
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভের জেরে সহিংসতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় অভিবাসীদের মারধর, লুটপাট করে বাড়িঘর থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। পুলিশের সামনেই অনেককে উচ্ছেদ করা হলেও তারা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অপরাধীরাও অভিবাসীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। ফলে চলতি মাসেও হাজারও মানুষ দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
জোহানেসবার্গের দক্ষিণে অবস্থিত অনানুষ্ঠানিক বসতি থেমবেলিহলে বহু বছর ধরে দক্ষিণ আফ্রিকানদের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছিলেন মালাউই থেকে আসা অভিবাসীরা। কংক্রিটের ব্লকের ছোট ছোট ঘর ও টিনের ঝুপড়িতে গড়ে ওঠা এই এলাকায় গত কয়েক সপ্তাহে একের পর এক সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

গত ২৯ জুন কয়েকজন ব্যক্তি ৬০ বছর বয়সী মালাউই নাগরিক ইব্রাহিম হুসেইনের বাড়িতে ঢুকে তাকে মারধর করে মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নেয়। তিনি ২০০০ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাস করছেন।
এরপর ১৬ জুলাই রাতে থেমবেলিহলের অন্তত চারটি মালাউই পরিবারের বাড়িতে ডাকাতি চালায় একটি সংঘবদ্ধ দল। পাঁচ সদস্যের ওই দল আতঙ্কিত মালাউই নাগরিকদের জুলু ভাষায় বলে, “নিজেদের দেশে ফিরে যাও।”
চলতি বছরের মার্চ থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে প্রায়ই সহিংস বিক্ষোভ চলছে। সরকারি পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে এএফপির হিসাব অনুযায়ী, মোজাম্বিক, নাইজেরিয়া ও জিম্বাবুয়েসহ বিভিন্ন দেশের এক লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ৫৪ হাজার জনকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো হয়েছে। এ পর্যন্ত অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকায় বহু প্রজন্ম ধরেই বিদেশি শ্রমিক নেওয়ার প্রচলন রয়েছে। তবে ১৯৯৪ সালে নেলসন ম্যান্ডেলা দেশটির প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ও গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের মানুষকে স্বাগত জানান। একই সময়ে প্রতিবেশী কয়েকটি দেশে দারিদ্র্য ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের কারণে অনেক মানুষ দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান।

দেশটির আদমশুমারি অনুযায়ী, ১৯৯৬ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বেড়ে ২৪ লাখে পৌঁছেছে। জরিপে কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীদেরও অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। বর্তমানে ৬ কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বিদেশে জন্ম নেওয়া মানুষ, যেখানে ১৯৯৬ সালে এ হার ছিল ২ শতাংশ। সরকার জানিয়েছে, অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্য আরও উন্নত করতে তারা কাজ করছে।
দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে উচ্চ বেকারত্ব ও বৈষম্য নিয়ে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। এর সঙ্গে অন্য আফ্রিকান দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের দায়ী করার প্রবণতাও বেড়েছে। সময়ে সময়েই এই উত্তেজনা প্রাণঘাতী সহিংসতায় রূপ নিয়েছে।
বর্তমান অভিবাসীবিরোধী আন্দোলনের সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে ৩০ জুন। ওই দিনকে প্রচারাভিযান পরিচালনাকারী কয়েকটি সংগঠন অবৈধ অভিবাসীদের দেশ ছাড়ার অনানুষ্ঠানিক সময়সীমা হিসেবে ঘোষণা করেছিল। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও হামলা ও জোরপূর্বক উচ্ছেদ থামেনি। এখনও নিয়মিত বিক্ষোভ হচ্ছে এবং পুলিশের উপস্থিতিতেই অনেককে বাড়িঘর থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে এই বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা অভিবাসীদের ওপর আরও ভয়াবহ হামলা চালাচ্ছে।
