
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

বুধবার, ২২ জুলাই। তখন সন্ধ্যা। মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে চলছিল আন্দোলন। সেখানে আন্দোলনকারীদের আটক করে নিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছিল একটি পুলিশ ভ্যান। কিন্তু সামনে এগোতে পারেনি পুলিশের সেই গাড়ি। সামনে যে দুই হাত ছড়িয়ে সটান দাঁড়িয়ে পড়েছেন এক তরুণী। গাড়ির চালক হর্ন দিচ্ছিলেন, একটু একটু করে সামনে এগোনোর চেষ্টাও করছিলেন। কিন্তু একচুলও সরতে রাজি নন সেই তরুণী। ভ্যানটি বাধ্য হয় থেমে যেতে।
আশপাশে আরও অনেক আন্দোলনকারী ছিলেন, ছিলেন গণমাধ্যম কর্মীরা। অনেকেই ধারণ করেছিলেন পুলিশ ভ্যানের সামনে অকুতোভয় সেই তরুণীর ভিডিও। পরদিন সকাল হতে না হতেই সে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। শিবাজি পার্কের গণ্ডি পেরিয়ে আলোচনায় উঠে আসেন ২৭ বছর বয়সী সেই তরুণী— রিয়া যাদব।
মনোবিজ্ঞানে স্নাতক রিয়া একজন অভিনয়শিল্পী। পাশাপাশি পোশাকের ব্যবসা করেন তিনি। এখন বোম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্য বিভাগে পড়ালেখাও করছেন। তবে ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ওয়্যারকে নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে রিয়া প্রথমেই বলেন, তিনি সবার আগে ‘দেশের একজন সাধারণ নাগরিক’।
শিবাজি পার্কে মঙ্গলবারও আন্দোলনে অংশ নেন রিয়া। পরদিন বুধবারের বিক্ষোভেও তিনি হাজির হন। মঙ্গলবারও পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আটক করে ভ্যানে তুলছিল। রিয়া তখনো আন্দোলনস্থল ছাড়েননি।
‘আমি সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম, যতক্ষণ না সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়,’— বলেন তিনি।
তবে পরদিন পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। এবার পুলিশের ভ্যানটি চলতে শুরু করে, আর তার সামনে দাঁড়িয়ে যান রিয়া।
সেই মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে এখনো কিছুটা বিস্মিত শোনায় তাকে। বলেন, ‘আমি নিজেই দায়িত্বটা নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলাম।’
এরপর দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ‘আমাকে ভয় দেখিয়ে সরানো যাবে না। আমি ঠিক করেই নিয়েছিলাম, প্রয়োজন হলে পুলিশ আমাকে চাপা দিয়েই চলে যাক।’
ভ্যান থামানোর পর যে প্রবল অ্যাড্রেনালিন অনুভব করেছিলেন, সেটি এতটাই তীব্র ছিল যে পরদিন ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত তাঁর ঘুমই আসেনি। তিনি বলেন, ‘বারবার মাথার মধ্যে একই দৃশ্য ঘুরছিল।’
রিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণত দেখা যায় সাজগোজ, মডেলিং, নাচ কিংবা ভ্রমণের ভিডিও। তার সোশ্যাল আইডি রিয়া আহির। গত কয়েক দিনে তার সে আইডির কনটেন্ট পুরোপুরি বদলে গেছে।
রিয়া বলেন, সম্প্রতি তিনি ‘GRWM for Protest’ শিরোনামে কয়েকটি ভিডিওও পোস্ট করেছেন। GRWM বা ‘Get Ready With Me’ হলো এমন একটি জনপ্রিয় ভিডিও ফরম্যাট, যেখানে কেউ ক্যামেরার সামনে নিজের প্রস্তুতির পুরো প্রক্রিয়া দেখাতে দেখাতে গল্প করেন।
মুম্বাইয়ে জন্ম ও বেড়ে ওঠা রিয়া তিন বোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট। তাদের সবচেয়ে ছোট ভাইয়ের বয়স ৯ বছর। পরিবারের আদি নিবাস আগ্রার কাছের একটি গ্রামে। পরে তারা জীবিকার সন্ধানে মুম্বাইয়ে চলে আসেন। রিয়ার বিশ্বাস, ছোট গ্রামের নিবিড় সামাজিক পরিবেশ থেকে মহানগরের জীবনে তাদের এই যাত্রাই মা-বাবাকে অনেক বেশি উদার মানসিকতার মানুষ করে তুলেছে।
তাই চলমান আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেক তরুণ-তরুণী যেখানে পরিবারের কাছে বিষয়টি গোপন রাখছেন, সেখানে রিয়া বলছেন, তার মা-বাবা সবসময়ই তার পাশে ছিলেন।
‘অভিনয় আর মডেলিং করার জন্য আশপাশের অনেকের সন্দেহ বা সমালোচনা শুনতে হয়েছে। কিন্তু আমার মা-বাবা কখনো আপত্তি করেননি,’— বলেন রিয়া।
এমনকি বুধবার রিয়ার মা-ও আন্দোলনে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ছোট ভাইয়ের টিউশন থাকায় বাড়িতেই থাকতে হয়। রিয় বলেন, মা শারীরিকভাবে আমার পাশে না থাকলেও মনে হচ্ছিল সবসময় তিনি আমার সঙ্গেই আছেন।
রিয়ার বয়স যখন সাড়ে চার বছর, তখন থেকেই তিনি মঞ্চে অভিনয় করছেন। টানা ১৩ বছরের সেই অভিজ্ঞতা তাকে আন্দোলনের সেই মুহূর্তেও সাহস জুগিয়েছে বলে মনে করেন তিনি। মঞ্চে ওঠার আগে হাত কাঁপা, নার্ভাস হয়ে যাওয়া, হঠাৎ আলোয় চলে আসা— এসব তার জন্য নতুন ছিল না। তবে এবারের পরিস্থিতি ছিল একেবারেই আলাদা।
ভ্যানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় নিজেকে প্রায় একাই মনে হয়েছিল রিয়ার। তিনি বলেন, ‘কেউ আমার পাশে দাঁড়ায়নি। মানুষ আসছিল, ছবি তুলছিল, তারপর চলে যাচ্ছিল। দূর থেকে অনেকে উৎসাহও দিচ্ছিল।’
রিয়ার কাছে ঘটনাটি কখনোই অসাধারণ মনে হয়নি। বরং আশপাশের মানুষের প্রতিক্রিয়াই তাকে বেশি অবাক করেছে। পরে অবশ্য অনেকেই তাকে বলেন, তিনি ‘দারুণ একটা কাজ’ করেছেন। রিয়া হাসতে হাসতে বলেন, ‘পরে আমার নিজেরই মনে হয়েছিল— আচ্ছা, আমি কি সত্যিই এত বড় কিছু করে ফেললাম?’
