
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

ইউক্রেন যুদ্ধের ছায়া ও ক্রমশ কঠোর হয়ে ওঠা রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাশিয়ায় শুরু হয়েছে স্টেট দুমা তথা জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। তিন দিনব্যাপী এই নির্বাচনে বড় ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কোনো সম্ভাবনা নেই। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দল ইউনাইটেড রাশিয়া পার্লামেন্টে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করবে— এমনটাই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
ইউনাইটেড রাশিয়া গত ২৩ বছর ধরেই স্টেট দুমায় প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছে। এর পাশাপাশি কমিউনিস্ট পার্টি ও ডানপন্থি লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টিসহ কয়েকটি দল পার্লামেন্টে থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে তারা সাধারণত পুতিনের দলের অবস্থানের সঙ্গেই থাকে।
রাশিয়ার বার্তা সংস্থা তাসের খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) শুরু হয়েছে রাশিয়ার জাতীয় সংসদের এই ভোট গ্রহণ। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত এই নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন ভোটাররা। এরপর ফল ঘোষণা করা হবে।
গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর এটিই রাশিয়ার প্রথম দুমা নির্বাচন। যুদ্ধ শুরুর সময় সংঘাতটি অনেক রুশ নাগরিকের দৈনন্দিন জীবন থেকে দূরের বিষয় মনে হলেও এখন পরিস্থিতি বদলেছে। গ্রীষ্ম জুড়ে ইউক্রেনীয় ড্রোন রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে তেল শোধনাগার, কারখানা ও সরবরাহকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। যুদ্ধের গতিপথ এবং সামনে কী হতে পারে, তা নিয়ে রুশ নাগরিকদের উদ্বেগও বাড়ছে বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে।
এ পরিস্থিতিতেই নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে ক্রেমলিন। গত মাসে উদারপন্থি ও যুদ্ধবিরোধী দল ইয়াব্লোকোকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। গার্ডিয়ানের ভাষ্য, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের প্রকাশ্য বিরোধিতা করা রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে এটিই ছিল শেষ দল, যেটি নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকার সুযোগ পেয়েছিল।
গত মাসে নির্বাচনে ন্যূনতম বিরোধিতার সুযোগটিও হাতছাড়া হয়ে যায় রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞায়। এর ফলে নির্বাচনে থাকা দলগুলো মূলত রাশিয়ার তথাকথিত ‘সিস্টেমিক অপোজিশন’ বা ‘সমঝোতার বিরোধী দল’— অর্থাৎ সরকার ও ক্রেমলিনের সমালোচনা করার সীমিত সুযোগ থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে অবস্থান মিলিয়ে চলে দলগুলো।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্বাধীন ভ্লাস্ত নিউজলেটারের প্রতিষ্ঠাতা ফারিদা রুস্তামোভা গার্ডিয়ানকে বলেন, এবারের নির্বাচনি প্রচার অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় নিষ্প্রাণ। তার ভাষায়, ‘বেশির ভাগ প্রার্থী প্রায় কোনো প্রচারই চালাননি।’ টেলিভিশন বিতর্কেও অনেক সময় স্টুডিও প্রায় ফাঁকা ছিল, কারণ প্রার্থীরা উপস্থিত হননি।
রুস্তামোভার মতে, রাশিয়ায় এবারের নির্বাচনে অনেক প্রার্থী বরং আলোচনার বাইরে থাকতে চাইছেন। সংবেদনশীল কোনো বিষয় সামনে আনতে কেউই আগ্রহী নন। ইউনাইটেড রাশিয়ার প্রচারেও বড় কোনো রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বদলে স্বল্প বাজেটের এআই-নির্ভর ভিডিও বেশি দেখা গেছে।
ক্রেমলিনের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তিও বলেন, নির্বাচনের প্রতি মানুষের আগ্রহ যত কম থাকবে, ক্ষমতাসীনদের জন্য তত ভালো। কঠিন ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা না করে ক্রেমলিন নির্বাচনটি দ্রুত শেষ করতে চায় বলে মনে করেন তিনি।
রুস্তামোভার মতে, নির্বাচনের প্রচার ইচ্ছাকৃতভাবে নিরুৎসাহিত করার একটি উদ্দেশ্য হলো অসন্তুষ্ট ও স্বাধীনমনা ভোটারদের ভোটকেন্দ্র থেকে দূরে রাখা এবং একই সঙ্গে ইউনাইটেড রাশিয়ার সমর্থকদের ভোট দিতে নিশ্চিত করা।
