ইরান হামলা বড় সংঘাত জন্ম দেবে— ট্রাম্পকে সতর্ক করল ৪ দেশ

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ইরান যুদ্ধের প্রতীকী ছবি

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বিমান হামলা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বড় ও নিয়ন্ত্রণহীন সংঘাত ডেকে আনতে পারে— এই আশঙ্কায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব, কাতার, তুরস্ক ও ওমান।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, ওয়াশিংটনের হামলা পরিকল্পনার খবরে উদ্বিগ্ন হয়ে এই কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হয়। দীর্ঘদিনের মার্কিন মিত্রদের এই সতর্কবার্তা গত বুধবার রাতে সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রাখতে ট্রাম্পকে প্রভাবিত করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে সৌদি আরব আরও এক ধাপ এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে হামলা চালাতে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বৃহস্পতিবার ইরান, ওমান ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন।

ইরান রাজনৈতিকভাবে এখনো উপসাগরীয় দেশগুলোর থেকে আলাদা অবস্থানে রয়েছে। এর অন্যতম কারণ, অঞ্চলজুড়ে ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ নামে পরিচিত দুর্বল হয়ে পড়া প্রক্সি নেটওয়ার্কে তেহরানের অব্যাহত সমর্থন, ফিলিস্তিনে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে সমর্থন না করা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দাবি করা উপসাগরীয় তিনটি দ্বীপ নিয়ে বিরোধ— যা উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) সমর্থন করে।

তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সাম্প্রতিক সময়ে আরব রাজধানীগুলোতে একের পর এক সফর করেছেন, যা দেশগুলোত সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়ক হয়েছে বলে জানা গেছে। গত বছর তিনি বাহরাইন সফর করেন, এটি ছিল ২০১০ সালের পর প্রথম কোনো ইরানি মন্ত্রীর সে দেশে সফর। একই বছর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টায় তিনি চারবার কায়রো সফর করেন। ২০১৬ সালে নিজেদের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল ইরান ও মিশর।

একসময় মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে উত্তপ্ত সম্পর্ক হিসেবে পরিচিত সৌদি–ইরান সম্পর্কও গত তিন বছর ধরে ধীরে ধীরে উন্নতির পথে রয়েছে। আরাঘচি আরব রাজধানীগুলোতে সফরের সময় স্থানীয় খাবার চেখে দেখার ছবি প্রকাশ করাকেও সম্পর্ক উষ্ণ করার কৌশল হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।

সম্প্রতি আরাঘচি উপসাগরীয় দেশগুলোকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য ইসরায়েল ইরানের চেয়ে বড় ঝুঁকি। গত সেপ্টেম্বর দোহায় ইসরায়েলের বিমান হামলার পর এই যুক্তি কিছুটা জোর পায়। ওই হামলায় প্রায় এক দশক ধরে কাতারের রাজধানীতে বসবাসরত হামাস আলোচকদের হত্যা করার চেষ্টা করা হয়। প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে ব্যর্থ হলেও, ইসরায়েলের হামলায় হামাসের পাঁচজন নিম্নপদস্থ সদস্য নিহত হন।

হামলার বিষয়ে আগে থেকে অবহিত না থাকায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি কাতারের আমিরের কাছে ক্ষমা চায় এবং ভবিষ্যতে ইসরায়েলি হামলা থেকে দোহাকে রক্ষায় নতুন নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়। সে সময় কাতার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অঞ্চলে শান্তির প্রতিটি সুযোগ নস্যাৎ করার অভিযোগ তুলেছিল।

কাতারেই অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক ঘাঁটি আল-উদেইদ এয়ারবেস। গত বুধবার ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার পর যুক্তরাষ্ট্র এই ঘাঁটি থেকে কিছু সেনা প্রত্যাহার করে নেয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী স্থল ও নৌঘাঁটিগুলো যেমন শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যম, তেমনি সেগুলো ঝুঁকির উৎসও হতে পারে বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আরব নেতাদের ফোন করে তেহরানের দমন-পীড়নের যুক্তি ব্যাখ্যা করেছেন বলেও জানা গেছে। এদিকে লেবানন, ইরাক ও ইয়েমেনে ইরানি প্রক্সি বাহিনীর হস্তক্ষেপ নিয়ে অনেক দেশ গভীর ক্ষোভ পোষণ করে। তবে একই সঙ্গে তাদের খুব কম দেশই বিক্ষোভের মাধ্যমে কোনো কর্তৃত্ববাদী শাসনের পতন, নতুন গণতান্ত্রিক রূপান্তর বা একীভূত ইরানি রাষ্ট্রের ভাঙন দেখতে চায়।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, “এ অঞ্চলের বড় চ্যালেঞ্জগুলো— অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত উভয়ই আমাদের সবাইকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরতে বাধ্য করছে।”

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানও সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আশা করি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নিজেদের মধ্যে— মধ্যস্থতাকারী, অন্যান্য পক্ষ বা সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে এই বিষয়টির সমাধান করবে। আমরা এসব অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।”

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ন্যাটো থেকে স্পেনকে বহিষ্কারের কথা ভাবছে পেন্টাগন

মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতায় যেসব ন্যাটো মিত্র দেশ কার্যকর সহযোগিতা করেনি, তাদের ওপর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প প্রশাসন। ওই ইমেইলে স্পেনকে জোট থেকে বাদ দেয়ার পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের মালিকানাধীন ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের বিষয়ে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের অবস্

৯ ঘণ্টা আগে

ইরান যুদ্ধে বিশ্বব্যাপী মজুত অস্ত্রভাণ্ডারের বড় অংশ শেষ যুক্তরাষ্ট্রের

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত উদ্বেগজনকভাবে কমে এসেছে, তার মধ্যে রয়েছে প্রিসিশন-স্ট্রাইক ক্ষেপণাস্ত্র, এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র।

৯ ঘণ্টা আগে

ইরাকি বিদ্রোহী নেতার মাথার দাম ১ কোটি ডলার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরাকে ইরান-সমর্থিত একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর প্রধান হাশিম ফিনিয়ান রহিম আল-সরাজিকে ধরিয়ে দিতে ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) গালফ নিউজের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

১০ ঘণ্টা আগে

ইরান অবরোধে দুই রণতরিসহ ২৬ যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের

মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে ওই অঞ্চলে দুটি বিমানবাহী রণতরিসহ অন্তত ২৬টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

১১ ঘণ্টা আগে