মার্কিন কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা, গ্রিন কার্ড পেতে ফিরতে হবে না দেশে

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ৩০ মে ২০২৬, ১৮: ৪৯
গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়াতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত

গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী আবাসন আবেদনকারীদের আবেদন পর্যালোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যেতে হবে বলে জারি করা নির্দেশনা নিয়ে নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) জানিয়েছে, স্থায়ী আবাসনের আবেদন পর্যালোনাধীন থাকা অবস্থায় অধিকাংশ আবেদনকারীকেই যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যেতে হবে না।

গত সপ্তাহে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) এক বিবৃতিতে অভিবাসন সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা জারি করে। তাতে বলা হয়, ‘অস্বাভাবিক’ পরিস্থিতি ছাড়া স্থায়ী আবাসনপ্রত্যাশীদের আবেদন প্রক্রিয়া চলাকালে নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে।

এ নির্দেশনায় অভিবাসী, নিয়োগকর্তা ও অভিবাসন আইনজীবীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ উদ্বেগ দূর করতেই মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট অভিবাসন আবেদন নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে।

বর্তমানে যোগ্য অভিবাসীরা ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ নামক একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী আবাসনের জন্য আবেদন করতে পারেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আবেদন প্রক্রিয়া চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। সাধারণত কোনো নিয়োগকর্তা বা ঘনিষ্ঠ পরিবারের সদস্য এই আবেদনকারীদের স্পন্সর করে থাকেন।

নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে যে অভিবাসন নীতিমালায় বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ফলে কোনো আবেদনকারীকে গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যেতে হবে কি না, তা মামলাভেদে নির্ধারণ করার ক্ষমতা অভিবাসন কর্মকর্তাদের রয়েছে।

ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়েছে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এ ব্যাখ্যাকে গত সপ্তাহের ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের ঘোষণার তুলনায় অনেকটাই নমনীয় অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে অভিবাসীদের নিয়ে নতুন এই বিতর্কের সূচনা ইউএসসিআইএসের মুখপাত্র জ্যাক চালারের গত সপ্তাহের এক বক্তব্যের সূত্র ধরে। জ্যাক জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনে কঠোর অভিযানের অংশ হিসেবে স্থায়ী আবাসনপ্রত্যাশীদের অনুমোদন প্রক্রিয়া চলাকালে নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে।

জ্যাক চালারের ওই বক্তব্য প্রকাশ করেছিল ব্লুমবার্গ। চালার বলেন, এখন থেকে কোনো বিদেশি নাগরিক, যিনি সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন এবং গ্রিন কার্ড চান, তাকে ব্যতিক্রমী বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি ছাড়া আবেদনের জন্য অবশ্যই নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে।

চালারের এ বক্তব্যে অভিবাসী সম্প্রদায়সহ বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। ২০২৪ সালে প্রায় ১৪ লাখ গ্রিন কার্ড ইস্যু করা হয়েছিল, যার একটি বড় অংশ দেওয়া হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে করা ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ আবেদনের মাধ্যমে। গত সপ্তাহের নির্দেশনাটি সেই দীর্ঘদিনের চর্চাকেই চ্যালেঞ্জ করেছিল।

তবে ডিএইচএস জানিয়েছে, বিদ্যমান নীতির মূল কাঠামো অপরিবর্তিত রয়েছে। এক মুখপাত্র নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেন, একজন আবেদনকারীকে দেশের বাইরে থেকে স্থায়ী রেসিডেন্সির প্রক্রিয়া চালাতে হবে কি না, তা অভিবাসন কর্মকর্তারা নির্ধারণ করবেন, যে রীতি আগের নিয়মেও একই ছিল।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

৫১ অভিবাসন প্রত্যাশী নিয়ে লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, ১১ লাশ উদ্ধার

ইউরোপে উদ্দেশে রওনা হওয়া অভিবাসন প্রত্যাশীদের একটি নৌকা গত সপ্তাহে লিবিয়া উপকূলে ডুবে গিয়ে অন্তত ৫১ জন নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানিয়েছে পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘আবরিন’। এ দুর্ঘটনায় গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা এবং নিখোঁজদের মধ্যে ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, বাকিদের হদিস মেলেনি।

৫ ঘণ্টা আগে

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে বড় সুবিধা পাবে আইআরজিসির ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য

যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের দৃষ্টিতে যাকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সেই ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই সম্ভাব্য সমঝোতার মাধ্যমে সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীদের একটিতে পরিণত হতে পারে।

৮ ঘণ্টা আগে

‘বিশ্বাসঘাতক’ ট্রাম্পের ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় ক্ষোভ, এককভাবে লড়াইয়ের পক্ষে ইসরায়েলিরা

৭৬ বছর বয়সী নেতানিয়াহুর জন্য পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবেও কঠিন হয়ে উঠেছে। দুর্নীতির মামলায় বিচারাধীন এই নেতা এখন ভোটারদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এখনও তিনিই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি।

৮ ঘণ্টা আগে

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা: সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন উইটকফ ও আরাগচি

লেবাননে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর অন্তর্বর্তীকালীন ইরান যুদ্ধ চুক্তিকে একটি স্থায়ী আঞ্চলিক চুক্তিতে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা আবারও জোরদার হয়েছে। এই আলোচনার অংশ হিসেবে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি উভয়েই সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে এক্সিওসের বরাতে জানিয়ে

১০ ঘণ্টা আগে