খালেদা জিয়া অসুস্থ শুনে আমি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন— ভারতীয় গণমাধ্যমকে শেখ হাসিনা

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
১৯৯৭ সালের ২৯ মার্চ ঢাকায় খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর বৌভাতের অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া (বাঁয়ে) ও শেখ হাসিনা (ডানে)। আলোকচিত্রী: রফিকুর রহমান (বাংলাদেশ ওল্ড ফটো আর্কাইভ ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত)

রাজধানী ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য জুলাই আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছেন।

এ খবর দিয়েছে ইন্দো-এশিয়ান নিউজ সার্ভিস (আইএএনএস)। ইমেইলে ভারতীয় এই বার্তা সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খালেদা জিয়ার সুস্থতাও কামনা করেছেন শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) আইএএনএসে প্রকাশিত হয়েছে সাক্ষাৎকারটি। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে বার্তা সংস্থাটি প্রশ্ন করলে উত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়েছেন শুনে আমি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। আমি প্রার্থনা করি তিনি যেন সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন।’

২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের শাসনামলে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে কারাদণ্ড দিয়েছিলেন আদালত। দুই বছর পর করোনাভাইরাস মহামারী শুরু হওয়ার পর শর্তসাপেক্ষে সাজা স্থগিত করে তাকে সাময়িক মুক্তি দেয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার।

এরপর খালেদা জিয়া বেশ কয়েকবার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। খালেদা জিয়ার পরিবার ও তার দল বিএনপি ওই সময় দফায় দফায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার জন্য আবেদন করেছে। তবে সরকারের তরফ থেকে সে আবেদনে সাড়া মেলেনি। ফলে খালেদা জিয়াও দেশের বাইরে চিকিৎসা নিতে যেতে পারেননি।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। শেখ হাসিনা পালিয়ে আশ্রয় নেন ভারতে। এরপর দায়িত্ব নেওয়া অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করে। আদালতও দুর্নীতির দুই মামলা থেকে খালাস দেন।

এদিকে জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এ ছাড়া প্লট দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের দায়ের করা আরও তিন মামলায় তাকে সাত বছর করে ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

দীর্ঘদিন ধরে হৃদযন্ত্রের জটিলতা, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনির সমস্যাসহ নানা দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভুগছেন খালেদা জিয়া। গত ২৩ নভেম্বর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে তার ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ে। তখন থেকেই তিনি হাসপাতালে সিসিইউতে ভর্তি।

এভারকেয়ারে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছে খালেদা জিয়ার। এরই মধ্যে যুক্তরাজ্য ও চীন থেকেও কয়েকজন চিকিৎসক বাংলাদেশে এসেছেন তাকে চিকিৎসা দিতে।

উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। তবে চিকিৎসায় খালেদা জিয়া সাড়া দেওয়ায় এখনই তাকে দেশের বাইরে নেওয়ার পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, মেডিকেল বোর্ড এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

‘বিএনপি জুলাই সনদের দাবি অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশের স্বার্থ ও জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পথ চলব। দেশের স্বার্থের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।’

২ দিন আগে

ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করব— রয়টার্সকে শেখ হাসিনা

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ফেরার পর আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি মেরেও ফেলতে পারে। তারপরও আমাকে ফিরতে হবে। আমার দলের নেতাকর্মীরা ভয়াবহ দমন-পীড়নের শিকার। মৃত্যু যদি আসেই, তবে আমি চাই সেটা আমার নিজের মাটিতে আসুক— যেখানে আমার বাবা-মা শায়িত আছেন, যেখানে তাদের রক্ত ঝরেছে।’

৩ দিন আগে

কোনোভাবেই আমি প্রধানমন্ত্রীর বন্ধু না: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

শাহে আলম আরও বলেন, ‘শ্রদ্ধেয় তারেক রহমান বড় হয়েছেন পড়াশোনা করেছে ঢাকা শহরে। আমার জন্ম, বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা বগুড়া এবং শিবগঞ্জে। উনার সঙ্গে আমার রাজনৈতিকভাবে সাক্ষাতই হয়েছে ৯৩-৯৪ সালে, আমি ছাত্রদলের সেক্রেটারি হওয়ার পরে... যখন উনি বগুড়া যাওয়া আসা শুরু করেন।’

৪ দিন আগে

প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চলছে: রাশেদ

রাশেদ খানের ভাষ্য, মীর শাহে আলমকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে তুলে ধরে তার সমালোচনার আড়ালে মূলত প্রধানমন্ত্রীকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

৪ দিন আগে