রোজার আগে ভোট— তারিখ দিতে ইসিকে চিঠি দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৫, ২১: ০৯
মঙ্গলবার রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর

আগামী বছর রমজান মাস শুরুর আগেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন আয়োজন করা হয়, সে অনুযায়ী তারিখ ঘোষণা করতে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেবেন বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বিজয়ের বর্ষপূর্তির রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণে বলেন, বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন— জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই তিন গুরুদায়িত্ব নিয়ে তার সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল। এর মধ্যে সংস্কার ও বিচারকি কার্যক্রমে যথেষ্ট অগ্রগতি হওয়ায় এখন নির্বাচনের সময় এসে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংস্কার প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা দায়িত্ব গ্রহণের চার মাসের মাথায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে দেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করব। তবে নির্বাচনের আগে আমাদের অত্যাবশ্যকীয় কয়েকটি কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এর মধ্যে অন্যতম হলো জুলাই ঘোষণাপত্র ও জুলাই সনদ।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে তিনি এরই মধ্যে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেছেন। বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন ও সুপারিশ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা ও সংলাপের পরিপ্রেক্ষিতে জুলাই সনদও চূড়ান্ত হওয়ার পথে। শিগগিরই সে সনদ প্রকাশ করা হবে।

বিচারের অগ্রগতি প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জুলাই-আগস্টের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় বিচারকাজ দৃঢ়ভাবে এগিয়ে চলেছে। বিচারের আনুষ্ঠানিক শুনানি পর্বও শুরু হয়েছে। ইতিহাসের নির্মম হত্যাযজ্ঞে যারা জড়িত তাদের বিচার এ দেশের মাটিতে হবেই। বিচার প্রক্রিয়া ও এর ফলাফল ক্রমান্বয়ে মানুষের কাছে প্রকাশিত হতে থাকবে। বিচারের পুরো প্রক্রিয়া দেশবাসীর কাছে স্বচ্ছ ও দৃশ্যমান রাখা হচ্ছে।

সংস্কার ও বিচারের অগ্রগতি তুলে ধরার পর নির্বাচন প্রসঙ্গে কথা বলেন অধ্যাপক ইউনূস। বলেন, এবার আমাদের সর্বশেষ দায়িত্ব পালনের পালা। নির্বাচন অনুষ্ঠান। আজ এই মহান দিবসে আপনাদের সামনে এ বক্তব্য রাখার পর থেকেই আমরা আমাদের সর্বশেষ ও সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে প্রবেশ করব। আমরা এবার একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করব।

প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবেন বলে সবার প্রত্যাশা থাকলেও ভাষণে তিনি সরাসরি কোনো তারিখ উল্লেখ করেননি। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে আমি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে চিঠি পাঠাব, যেন নির্বাচন কমিশন আগামী রমজানের আগে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

তিনি আরও বলেন, আপনারা সকলেই দোয়া করবেন যেন সুন্দরভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠান করে এ দেশের সব নাগরিক একটি ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার কাজে সফলভাবে এগিয়ে যেতে পারে। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে এই নির্বাচন যেন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখরভাবে সম্পন্ন করা যায় সেজন্য সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা দেবো।

নির্বাচনে প্রবাসী ভোটারদের ভোট দেওয়ার আয়োজন নিশ্চিত করার প্রত্যয় জানান প্রধান উপদেষ্টা। নারী ভোটাররা যেন দেশের সবখানে নির্দ্বিধায় আনন্দ-উৎসাহ নিয়ে ভোট দিতে পারে, সেটি নিশ্চিত করতে চান বলেও জানান।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, দেশের মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার কারণে ১৫ বছর ধরে নাগরিকরা ভোট দিতে পারেননি। এবারের নির্বাচনে আমরা আমাদের বকেয়া আনন্দসহ মহা আনন্দে ভোট দিতে চাই। এবারের নির্বাচনে জীবনে প্রথমবার ভোট দিতে যাবে, এ রকম ভোটাররা নানা উৎসবের মধ্য দিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবে, তাদের এই দিনটি স্মরণীয় করে রাখার জন্য।

