
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ নিয়ে কোনো চুক্তি করা সম্ভব হলে পরের ধাপে ইসরায়েলের সঙ্গে মুসলিম দেশগুলোর চুক্তি চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মুসলিম বিশ্বের নেতাদের প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ চুক্তিতে নিজ নিজ দেশকে যুক্ত করেন, যে চুক্তির আওতায় ইসরায়েলের সঙ্গে অন্তত চারটি মুসলিম দেশ স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্কে ফিরেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত শনিবার বেশ কয়েকটি মুসলিম ও আরব দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এক টেলিকনফারেন্সে ট্রাম্প ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে’র কথা তুলে ধরেন। ওই ফোনালাপ সম্পর্কে সরাসরি অবগত দুজন মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
প্রায় গোটা মুসলিম বিশ্বের সঙ্গেই কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন ইসরায়েলকে এসব দেশের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্কে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। শেষ পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন সে মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে সম্মত হয়।
ওই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে সই হয় ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ নামের এই ঐতিহাসিক চুক্তি। এর মধ্য দিয়ে জর্ডানের পর প্রথম আরব দেশ হিসেবে আরব আমিরাত ও বাহরাইন স্বীকৃতি দেয় ইসরায়েলকে।
এরপরও যুক্তরাষ্ট্র আব্রাহাম অ্যাকর্ডস নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখে। পরে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সম্মত হয় সুদান ও মরক্কো। তবে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সুদানের চুক্তিটি আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পায়নি।

২০২৫ সালের জুলাইয়ের খবর, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদ আব্রাহাম অ্যাকর্ডস সম্প্রসারণ করে সিরিয়া, লেবানন ও সৌদি আরবকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছে। পরে নভেম্বরে ঘোষণা দেওয়া হয়, কাজাখস্তানও এতে যোগ দিতে সম্মত হয়েছে।
অন্যদিকে গত বছরের ডিসেম্বরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজ উদ্যোগে চুক্তির পরিধি বাড়াতে সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিলে তারা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার অঙ্গীকার করে। এসব দেশ এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এ চুক্তিতে সই করেনি।
ফোনালাপে ইসরায়েল ও মুসলিম দেশগুলোর ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে’ যুক্ত হওয়া নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে তার পরবর্তী বড় কূটনৈতিক পদক্ষেপের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প মূলত সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি স্থাপনকে লক্ষ্য বানিয়েছেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আগামী সেপ্টেম্বরে হতে যাওয়া ইসরায়েলি নির্বাচনের প্রভাব মিলিয়ে নিকট ভবিষ্যতেই এমন কোনো বড় অগ্রগতি অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে।
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য গত শনিবার ট্রাম্প সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিসর, জর্ডান ও বাহরাইনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একটি যৌথ ফোনালাপে অংশ নেন।
অ্যাক্সিওস বলছে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে অপেক্ষাকৃত কট্টরপন্থি মনোভাব পোষণ করা আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদসহ উপস্থিত অন্য নেতারা এই সম্ভাব্য চুক্তিতে সমর্থনের কথা জানান। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, আরব দেশগুলোর নেতারা ট্রাম্পের উদ্দেশে বলেন, ‘এই চুক্তির বিষয়ে আমরা আপনার সঙ্গে আছি। আর যদি এটি কাজ নাও করে, তবুও আমরা আপনার পাশেই থাকব।’
ফোনালাপের বিষয়ে অবগত এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প নেতাদের বলেছেন যে তিনি এরপরই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ফোন করবেন। একই সঙ্গে অদূর ভবিষ্যতে ইসরায়েলের সরকারপ্রধানও যেন এ ধরনের যৌথ ফোনালাপে তাদের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন, সেই আশাবাদও জানান ট্রাম্প।
দুই মার্কিন কর্মকর্তা আরও জানান, ট্রাম্প মুসলিম দেশগুলোর নেতাদের স্পষ্ট করে বলেন, যারা এখনো আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের অংশ নন বা ইসরায়েলের সঙ্গে যাদের কোনো শান্তি চুক্তি নেই, তারা যেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এই জোটে যোগ দেন এবং ইহুদি রাষ্ট্রটির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে ফেলেন।
ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা দেশগুলোর (বিশেষ করে সৌদি আরব, কাতার ও পাকিস্তান) নেতারা ট্রাম্পের এমন আকস্মিক অনুরোধে বেশ অবাক হন। একজন মার্কিন কর্মকর্তা সেই মুহূর্তের বিবরণ দিয়ে বলেন, ‘ট্রাম্পের ওই কথার পর লাইনে কিছুক্ষণ সম্পূর্ণ নীরবতা নেমে এসেছিল। তখন ট্রাম্প রসিকতা করে জিজ্ঞেস করেন— আপনারা সবাই লাইনে আছেন তো?’
