
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর ‘সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ’ এবং একই সঙ্গে উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ভাষায়, এটি গাজায় যুদ্ধ বন্ধের পথে ‘একটি স্মরণীয় পদক্ষেপ’।
দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ঘোষণার পরও ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে এ পরিকল্পনায় সম্মতি দেয়নি। বরং দেশটির সরকারের প্রভাবশালী কর্মকর্তারা এর সম্ভাব্যতা নিয়ে প্রকাশ্যেই সংশয় প্রকাশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, গাজায় হামাসসহ অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর ‘সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ’ এবং ইসরায়েলি সেনাদের প্রত্যাহার নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো হয়েছে। গত বছরের অক্টোবরে হওয়া যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়ন এতদিন মূলত এই দুটি বিষয়েই আটকে ছিল।
ইসরায়েলের অভিযোগ, হামাস অস্ত্রসমর্পণ না করায় তারা গাজায় হামলা চালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। একই যুক্তিতে উপত্যকায় পুনর্গঠনের অনুমতিও দিচ্ছে না দেশটি। পাশাপাশি গত অক্টোবরে নির্ধারিত যুদ্ধবিরতির সীমারেখা থেকে ইসরায়েলি সেনারা ধীরে ধীরে আরও ভেতরে অগ্রসর হয়েছে।
ট্রাম্পের উদ্যোগে গত বছর গঠিত বোর্ড অব পিস কয়েক মাস ধরে কায়রোতে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে আসছিল। দীর্ঘ আলোচনার পর সংস্থাটি হামাসকে একটি ধাপে ধাপে নিরস্ত্রীকরণ পরিকল্পনায় সম্মত করাতে সক্ষম হয়েছে। পরিকল্পনাটি অনুযায়ী, হামাসের অস্ত্রসমর্পণের সঙ্গে সমন্বয় করে ইসরায়েলি সেনাদেরও পর্যায়ক্রমে গাজা থেকে প্রত্যাহার করা হবে।
এর পাশাপাশি গাজার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ হামাসের হাত থেকে একটি অন্তর্বর্তী ফিলিস্তিনি প্রশাসনের কাছে হস্তান্তরের কথা বলা হয়েছে। এই প্রশাসনে রাজনীতিকদের বদলে মূলত প্রযুক্তিবিদ বা টেকনোক্র্যাটরা থাকবেন। তাদের সহায়তায় থাকবে বিশেষ প্রশিক্ষিত ফিলিস্তিনি পুলিশ এবং একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী বা ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স।
গাজা নিয়ে বোর্ড অব পিসের উচ্চ প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া বুলগেরিয়ার কূটনীতিক নিকোলাই ম্লাদেনভ বলেন, অস্ত্র প্রত্যাহার ও গাজায় বেসামরিক প্রশাসনের রূপান্তর নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। এখানে পৌঁছাতে কয়েক মাসের অত্যন্ত কঠিন আলোচনা লেগেছে। এমন সময়ও গেছে, যখন আমার মনে হয়েছে আমরা আর কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারব না।
তবে ম্লাদেনভ সতর্ক করে বলেন, কাগজে সমঝোতা হওয়ার চেয়ে এর পরবর্তী বাস্তবায়ন আরও গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, নিরস্ত্রীকরণ ও ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার একই গতিতে এগোতে হবে এবং পুরো প্রক্রিয়া নির্ভরযোগ্যভাবে যাচাইও করতে হবে।
কিন্তু ইসরায়েল এখনো পরিকল্পনাটি গ্রহণ করেছে— এমন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। শুক্রবার সকালে পর্যন্ত ইসরায়েলি সরকারের কাছ থেকে এ বিষয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াও পাওয়া যায়নি।
বরং ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির স্পষ্ট করে দিয়েছেন, গাজা নিয়ে তার দেশের অবস্থান বদলায়নি। তিনি বলেন, গাজায় ইসরায়েল যে সমাধানের অংশ হতে রাজি, তা হলো ফিলিস্তিনিদের ‘উৎসাহিত করে অন্যত্র চলে যাওয়া’ এবং হামাসকে ধ্বংস করা। এর বাইরে অন্য কোনো সমাধানকে তিনি গ্রহণযোগ্য মনে করেন না।
ইসরায়েলের চ্যানেল ১৩-এর প্রতিবেদনে দেশটির কয়েকজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, এই সমঝোতার ‘কোনো সম্ভাবনাই নেই’। তাদের ভাষ্য, এটি হামাসের সময়ক্ষেপণের একটি ‘মরিয়া চেষ্টা’ মাত্র।
রয়টার্সকে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, যেকোনো ধরনের নতুন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পূর্বশর্তই হলো হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ। এর অর্থ শুধু হামাসের অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া নয়, পুরো গাজার সামরিকীকরণ বন্ধ করাও এর অন্তর্ভুক্ত। তার দাবি, বর্তমানে যে পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, সেটি ইসরায়েলের এই দাবির ‘সন্তোষজনক জবাব’ দিতে পারেনি এবং ইসরায়েল তাদের আপত্তি জানিয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে হামাসও পরিকল্পনাটিতে সম্মতির কথা জানিয়েছে, তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তে— ইসরায়েলকে একই সঙ্গে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।