তিনি বলেন, এর মধ্যে নতুন নারী ভোটার থাকবে, নতুন পুরুষ ভোটার থাকবে। এর মধ্যে এমন ভোটার থাকবে যারা ১৫ বছর আগে থেকেই ভোট দিতে পারত, কিন্তু জীবনে একবারও ভোট দিতে পারেনি। এর মধ্যে আসবে যারা ১০ বছর আগে, পাঁচ বছর আগে ভোট দিতে পারত কিন্তু পারেনি। আর আসবে ভাগ্যবান ও ভাগ্যবতীর দল যারা এই প্রথমবার ভোটার হওয়ার যোগ্যতা লাভ করল এবং সঙ্গে সঙ্গে ভোট দেওয়ার সুযোগও পেয়ে গেল।

ভোটের দিনকে আননন্দময় করে তুলতে চান জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, নির্বাচনের দিনটিকে আমরা ঈদের উৎসবের মতো করতে চাই। এবারের ভোটের আনন্দ থাকবে সবার মধ্যে। আপনারা সবাই বাচ্চাকাচ্চাদের নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন, নাগরিক অধিকার প্রয়োগের মহা আনন্দ পরবর্তী বংশধরদের কাছে তুলে ধরার জন্য।

এখন থেকেই ভোটের প্রস্তুতি নিতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এখন থেকে প্রতিদিন আলাপ করুন, আপনার এলাকায় ভোটদান ব্যবস্থা কেমন হলে সুন্দর হয়, কেমন হলে আনন্দমুখর হয়, সেটা আগে থেকে ঠিক করার জন্য। নতুন বাংলাদেশ গড়ার কাজের ভিত্তি রচনা হবে এবারের নির্বাচনে। তার জন্য প্রস্তুতি নিন।

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিলেন মির্জা ফখরুল

এই নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ ৫০টি রাজনৈতিক দলের দুই হাজারেরও বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটারের এই বিশাল ম্যান্ডেট রক্ষায় সারাদেশে মোতায়েন রয়েছে সশস্ত্র বাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ১০ লাখ সদস্য।

২ ঘণ্টা আগে

ভোটের আগের রাতে জামায়াতের বিরুদ্ধে ১২৭ অভিযোগ বিএনপির

নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিজয়ের আকাঙ্ক্ষা সবারই থাকে। কিন্তু সে আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য অনৈতিক ও বেআইনি পথ গ্রহণ করা কাঙ্ক্ষিত ছিল না। দুর্ভাগ্য আমাদের, আজ সারা দিন যেসব তথ্য-উপাত্ত আমরা পেয়েছি, তাতে আমরা খুবই মর্মাহত। প্রায় ১২৭টি বিষয় আমাদের সামনে এসেছে। এর বাইরে আরও আছে, সবগুলো আমরা দেখতেও পারিনি। এগুল

৯ ঘণ্টা আগে

লাইলাতুল গুজব চলছে, পাত্তা দেবেন না: জামায়াত আমির

সবাইকে সাবধান থাকতে এবং গুজবে কান না দিতে আহ্বান জানিয়েছেন শফিকুর রহমান। লিখেছেন, ‘সবাই সাবধান, এই সমস্ত গুজবকে পাত্তাই দিবেন না।’

১০ ঘণ্টা আগে

জামায়াত-শিবির কর্মীদের সশস্ত্র কর্মীরা মেস-হোস্টেলে: মির্জা আব্বাস

নির্বাচনি সহিংসতার শঙ্কা জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, ফকিরাপুল-আরামবাগের বিভিন্ন মেস-হোস্টেলে সশস্ত্র অবস্থান করছে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। তারা কাল ভোটকেন্দ্রে যাবে। তবে রাত ১১টার পর যদি আবারও তারা কেন্দ্রে যায়, তাহলে পরিণতি ভয়াবহ হবে।

১০ ঘণ্টা আগে