসাগর, স্কটল্যান্ডের হাইল্যান্ডস থেকে স্পেনের দক্ষিণাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত দাবানলের এই ধারা সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপে নজিরবিহীন। অনেক আগুনই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে এবং শহর ও জনবসতির কাছাকাছি পৌঁছে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছে।
১৪ ঘণ্টা আগে
সুপ্রিম কোর্ট বলেন, সিবিআইয়ের দাখিল করা দুটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আদালতের মনে হয়েছে, সেগুলো বাতিল করে নতুন করে বিচার শুরুর মতো কোনো গ্রহণযোগ্য বা জোরালো কারণ নেই। ফলে তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই মামলাটি নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।
১৫ ঘণ্টা আগে
রাহুল বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদে এসে বসার সাহস নেই। আমি তাকে ৩০টি গাড়ির কনভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বসে থাকতে দেখেছি। তিনি আজ সংসদে নেই কেন? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই ছাত্রদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।’
২১ ঘণ্টা আগে
রাজ্যসভায় পাস ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর বিলটি আইনে পরিণত হলে প্রশ্নপত্র ফাঁস বা পরীক্ষায় অনিয়মে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি বেড়ে হবে ১০ বছরের কারাদণ্ড, পাশাপাশি সর্বোচ্চ ৫০ লাখ রুপি জরিমানার বিধানও থাকবে।
২১ ঘণ্টা আগে