ইয়াব্লোকোকে ব্যালটে না রাখার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও একই ধরনের হিসাব কাজ করেছে বলে মনে করেন কয়েকজন পর্যবেক্ষক। তাদের ধারণা, শুরুতে কর্তৃপক্ষ হয়তো ভেবেছিল দলটি খুব সামান্য ভোট পাবে। কিন্তু পরে জরিপে দলটির সমর্থন বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেলে অনিয়ন্ত্রিত ফলাফলের ঝুঁকি এড়াতেই তাকে নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
হেলসিংকি বিশ্ববিদ্যালয়ের রুশ রাজনীতি বিষয়ক অধ্যাপক ভ্লাদিমির গেলম্যানের মতে, নির্বাচনের আরেকটি উদ্দেশ্য হলো ক্রেমলিনের জন্য রাজনৈতিক বৈধতার একটি ধারাবাহিক উৎস তৈরি করা এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতি ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে— এমন একটি ধারণা বজায় রাখা।
নির্বাচনের আগে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে পুতিনও ভোটকে ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করেছেন। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, তাদের ভোট ‘লক্ষাধিক মানুষ আমাদের সেনাদের পাশে রয়েছে’— এমন বার্তা দেবে এবং রুশ জনগণকে অভিন্ন মূল্যবোধ, ইতিহাস ও দেশের প্রতি ভালোবাসায় ঐক্যবদ্ধ করবে।
পুতিন ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আরও ছয় বছরের জন্য ক্ষমতায় থাকার ম্যান্ডেট পেয়েছেন। প্রকৃত বিরোধীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ না থাকায় সেই ভোট নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। নতুন মেয়াদ শেষ হলে অন্তত ২০৩০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার সুযোগ রয়েছে তার।
তবে এবারের দুমা নির্বাচন অনেক রুশ নাগরিকের কাছে ভোটের ফলাফলের চেয়ে নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতির কারণে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। ইউক্রেনে বিপুল মূল্য দিয়ে রুশ বাহিনীর অগ্রগতি সীমিত থাকার মধ্যে দেশটিতে নতুন করে বড় আকারের সেনা সমাবেশ বা মোবিলাইজেশনের গুঞ্জন ছড়িয়েছে।
আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, নির্বাচন শেষ হয়ে নতুন দুমা গঠনের পর ক্রেমলিনের হাতে এমন কিছু অজনপ্রিয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ বাড়তে পারে, যেগুলো ভোটের আগে এড়িয়ে চলা হয়েছে। এর মধ্যে নতুন করে সেনা নিয়োগের সম্ভাবনাও রয়েছে।
এই উদ্বেগ এরই মধ্যে কিছু তরুণ রুশ নাগরিককে দেশ ছাড়তে উৎসাহিত করেছে। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকজন তরুণ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিদেশে চলে গেছেন, পরিস্থিতি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত বাইরে থাকার পরিকল্পনা নিয়ে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের পরিস্থিতির সঙ্গে এর মিল রয়েছে। সে সময় পুতিন আংশিক সেনা সমাবেশের ঘোষণা দেওয়ার পর বিপুলসংখ্যক রুশ নাগরিক দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন।
তবে পুতিন সম্প্রতি দুবার নতুন মোবিলাইজেশন আসন্ন— এমন ধারণা নাকচ করেছেন। তারপরও আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি। দিমিত্রি নামে এক রুশ নাগরিক গত সপ্তাহে আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভানে চলে গেছেন। তার ভাষ্য, নির্বাচনের পর কয়েক সপ্তাহ অপেক্ষা করে পরিস্থিতি দেখতে চান তিনি। তার মতে, নতুন মোবিলাইজেশনের ঝুঁকি এতটাই বেশি যে সেটিকে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।
ফলে নির্বাচনের ফলাফল আগে থেকেই অনেকটা অনুমেয় হলেও ভোটের পর রাশিয়ার যুদ্ধনীতি, সেনা সমাবেশ ও ইউক্রেন সংঘাতে ক্রেমলিনের পরবর্তী পদক্ষেপই এখন দেশটির মানুষের উদ্বেগের বড় বিষয় হয়ে উঠেছে।

ইউক্রেন যুদ্ধের ছায়া ও ক্রমশ কঠোর হয়ে ওঠা রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাশিয়ায় শুরু হয়েছে স্টেট দুমা তথা জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। তিন দিনব্যাপী এই নির্বাচনে বড় ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কোনো সম্ভাবনা নেই। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দল ইউনাইটেড রাশিয়া পার্লামেন্টে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করবে— এমনটাই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
