top ad image
top ad image
home iconarrow iconবিশ্ব রাজনীতি

শুল্ক নিয়ে ফোনালাপ করবেন ট্রাম্প-জিনপিং

শুল্ক নিয়ে ফোনালাপ করবেন ট্রাম্প-জিনপিং
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিং

বাণিজ্য লড়াইয়ের অংশ হিসেবে পরস্পরের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। সেই শুল্ক নিয়ে দুই দেশের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিং ফোনালাপ করবেন। ভয়েস অব আমেরিকার খবরে বলা হয়েছে, দুই বিশ্ব পরাশক্তির মধ্যে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ এই ফোনালাপ শিগগিরই হবে।

পালটাপালটি শুল্ক আরোপের শুরুটা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই চীনা পণ্যের ওপর নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। এ আদেশ কার্যকর হয়েছে সোমবার মধ্যরাত থেকে।

যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপের পর চীনও ঘোষণা করে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের কয়লা ও এলএনজি গ্যাসের ওপর ১৫ শতাংশ এবং অপরিশোধিত তেল, কৃষি যন্ত্রপাতি ও কিছু যানবাহনের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার বাকি দুটি দেশ মেক্সিকো ও কানাডার বেশির ভাগ পণ্যের ওপর ট্রাম্প ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। এ আদেশও সোমবার মধ্যরাত থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে ট্রাম্পেরই আরেক আদেশে তা এক মাস পিছিয়ে দেওয়া হয়।

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবম ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো তাদের সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মারাত্মক মাদক ফেন্টানিলের চোরাচালান আটকাতে আরও সচেষ্ট হতে রাজি হয়েছেন। এই মাদক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লাখ লাখ আমেরিকানের মৃত্যুর কারণ হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, মেক্সিকোর মাদক প্রস্তুতকারী কার্টেলগুলো ফেন্টানিল তৈরি করতে যে রাসায়নিক ব্যবহার করে, তার বড় সূত্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র চীনকে চিহ্নিত করেছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রে ফেন্টানিল চোরাচালান বন্ধে চীনকে চাপ দেওয়ার জন্য চীনের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেছেন।

চীন বলেছে, তারা বেআইনি মাদক বাণিজ্য ও রাসায়নিক শিল্প দমন করতে পদক্ষেপ নিয়েছে। ট্রাম্প বলেন, আশা করছি চীন আমাদের ফেন্টানিল পাঠানো বন্ধ করবে। তারা যদি সেটি না করে, তাহলে শুল্ক আরও বাড়তে থাকবে।

হোয়াইট হাউজের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিভেট বলেন, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের টেলিফোন আলাপের সময় ঠিক করা হচ্ছে। আলাপটি খুব শিগগিরই হবে।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সময় ২০১৮ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুই অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন বাণিজ্য যুদ্ধে লিপ্ত হয়, যা ক্রমশ বাড়তে থাকে। ট্রাম্প বারবার চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ান এবং বেইজিং প্রতিবার পালটা জবাব দেয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এবার চীন আগের থেকে অনেক বেশি প্রস্তুত। তারা অনেক পদক্ষেপ ঘোষণা করে, যোগুলো শুধু শুল্কে সীমাবদ্ধ নেই, এবং সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে প্রযোজ্য হবে। একই সঙ্গে চীন তার বাণিজ্যনির্ভর অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করার ব্যাপারেও সতর্ক।

চীনের স্টেট কাউন্সিল ট্যারিফ কমিশন এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর শুল্ক ঘোষণা করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা শুল্ক বৃদ্ধি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়ম গুরুতরভাবে লঙ্ঘন করেছে। এটা যে শুধু নিজের সমস্যা সমাধানে কোনো কাজ দেবে না, তা নয়; এর ফলে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাভাবিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের রফতানির ওপর প্রভাব কম হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র যদিও বিশ্বের সবচেয়ে বড় এলএনজি রফতানিকারক, তারা চীনে খুব একটা রফতানি করে না।

ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ২০২৩ সালে চীনে ১৭ হাজার ৩২৪ কোটি ৭০ লাখ কিউবিক ফিট এলএনজি রফতানি করে, যা ছিল তার মোট প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানির ২ দশমিক ৩ শতাংশ।

r1 ad
r1 ad
top ad image