গত শনিবার (১০ মে) রাতে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে রাজধানীজুড়ে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনের চাপে সরকার জরুরি ভিত্তিতে বৈঠকে বসে এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেয়।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সব ধরনের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব ধরনের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ধারা-১৮(১) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে দলটির ওপর।
আওয়ামী লীগের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে সন্ত্রাস দমন আইনে। এই সিদ্ধান্তের পর ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দল হিসাবে জামায়াতে ইসলামির বিচারের বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এই সংশোধনীর ফলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণহত্যায় জড়িত অভিযোগে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কিংবা এর কোনো সহযোগী সংগঠনের বিচার করা যাবে। পাশাপাশি এই বিচার কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সব ধরনের কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তও নিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বিবিসি বাংলাকে বলেন, পলিটিক্যাল পার্টি অধ্যাদেশ-১৯৭৮ ও সন্ত্রাসবিরোধী আইন-২০০৯— এই দুটি আইনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দল বরখাস্ত, সাময়িক অথবা আজীবন নিষিদ্ধের সুযোগ রয়েছে। তবে এখানে অনেকগুলো বিষয়ে বিতর্ক বা বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।
শনিবার (১০ মে) সকাল থেকেই আবার শাহবাগে জড়ো হতে থাকে আন্দোলনকারীরা। তাদের অবস্থান কর্মসূচির ফলে সকাল থেকে শাহবাগ মোড়ের চারদিকের রাস্তা বন্ধ রয়েছে। তবে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার গাড়িগুলো চলাচল করছে।
বিএনপি বলছে, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে তারা শুধু একমতই না, সরকরের কাছেও আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার উপায় পর্যন্ত তারা প্রস্তাব করে রেখেছে। পাশাপাশি দলটিকে নিষিদ্ধ করার এই আন্দোলন কেন করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে দলটির মধ্যে। যারা আন্দোলনে যুক্ত তাদের পক্ষ থেকে বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগও করা হয়নি
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে আজ বাদ জুমা বড় জমায়েতের ডাক দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি। এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এ ডাক দেন। জমায়েতের লক্ষ্যে সমাবেশের জন্য ট্রাক দিয়ে মঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার পূর্ব পাশে ফোয়ারার সামনে এই মঞ্চ তৈরির কাজ চলছে।
আজ দুপুরের মধ্যে সব রাজনৈতিক দলকে ডেকে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন জামায়াতের ঢাকা দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। শুক্রবার (৯ মে) সকাল ৮টার দিকে এতে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন ড. শফিকুল ইসলাম।
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে আজ (শুক্রবার) বাদ জুমা বড় জমায়েতের ডাক দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার পূর্ব পাশে ফোয়ারার সামনে এই জমায়েত হবে। এতে দল মত নির্বিশেষে সবাইকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আওয়ামী লীগের বিচার ও দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিষয়ে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ (পথনকশা) ঘোষণার দাবিতে বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি এখনও চলছে।
দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অবস্থানে এনসিপির নেতাকর্মীরাও রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে গিয়ে অবস্থান নিয়েছেন যমুনার সামনে। সেখানে অন্যদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে স্লোগান ধরেছেন নাহিদও। ধীরে ধীরে তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন অন্যান্য দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীরাও।
অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে যুক্ত ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে জয় দাবি করেছেন, এই ১৭ জনেরই বাংলাদেশ ছাড়া অন্য এক বা একাধিক দেশের নাগরিকত্ব রয়েছে। তারা কে কোন দেশের নাগরিক, সেটিও উল্লেখ করেছেন তিনি।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ৯ মাস পর দেশ ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। এ বিষয়ে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানায় আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে দেশ ত্যাগের নিষেধাজ্ঞা না থাকায় তাকে চিকিৎসার জন্য যেতে দেয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ, গণহত্যার বিচার ও সংস্কারের দাবিতে বুধবার (২৩ এপ্রিল) তৃতীয় দিনেও বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তবে সাবেক এই মন্ত্রী দেশে নেই—এমন গুঞ্জন ৫ আগস্ট পরবর্তী সময় থেকেই দেশে চাউর ছিল। এবার লন্ডনে তাকে প্রকাশ্যে দেখা গেল।