ইউনাইটেড রাশিয়া গত ২৩ বছর ধরেই স্টেট দুমায় প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছে। এর পাশাপাশি কমিউনিস্ট পার্টি ও ডানপন্থি লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টিসহ কয়েকটি দল পার্লামেন্টে থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে তারা সাধারণত পুতিনের দলের অবস্থানের সঙ্গেই থাকে।
রাশিয়ার বার্তা সংস্থা তাসের খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) শুরু হয়েছে রাশিয়ার জাতীয় সংসদের এই ভোট গ্রহণ। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত এই নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন ভোটাররা। এরপর ফল ঘোষণা করা হবে।
গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর এটিই রাশিয়ার প্রথম দুমা নির্বাচন। যুদ্ধ শুরুর সময় সংঘাতটি অনেক রুশ নাগরিকের দৈনন্দিন জীবন থেকে দূরের বিষয় মনে হলেও এখন পরিস্থিতি বদলেছে। গ্রীষ্ম জুড়ে ইউক্রেনীয় ড্রোন রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে তেল শোধনাগার, কারখানা ও সরবরাহকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। যুদ্ধের গতিপথ এবং সামনে কী হতে পারে, তা নিয়ে রুশ নাগরিকদের উদ্বেগও বাড়ছে বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে।
এ পরিস্থিতিতেই নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে ক্রেমলিন। গত মাসে উদারপন্থি ও যুদ্ধবিরোধী দল ইয়াব্লোকোকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। গার্ডিয়ানের ভাষ্য, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের প্রকাশ্য বিরোধিতা করা রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে এটিই ছিল শেষ দল, যেটি নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকার সুযোগ পেয়েছিল।
গত মাসে নির্বাচনে ন্যূনতম বিরোধিতার সুযোগটিও হাতছাড়া হয়ে যায় রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞায়। এর ফলে নির্বাচনে থাকা দলগুলো মূলত রাশিয়ার তথাকথিত ‘সিস্টেমিক অপোজিশন’ বা ‘সমঝোতার বিরোধী দল’— অর্থাৎ সরকার ও ক্রেমলিনের সমালোচনা করার সীমিত সুযোগ থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে অবস্থান মিলিয়ে চলে দলগুলো।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্বাধীন ভ্লাস্ত নিউজলেটারের প্রতিষ্ঠাতা ফারিদা রুস্তামোভা গার্ডিয়ানকে বলেন, এবারের নির্বাচনি প্রচার অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় নিষ্প্রাণ। তার ভাষায়, ‘বেশির ভাগ প্রার্থী প্রায় কোনো প্রচারই চালাননি।’ টেলিভিশন বিতর্কেও অনেক সময় স্টুডিও প্রায় ফাঁকা ছিল, কারণ প্রার্থীরা উপস্থিত হননি।
রুস্তামোভার মতে, রাশিয়ায় এবারের নির্বাচনে অনেক প্রার্থী বরং আলোচনার বাইরে থাকতে চাইছেন। সংবেদনশীল কোনো বিষয় সামনে আনতে কেউই আগ্রহী নন। ইউনাইটেড রাশিয়ার প্রচারেও বড় কোনো রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বদলে স্বল্প বাজেটের এআই-নির্ভর ভিডিও বেশি দেখা গেছে।
ক্রেমলিনের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তিও বলেন, নির্বাচনের প্রতি মানুষের আগ্রহ যত কম থাকবে, ক্ষমতাসীনদের জন্য তত ভালো। কঠিন ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা না করে ক্রেমলিন নির্বাচনটি দ্রুত শেষ করতে চায় বলে মনে করেন তিনি।
রুস্তামোভার মতে, নির্বাচনের প্রচার ইচ্ছাকৃতভাবে নিরুৎসাহিত করার একটি উদ্দেশ্য হলো অসন্তুষ্ট ও স্বাধীনমনা ভোটারদের ভোটকেন্দ্র থেকে দূরে রাখা এবং একই সঙ্গে ইউনাইটেড রাশিয়ার সমর্থকদের ভোট দিতে নিশ্চিত করা।
ইয়াব্লোকোকে ব্যালটে না রাখার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও একই ধরনের হিসাব কাজ করেছে বলে মনে করেন কয়েকজন পর্যবেক্ষক। তাদের ধারণা, শুরুতে কর্তৃপক্ষ হয়তো ভেবেছিল দলটি খুব সামান্য ভোট পাবে। কিন্তু পরে জরিপে দলটির সমর্থন বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেলে অনিয়ন্ত্রিত ফলাফলের ঝুঁকি এড়াতেই তাকে নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
হেলসিংকি বিশ্ববিদ্যালয়ের রুশ রাজনীতি বিষয়ক অধ্যাপক ভ্লাদিমির গেলম্যানের মতে, নির্বাচনের আরেকটি উদ্দেশ্য হলো ক্রেমলিনের জন্য রাজনৈতিক বৈধতার একটি ধারাবাহিক উৎস তৈরি করা এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতি ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে— এমন একটি ধারণা বজায় রাখা।
