যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন: আসন ৪৭০টি, সম্ভাব্য খরচ ১২০০ কোটি ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। এবারের ভোটে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট মিলিয়ে ৪৭০টি আসনে নির্বাচন হবে। পাশাপাশি গভর্নর ও অঙ্গরাজ্য আইনসভার কয়েক হাজার পদেও ভোট হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের চার বছরের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত হয় বলে এই ভোট ‘মিডটার্ম’ বা মধ্যবর্তী নির্বাচন নামে পরিচিত। এতে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ও আইনসভার সদস্যদেরও নির্বাচিত করা হবে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম কোনো ব্যালটে না থাকলেও তার মেয়াদের শেষ দুই বছরের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই নির্বাচন। আর ২০২৫-২৬ সালের এই নির্বাচনি চক্রে বিজ্ঞাপনে প্রায় ১২ বিলিয়ন বা ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে।
এএফপির খবরে বলা হয়, ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের যেকোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে ট্রাম্পের নীতিমালা ও রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাধা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে তার প্রশাসনের ওপর কংগ্রেসের নজরদারিও বাড়তে পারে। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা জয়ী হলে ওয়াশিংটনে দলটির নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে।
প্রতিনিধি পরিষদ
কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) সব ৪৩৫টি আসনেই এবার ভোট হবে। এই কক্ষের প্রতিটি আসনে দুই বছর পরপর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ৪৩৫ সদস্যের প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন ২১৮টি আসন।
২০২৪ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকানরা ২২০-২১৫ ব্যবধানে প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল। এবার কক্ষটির নিয়ন্ত্রণ নিতে হলে ডেমোক্র্যাটদের সেই ফলাফলের তুলনায় অন্তত তিনটি আসন বাড়াতে হবে।
তবে এরপর মৃত্যু, পদত্যাগ ও একজন সদস্যের দলবদলের কারণে বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে ২১৮ জন রিপাবলিকান, ২১৪ জন ডেমোক্র্যাট ও একজন স্বতন্ত্র সদস্য রয়েছেন। দুটি আসন এখন শূন্য।
এর অর্থ, এবার দুটি আসন হারালেও রিপাবলিকানদের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা সম্ভব। কিন্তু তিনটি আসন হারালে তা আর সম্ভব হবে না।
সিনেট ও অঙ্গরাজ্য
এবার ৩৫টি সিনেট আসনে নির্বাচন হচ্ছে। এর মধ্যে ৩৩টি আসনে নিয়মিত ছয় বছর মেয়াদি নির্বাচন হবে। এ ছাড়া ফ্লোরিডা ও ওহাইওর দুটি আসনে বিশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
১০০ আসনের সিনেটে বর্তমানে ৫৩-৪৭ ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকানরা। এই হিসাবে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দেওয়া দুই স্বতন্ত্র সিনেটরকেও ধরা হয়েছে।
ফলে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্র্যাটদের নিট চারটি আসন বাড়িয়ে ৫১টিতে পৌঁছাতে হবে। সিনেটে ৫০-৫০ সমতা হলে সিদ্ধান্ত হবে রিপাবলিকান ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের ভোটে।
এবার ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন হবে। দেশটির মোট অঙ্গরাজ্যের প্রায় তিন-চতুর্থাংশে এই ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
অঙ্গরাজ্য আইনসভার নিয়মিত নির্বাচনে এবার ৬ হাজার ১৩৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। দেশের ৯৯টি অঙ্গরাজ্য আইনসভার কক্ষের মধ্যে ৮৮টিতে এসব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
জনমত জরিপে কী দেখা যাচ্ছে
১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বর পিবিএস নিউজ/এনপিআর/মারিস্টের পরিচালিত এক জরিপে নিবন্ধিত ভোটারদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, কংগ্রেস নির্বাচনে তারা কোন দলের প্রার্থীকে সমর্থন করবেন। এতে রিপাবলিকানদের চেয়ে ১২ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন ডেমোক্র্যাটরা।
স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যেও ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে ছিলেন। এই গোষ্ঠীর ৫৭ শতাংশ ডেমোক্র্যাটদের এবং ৩২ শতাংশ রিপাবলিকানদের সমর্থনের কথা জানান।
সেপ্টেম্বরে পরিচালিত কয়েকটি বড় জনমত জরিপে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার ছিল ৩২ থেকে ৪১ শতাংশের মধ্যে।
রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার ছিল ৩২ শতাংশ, যা তার রাজনৈতিক জীবনের সর্বনিম্ন। অন্যদিকে নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে মারিস্টের জরিপে এই হার ছিল ৩৯ শতাংশ এবং এনবিসি নিউজের জরিপে ৪১ শতাংশ।
তবে জরিপগুলোর পদ্ধতি ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ফলে এসব পরিসংখ্যান সরাসরি তুলনাযোগ্য নয়। তারপরও কোনো জরিপেই এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি যে কংগ্রেস নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের জেতাতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে।
এনবিসি নিউজের জরিপে ৫৫ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার বলেছেন, ট্রাম্পের নীতিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ক্ষতি করেছে। বিপরীতে, ২৬ শতাংশ মনে করেন, এসব নীতি অর্থনীতির জন্য উপকারী হয়েছে।
নির্বাচনি প্রচারে বিপুল অর্থ
২০২৫-২৬ সালের নির্বাচনি চক্রে বিজ্ঞাপনে প্রায় ১২ বিলিয়ন বা ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে।
অ্যাড ট্র্যাকিং কোম্পানি অ্যাডইমপ্যাক্টের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই সময়ে বিজ্ঞাপনে প্রায় ১ হাজার ১৬০ কোটি ডলার খরচ হবে। এর মধ্য দিয়ে ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিজ্ঞাপনে ব্যয়ের আগের রেকর্ড ৮৯০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে।
এমনকি ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় বিজ্ঞাপনে যে অর্থ ব্যয় হয়েছিল, এবার তার চেয়েও বেশি অর্থ খরচ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও কিছু তথ্য
এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের প্রাথমিক নির্বাচনে (প্রাইমারি) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ২ হাজার ৪৯৭ জন প্রার্থী। অন্তত ২০১৪ সালের পর যেকোনো নির্বাচনি চক্রে এটাই সর্বোচ্চ সংখ্যা। তাদের মধ্যে ২ হাজার ২৩২ জন প্রতিনিধি পরিষদের আসনের জন্য লড়েছেন।
৩ নভেম্বরের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৪টি আসনে প্রধান দুই দলের এমন প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যারা ২০২৪ সালের নির্বাচনেও মুখোমুখি হয়েছিলেন। অর্থাৎ দুই প্রধান দলের একই প্রার্থীরা এবারও এসব আসনে পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়ছেন।
