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর নিজের অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে রিয়া বলেন, ‘আমি খুব গর্বিত।’
‘আমি পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া জানাই। ছোটবেলা থেকেই এমন। কিন্তু আমি কখনো চিৎকার করি না। ভ্যানের সামনেও আমি কোনো স্লোগান দিইনি। শুধু দাঁড়িয়ে ছিলাম।’
বাড়ি ফিরে মা-বাবাকে সব বলার পর এবং একের পর এক পরিচয় জানতে চাওয়া বার্তা আসতে শুরু করার পরই তিনি বুঝতে পারেন ঘটনাটি কত দূর ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি আগ্রা থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের টুন্ডলায় থাকা তার দাদিও ভিডিওটি দেখে ফেলেন।
রিয়া বলেন, ‘দাদি মাকে ফোন করে শুধু জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আমি একা একা এত দূরে কেন যাই। কিন্তু তিনি একবারও জিজ্ঞাসা করেননি, আমি আন্দোলনে কেন গিয়েছিলাম।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা পেলেও কটূক্তিও কম শুনতে হয়নি রিয়াকে। তিনি বলেন, ‘কিছু বাজে মন্তব্য ইনবক্সে আর মন্তব্যের ঘরে এসেছে।’
তবে এগুলোকে তিনি একজন তরুণ, স্পষ্টভাষী এবং নিজের শরীর ও পরিচয় নিয়ে স্বচ্ছন্দ নারীর জীবনের বাস্তবতা হিসেবেই দেখেন। রিয়া বলেন, ‘এটাই সেই মূল্য, যা আমাদের দিতে হয়।’
তবে নেতিবাচক মন্তব্য নয়, বরং যারা এই আন্দোলনের প্রতি আরও অনুপ্রাণিত হয়েছেন, তাদের সমর্থনের দিকেই মনোযোগ দিতে চান রিয়া।
রিয়াকে প্রশ্ন করা হয়েছিল— তার নাম যদি রিয়া না হয়ে রেহানা হতো, তাহলে কি পুলিশ একইভাবে আচরণ করত?
উত্তর দেওয়ার আগে কিছুক্ষণ ভাবলেন রিয়া। তারপর বললেন, ‘অন্তত সেদিন রাতে আমার মনে হয়নি পুলিশ পরিচয় দেখে আচরণ করেছে। ভিডিওতেই দেখবেন, তারা গাড়ি থেকে নামেনি। তারা জানতই না আমি কে, আমার নাম কী।’
রিয়ার ভাষায়, ‘এই ঘটনাটি কোনো এক ধর্ম বা এক পরিচয়ের গল্প নয়। এটি বহু বছরের জমে থাকা ক্লান্তি, ক্ষোভ আর দমনের বহির্প্রকাশ। এটি এখন আর শুধু শিক্ষার্থী কিংবা কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা জাতের আন্দোলন নয়।’
রিয়া নিজেও অবাকও হয়েছেন যে এখন পর্যন্ত মুম্বাই পুলিশ তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা করেনি। অথচ একই সময়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়া বহু তরুণ-তরুণীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে, তাদের বাড়িতে পুলিশ গেছে, থানায় আটকে রাখা হয়েছে।
বর্তমান প্রজন্মকে প্রায়ই আবেগপ্রবণ, মনোযোগহীন বা শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর বলে সমালোচনা করা হয়। এই ধারণার সঙ্গে একমত নন রিয়া।
তিনি বলেন, ‘আমি পুলিশের সামনে দাঁড়িয়েছিলাম, কিন্তু একবারও কণ্ঠ উঁচু করিনি। এই আন্দোলনের শুরু থেকেই দেখবেন, সবাই "শান্তিপূর্ণ" শব্দটি ব্যবহার করেছে। এটাই আমাদের দায়িত্বশীলতার প্রমাণ।’
রিয়ার মতে, চাইলে এত বড় জনসমাগম সহজেই পুলিশকে চাপে ফেলতে পারত। কিন্তু আন্দোলনকারীরা সচেতনভাবেই শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রেখেছেন।
সমালোচকদের উদ্দেশে রিয়ার মন্তব্য, ‘একদিকে বলা হয় আমরা অতিরিক্ত চিন্তা করি, আবার অন্যদিকে বলা হয় আমরা না ভেবেই সব করি। দুটি কথা তো একসঙ্গে সত্য হতে পারে না।’