এমনই এক হামলার শিকার হন মুসা আদি কুনজে। ১৬ জুলাই রাত প্রায় ৯টার দিকে পাঁচজন ব্যক্তি তার দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকে। টাকা নেই বলায় তারা তাকে মারধর করে। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তার চোখ ভিজে ওঠে। তিনি জানান, হামলাকারীরা তার ফ্রিজ, টেলিভিশন ও মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, “দেখতেই পাচ্ছেন, এখানে চারদিকে রক্ত ছিটকে পড়েছিল।” তার ঘরের মেঝেজুড়ে রক্ত ছিল। ঘর ভাগ করা সাদা পর্দা ও দেয়ালেও রক্তের ছিটা লেগে ছিল।
পাশের একটি ক্লিনিক থেকে চিকিৎসা নিয়ে ফেরার সময় কুনজের মাথায় পিস্তল দিয়ে আঘাতের জায়গায় সেলাই দেওয়া ছিল। তার ধূসর ট্র্যাকস্যুট শুকিয়ে যাওয়া রক্তে ভরা ছিল।
কুনজের প্রতিবেশী আয়েশা মুহাম্মদ জানান, মালাউই ফেরার জন্য তিনি ৪ হাজার র্যান্ড (প্রায় ১৮০ পাউন্ড) জমিয়েছিলেন। হামলাকারীরা সেই টাকাও নিয়ে যায়। তিনি বলেন, “ওরা বলেছিল, ‘তোমরা বিদেশি। যেতে চাইলে এখনই চলে যাও।’”
সেই রাতেই আরও দুটি মালাউই পরিবারের বাড়িতে একইভাবে পাঁচজনের একটি দল ডাকাতি চালায়। ক্ষতিগ্রস্ত সবাই জানিয়েছেন, তারা মালাউই ফিরে যেতে চান। কিন্তু এখন তাদের কাছে ফেরার মতো অর্থও নেই।
গত সপ্তাহে জোহানেসবার্গের উত্তরাঞ্চলের একটি অভিজাত এলাকায় অবস্থিত মালাউই কনস্যুলেটের বাইরে আশ্রয়হীন অবস্থায় হাজারো মালাউই নাগরিক রাত কাটান। এ সময় তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যায়।
মালাউই ফেরার বাসের অপেক্ষায় থাকা মানুষের মধ্যে ছোট ছোট সন্তান নিয়ে আসা বহু নারীও ছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী জানান, যে পরিবারের বাসায় তিনি গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন, তারা তাকে চাকরি থেকে বাদ দিয়েছে। এরপর তিনি আট বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
তবে তার স্বামীকে সেখানেই রেখে যেতে হয়েছে। তিনি জানান, ১৭ বছর কাজ করার পর তাকেও চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পরিবারের জিনিসপত্র মালাউই পাঠানোর খরচ জোগাড় করতে তিনি আপাতত দক্ষিণ আফ্রিকায় থেকে গেছেন। কিন্তু পরিবারকে খুব মিস করছেন। তিনি বলেন, “আমার ছেলের সঙ্গে আমি সব সময় কথা বলতে চাই।”
অভিবাসীদের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগও সংকুচিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক চিকিৎসাসেবা সংস্থা মেদসাঁ সঁ ফ্রঁতিয়েরস (ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস)-এর কর্মী ক্লেয়ার ওয়াটারহাউস। তিনি মালাউই কনস্যুলেটের বাইরে সংস্থাটির অস্থায়ী একটি ক্লিনিক পরিচালনা করছিলেন।
ওয়াটারহাউস বলেন, জিম্বাবুয়ে সীমান্তের কাছে মুসিনা এলাকায় অস্থায়ী বাস্তুচ্যুত মানুষের শিবিরে ওষুধ-প্রতিরোধী যক্ষ্মায় আক্রান্ত দুজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া মানসিক রোগের ওষুধ নিতে সরকারি ক্লিনিকে ঢুকতে বাধা দেওয়ায় এক নারী তীব্র বিভ্রমে ভুগতে শুরু করেছেন।

দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভের জেরে সহিংসতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় অভিবাসীদের মারধর, লুটপাট করে বাড়িঘর থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। পুলিশের সামনেই অনেককে উচ্ছেদ করা হলেও তারা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অপরাধীরাও অভিবাসীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। ফলে চলতি মাসেও হাজারও মানুষ দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
