ধর্ম প্রতিমন্ত্রী নিয়োগে আক্বিদার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করলেন ছারছীনার পির

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৬, ১৯: ৫৫
মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন (বাঁয়ে) এবং মাওলানা শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত
মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন (বাঁয়ে) এবং মাওলানা শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করার সম্ভাবনার খবর প্রকাশের পর এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ছারছীনা দরবার শরীফের পির আলহাজ্ব হজরত মাওলানা শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন (মা.জি.আ.)। সাম্প্রতিক একাধিক গণমাধ্যমের খবরে শামীম কায়সার লিংকনের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ছারছীনার পির বলেন, বাংলাদেশ পির-আউলিয়ার দেশ। এ দেশের মানুষের ঈমান-আক্বিদা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও দীর্ঘদিনের মাজহাবি ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের অন্যতম কর্তব্য। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি, আক্বিদা এবং দেশের প্রচলিত মাজহাবি ঐতিহ্যের প্রতি তার অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে কোনোভাবেই মাজহাব ও আক্বিদাবিরোধী কোনো ব্যক্তিকে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে স্থান দেওয়া উচিত নয়। এ দেশের তাওহিদি জনতা তাদের ঈমান, আক্বিদা, দিন ও আদর্শের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত সচেতন। তাই রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জনগণের ধর্মীয় অনুভূতি ও আক্বিদাগত বিষয়কে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে।”

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে ছারছীনার পির আরও বলেন, “আপনি এ বিষয়ে সতর্ক থাকবেন। তাওহিদি জনতা আপনাদের ভোট দিয়েছে কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়; তারা ভোট দিয়েছে তাদের ঈমান, আক্বিদা, দিন ও আদর্শ রক্ষার প্রত্যাশায়। অতএব জনগণের দেওয়া ভোটাধিকার যে উদ্দেশ্যে প্রয়োগ করা হয়েছে, রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে সেই জনআকাঙ্ক্ষার যথাযথ প্রতিফলন ঘটাতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় শুধু একটি প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় নয়। এর সঙ্গে দেশের মসজিদ-মাদরাসা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, হজ ব্যবস্থাপনা, ওয়াক্ফসহ মুসলিম জনগোষ্ঠীর গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় বিষয় সম্পৃক্ত। তাই এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এমন ব্যক্তির হাতে দেওয়া উচিত, যিনি দেশের আলেম-ওলামা, পির-মাশায়েখ ও সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের আক্বিদা, বিশ্বাস ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

ছারছীনার পির সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের শান্তি, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ঈমান-আক্বিদার সুরক্ষার স্বার্থে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বশীল ব্যক্তি নির্বাচনে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তাওহিদি জনতার প্রত্যাশা ও ধর্মপ্রাণ মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে এ বিষয়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement