
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস ও আশপাশের এলাকায় অসংখ্য ভবন ধসে পড়ে অন্তত ৩২ জন নিহত এবং ৭০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এ তথ্য জানিয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু মানুষ আটকে থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভের (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২৪ জুন) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে কারাকাস থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে কারাকাস থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজের দেওয়া হতাহতদের প্রাথমিক হিসাবের মধ্যে কারাকাসের নিকটবর্তী লা গুয়াইরা রাজ্যের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। দেশটির প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ওই রাজ্যেই অবস্থিত এবং ভূমিকম্পে সেটিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ধসে পড়েছে বহু ভবন, চলছে উদ্ধার অভিযান
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ১টার ঠিক আগে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে রদ্রিগেজ বলেন, ‘ডজন ডজন ভবন ধসে পড়েছে। ঈশ্বর আমাদের যতজনকে বাঁচানোর সুযোগ দেবেন, ঠিক ততজনকে উদ্ধার করতে আমরা এই মুহূর্তে অত্যন্ত জোরালো উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলতে চাই যে এটি একটি সত্যিকারের বড় ট্র্যাজেডি। এখান থেকে আমরা আমাদের সংহতির বার্তা পাঠাচ্ছি। আর যেসব পরিবার তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, এই কঠিন সময়ে আমরা তাদের প্রতি আমাদের সমবেদনা ও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছি।’
প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ জানান, দেশ এখন পুরোপুরি উদ্ধারকাজে মনোযোগ দিচ্ছে। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিভিন্ন দেশ থেকে উদ্ধারকারী দল ভেনেজুয়েলায় পৌঁছাবে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বিভিন্ন দেশের নেতাদের সহায়তার আশ্বাসের জন্য ধন্যবাদ জানান।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার জনগণের ওপর যে দুটি বড় ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, তার মাত্রা যেমন বিশাল, তেমনি তা ভয়াবহ সংখ্যার মৃত্যু ডেকে এনেছে।’ তিনি আরও জানান, এই দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়তা দিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে।
কারাকাসের বারুতা জেলার মেয়র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, সেখানে দুটি ভবন ধসে পড়ে তিনজন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে রাজধানীর চাকাতো জেলার মেয়র গুস্তাভো দুকে সাংবাদিকদের বলেন, সেখানে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং চারটি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, ‘আমাদের অনেক ভবন ও ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে। নিরাপত্তা এবং বেসামরিক সহায়তার জন্য আমাদের কাছে যা কিছু মজুত আছে, তার সবটুকু দিয়ে আমরা পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছি।’
ধ্বংসস্তূপে স্বজনের খোঁজে আকুতি
টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, রাত নেমে আসার পরও জরুরি সেবাকর্মীরা ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। স্বজনরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া প্রিয়জনদের উদ্ধারের জন্য আকুতি জানাচ্ছেন।
ধসে পড়া একটি ভবনের পাশের বাসিন্দা মারিয়া আলেজান্দ্রা বলেন, ‘আমরা যখন নিচে নেমে এলাম, চারপাশের দৃশ্যটা ছিল পুরো একটা হরর সিনেমার মতো।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ধ্বংসস্তূপ এবং সবকিছুর ওপর দিয়ে বেয়ে নামতে হয়েছিল। ভবনের সুপারিনটেনডেন্ট তার বাচ্চা নিয়ে এবং অন্য সব প্রতিবেশীরা নিচে নেমে আসছিল। কিন্তু ওই (ধসে পড়া) ভবনটি থেকে আমি কেবল একটি পরিবারকেই বের হতে দেখেছি।’
ভূমিকম্পের পরপরই সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। সরকারি ছুটির দিনে এই দুর্যোগ আঘাত হানায় অনেক মানুষ তখন নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করছিলেন।
‘১৯৬৭ সালের চেয়েও ভয়াবহ’
পূর্ব কারাকাসের ৫৬ বছর বয়সী বাসিন্দা কোরো মার্টিনেজ বলেন, ‘ভীষণ জোরে একটা ভাঙচুরের শব্দ হলো। ঘরের জিনিসপত্র, এমনকি রেফ্রিজারেটরের ভেতরের জগগুলোও পড়ে গেল। আমি আমার জীবনে কখনো এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হইনি।’