রিয়া স্বীকার করেন, আন্দোলন নিয়ে তার মনেও অনেক প্রশ্ন আছে। দিল্লি ও মুম্বাইয়ের মতো মহানগরের আন্দোলন যে দ্রুত জাতীয় মনোযোগ পায়, অথচ মণিপুর, কেন-বেতওয়া বা বস্তারের মতো দীর্ঘদিনের সংগ্রামগুলো অনেক সময় আড়ালেই থেকে যায়— এই সমালোচনাকে তিনি উড়িয়ে দেন না।
বরং তিনি বলেন, তিনিও বিষয়টি নিয়ে ভাবছেন। একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, আন্দোলনের মিছিলে এখন ধীরে ধীরে সেইসব দীর্ঘদিনের উপেক্ষিত সংগ্রামের নামও উচ্চারিত হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে রিয়া মনে করিয়ে দেন, ইরম শর্মিলা টানা ১৬ বছর অনশন করেছিলেন। নিজের সঙ্গে সেই সংগ্রামের তুলনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আন্দোলন থেকে ফেরার পর থেকেই ঠিকমতো খেতে পারিনি। যারা এত দীর্ঘ সময় না খেয়ে থেকেছেন, তারা কীভাবে তা করেছেন, আমি কল্পনাও করতে পারি না।’
আন্দোলনের বাইরেও রিয়ার জীবন ভরা স্বপ্নে। তিনি বর্তমানে নারীর কণ্ঠ ও প্রতিরোধকে কেন্দ্র করে একটি চিত্রনাট্য লিখছেন। সেটির কপিরাইট নিবন্ধনের প্রক্রিয়া চলছে। এরই মধ্যে কয়েকটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার আলোচনাও শুরু হয়েছে। তার বিশ্বাস, প্রতিবাদ শুধু রাজপথেই নয়— শিল্পের মাধ্যমেও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
দ্য ওয়্যার অবলম্বনে

বুধবার, ২২ জুলাই। তখন সন্ধ্যা। মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে চলছিল আন্দোলন। সেখানে আন্দোলনকারীদের আটক করে নিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছিল একটি পুলিশ ভ্যান। কিন্তু সামনে এগোতে পারেনি পুলিশের সেই গাড়ি। সামনে যে দুই হাত ছড়িয়ে সটান দাঁড়িয়ে পড়েছেন এক তরুণী। গাড়ির চালক হর্ন দিচ্ছিলেন, একটু একটু করে সামনে এগোনোর চেষ্টাও করছিলেন। কিন্তু একচুলও সরতে রাজি নন সেই তরুণী। ভ্যানটি বাধ্য হয় থেমে যেতে।
আশপাশে আরও অনেক আন্দোলনকারী ছিলেন, ছিলেন গণমাধ্যম কর্মীরা। অনেকেই ধারণ করেছিলেন পুলিশ ভ্যানের সামনে অকুতোভয় সেই তরুণীর ভিডিও। পরদিন সকাল হতে না হতেই সে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। শিবাজি পার্কের গণ্ডি পেরিয়ে আলোচনায় উঠে আসেন ২৭ বছর বয়সী সেই তরুণী— রিয়া যাদব।
মনোবিজ্ঞানে স্নাতক রিয়া একজন অভিনয়শিল্পী। পাশাপাশি পোশাকের ব্যবসা করেন তিনি। এখন বোম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্য বিভাগে পড়ালেখাও করছেন। তবে ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ওয়্যারকে নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে রিয়া প্রথমেই বলেন, তিনি সবার আগে ‘দেশের একজন সাধারণ নাগরিক’।
শিবাজি পার্কে মঙ্গলবারও আন্দোলনে অংশ নেন রিয়া। পরদিন বুধবারের বিক্ষোভেও তিনি হাজির হন। মঙ্গলবারও পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আটক করে ভ্যানে তুলছিল। রিয়া তখনো আন্দোলনস্থল ছাড়েননি।
‘আমি সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম, যতক্ষণ না সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়,’— বলেন তিনি।
তবে পরদিন পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। এবার পুলিশের ভ্যানটি চলতে শুরু করে, আর তার সামনে দাঁড়িয়ে যান রিয়া।
সেই মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে এখনো কিছুটা বিস্মিত শোনায় তাকে। বলেন, ‘আমি নিজেই দায়িত্বটা নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলাম।’
এরপর দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ‘আমাকে ভয় দেখিয়ে সরানো যাবে না। আমি ঠিক করেই নিয়েছিলাম, প্রয়োজন হলে পুলিশ আমাকে চাপা দিয়েই চলে যাক।’
ভ্যান থামানোর পর যে প্রবল অ্যাড্রেনালিন অনুভব করেছিলেন, সেটি এতটাই তীব্র ছিল যে পরদিন ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত তাঁর ঘুমই আসেনি। তিনি বলেন, ‘বারবার মাথার মধ্যে একই দৃশ্য ঘুরছিল।’
রিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণত দেখা যায় সাজগোজ, মডেলিং, নাচ কিংবা ভ্রমণের ভিডিও। তার সোশ্যাল আইডি রিয়া আহির। গত কয়েক দিনে তার সে আইডির কনটেন্ট পুরোপুরি বদলে গেছে।
রিয়া বলেন, সম্প্রতি তিনি ‘GRWM for Protest’ শিরোনামে কয়েকটি ভিডিওও পোস্ট করেছেন। GRWM বা ‘Get Ready With Me’ হলো এমন একটি জনপ্রিয় ভিডিও ফরম্যাট, যেখানে কেউ ক্যামেরার সামনে নিজের প্রস্তুতির পুরো প্রক্রিয়া দেখাতে দেখাতে গল্প করেন।
মুম্বাইয়ে জন্ম ও বেড়ে ওঠা রিয়া তিন বোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট। তাদের সবচেয়ে ছোট ভাইয়ের বয়স ৯ বছর। পরিবারের আদি নিবাস আগ্রার কাছের একটি গ্রামে। পরে তারা জীবিকার সন্ধানে মুম্বাইয়ে চলে আসেন। রিয়ার বিশ্বাস, ছোট গ্রামের নিবিড় সামাজিক পরিবেশ থেকে মহানগরের জীবনে তাদের এই যাত্রাই মা-বাবাকে অনেক বেশি উদার মানসিকতার মানুষ করে তুলেছে।
তাই চলমান আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেক তরুণ-তরুণী যেখানে পরিবারের কাছে বিষয়টি গোপন রাখছেন, সেখানে রিয়া বলছেন, তার মা-বাবা সবসময়ই তার পাশে ছিলেন।
‘অভিনয় আর মডেলিং করার জন্য আশপাশের অনেকের সন্দেহ বা সমালোচনা শুনতে হয়েছে। কিন্তু আমার মা-বাবা কখনো আপত্তি করেননি,’— বলেন রিয়া।
এমনকি বুধবার রিয়ার মা-ও আন্দোলনে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ছোট ভাইয়ের টিউশন থাকায় বাড়িতেই থাকতে হয়। রিয় বলেন, মা শারীরিকভাবে আমার পাশে না থাকলেও মনে হচ্ছিল সবসময় তিনি আমার সঙ্গেই আছেন।
রিয়ার বয়স যখন সাড়ে চার বছর, তখন থেকেই তিনি মঞ্চে অভিনয় করছেন। টানা ১৩ বছরের সেই অভিজ্ঞতা তাকে আন্দোলনের সেই মুহূর্তেও সাহস জুগিয়েছে বলে মনে করেন তিনি। মঞ্চে ওঠার আগে হাত কাঁপা, নার্ভাস হয়ে যাওয়া, হঠাৎ আলোয় চলে আসা— এসব তার জন্য নতুন ছিল না। তবে এবারের পরিস্থিতি ছিল একেবারেই আলাদা।
ভ্যানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় নিজেকে প্রায় একাই মনে হয়েছিল রিয়ার। তিনি বলেন, ‘কেউ আমার পাশে দাঁড়ায়নি। মানুষ আসছিল, ছবি তুলছিল, তারপর চলে যাচ্ছিল। দূর থেকে অনেকে উৎসাহও দিচ্ছিল।’
রিয়ার কাছে ঘটনাটি কখনোই অসাধারণ মনে হয়নি। বরং আশপাশের মানুষের প্রতিক্রিয়াই তাকে বেশি অবাক করেছে। পরে অবশ্য অনেকেই তাকে বলেন, তিনি ‘দারুণ একটা কাজ’ করেছেন। রিয়া হাসতে হাসতে বলেন, ‘পরে আমার নিজেরই মনে হয়েছিল— আচ্ছা, আমি কি সত্যিই এত বড় কিছু করে ফেললাম?’