এরপর ট্রাম্প নেতাদের জানান, তার বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ আগামী সপ্তাহগুলোতে এ বিষয়টি নিয়ে দেশগুলোর সঙ্গে পরবর্তী যোগাযোগ ও কাজ চালিয়ে যাবেন।
রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশকে এ পর্যন্ত তাদের সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই। ঐতিহাসিক আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে তাদের যোগদানের মাধ্যমে এই সম্পর্ক আরও জোরদার ও সুদৃঢ় হবে।’
এমনকি কোনো একদিন ইরানও যেন আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেয়— এমন একটি ধারণার কথাও ভাসিয়ে দেন ট্রাম্প। তবে এর জন্য তেহরানকে ইসরায়েল রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে হবে, যা তারা কয়েক দশক ধরে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ইরানের বর্তমান প্রশাসন ইসরায়েলকে শত্রু রাষ্ট্র মনে করে এবং দেশটির ধ্বংস সাধনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এদিকে ইরানের সঙ্গে হতে যাওয়া সম্ভাব্য চুক্তির সমালোচনা করলেও আব্রাহাম অ্যাকর্ডস সম্প্রসারণের পক্ষে কংগ্রেসে অগ্রণী ভূমিকা রাখা মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ট্রাম্পের এ আহ্বানকে সমর্থন জানিয়েছেন। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) তিনি লিখেছেন, ‘ইরান সংঘাত অবসানের এ আলোচনার ফলশ্রুতিতে যদি আমাদের আরব ও মুসলিম মিত্ররা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিতে সম্মত হয়, তবে এটি হবে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী একটি চুক্তি।’
গ্রাহাম সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশগুলোকে ট্রাম্পের এ অনুরোধ মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে আরও লিখেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দেখানো এই পথে হাঁটতে যদি আপনারা অস্বীকৃতি জানান, তবে তা আমাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং এই শান্তি প্রস্তাবকে গ্রহণযোগ্য করবে না। তার ওপর ইতিহাসে এটি একটি বড় ভুল হিসাব-নিকাশ হিসেবে গণ্য হবে।’
সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) অতীতে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে আগ্রহ দেখালেও গত এক বছরে তিনি সে অবস্থান থেকে অনেকটাই সরে এসেছেন। গত নভেম্বরে হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে এক বৈঠকে ট্রাম্প এমবিএসকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিতে অনুরোধ করেছিলেন। সৌদি যুবরাজ তাতে অস্বীকৃতি জানালে বৈঠকটি বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল।
চলমান ইরান যুদ্ধ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সৌদি আরবের নিজস্ব দ্বিপাক্ষিক দূরত্বের কারণে রিয়াদ এখন ইসরায়েলের অতি-ডানপন্থি সরকারের বিষয়ে আরও বেশি সতর্ক ও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সৌদি কর্মকর্তারা এখনো ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পূর্বশর্ত হিসেবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের জন্য একটি চূড়ান্ত ও সময়োপযোগী সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকারের দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে ইসরায়েলি সরকার তা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে চলেছে।
ইসরায়েলি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, আগামী সেপ্টেম্বরে ইসরায়েলের নির্বাচন শেষ না হওয়া এবং সেখানে কোন সরকার ক্ষমতায় আসছে তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রিয়াদ এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবে না।

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ নিয়ে কোনো চুক্তি করা সম্ভব হলে পরের ধাপে ইসরায়েলের সঙ্গে মুসলিম দেশগুলোর চুক্তি চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মুসলিম বিশ্বের নেতাদের প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ চুক্তিতে নিজ নিজ দেশকে যুক্ত করেন, যে চুক্তির আওতায় ইসরায়েলের সঙ্গে অন্তত চারটি মুসলিম দেশ স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্কে ফিরেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত শনিবার বেশ কয়েকটি মুসলিম ও আরব দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এক টেলিকনফারেন্সে ট্রাম্প ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে’র কথা তুলে ধরেন। ওই ফোনালাপ সম্পর্কে সরাসরি অবগত দুজন মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