১৯৬৭ সালে ৬ দশমিক ৩ মাত্রার প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা থাকা কারাকাসের বাসিন্দারা এবারও কম্পন শুরু হতেই দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পশ্চিম কারাকাসের বাসিন্দা ও ৪১ বছর বয়সী পাবলিসিস্ট অ্যাস্ট্রিড রামিরেজ বলেন, ‘কম্পন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা মানুষের চিৎকার শুনতে পাই। সবাই সিঁড়ি বেয়ে নিচের দিকে দৌড়াচ্ছিল।’

দক্ষিণ কারাকাসের ৮০ বছর বয়সী পেনশনভোগী মারিয়া রোমেরো জানান, পুলিশ তাকে ঘর থেকে বের হতে সহায়তা করেছে। তিনি বলেন, ‘এই ভূমিকম্পটা ছিল ভয়াবহ, ১৯৬৭ সালেরটার চেয়েও খারাপ।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৪১ বছর বয়সী এক অফিসকর্মী জানান, কম্পন তীব্র হওয়ার কয়েক সেকেন্ড আগে তার মোবাইল ফোনে ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা আসে। তিনি বলেন, ‘আমি যখন ফোনটা হাতে নিয়ে বার্তাটি দেখা শুরু করলাম, প্রথমে হালকা একটা কম্পন অনুভব করলাম। তারপর দুই সেকেন্ডের কম সময়ের মধ্যে সবকিছু দুলতে শুরু করল।’
আন্তর্জাতিক সহায়তার আশ্বাস
এদিকে এল সালভাদর, ডোমিনিকান রিপাবলিক ও ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা ভেনেজুয়েলার প্রতি সমর্থন ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তারা ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং সহায়তা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে দেশ পরিচালনা করা রদ্রিগেজ বলেন, বিদেশি সহায়তার প্রস্তাবগুলো সমন্বয়ের জন্য তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন।
কারাকাসে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

ভেনেজুয়েলা এমন একটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে ক্যারিবীয় ও দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগ ঘটেছে। ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ১৮১২ সালে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মেরিডা ও কারাকাসে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে এবং আনুমানিক ৩০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
প্রস্তুত হাসপাতাল, বন্ধ বিমানবন্দর
কারাকাসের ‘হসপিটাল ডি ক্লিনিকাসে’র এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিপুলসংখ্যক আহতের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে নৈশকালীন শিফটের কর্মীদের দ্বিগুণ দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ জানান, কারাকাসের উত্তরে উপকূলীয় শহর মাইকুয়েটিয়ায় অবস্থিত ভেনেজুয়েলার বৃহত্তম বিমানবন্দরটি ক্ষয়ক্ষতির কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলায় সপ্তাহের বাকি সময়ের জন্য সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাসও বাতিল ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
তেল খাতে বড় ক্ষতির খবর নেই
তবে দেশটির তেল খাতের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েনি বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৃহৎ তেল হাব লেক মারাকাইবোর কাছে অবস্থিত মারাকাইবোর বেসামরিক সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল মোরনের কাছে অবস্থিত ‘এল পালিটো’ শোধনাগারের এক কর্মী জানিয়েছেন, সেখানে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
ভেনেজুয়েলায় গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নের সম্ভাবনা মূল্যায়নকারী যুক্তরাজ্যভিত্তিক তেল কোম্পানি ‘শেল’ জানিয়েছে, দেশটিতে থাকা তাদের সব কর্মচারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং কেউ আহত হননি।
তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা চলতে থাকলে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। এ বিষয়ে ভেনেজুয়েলার তেল মন্ত্রণালয়, রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ এবং তাদের প্রধান বিদেশি অংশীদার শেভরন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস ও আশপাশের এলাকায় অসংখ্য ভবন ধসে পড়ে অন্তত ৩২ জন নিহত এবং ৭০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এ তথ্য জানিয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু মানুষ আটকে থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভের (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২৪ জুন) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে কারাকাস থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে কারাকাস থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজের দেওয়া হতাহতদের প্রাথমিক হিসাবের মধ্যে কারাকাসের নিকটবর্তী লা গুয়াইরা রাজ্যের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। দেশটির প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ওই রাজ্যেই অবস্থিত এবং ভূমিকম্পে সেটিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ধসে পড়েছে বহু ভবন, চলছে উদ্ধার অভিযান
