জানাজা শেষে আজ তেহরানের ফ্রিডম স্কয়ারে নেওয়া হচ্ছে খামেনির মরদেহ

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৬, ১১: ১৮
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ছবি: সংগৃহীত

মরদেহতেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় জানাজা শেষে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ আজ নেওয়া হচ্ছে রাজধানীর ঐতিহাসিক ফ্রিডম স্কয়ারে।

সোমবার (৬ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই তথ্য জানিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় নিহত হওয়া এই প্রভাবশালী নেতার কফিনে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে দেশজুড়ে লাখো মানুষের ঢল নেমেছে। প্রায় চার দশক ধরে ইরানকে নেতৃত্ব দেওয়া খামেনির প্রয়াণের পর এই বিশাল জনসমাগমের মাধ্যমে তেহরান বিশ্ববাসীকে বার্তা দিতে চাচ্ছে যে, সর্বোচ্চ নেতার হত্যাকাণ্ডের পরও দেশটির রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদের ভেতরে লাখো ইরানি সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের কফিন ঘিরে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। সাবেক সর্বোচ্চ নেতা ও তার পরিবারকে শেষ বিদায় জানাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ সেখানে সমবেত হয়েছেন।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের নেতৃত্বের কাছে এই অনুষ্ঠানগুলো শুধু শোক প্রকাশের আয়োজন নয়, বরং এর চেয়েও বেশি কিছু। প্রায় চার দশক ধরে ইরানকে নেতৃত্ব দেওয়া সর্বোচ্চ নেতার হত্যাকাণ্ডের পর তার প্রতি নাগরিকদের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে এসব আয়োজনে। এর মাধ্যমে ইরান একটি বার্তা দিতে চেয়েছে। সেটি হলো খামেনি নিহত হলেও তার গড়ে তোলা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো অক্ষত রয়েছে এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া কোনো বাধা ছাড়াই এগিয়ে চলছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আগামী দিনগুলোতেও এ ধরনের জনসমাগম অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। আজ জনসাধারণের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য খামেনির কফিন তেহরানের ফ্রিডম স্কয়ারে নেওয়া হবে।

এরপর ৭ জুলাই তার মরদেহ পবিত্র শহর কোমে নেওয়া হবে। ৮ জুলাই মরদেহ ইরাকের কারবালা ও নজফ শহরে নেওয়া হবে। সবশেষে ৯ জুলাই মরদেহ ইরানের মাশহাদ শহরে নেওয়া হবে। সেখানেই তাকে দাফন করা হবে।

ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়ে দেশের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। তার মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সাল থেকে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করেন। পাহলভি রাজতন্ত্রের অবসান ঘটানো ইসলামী বিপ্লবের আদর্শিক নেতা ছিলেন খোমেনি। অন্যদিকে, সেই বিপ্লব-পরবর্তী সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামো গড়ে তোলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন খামেনি।

খামেনির মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি হন তার ছেলে মোজতবা খামেনি। তার শাসনামলের শুরুতেই এত বড় রাষ্ট্রীয় আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যদিও সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি এখনো প্রকাশ্যে আসেননি।

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ১৯৩৯ সালে উত্তর-পূর্ব ইরানের পবিত্র শিয়া শহর মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের প্রাক্কালে তিনি রাজতন্ত্রবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

ইরাকের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সময় ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে তিনি সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন।

খামেনি ইরানের সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করেন। পাশাপাশি বহির্বিশ্বের হুমকি মোকাবিলায় একটি উন্নত প্রতিরক্ষা কৌশল গড়ে তোলেন। তার শাসনামলের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ আসে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে। সে সময় অর্থনৈতিক দুর্দশাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দেশব্যাপী অস্থিরতায় রূপ নেয়। পরে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় তিনি নিহত হন।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ইউরোপ জুড়ে দাবানলের তাণ্ডব অব্যাহত, গ্রিসে ৩ দমকলকর্মী নিহত

বিশেষজ্ঞদের মতে, আটলান্টিক উপকূল থেকে পূর্ব ভূমধ্যসাগর, স্কটল্যান্ডের হাইল্যান্ডস থেকে স্পেনের দক্ষিণাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত দাবানলের এই ধারা সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপে নজিরবিহীন। অনেক আগুনই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে এবং শহর ও জনবসতির কাছাকাছি পৌঁছে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছে।

১৪ ঘণ্টা আগে

কয়লা কেলেঙ্কারি মামলায় প্রয়াত মনমোহন সিংকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিলেন সুপ্রিম কোর্ট

সুপ্রিম কোর্ট বলেন, সিবিআইয়ের দাখিল করা দুটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আদালতের মনে হয়েছে, সেগুলো বাতিল করে নতুন করে বিচার শুরুর মতো কোনো গ্রহণযোগ্য বা জোরালো কারণ নেই। ফলে তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই মামলাটি নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।

১৫ ঘণ্টা আগে

আন্দোলন দমনে গুলি চালাতে বলেছিলেন অমিত শাহ— রাহুলের অভিযোগে লোকসভায় হট্টগোল

রাহুল বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদে এসে বসার সাহস নেই। আমি তাকে ৩০টি গাড়ির কনভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বসে থাকতে দেখেছি। তিনি আজ সংসদে নেই কেন? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই ছাত্রদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।’

২১ ঘণ্টা আগে

ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে নতুন আইন, সর্বোচ্চ সাজা বেড়ে ১০ বছর

রাজ্যসভায় পাস ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর বিলটি আইনে পরিণত হলে প্রশ্নপত্র ফাঁস বা পরীক্ষায় অনিয়মে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি বেড়ে হবে ১০ বছরের কারাদণ্ড, পাশাপাশি সর্বোচ্চ ৫০ লাখ রুপি জরিমানার বিধানও থাকবে।

২১ ঘণ্টা আগে