প্রায় গোটা মুসলিম বিশ্বের সঙ্গেই কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন ইসরায়েলকে এসব দেশের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্কে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। শেষ পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন সে মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে সম্মত হয়।
ওই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে সই হয় ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ নামের এই ঐতিহাসিক চুক্তি। এর মধ্য দিয়ে জর্ডানের পর প্রথম আরব দেশ হিসেবে আরব আমিরাত ও বাহরাইন স্বীকৃতি দেয় ইসরায়েলকে।
এরপরও যুক্তরাষ্ট্র আব্রাহাম অ্যাকর্ডস নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখে। পরে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সম্মত হয় সুদান ও মরক্কো। তবে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সুদানের চুক্তিটি আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পায়নি।

২০২৫ সালের জুলাইয়ের খবর, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদ আব্রাহাম অ্যাকর্ডস সম্প্রসারণ করে সিরিয়া, লেবানন ও সৌদি আরবকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছে। পরে নভেম্বরে ঘোষণা দেওয়া হয়, কাজাখস্তানও এতে যোগ দিতে সম্মত হয়েছে।
অন্যদিকে গত বছরের ডিসেম্বরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজ উদ্যোগে চুক্তির পরিধি বাড়াতে সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিলে তারা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার অঙ্গীকার করে। এসব দেশ এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এ চুক্তিতে সই করেনি।
ফোনালাপে ইসরায়েল ও মুসলিম দেশগুলোর ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে’ যুক্ত হওয়া নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে তার পরবর্তী বড় কূটনৈতিক পদক্ষেপের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প মূলত সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি স্থাপনকে লক্ষ্য বানিয়েছেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আগামী সেপ্টেম্বরে হতে যাওয়া ইসরায়েলি নির্বাচনের প্রভাব মিলিয়ে নিকট ভবিষ্যতেই এমন কোনো বড় অগ্রগতি অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে।
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য গত শনিবার ট্রাম্প সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিসর, জর্ডান ও বাহরাইনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একটি যৌথ ফোনালাপে অংশ নেন।
অ্যাক্সিওস বলছে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে অপেক্ষাকৃত কট্টরপন্থি মনোভাব পোষণ করা আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদসহ উপস্থিত অন্য নেতারা এই সম্ভাব্য চুক্তিতে সমর্থনের কথা জানান। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, আরব দেশগুলোর নেতারা ট্রাম্পের উদ্দেশে বলেন, ‘এই চুক্তির বিষয়ে আমরা আপনার সঙ্গে আছি। আর যদি এটি কাজ নাও করে, তবুও আমরা আপনার পাশেই থাকব।’
ফোনালাপের বিষয়ে অবগত এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প নেতাদের বলেছেন যে তিনি এরপরই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ফোন করবেন। একই সঙ্গে অদূর ভবিষ্যতে ইসরায়েলের সরকারপ্রধানও যেন এ ধরনের যৌথ ফোনালাপে তাদের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন, সেই আশাবাদও জানান ট্রাম্প।
দুই মার্কিন কর্মকর্তা আরও জানান, ট্রাম্প মুসলিম দেশগুলোর নেতাদের স্পষ্ট করে বলেন, যারা এখনো আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের অংশ নন বা ইসরায়েলের সঙ্গে যাদের কোনো শান্তি চুক্তি নেই, তারা যেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এই জোটে যোগ দেন এবং ইহুদি রাষ্ট্রটির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে ফেলেন।
ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা দেশগুলোর (বিশেষ করে সৌদি আরব, কাতার ও পাকিস্তান) নেতারা ট্রাম্পের এমন আকস্মিক অনুরোধে বেশ অবাক হন। একজন মার্কিন কর্মকর্তা সেই মুহূর্তের বিবরণ দিয়ে বলেন, ‘ট্রাম্পের ওই কথার পর লাইনে কিছুক্ষণ সম্পূর্ণ নীরবতা নেমে এসেছিল। তখন ট্রাম্প রসিকতা করে জিজ্ঞেস করেন— আপনারা সবাই লাইনে আছেন তো?’