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ১টার ঠিক আগে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে রদ্রিগেজ বলেন, ‘ডজন ডজন ভবন ধসে পড়েছে। ঈশ্বর আমাদের যতজনকে বাঁচানোর সুযোগ দেবেন, ঠিক ততজনকে উদ্ধার করতে আমরা এই মুহূর্তে অত্যন্ত জোরালো উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলতে চাই যে এটি একটি সত্যিকারের বড় ট্র্যাজেডি। এখান থেকে আমরা আমাদের সংহতির বার্তা পাঠাচ্ছি। আর যেসব পরিবার তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, এই কঠিন সময়ে আমরা তাদের প্রতি আমাদের সমবেদনা ও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছি।’
প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ জানান, দেশ এখন পুরোপুরি উদ্ধারকাজে মনোযোগ দিচ্ছে। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিভিন্ন দেশ থেকে উদ্ধারকারী দল ভেনেজুয়েলায় পৌঁছাবে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বিভিন্ন দেশের নেতাদের সহায়তার আশ্বাসের জন্য ধন্যবাদ জানান।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার জনগণের ওপর যে দুটি বড় ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, তার মাত্রা যেমন বিশাল, তেমনি তা ভয়াবহ সংখ্যার মৃত্যু ডেকে এনেছে।’ তিনি আরও জানান, এই দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়তা দিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে।
কারাকাসের বারুতা জেলার মেয়র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, সেখানে দুটি ভবন ধসে পড়ে তিনজন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে রাজধানীর চাকাতো জেলার মেয়র গুস্তাভো দুকে সাংবাদিকদের বলেন, সেখানে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং চারটি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, ‘আমাদের অনেক ভবন ও ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে। নিরাপত্তা এবং বেসামরিক সহায়তার জন্য আমাদের কাছে যা কিছু মজুত আছে, তার সবটুকু দিয়ে আমরা পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছি।’
ধ্বংসস্তূপে স্বজনের খোঁজে আকুতি
টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, রাত নেমে আসার পরও জরুরি সেবাকর্মীরা ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। স্বজনরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া প্রিয়জনদের উদ্ধারের জন্য আকুতি জানাচ্ছেন।
ধসে পড়া একটি ভবনের পাশের বাসিন্দা মারিয়া আলেজান্দ্রা বলেন, ‘আমরা যখন নিচে নেমে এলাম, চারপাশের দৃশ্যটা ছিল পুরো একটা হরর সিনেমার মতো।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ধ্বংসস্তূপ এবং সবকিছুর ওপর দিয়ে বেয়ে নামতে হয়েছিল। ভবনের সুপারিনটেনডেন্ট তার বাচ্চা নিয়ে এবং অন্য সব প্রতিবেশীরা নিচে নেমে আসছিল। কিন্তু ওই (ধসে পড়া) ভবনটি থেকে আমি কেবল একটি পরিবারকেই বের হতে দেখেছি।’
ভূমিকম্পের পরপরই সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। সরকারি ছুটির দিনে এই দুর্যোগ আঘাত হানায় অনেক মানুষ তখন নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করছিলেন।
‘১৯৬৭ সালের চেয়েও ভয়াবহ’
পূর্ব কারাকাসের ৫৬ বছর বয়সী বাসিন্দা কোরো মার্টিনেজ বলেন, ‘ভীষণ জোরে একটা ভাঙচুরের শব্দ হলো। ঘরের জিনিসপত্র, এমনকি রেফ্রিজারেটরের ভেতরের জগগুলোও পড়ে গেল। আমি আমার জীবনে কখনো এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হইনি।’
১৯৬৭ সালে ৬ দশমিক ৩ মাত্রার প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা থাকা কারাকাসের বাসিন্দারা এবারও কম্পন শুরু হতেই দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পশ্চিম কারাকাসের বাসিন্দা ও ৪১ বছর বয়সী পাবলিসিস্ট অ্যাস্ট্রিড রামিরেজ বলেন, ‘কম্পন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা মানুষের চিৎকার শুনতে পাই। সবাই সিঁড়ি বেয়ে নিচের দিকে দৌড়াচ্ছিল।’

দক্ষিণ কারাকাসের ৮০ বছর বয়সী পেনশনভোগী মারিয়া রোমেরো জানান, পুলিশ তাকে ঘর থেকে বের হতে সহায়তা করেছে। তিনি বলেন, ‘এই ভূমিকম্পটা ছিল ভয়াবহ, ১৯৬৭ সালেরটার চেয়েও খারাপ।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৪১ বছর বয়সী এক অফিসকর্মী জানান, কম্পন তীব্র হওয়ার কয়েক সেকেন্ড আগে তার মোবাইল ফোনে ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা আসে। তিনি বলেন, ‘আমি যখন ফোনটা হাতে নিয়ে বার্তাটি দেখা শুরু করলাম, প্রথমে হালকা একটা কম্পন অনুভব করলাম। তারপর দুই সেকেন্ডের কম সময়ের মধ্যে সবকিছু দুলতে শুরু করল।’
