প্রতিরক্ষা খরচ বাড়ানোর প্রস্তাবে ইইউ নেতারা সম্মত

বাজেট নিয়ম শিথিল করে প্রতিরক্ষা খাতে আরো অর্থ খরচ করা নিয়ে ইইউতে মতৈক্য হলো। ইউক্রেনকে সাহায্য চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত। বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে জরুরি বৈঠকে ইইউর নেতারা ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাবকে স্বাগত জানালেন। সেই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ২৭টি সদস্য দেশের হয়ে ইইউ ১৫ হাজার কোটি ইউরো ঋণ নেবে। সেই অর্থ দেশগুলো নিজেদের এবং ইউরোপের প্রতিরক্ষা জোরালো করবে।
যৌথ বিবৃতিতে ২৭ দেশের শীর্ষনেতারা জানিয়েছেন, তাদের মন্ত্রীরা এখন এই প্রস্তাব নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে সবিস্তারে আলোচনা করবেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা আর ইউরোপের নিরাপত্তার গ্যারান্টি দিতে পারবে না। তারা ইউক্রেনকে সামরিক সাহায্য ও গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।
রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করার জন্য তারা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওপর সমানে চাপ দিয়ে যাচ্ছে। ব্রাসেলসের বৈঠকে ইউ নেতারা আগের মতোই ইউক্রেনের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। শুধু হাঙ্গেরির নেতা ভিক্টর অর্বান এই প্রস্তাব সমর্থন করেননি। ইউক্রেন নিয়ে ২৬টি দেশের নেতা জানিয়েছেন, ইউক্রেনকে বাদ দিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।
ইইউ নেতারা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা খাতে খরচ বাড়ানোটা জরুরি। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ বৈঠকের পরে জানিয়েছেন, ইউক্রেনে যা হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপের প্রতিরক্ষা বাড়াতেই হবে। ইউরোপীয় কাউন্সিলের তরফে আন্তেনিও কোস্তা বলেছেন, ‘আমরা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেটাই পালন করছি। আমরা আমাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই।’
জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস বলেছেন, ‘ইইউ যে ঋণ নেওয়ার নিয়ম শিথিল করে প্রতিরক্ষা খাতে খরচ বাড়ালো, এটা খুবই বড় সিদ্ধান্ত। তারা এই ক্ষেত্রে জার্মানিকেই অনুসরণ করছে।’
ফ্রান্স প্রস্তাব দিয়েছে, ইউরোপকে তারাই পরমাণু সুরক্ষা দেবে। এখন আমেরিকা এই সুরক্ষা দেয়। কিন্তু তার বদলে ফ্রান্স এই সুরক্ষা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু এই প্রস্তাব নিয়ে সম্পূর্ণ মতৈক্য হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু নিরাপত্তা দেওয়ার বদলে ফ্রান্সের পরমাণু সুরক্ষার বিষয়টি শলৎস এড়িয়ে গেছেন। কিন্তু ম্যাখোঁ বলেছেন, ইইউ নেতারা তার কাছে ফ্রান্সের পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। তার আশা, আর কিছুদিনের মধ্যেই এই বিষয়ে সহযোগিতার ছবিটা সামনে আসবে।