
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, রাজ্যের সীমান্ত জেলাগুলোর ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটক কেন্দ্র থেকে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ জন ‘অবৈধ অভিবাসী’কে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া আরও ৮৩৬ জন বর্তমানে নিজ দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়, রোববার (৭ জুন) রাজ্য বিজেপির একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরের প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই তথ্য জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষিত করাই এখন তার সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
শুভেন্দু অধিকারী জানান, সীমান্তের যে ৫৫৬ কিলোমিটার এলাকা এখনো কাঁটাতারবিহীন অবস্থায় রয়েছে, তার মধ্যে প্রায় ১০০ কিলোমিটার অংশে বেড়া দেওয়ার জন্য ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনীকে (বিএসএফ) জমি হস্তান্তর করেছে রাজ্য সরকার।
তিনি বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে বিএসএফের হাতে প্রায় ১০০ কিলোমিটার জমি তুলে দিয়েছি। এ ছাড়া উত্তরবঙ্গের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘চিকেনস নেক’ (শিলিগুড়ি করিডোর) এলাকাকে আমরা সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছি।” উল্লেখ্য, শিলিগুড়ি করিডোর ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে যুক্ত করেছে।
সীমান্তে কাঁটাতার, আদমশুমারি ও জনমিতি
রাজ্য সরকারের এই ‘পুশব্যাক’ (জোরপূর্বক ঠেলে পাঠানো) অভিযানের ওপর জোর দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, যেসব অবৈধ অভিবাসী নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) আওতায় পড়েন না, কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ম মেনে তাদের সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।
বিগত তৃণমূল সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি অভিযোগ করেন, দেশের অন্য জায়গায় এই ধরনের নিয়ম কার্যকর করা হলেও, আগের তৃণমূল সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। উলটো অবৈধ অভিবাসীদের সরকারি খরচে রাজ্যের বিভিন্ন কেন্দ্রে বছরের পর বছর রেখে দেওয়া হয়েছিল।
উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে যাতায়াতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, সরকারের কড়া পদক্ষেপের পর অনেক নথিপত্রহীন অভিবাসীরা নিজ উদ্যোগেই এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, রাজ্যের জনমিতির পরিবর্তন এখন একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে অনুপ্রবেশের বিষয়টিই ছিল বিজেপির জয়ের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।
পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে আদমশুমারির কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ১ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা চালানো হবে। শুভেন্দুর দাবি অনুযায়ী, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই শুমারির কাজ শেষ হবে এবং এরপরই নির্বাচনি এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ (ডিলিমিটেশন) করা হবে।
‘অন্নপূর্ণা’ যোজনায় সুবিধা পাচ্ছেন ৫০ লাখ নারী
ক্ষমতায় আসার পর শুভেন্দুর সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্পের খতিয়ান তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, আগের সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের চেয়ে আর্থিক সহায়তা বাড়িয়ে বিজেপি যে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার অধীনে ইতোমধ্যে ৫০ লাখ নারী ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন।