জোহানেসবার্গের দক্ষিণে অবস্থিত অনানুষ্ঠানিক বসতি থেমবেলিহলে বহু বছর ধরে দক্ষিণ আফ্রিকানদের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছিলেন মালাউই থেকে আসা অভিবাসীরা। কংক্রিটের ব্লকের ছোট ছোট ঘর ও টিনের ঝুপড়িতে গড়ে ওঠা এই এলাকায় গত কয়েক সপ্তাহে একের পর এক সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

গত ২৯ জুন কয়েকজন ব্যক্তি ৬০ বছর বয়সী মালাউই নাগরিক ইব্রাহিম হুসেইনের বাড়িতে ঢুকে তাকে মারধর করে মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নেয়। তিনি ২০০০ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাস করছেন।
এরপর ১৬ জুলাই রাতে থেমবেলিহলের অন্তত চারটি মালাউই পরিবারের বাড়িতে ডাকাতি চালায় একটি সংঘবদ্ধ দল। পাঁচ সদস্যের ওই দল আতঙ্কিত মালাউই নাগরিকদের জুলু ভাষায় বলে, “নিজেদের দেশে ফিরে যাও।”
চলতি বছরের মার্চ থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে প্রায়ই সহিংস বিক্ষোভ চলছে। সরকারি পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে এএফপির হিসাব অনুযায়ী, মোজাম্বিক, নাইজেরিয়া ও জিম্বাবুয়েসহ বিভিন্ন দেশের এক লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ৫৪ হাজার জনকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো হয়েছে। এ পর্যন্ত অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকায় বহু প্রজন্ম ধরেই বিদেশি শ্রমিক নেওয়ার প্রচলন রয়েছে। তবে ১৯৯৪ সালে নেলসন ম্যান্ডেলা দেশটির প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ও গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের মানুষকে স্বাগত জানান। একই সময়ে প্রতিবেশী কয়েকটি দেশে দারিদ্র্য ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের কারণে অনেক মানুষ দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান।

দেশটির আদমশুমারি অনুযায়ী, ১৯৯৬ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বেড়ে ২৪ লাখে পৌঁছেছে। জরিপে কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীদেরও অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। বর্তমানে ৬ কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বিদেশে জন্ম নেওয়া মানুষ, যেখানে ১৯৯৬ সালে এ হার ছিল ২ শতাংশ। সরকার জানিয়েছে, অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্য আরও উন্নত করতে তারা কাজ করছে।
দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে উচ্চ বেকারত্ব ও বৈষম্য নিয়ে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। এর সঙ্গে অন্য আফ্রিকান দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের দায়ী করার প্রবণতাও বেড়েছে। সময়ে সময়েই এই উত্তেজনা প্রাণঘাতী সহিংসতায় রূপ নিয়েছে।
বর্তমান অভিবাসীবিরোধী আন্দোলনের সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে ৩০ জুন। ওই দিনকে প্রচারাভিযান পরিচালনাকারী কয়েকটি সংগঠন অবৈধ অভিবাসীদের দেশ ছাড়ার অনানুষ্ঠানিক সময়সীমা হিসেবে ঘোষণা করেছিল। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও হামলা ও জোরপূর্বক উচ্ছেদ থামেনি। এখনও নিয়মিত বিক্ষোভ হচ্ছে এবং পুলিশের উপস্থিতিতেই অনেককে বাড়িঘর থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে এই বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা অভিবাসীদের ওপর আরও ভয়াবহ হামলা চালাচ্ছে।
এমনই এক হামলার শিকার হন মুসা আদি কুনজে। ১৬ জুলাই রাত প্রায় ৯টার দিকে পাঁচজন ব্যক্তি তার দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকে। টাকা নেই বলায় তারা তাকে মারধর করে। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তার চোখ ভিজে ওঠে। তিনি জানান, হামলাকারীরা তার ফ্রিজ, টেলিভিশন ও মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, “দেখতেই পাচ্ছেন, এখানে চারদিকে রক্ত ছিটকে পড়েছিল।” তার ঘরের মেঝেজুড়ে রক্ত ছিল। ঘর ভাগ করা সাদা পর্দা ও দেয়ালেও রক্তের ছিটা লেগে ছিল।