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর নিজের অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে রিয়া বলেন, ‘আমি খুব গর্বিত।’
‘আমি পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া জানাই। ছোটবেলা থেকেই এমন। কিন্তু আমি কখনো চিৎকার করি না। ভ্যানের সামনেও আমি কোনো স্লোগান দিইনি। শুধু দাঁড়িয়ে ছিলাম।’
বাড়ি ফিরে মা-বাবাকে সব বলার পর এবং একের পর এক পরিচয় জানতে চাওয়া বার্তা আসতে শুরু করার পরই তিনি বুঝতে পারেন ঘটনাটি কত দূর ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি আগ্রা থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের টুন্ডলায় থাকা তার দাদিও ভিডিওটি দেখে ফেলেন।
রিয়া বলেন, ‘দাদি মাকে ফোন করে শুধু জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আমি একা একা এত দূরে কেন যাই। কিন্তু তিনি একবারও জিজ্ঞাসা করেননি, আমি আন্দোলনে কেন গিয়েছিলাম।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা পেলেও কটূক্তিও কম শুনতে হয়নি রিয়াকে। তিনি বলেন, ‘কিছু বাজে মন্তব্য ইনবক্সে আর মন্তব্যের ঘরে এসেছে।’
তবে এগুলোকে তিনি একজন তরুণ, স্পষ্টভাষী এবং নিজের শরীর ও পরিচয় নিয়ে স্বচ্ছন্দ নারীর জীবনের বাস্তবতা হিসেবেই দেখেন। রিয়া বলেন, ‘এটাই সেই মূল্য, যা আমাদের দিতে হয়।’
তবে নেতিবাচক মন্তব্য নয়, বরং যারা এই আন্দোলনের প্রতি আরও অনুপ্রাণিত হয়েছেন, তাদের সমর্থনের দিকেই মনোযোগ দিতে চান রিয়া।
রিয়াকে প্রশ্ন করা হয়েছিল— তার নাম যদি রিয়া না হয়ে রেহানা হতো, তাহলে কি পুলিশ একইভাবে আচরণ করত?
উত্তর দেওয়ার আগে কিছুক্ষণ ভাবলেন রিয়া। তারপর বললেন, ‘অন্তত সেদিন রাতে আমার মনে হয়নি পুলিশ পরিচয় দেখে আচরণ করেছে। ভিডিওতেই দেখবেন, তারা গাড়ি থেকে নামেনি। তারা জানতই না আমি কে, আমার নাম কী।’
রিয়ার ভাষায়, ‘এই ঘটনাটি কোনো এক ধর্ম বা এক পরিচয়ের গল্প নয়। এটি বহু বছরের জমে থাকা ক্লান্তি, ক্ষোভ আর দমনের বহির্প্রকাশ। এটি এখন আর শুধু শিক্ষার্থী কিংবা কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা জাতের আন্দোলন নয়।’
রিয়া নিজেও অবাকও হয়েছেন যে এখন পর্যন্ত মুম্বাই পুলিশ তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা করেনি। অথচ একই সময়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়া বহু তরুণ-তরুণীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে, তাদের বাড়িতে পুলিশ গেছে, থানায় আটকে রাখা হয়েছে।
বর্তমান প্রজন্মকে প্রায়ই আবেগপ্রবণ, মনোযোগহীন বা শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর বলে সমালোচনা করা হয়। এই ধারণার সঙ্গে একমত নন রিয়া।
তিনি বলেন, ‘আমি পুলিশের সামনে দাঁড়িয়েছিলাম, কিন্তু একবারও কণ্ঠ উঁচু করিনি। এই আন্দোলনের শুরু থেকেই দেখবেন, সবাই "শান্তিপূর্ণ" শব্দটি ব্যবহার করেছে। এটাই আমাদের দায়িত্বশীলতার প্রমাণ।’
রিয়ার মতে, চাইলে এত বড় জনসমাগম সহজেই পুলিশকে চাপে ফেলতে পারত। কিন্তু আন্দোলনকারীরা সচেতনভাবেই শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রেখেছেন।