শুভেন্দু অধিকারীর তথ্যমতে, প্রকল্প চালুর প্রথম দিনেই ২৮ লাখেরও বেশি নারীর কাছে এই সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সুবিধাভোগীদের তালিকা যাচাইকরণের দীর্ঘ প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, সরকারি তহবিল বণ্টনের আগে অবশ্যই সঠিক তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, আগের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তালিকা খতিয়ে দেখে দেখা গেছে, প্রায় ২৭ লাখ নাম ভোটার তালিকায় নেই। এমনকি নারীদের জন্য বরাদ্দ এই প্রকল্পে প্রায় তিন লাখ পুরুষও সুবিধা নিচ্ছিলেন। এই অনিয়মকে ‘ভয়ানক দুর্নীতি’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, সঠিক যাচাইকরণের মাধ্যমে সরকারি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আসবে এবং দীর্ঘমেয়াদে কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো আরও শক্তিশালী হবে।
তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ
আগের তৃণমূল সরকারের আমলে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে বলে দাবি করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, তদন্তে বিভিন্ন খাতে বড় ধরনের অনিয়ম সামনে আসছে।
তিনি জানান, সরকার পরিবর্তনের পর থেকে তৃণমূলের নেতাকর্মী এবং জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন বর্তমান ও প্রাক্তন বিধায়ক, কাউন্সিলর এবং দলীয় পদাধিকারীকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
তৃণমূলের ‘দুর্নীতি’ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ‘এখন যা পরিস্থিতি, তাতে মনে হচ্ছে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডকেই জেলে রূপান্তর করতে হবে।’ যেখানেই তদন্ত হচ্ছে, সেখানেই দুর্নীতি বেরিয়ে আসছে বলে দাবি করেন তিনি।
আসন্ন বাজেটে স্বাস্থ্য, জনকল্যাণ ও মহার্ঘ ভাতা
বিজেপি সরকার এলে বাংলার মানুষের মাছ খাওয়া নিয়ে সমস্যা হবে— বিরোধীদের এমন প্রচারকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, আগামী সপ্তাহ থেকেই মাত্র ৫ টাকায় ‘ভর্তুকি মূল্যের মাছ-ভাত’ চালু করা হচ্ছে।
এ ছাড়া আগামী ২২ জুন রাজ্য বাজেট পেশের সময় আরও বেশ কিছু জনকল্যাণমূলক ঘোষণা আসবে বলে তিনি জানান। কেন্দ্র ও রাজ্যের সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশনায় কেন্দ্রীয় সরকারের সব মন্ত্রণালয় পশ্চিমবঙ্গকে পূর্ণ সহযোগিতা করছে।
তিনি জানান, সোমবার (৮ জুন) নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে কেন্দ্রের সঙ্গে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প নিয়ে একটি চুক্তি সই করবে রাজ্য সরকার। এর ফলে রাজ্যের প্রায় ১ কোটি ৪৬ লাখ পরিবার (প্রায় সাড়ে ৬ কোটি মানুষ) আয়ুষ্মান ভারত কার্ড পাবেন, যার মাধ্যমে প্রতি বছর ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা মিলবে।
তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ‘জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনে’র (এনএইচএম) অধীনে পশ্চিমবঙ্গের জন্য ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে, যার মধ্যে ৫২৭ কোটি টাকা ইতোমধ্যে ছাড় করা হয়েছে। স্বাস্থ্য, আবাসন ও কর্মসংস্থানে বড় ধরনের উন্নতির প্রতিশ্রুতি দিয়ে শুভেন্দু আরও বলেন, রাজ্যে ১২五 দিনের কর্মসংস্থান গ্যারান্টি স্কিম এবং ‘পিএম আবাস যোজনা’র কাজ আরও গতিশীল করা হবে।
পাশাপাশি, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) নিয়ে আসন্ন বাজেটে বড় ঘোষণা আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। শুভেন্দু জানান, তার সরকার ইতোমধ্যেই সপ্তম পে কমিশন গঠন করেছে এবং ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যবর্তী সময়ের জন্য প্রায় তিন লাখ কর্মচারী ও পেনশনভোগীর বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মিটিয়ে দিয়েছে।
রাজনীতি/আইআর

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, রাজ্যের সীমান্ত জেলাগুলোর ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটক কেন্দ্র থেকে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ জন ‘অবৈধ অভিবাসী’কে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া আরও ৮৩৬ জন বর্তমানে নিজ দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়, রোববার (৭ জুন) রাজ্য বিজেপির একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরের প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই তথ্য জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষিত করাই এখন তার সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