হামাসের আলোচক দলের সদস্য গাজি হামাদ আল জাজিরাকে বলেন, ইসরায়েল উপত্যকা থেকে সরে যাওয়ার আগে হামাস নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেবে না।
আলাদাভাবে এএফপিকে গাজি হামাদ বলেন, সমঝোতায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, ইসরায়েলকে তার প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। ইসরায়েল তা না করলে হামাসও নিজেদের অংশ বাস্তবায়ন করবে না।
অর্থাৎ, পুরো পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে পারস্পরিকতা— হামাস অস্ত্র ছাড়বে এবং বিনিময়ে ইসরায়েল সেনা প্রত্যাহার করবে। একটি পক্ষ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে অন্য পক্ষও পরবর্তী ধাপে যেতে বাধ্য থাকবে না।
এই সমঝোতা হামাসের অবস্থানকেও কিছুটা কৌশলগত সুবিধা দিয়েছে। কারণ হামাস যখন নিরস্ত্রীকরণের নীতিগত রোডম্যাপে সম্মতি দিয়েছে, তখন গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতির সময় ইসরায়েল যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিল, সেগুলো পূরণের চাপ এখন অনেকটাই ইসরায়েলের ওপর পড়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বীকার করেন, ইসরায়েল এখনো ‘খুবই সন্দিহান’ যে হামাস সত্যিই নিরস্ত্রীকরণ করবে। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, চুক্তির আওতায় ইসরায়েলও নিজেদের দায়িত্ব পালন না করলে ট্রাম্প ‘খুব, খুব হতাশ’ হবেন।
তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবে কত দিনে কার্যকর হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, হামাসকে তাদের অস্ত্র গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসন ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজার কাছে হস্তান্তর করতে হবে। এই প্রশাসনের নিরাপত্তায় থাকবে একটি ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনী এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, এনসিএজির ১৩ সদস্যকে এখনো ইসরায়েল গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীর জন্য যে বিশেষ প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা করা হয়েছে, সেটিও এখনো শুরু হয়নি। একইভাবে মরক্কো ও কসোভোসহ আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে অংশ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া দেশগুলোর সেনারাও এখনো গাজায় পৌঁছাননি।
বোর্ড অব পিসের এক কর্মকর্তা জানান, চুক্তি বাস্তবায়নের শুরুতে ১৪ দিনের একটি পর্যায় থাকবে। এই সময়ে ‘সামরিক কার্যক্রম বন্ধ’ থাকার কথা। একই সঙ্গে দুপক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়ন করছে, তা পর্যবেক্ষণের জন্য একটি ইন্টারন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কমিটি (আইভিসি) গঠন করা হবে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, এই পরিকল্পনার আসল গুরুত্ব নির্দিষ্ট সময়সীমার চেয়ে বেশি নির্ভর করছে ধাপগুলোর সঠিক ক্রম, যাচাই এবং পারস্পরিকতার ওপর। কোনো পক্ষ কোনো শর্ত মানতে না পারলে পরবর্তী ধাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে না। আবার কোনো একটি ধাপ বাস্তবায়নে বেশি সময় প্রয়োজন হলে যাচাই কমিটি সেই সময় বাড়াতে পারবে।
অর্থাৎ, গাজার যুদ্ধ শেষ করার এই নতুন উদ্যোগের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এখন সমঝোতা ঘোষণায় নয়, বাস্তবায়নে। হামাস সত্যিই অস্ত্র সমর্পণ করবে কি না, ইসরায়েল একই সময়ে সেনা প্রত্যাহার করবে কি না এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ কাঠামো কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে কি না— এই তিনটি প্রশ্নের উত্তরই ঠিক করবে ট্রাম্পের ঘোষিত ‘স্মরণীয় পদক্ষেপ’ শেষ পর্যন্ত স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পথে এগোতে পারে, নাকি আবারও ভেঙে পড়বে।

গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর ‘সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ’ এবং একই সঙ্গে উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ভাষায়, এটি গাজায় যুদ্ধ বন্ধের পথে ‘একটি স্মরণীয় পদক্ষেপ’।
দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ঘোষণার পরও ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে এ পরিকল্পনায় সম্মতি দেয়নি। বরং দেশটির সরকারের প্রভাবশালী কর্মকর্তারা এর সম্ভাব্যতা নিয়ে প্রকাশ্যেই সংশয় প্রকাশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, গাজায় হামাসসহ অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর ‘সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ’ এবং ইসরায়েলি সেনাদের প্রত্যাহার নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো হয়েছে। গত বছরের অক্টোবরে হওয়া যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়ন এতদিন মূলত এই দুটি বিষয়েই আটকে ছিল।
ইসরায়েলের অভিযোগ, হামাস অস্ত্রসমর্পণ না করায় তারা গাজায় হামলা চালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। একই যুক্তিতে উপত্যকায় পুনর্গঠনের অনুমতিও দিচ্ছে না দেশটি। পাশাপাশি গত অক্টোবরে নির্ধারিত যুদ্ধবিরতির সীমারেখা থেকে ইসরায়েলি সেনারা ধীরে ধীরে আরও ভেতরে অগ্রসর হয়েছে।
ট্রাম্পের উদ্যোগে গত বছর গঠিত বোর্ড অব পিস কয়েক মাস ধরে কায়রোতে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে আসছিল। দীর্ঘ আলোচনার পর সংস্থাটি হামাসকে একটি ধাপে ধাপে নিরস্ত্রীকরণ পরিকল্পনায় সম্মত করাতে সক্ষম হয়েছে। পরিকল্পনাটি অনুযায়ী, হামাসের অস্ত্রসমর্পণের সঙ্গে সমন্বয় করে ইসরায়েলি সেনাদেরও পর্যায়ক্রমে গাজা থেকে প্রত্যাহার করা হবে।
এর পাশাপাশি গাজার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ হামাসের হাত থেকে একটি অন্তর্বর্তী ফিলিস্তিনি প্রশাসনের কাছে হস্তান্তরের কথা বলা হয়েছে। এই প্রশাসনে রাজনীতিকদের বদলে মূলত প্রযুক্তিবিদ বা টেকনোক্র্যাটরা থাকবেন। তাদের সহায়তায় থাকবে বিশেষ প্রশিক্ষিত ফিলিস্তিনি পুলিশ এবং একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী বা ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স।
গাজা নিয়ে বোর্ড অব পিসের উচ্চ প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া বুলগেরিয়ার কূটনীতিক নিকোলাই ম্লাদেনভ বলেন, অস্ত্র প্রত্যাহার ও গাজায় বেসামরিক প্রশাসনের রূপান্তর নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। এখানে পৌঁছাতে কয়েক মাসের অত্যন্ত কঠিন আলোচনা লেগেছে। এমন সময়ও গেছে, যখন আমার মনে হয়েছে আমরা আর কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারব না।
তবে ম্লাদেনভ সতর্ক করে বলেন, কাগজে সমঝোতা হওয়ার চেয়ে এর পরবর্তী বাস্তবায়ন আরও গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, নিরস্ত্রীকরণ ও ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার একই গতিতে এগোতে হবে এবং পুরো প্রক্রিয়া নির্ভরযোগ্যভাবে যাচাইও করতে হবে।
কিন্তু ইসরায়েল এখনো পরিকল্পনাটি গ্রহণ করেছে— এমন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। শুক্রবার সকালে পর্যন্ত ইসরায়েলি সরকারের কাছ থেকে এ বিষয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াও পাওয়া যায়নি।
বরং ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির স্পষ্ট করে দিয়েছেন, গাজা নিয়ে তার দেশের অবস্থান বদলায়নি। তিনি বলেন, গাজায় ইসরায়েল যে সমাধানের অংশ হতে রাজি, তা হলো ফিলিস্তিনিদের ‘উৎসাহিত করে অন্যত্র চলে যাওয়া’ এবং হামাসকে ধ্বংস করা। এর বাইরে অন্য কোনো সমাধানকে তিনি গ্রহণযোগ্য মনে করেন না।
ইসরায়েলের চ্যানেল ১৩-এর প্রতিবেদনে দেশটির কয়েকজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, এই সমঝোতার ‘কোনো সম্ভাবনাই নেই’। তাদের ভাষ্য, এটি হামাসের সময়ক্ষেপণের একটি ‘মরিয়া চেষ্টা’ মাত্র।
রয়টার্সকে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, যেকোনো ধরনের নতুন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পূর্বশর্তই হলো হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ। এর অর্থ শুধু হামাসের অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া নয়, পুরো গাজার সামরিকীকরণ বন্ধ করাও এর অন্তর্ভুক্ত। তার দাবি, বর্তমানে যে পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, সেটি ইসরায়েলের এই দাবির ‘সন্তোষজনক জবাব’ দিতে পারেনি এবং ইসরায়েল তাদের আপত্তি জানিয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে হামাসও পরিকল্পনাটিতে সম্মতির কথা জানিয়েছে, তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তে— ইসরায়েলকে একই সঙ্গে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।
হামাসের আলোচক দলের সদস্য গাজি হামাদ আল জাজিরাকে বলেন, ইসরায়েল উপত্যকা থেকে সরে যাওয়ার আগে হামাস নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেবে না।
আলাদাভাবে এএফপিকে গাজি হামাদ বলেন, সমঝোতায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, ইসরায়েলকে তার প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। ইসরায়েল তা না করলে হামাসও নিজেদের অংশ বাস্তবায়ন করবে না।