এরপর ট্রাম্প নেতাদের জানান, তার বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ আগামী সপ্তাহগুলোতে এ বিষয়টি নিয়ে দেশগুলোর সঙ্গে পরবর্তী যোগাযোগ ও কাজ চালিয়ে যাবেন।
রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশকে এ পর্যন্ত তাদের সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই। ঐতিহাসিক আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে তাদের যোগদানের মাধ্যমে এই সম্পর্ক আরও জোরদার ও সুদৃঢ় হবে।’
এমনকি কোনো একদিন ইরানও যেন আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেয়— এমন একটি ধারণার কথাও ভাসিয়ে দেন ট্রাম্প। তবে এর জন্য তেহরানকে ইসরায়েল রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে হবে, যা তারা কয়েক দশক ধরে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ইরানের বর্তমান প্রশাসন ইসরায়েলকে শত্রু রাষ্ট্র মনে করে এবং দেশটির ধ্বংস সাধনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এদিকে ইরানের সঙ্গে হতে যাওয়া সম্ভাব্য চুক্তির সমালোচনা করলেও আব্রাহাম অ্যাকর্ডস সম্প্রসারণের পক্ষে কংগ্রেসে অগ্রণী ভূমিকা রাখা মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ট্রাম্পের এ আহ্বানকে সমর্থন জানিয়েছেন। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) তিনি লিখেছেন, ‘ইরান সংঘাত অবসানের এ আলোচনার ফলশ্রুতিতে যদি আমাদের আরব ও মুসলিম মিত্ররা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিতে সম্মত হয়, তবে এটি হবে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী একটি চুক্তি।’
গ্রাহাম সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশগুলোকে ট্রাম্পের এ অনুরোধ মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে আরও লিখেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দেখানো এই পথে হাঁটতে যদি আপনারা অস্বীকৃতি জানান, তবে তা আমাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং এই শান্তি প্রস্তাবকে গ্রহণযোগ্য করবে না। তার ওপর ইতিহাসে এটি একটি বড় ভুল হিসাব-নিকাশ হিসেবে গণ্য হবে।’
সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) অতীতে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে আগ্রহ দেখালেও গত এক বছরে তিনি সে অবস্থান থেকে অনেকটাই সরে এসেছেন। গত নভেম্বরে হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে এক বৈঠকে ট্রাম্প এমবিএসকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিতে অনুরোধ করেছিলেন। সৌদি যুবরাজ তাতে অস্বীকৃতি জানালে বৈঠকটি বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল।
চলমান ইরান যুদ্ধ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সৌদি আরবের নিজস্ব দ্বিপাক্ষিক দূরত্বের কারণে রিয়াদ এখন ইসরায়েলের অতি-ডানপন্থি সরকারের বিষয়ে আরও বেশি সতর্ক ও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সৌদি কর্মকর্তারা এখনো ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পূর্বশর্ত হিসেবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের জন্য একটি চূড়ান্ত ও সময়োপযোগী সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকারের দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে ইসরায়েলি সরকার তা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে চলেছে।
ইসরায়েলি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, আগামী সেপ্টেম্বরে ইসরায়েলের নির্বাচন শেষ না হওয়া এবং সেখানে কোন সরকার ক্ষমতায় আসছে তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রিয়াদ এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবে না।

ডোব্রিন্ট জানান, ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করে— এমন গুরুতর সহিংস কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে’ তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনাটি জার্মানির বর্তমান ‘উচ্চ ঝুঁকি’র নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলে ধরে। এতে বিদেশি কোনো শক্তির সম্পৃক্ততা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
৭ ঘণ্টা আগে
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইমরান খানকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আবার রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকেরা পরীক্ষার পর তাকে ‘চিকিৎসাগতভাবে সুস্থ’ ঘোষণা করেছেন।
১৬ ঘণ্টা আগে
ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কোনো দেশ ইরানকে আর্থিক, ব্যবসায়িক বা অন্য কোনো সহায়তা দিলে সেই দেশকেও ‘প্রচণ্ড অর্থনৈতিক ক্ষতির’ মুখে পড়তে হবে।
১৯ ঘণ্টা আগে
রাশিয়ার এই ভয়াবহ হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আন্তর্জাতিক সামরিক সহায়তার জোর আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, "ইউক্রেন যতদিন পর্যাপ্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা না পাবে, ততদিন রাশিয়া শান্তির বিষয়টি বিন্দুমাত্র গু
২ দিন আগে