পাশের একটি ক্লিনিক থেকে চিকিৎসা নিয়ে ফেরার সময় কুনজের মাথায় পিস্তল দিয়ে আঘাতের জায়গায় সেলাই দেওয়া ছিল। তার ধূসর ট্র্যাকস্যুট শুকিয়ে যাওয়া রক্তে ভরা ছিল।
কুনজের প্রতিবেশী আয়েশা মুহাম্মদ জানান, মালাউই ফেরার জন্য তিনি ৪ হাজার র্যান্ড (প্রায় ১৮০ পাউন্ড) জমিয়েছিলেন। হামলাকারীরা সেই টাকাও নিয়ে যায়। তিনি বলেন, “ওরা বলেছিল, ‘তোমরা বিদেশি। যেতে চাইলে এখনই চলে যাও।’”
সেই রাতেই আরও দুটি মালাউই পরিবারের বাড়িতে একইভাবে পাঁচজনের একটি দল ডাকাতি চালায়। ক্ষতিগ্রস্ত সবাই জানিয়েছেন, তারা মালাউই ফিরে যেতে চান। কিন্তু এখন তাদের কাছে ফেরার মতো অর্থও নেই।
গত সপ্তাহে জোহানেসবার্গের উত্তরাঞ্চলের একটি অভিজাত এলাকায় অবস্থিত মালাউই কনস্যুলেটের বাইরে আশ্রয়হীন অবস্থায় হাজারো মালাউই নাগরিক রাত কাটান। এ সময় তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যায়।
মালাউই ফেরার বাসের অপেক্ষায় থাকা মানুষের মধ্যে ছোট ছোট সন্তান নিয়ে আসা বহু নারীও ছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী জানান, যে পরিবারের বাসায় তিনি গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন, তারা তাকে চাকরি থেকে বাদ দিয়েছে। এরপর তিনি আট বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
তবে তার স্বামীকে সেখানেই রেখে যেতে হয়েছে। তিনি জানান, ১৭ বছর কাজ করার পর তাকেও চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পরিবারের জিনিসপত্র মালাউই পাঠানোর খরচ জোগাড় করতে তিনি আপাতত দক্ষিণ আফ্রিকায় থেকে গেছেন। কিন্তু পরিবারকে খুব মিস করছেন। তিনি বলেন, “আমার ছেলের সঙ্গে আমি সব সময় কথা বলতে চাই।”
অভিবাসীদের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগও সংকুচিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক চিকিৎসাসেবা সংস্থা মেদসাঁ সঁ ফ্রঁতিয়েরস (ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস)-এর কর্মী ক্লেয়ার ওয়াটারহাউস। তিনি মালাউই কনস্যুলেটের বাইরে সংস্থাটির অস্থায়ী একটি ক্লিনিক পরিচালনা করছিলেন।
ওয়াটারহাউস বলেন, জিম্বাবুয়ে সীমান্তের কাছে মুসিনা এলাকায় অস্থায়ী বাস্তুচ্যুত মানুষের শিবিরে ওষুধ-প্রতিরোধী যক্ষ্মায় আক্রান্ত দুজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া মানসিক রোগের ওষুধ নিতে সরকারি ক্লিনিকে ঢুকতে বাধা দেওয়ায় এক নারী তীব্র বিভ্রমে ভুগতে শুরু করেছেন।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরবে হুতিদের হামলা, সপ্তাহান্তে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং উপসাগরে জাহাজে হামলার কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে।
১ দিন আগে
রাশিয়ায় পৌঁছানোর চার দিনের মাথায় এজেন্সির লোকজন ও সেখানকার একটি পাচারকারী চক্র মামুনসহ দলের সবাইকে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে। সেখানে তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে জোরপূর্বক যুদ্ধের ময়দানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
১ দিন আগে
মার্কিন কর্মকর্তারা বৈঠকগুলোকে ইতিবাচক ও অর্থবহ বলে বর্ণনা করেছেন। জেলেনস্কিও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র শীতকালে সংঘাত কমানোর কিছু পদক্ষেপ নিয়ে কাজ করছে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরকে নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরুর সম্ভাব্য সময় হিসেবে দেখছে কিয়েভ।
১ দিন আগে
ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ জুরি পুরস্কার পাওয়ার পরই ‘নাজা’ নিয়ে ইসরায়েলি সরকারের তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। গত শনিবার ঘোষিত পুরস্কারের আগে ছবিটি ২৫ মিনিটের স্ট্যান্ডিং ওবেশন পেয়েছিল। ছবিটির দুই পরিচালক এর আগে ‘নো আদার ল্যান্ড’ তথ্যচিত্রের সহপরিচালক হিসেবে ২০২৫ সালে অস্কারে সেরা তথ্যচিত্
১ দিন আগে