শুভেন্দু অধিকারী জানান, সীমান্তের যে ৫৫৬ কিলোমিটার এলাকা এখনো কাঁটাতারবিহীন অবস্থায় রয়েছে, তার মধ্যে প্রায় ১০০ কিলোমিটার অংশে বেড়া দেওয়ার জন্য ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনীকে (বিএসএফ) জমি হস্তান্তর করেছে রাজ্য সরকার।
তিনি বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে বিএসএফের হাতে প্রায় ১০০ কিলোমিটার জমি তুলে দিয়েছি। এ ছাড়া উত্তরবঙ্গের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘চিকেনস নেক’ (শিলিগুড়ি করিডোর) এলাকাকে আমরা সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছি।” উল্লেখ্য, শিলিগুড়ি করিডোর ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে যুক্ত করেছে।
সীমান্তে কাঁটাতার, আদমশুমারি ও জনমিতি
রাজ্য সরকারের এই ‘পুশব্যাক’ (জোরপূর্বক ঠেলে পাঠানো) অভিযানের ওপর জোর দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, যেসব অবৈধ অভিবাসী নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) আওতায় পড়েন না, কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ম মেনে তাদের সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।
বিগত তৃণমূল সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি অভিযোগ করেন, দেশের অন্য জায়গায় এই ধরনের নিয়ম কার্যকর করা হলেও, আগের তৃণমূল সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। উলটো অবৈধ অভিবাসীদের সরকারি খরচে রাজ্যের বিভিন্ন কেন্দ্রে বছরের পর বছর রেখে দেওয়া হয়েছিল।
উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে যাতায়াতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, সরকারের কড়া পদক্ষেপের পর অনেক নথিপত্রহীন অভিবাসীরা নিজ উদ্যোগেই এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, রাজ্যের জনমিতির পরিবর্তন এখন একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে অনুপ্রবেশের বিষয়টিই ছিল বিজেপির জয়ের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।
পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে আদমশুমারির কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ১ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা চালানো হবে। শুভেন্দুর দাবি অনুযায়ী, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই শুমারির কাজ শেষ হবে এবং এরপরই নির্বাচনি এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ (ডিলিমিটেশন) করা হবে।
‘অন্নপূর্ণা’ যোজনায় সুবিধা পাচ্ছেন ৫০ লাখ নারী
ক্ষমতায় আসার পর শুভেন্দুর সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্পের খতিয়ান তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, আগের সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের চেয়ে আর্থিক সহায়তা বাড়িয়ে বিজেপি যে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার অধীনে ইতোমধ্যে ৫০ লাখ নারী ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন।
শুভেন্দু অধিকারীর তথ্যমতে, প্রকল্প চালুর প্রথম দিনেই ২৮ লাখেরও বেশি নারীর কাছে এই সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সুবিধাভোগীদের তালিকা যাচাইকরণের দীর্ঘ প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, সরকারি তহবিল বণ্টনের আগে অবশ্যই সঠিক তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, আগের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তালিকা খতিয়ে দেখে দেখা গেছে, প্রায় ২৭ লাখ নাম ভোটার তালিকায় নেই। এমনকি নারীদের জন্য বরাদ্দ এই প্রকল্পে প্রায় তিন লাখ পুরুষও সুবিধা নিচ্ছিলেন। এই অনিয়মকে ‘ভয়ানক দুর্নীতি’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, সঠিক যাচাইকরণের মাধ্যমে সরকারি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আসবে এবং দীর্ঘমেয়াদে কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো আরও শক্তিশালী হবে।
তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ
আগের তৃণমূল সরকারের আমলে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে বলে দাবি করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, তদন্তে বিভিন্ন খাতে বড় ধরনের অনিয়ম সামনে আসছে।