সমালোচকদের উদ্দেশে রিয়ার মন্তব্য, ‘একদিকে বলা হয় আমরা অতিরিক্ত চিন্তা করি, আবার অন্যদিকে বলা হয় আমরা না ভেবেই সব করি। দুটি কথা তো একসঙ্গে সত্য হতে পারে না।’
রিয়া স্বীকার করেন, আন্দোলন নিয়ে তার মনেও অনেক প্রশ্ন আছে। দিল্লি ও মুম্বাইয়ের মতো মহানগরের আন্দোলন যে দ্রুত জাতীয় মনোযোগ পায়, অথচ মণিপুর, কেন-বেতওয়া বা বস্তারের মতো দীর্ঘদিনের সংগ্রামগুলো অনেক সময় আড়ালেই থেকে যায়— এই সমালোচনাকে তিনি উড়িয়ে দেন না।
বরং তিনি বলেন, তিনিও বিষয়টি নিয়ে ভাবছেন। একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, আন্দোলনের মিছিলে এখন ধীরে ধীরে সেইসব দীর্ঘদিনের উপেক্ষিত সংগ্রামের নামও উচ্চারিত হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে রিয়া মনে করিয়ে দেন, ইরম শর্মিলা টানা ১৬ বছর অনশন করেছিলেন। নিজের সঙ্গে সেই সংগ্রামের তুলনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আন্দোলন থেকে ফেরার পর থেকেই ঠিকমতো খেতে পারিনি। যারা এত দীর্ঘ সময় না খেয়ে থেকেছেন, তারা কীভাবে তা করেছেন, আমি কল্পনাও করতে পারি না।’
আন্দোলনের বাইরেও রিয়ার জীবন ভরা স্বপ্নে। তিনি বর্তমানে নারীর কণ্ঠ ও প্রতিরোধকে কেন্দ্র করে একটি চিত্রনাট্য লিখছেন। সেটির কপিরাইট নিবন্ধনের প্রক্রিয়া চলছে। এরই মধ্যে কয়েকটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার আলোচনাও শুরু হয়েছে। তার বিশ্বাস, প্রতিবাদ শুধু রাজপথেই নয়— শিল্পের মাধ্যমেও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
দ্য ওয়্যার অবলম্বনে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুক জানান, বিভিন্ন শর্ত নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর এবং দেশে সম্ভাব্য সহিংসতা এড়ানোর স্বার্থে তিনি অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
৭ ঘণ্টা আগে
ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) এই রদবদল ঘটালেও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ কিন্তু থামেনি। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে যন্তর মন্তরে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। তবে এ পরিস্থিতির মাঝেই রাতে অনশন ভেঙে মেদা
৮ ঘণ্টা আগে
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান তরুণ বয়সে ওড়িশায় প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছেন— এমন একটি পুরোনো ছবি সম্পর্কে অভিজিৎকে প্রশ্ন করেছিল ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। জবাবে তিনি দীপকে বলেন, ‘তাহলে আমার মনে হয় তারও আমাদের সঙ্গে যন্তর মন্তরে যোগ দেওয়া উচিত। আমরা তাকে স্বাগত জানাব। এমনকি তার পদত্যাগ
১৫ ঘণ্টা আগে
ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভে সহিংসতায় সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের পাসপোর্ট বাতিল করা হতে পারে। দিল্লি পুলিশের সূত্রের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া।
২০ ঘণ্টা আগে