অর্থাৎ, পুরো পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে পারস্পরিকতা— হামাস অস্ত্র ছাড়বে এবং বিনিময়ে ইসরায়েল সেনা প্রত্যাহার করবে। একটি পক্ষ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে অন্য পক্ষও পরবর্তী ধাপে যেতে বাধ্য থাকবে না।
এই সমঝোতা হামাসের অবস্থানকেও কিছুটা কৌশলগত সুবিধা দিয়েছে। কারণ হামাস যখন নিরস্ত্রীকরণের নীতিগত রোডম্যাপে সম্মতি দিয়েছে, তখন গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতির সময় ইসরায়েল যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিল, সেগুলো পূরণের চাপ এখন অনেকটাই ইসরায়েলের ওপর পড়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বীকার করেন, ইসরায়েল এখনো ‘খুবই সন্দিহান’ যে হামাস সত্যিই নিরস্ত্রীকরণ করবে। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, চুক্তির আওতায় ইসরায়েলও নিজেদের দায়িত্ব পালন না করলে ট্রাম্প ‘খুব, খুব হতাশ’ হবেন।
তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবে কত দিনে কার্যকর হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, হামাসকে তাদের অস্ত্র গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসন ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজার কাছে হস্তান্তর করতে হবে। এই প্রশাসনের নিরাপত্তায় থাকবে একটি ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনী এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, এনসিএজির ১৩ সদস্যকে এখনো ইসরায়েল গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীর জন্য যে বিশেষ প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা করা হয়েছে, সেটিও এখনো শুরু হয়নি। একইভাবে মরক্কো ও কসোভোসহ আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে অংশ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া দেশগুলোর সেনারাও এখনো গাজায় পৌঁছাননি।
বোর্ড অব পিসের এক কর্মকর্তা জানান, চুক্তি বাস্তবায়নের শুরুতে ১৪ দিনের একটি পর্যায় থাকবে। এই সময়ে ‘সামরিক কার্যক্রম বন্ধ’ থাকার কথা। একই সঙ্গে দুপক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়ন করছে, তা পর্যবেক্ষণের জন্য একটি ইন্টারন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কমিটি (আইভিসি) গঠন করা হবে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, এই পরিকল্পনার আসল গুরুত্ব নির্দিষ্ট সময়সীমার চেয়ে বেশি নির্ভর করছে ধাপগুলোর সঠিক ক্রম, যাচাই এবং পারস্পরিকতার ওপর। কোনো পক্ষ কোনো শর্ত মানতে না পারলে পরবর্তী ধাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে না। আবার কোনো একটি ধাপ বাস্তবায়নে বেশি সময় প্রয়োজন হলে যাচাই কমিটি সেই সময় বাড়াতে পারবে।
অর্থাৎ, গাজার যুদ্ধ শেষ করার এই নতুন উদ্যোগের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এখন সমঝোতা ঘোষণায় নয়, বাস্তবায়নে। হামাস সত্যিই অস্ত্র সমর্পণ করবে কি না, ইসরায়েল একই সময়ে সেনা প্রত্যাহার করবে কি না এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ কাঠামো কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে কি না— এই তিনটি প্রশ্নের উত্তরই ঠিক করবে ট্রাম্পের ঘোষিত ‘স্মরণীয় পদক্ষেপ’ শেষ পর্যন্ত স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পথে এগোতে পারে, নাকি আবারও ভেঙে পড়বে।

শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়া নিয়ে সংসদীয় কমিটির কাছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঢাকার পাঠানো প্রত্যর্পণ অনুরোধটি প্রাসঙ্গিক আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনে ভারত সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করে দেখছে।
১২ ঘণ্টা আগে
শুক্রবার (৩১ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভারত সীমান্তসংলগ্ন সুনসারি জেলার একটি গ্রামে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়।
১৪ ঘণ্টা আগে
শুক্রবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া বক্তব্যে হামাসের এক কর্মকর্তা বলেন, অস্ত্রের বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষ একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে।
১৪ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া তিন লাখ রোহিঙ্গাকে নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ায় থাকা আরও পাঁচ হাজার রোহিঙ্গাকেও ফেরত নিতে রাজি হয়েছে দেশটি। বুধবার এ তথ্য জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
১ দিন আগে