তিনি জানান, সরকার পরিবর্তনের পর থেকে তৃণমূলের নেতাকর্মী এবং জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন বর্তমান ও প্রাক্তন বিধায়ক, কাউন্সিলর এবং দলীয় পদাধিকারীকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
তৃণমূলের ‘দুর্নীতি’ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ‘এখন যা পরিস্থিতি, তাতে মনে হচ্ছে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডকেই জেলে রূপান্তর করতে হবে।’ যেখানেই তদন্ত হচ্ছে, সেখানেই দুর্নীতি বেরিয়ে আসছে বলে দাবি করেন তিনি।
আসন্ন বাজেটে স্বাস্থ্য, জনকল্যাণ ও মহার্ঘ ভাতা
বিজেপি সরকার এলে বাংলার মানুষের মাছ খাওয়া নিয়ে সমস্যা হবে— বিরোধীদের এমন প্রচারকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, আগামী সপ্তাহ থেকেই মাত্র ৫ টাকায় ‘ভর্তুকি মূল্যের মাছ-ভাত’ চালু করা হচ্ছে।
এ ছাড়া আগামী ২২ জুন রাজ্য বাজেট পেশের সময় আরও বেশ কিছু জনকল্যাণমূলক ঘোষণা আসবে বলে তিনি জানান। কেন্দ্র ও রাজ্যের সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশনায় কেন্দ্রীয় সরকারের সব মন্ত্রণালয় পশ্চিমবঙ্গকে পূর্ণ সহযোগিতা করছে।
তিনি জানান, সোমবার (৮ জুন) নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে কেন্দ্রের সঙ্গে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প নিয়ে একটি চুক্তি সই করবে রাজ্য সরকার। এর ফলে রাজ্যের প্রায় ১ কোটি ৪৬ লাখ পরিবার (প্রায় সাড়ে ৬ কোটি মানুষ) আয়ুষ্মান ভারত কার্ড পাবেন, যার মাধ্যমে প্রতি বছর ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা মিলবে।
তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ‘জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনে’র (এনএইচএম) অধীনে পশ্চিমবঙ্গের জন্য ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে, যার মধ্যে ৫২৭ কোটি টাকা ইতোমধ্যে ছাড় করা হয়েছে। স্বাস্থ্য, আবাসন ও কর্মসংস্থানে বড় ধরনের উন্নতির প্রতিশ্রুতি দিয়ে শুভেন্দু আরও বলেন, রাজ্যে ১২五 দিনের কর্মসংস্থান গ্যারান্টি স্কিম এবং ‘পিএম আবাস যোজনা’র কাজ আরও গতিশীল করা হবে।
পাশাপাশি, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) নিয়ে আসন্ন বাজেটে বড় ঘোষণা আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। শুভেন্দু জানান, তার সরকার ইতোমধ্যেই সপ্তম পে কমিশন গঠন করেছে এবং ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যবর্তী সময়ের জন্য প্রায় তিন লাখ কর্মচারী ও পেনশনভোগীর বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মিটিয়ে দিয়েছে।
রাজনীতি/আইআর

শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, গত ১০০ দিনে এই যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও। সেই প্রভাব সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েই চলেছে।
৮ ঘণ্টা আগে
বিশ্লেষকদের মতে, এ যুদ্ধে সবচেয়ে বড় বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছে ইরানের শাসকগোষ্ঠী, চীন ও ইউক্রেন। অন্যদিকে সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে জ্বালানি বাজার এবং লেবানন। আর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অবস্থান এখনো স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা কঠিন।
৮ ঘণ্টা আগে
আইআরজিসি বলছে, এই অভিযান কোনো সাময়িক বা সাধারণ ঘটনা নয়, বরং এটি টানা এক সপ্তাহের অবিরাম হামলার শুরু মাত্র। ‘শত্রুপক্ষ’ তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ না করা পর্যন্ত আগামী সাত দিন ধরে চব্বিশ ঘণ্টাই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের একের পর এক বহর উৎক্ষেপণ অব্যাহত থাকবে।
১৬ ঘণ্টা আগে
২০২০ সালের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্নের মুখে মেজাজ হারিয়ে একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারের মাঝপথেই বেরিয়ে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এনবিসি নিউজের বিখ্যাত অনুষ্ঠান ‘মিট দ্য প্রেসে’র সাক্ষাৎকার চলাকালে সঞ্চালকের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদের একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি স্টুডিও ত্যাগ করেন।
১৮ ঘণ্টা আগে