আন্তর্জাতিক সহায়তার আশ্বাস
এদিকে এল সালভাদর, ডোমিনিকান রিপাবলিক ও ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা ভেনেজুয়েলার প্রতি সমর্থন ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তারা ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং সহায়তা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে দেশ পরিচালনা করা রদ্রিগেজ বলেন, বিদেশি সহায়তার প্রস্তাবগুলো সমন্বয়ের জন্য তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন।
কারাকাসে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

ভেনেজুয়েলা এমন একটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে ক্যারিবীয় ও দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগ ঘটেছে। ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ১৮১২ সালে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মেরিডা ও কারাকাসে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে এবং আনুমানিক ৩০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
প্রস্তুত হাসপাতাল, বন্ধ বিমানবন্দর
কারাকাসের ‘হসপিটাল ডি ক্লিনিকাসে’র এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিপুলসংখ্যক আহতের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে নৈশকালীন শিফটের কর্মীদের দ্বিগুণ দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ জানান, কারাকাসের উত্তরে উপকূলীয় শহর মাইকুয়েটিয়ায় অবস্থিত ভেনেজুয়েলার বৃহত্তম বিমানবন্দরটি ক্ষয়ক্ষতির কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলায় সপ্তাহের বাকি সময়ের জন্য সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাসও বাতিল ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
তেল খাতে বড় ক্ষতির খবর নেই
তবে দেশটির তেল খাতের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েনি বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৃহৎ তেল হাব লেক মারাকাইবোর কাছে অবস্থিত মারাকাইবোর বেসামরিক সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল মোরনের কাছে অবস্থিত ‘এল পালিটো’ শোধনাগারের এক কর্মী জানিয়েছেন, সেখানে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
ভেনেজুয়েলায় গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নের সম্ভাবনা মূল্যায়নকারী যুক্তরাজ্যভিত্তিক তেল কোম্পানি ‘শেল’ জানিয়েছে, দেশটিতে থাকা তাদের সব কর্মচারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং কেউ আহত হননি।
তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা চলতে থাকলে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। এ বিষয়ে ভেনেজুয়েলার তেল মন্ত্রণালয়, রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ এবং তাদের প্রধান বিদেশি অংশীদার শেভরন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ঝাঁকুনিটির উৎপত্তিস্থল ছিল ইউমারে থেকে ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব এবং ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে।
৬ ঘণ্টা আগে
এর মাধ্যমে ১৯৫৭ ও ১৯৭৬ সালে গড়া জুন মাসের আগের সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের রেকর্ড ভেঙে গেছে। তবে যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড এখনো ২০২২ সালের ১৯ জুলাই লিংকনশায়ারের কনিংসবিতে রেকর্ড হওয়া ৪০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
১৫ ঘণ্টা আগে
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশে ফেরার পরপরই চিকিৎসককে বিশেষায়িত হাসপাতালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ভর্তি করা হয় এবং তাকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এড়াতে প্রয়োজনীয় সব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
১৫ ঘণ্টা আগে
বিদেশে অবরুদ্ধ থাকা ইরানের তহবিল ব্যবহারের অধিকার নিয়ে নতুন করে মতবিরোধে জড়িয়েছে তেহরান ও ওয়াশিংটন। ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, অবমুক্ত করা অর্থ কেবল খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী কেনার কাজে ব্যয় করা যাবে। তবে ইরান বলছে, ওই অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হবে সে সিদ্ধান্ত একান্তই তাদের নিজস্ব বিষয়। একই সময়ে পারমা
১ দিন আগে