নির্বাচনের আগে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে পুতিনও ভোটকে ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করেছেন। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, তাদের ভোট ‘লক্ষাধিক মানুষ আমাদের সেনাদের পাশে রয়েছে’— এমন বার্তা দেবে এবং রুশ জনগণকে অভিন্ন মূল্যবোধ, ইতিহাস ও দেশের প্রতি ভালোবাসায় ঐক্যবদ্ধ করবে।
পুতিন ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আরও ছয় বছরের জন্য ক্ষমতায় থাকার ম্যান্ডেট পেয়েছেন। প্রকৃত বিরোধীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ না থাকায় সেই ভোট নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। নতুন মেয়াদ শেষ হলে অন্তত ২০৩০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার সুযোগ রয়েছে তার।
তবে এবারের দুমা নির্বাচন অনেক রুশ নাগরিকের কাছে ভোটের ফলাফলের চেয়ে নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতির কারণে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। ইউক্রেনে বিপুল মূল্য দিয়ে রুশ বাহিনীর অগ্রগতি সীমিত থাকার মধ্যে দেশটিতে নতুন করে বড় আকারের সেনা সমাবেশ বা মোবিলাইজেশনের গুঞ্জন ছড়িয়েছে।
আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, নির্বাচন শেষ হয়ে নতুন দুমা গঠনের পর ক্রেমলিনের হাতে এমন কিছু অজনপ্রিয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ বাড়তে পারে, যেগুলো ভোটের আগে এড়িয়ে চলা হয়েছে। এর মধ্যে নতুন করে সেনা নিয়োগের সম্ভাবনাও রয়েছে।
এই উদ্বেগ এরই মধ্যে কিছু তরুণ রুশ নাগরিককে দেশ ছাড়তে উৎসাহিত করেছে। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকজন তরুণ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিদেশে চলে গেছেন, পরিস্থিতি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত বাইরে থাকার পরিকল্পনা নিয়ে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের পরিস্থিতির সঙ্গে এর মিল রয়েছে। সে সময় পুতিন আংশিক সেনা সমাবেশের ঘোষণা দেওয়ার পর বিপুলসংখ্যক রুশ নাগরিক দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন।
তবে পুতিন সম্প্রতি দুবার নতুন মোবিলাইজেশন আসন্ন— এমন ধারণা নাকচ করেছেন। তারপরও আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি। দিমিত্রি নামে এক রুশ নাগরিক গত সপ্তাহে আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভানে চলে গেছেন। তার ভাষ্য, নির্বাচনের পর কয়েক সপ্তাহ অপেক্ষা করে পরিস্থিতি দেখতে চান তিনি। তার মতে, নতুন মোবিলাইজেশনের ঝুঁকি এতটাই বেশি যে সেটিকে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।
ফলে নির্বাচনের ফলাফল আগে থেকেই অনেকটা অনুমেয় হলেও ভোটের পর রাশিয়ার যুদ্ধনীতি, সেনা সমাবেশ ও ইউক্রেন সংঘাতে ক্রেমলিনের পরবর্তী পদক্ষেপই এখন দেশটির মানুষের উদ্বেগের বড় বিষয় হয়ে উঠেছে।

সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা তীব্র হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজন শিশু। হুতিরা মক্কার দিকে ড্রোন পাঠিয়েছিল— সৌদি আরবের এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন হুতি নেতা আবদেল-মালেক আল-হুতি।
১২ ঘণ্টা আগে
সৌদি আরবের কাছে ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির প্রস্তাবে প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্ভাব্য এ চুক্তির মূল্য ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। তবে চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মার্কিন কংগ্রেসের পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পরই পরবর্তী প্রক্রিয়া এগোবে।
১২ ঘণ্টা আগে
তরুণদের জন্যও নতুন কর্মসূচির প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। এর আওতায় কানাডা ও ইউরোপের তরুণদের দুই অঞ্চলে কাজ, পড়ালেখা ও বসবাসের সুযোগ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। কানাডাকে ইইউর শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও ক্রীড়া কর্মসূচি ‘ইরাসমাস প্লাস’-এ যুক্ত করার প্রস্তাবও দিয়েছেন কার্নি।
১ দিন আগে