‘আবু সাঈদ আত্মত্যাগ না করলে আমার মতো ফাঁসির আসামি মুক্তি পেত কিনা…’

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, সদ্য কারামুক্ত মজলুম জননেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে দেশের সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা, শিশু, যুবক ও বৃদ্ধরা তৎকালীন স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল। যার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে ৫ আগস্ট। আবু সাঈদ যদি আত্মত্যাগ না করতেন, তাহলে হয়তো আমার মতো একজন ফাঁসির আসামি মুক্তি পেত কিনা, তা একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিনই জানেন। শুধু আমি নই, বিনা অপরাধে কারাবরণকারী হাজার হাজার রাজবন্দিও মুক্তি পেয়েছেন। সর্বোপরি, বাংলাদেশ ও তার ১৮ কোটি মানুষ মুক্তি পেয়েছে।

শুক্রবার সকালে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’-এর অগ্রসেনানী ও পথপ্রদর্শক শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারতকালে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি শহীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের খোঁজখবর নেন এবং শহীদ আবু সাঈদের শাহাদাত কবুল করা ও তার পরিবার-পরিজনকে ধৈর্য ধারণের তাওফিক দানের জন্য মহান রবের দরবারে কায়মনোবাক্যে দোয়া করেন।

এ সময় তার সফরসঙ্গী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিম, রংপুর জেলা আমীর অধ্যাপক গোলাম রব্বানীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। কবর জিয়ারতের পর তিনি শহীদ আবু সাঈদের পিতা ও তার দুই ভাইকে বুকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন।

তিনি আরো বলেন, শত শত ইসলামী ব্যক্তিত্ব, আলেম-ওলামা, যারা মানুষকে দ্বীনের শিক্ষা দেন, ইসলাম প্রচার করেন, তাদের কী অপরাধ ছিল! তাদের গ্রেপ্তার করে শত শত মামলা দিয়ে দিনের পর দিন নির্যাতন করা হয়েছে, অথচ তাদের কোনো দোষ ছিল না।

তিনি বলেন, পতিত ফ্যাসিবাদী সরকার শুধু জনগণ, দেশ বা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধেই ছিল না, তারা ইসলামের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছিল। বহু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তারা ধ্বংস করেছে। এই অরাজক পরিস্থিতি থেকে শহীদ আবু সাঈদ জীবন দিয়ে দেশকে মুক্ত করার চেষ্টা করেছেন। তিনি শুধু বীরই নন, আমরা মনে করি তিনি একজন সত্যিকারের শহীদ। আল্লাহ যেন তাকে শহীদ হিসেবে কবুল করেন।

তিনি আরও বলেন, আবু সাঈদ কেন জীবন দিলেন, আমাদের তা গভীরভাবে অনুধাবন করতে হবে। তার কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা আকাঙ্ক্ষা ছিল না। দেশের মানুষের ভোটাধিকার ছিল না, কথা বলার অধিকার ছিল না, জনগণ ছিল নির্যাতনের শিকার। এই প্রচণ্ড ক্ষোভ থেকেই সে জীবন দিয়েছে। তার ঈমান কত দৃঢ়-মজবুত ছিল এবং তিনি কত সাহসী বীর ছিলেন যে, তিনি পুলিশের সামনে বুক পেতে দিয়েছিলেন! এমন সাহস অনেকেই দেখাতে পারেনি।

তিনি বলেন, আমরা বিগত সাড়ে ১৫ বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি; কিন্তু আবু সাঈদের মতো সাহসিকতা দেখাতে পারিনি। আবু সাঈদ যেন একটি স্ফুলিঙ্গ, যিনি বাংলাদেশের মানুষকে শিক্ষা দিয়ে গেছেন যে, ভীতু ও কাপুরুষ হয়ে বাঁচা যাবে না। স্বৈরাচার যতই শক্তিশালী হোক না কেন, যদি জীবন বাজি রেখে তার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো যায়, তাহলে কোনো স্বৈরাচারই টিকে থাকতে পারে না। আগামীতে যদি কেউ স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী কার্যকলাপ চালাতে চায়, তবে আবু সাঈদের রক্তের ধারাবাহিকতায় দেশের মানুষ আবারও ফুঁসে উঠবে।

শেষে তিনি বলেন, আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে আমি দেশবাসীকে জানাতে চাই, আমরা যেন তার রক্তের সঙ্গে বেইমানি না করি। যে উদ্দেশ্যে সে জীবন দিয়েছে, তার বিরুদ্ধে যেন আমরা না যাই। দলীয় সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত হয়ে আবু সাঈদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

পরিশেষে, তিনি শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকার ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। বলেন, শুধু ফটোসেশনের মাধ্যমে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া চলবে না।

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

বিভিন্ন গোষ্ঠী ‘মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে’, প্রতিহতের আহ্বান মির্জা ফখরুলের

বিভিন্ন গোষ্ঠী ‘আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে’ উল্লেখ করে তাদের প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়ছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশে আমরা সবসময় সবকিছু সোজা পথে পাই না। আজকে আবার বিভিন্নভাবে বিভিন্ন গোষ্ঠী মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। তারা বিভিন্নভাবে সমস্যা তৈরি করছেন, আইনশৃঙ্খলা পর

৪ দিন আগে

বিশ্বকাপে কোন দলকে সমর্থন— জবাবে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

সাংবাদিকদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভায় দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তবে অনুষ্ঠান শেষে বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত মন্তব্য সাংবাদিকদের মধ্যে বেশ আগ্রহ ও হাস্যরসের জন্ম দেয়।

৪ দিন আগে

‘জিয়াউর রহমান আর ১০ বছর বাঁচলে বাংলাদেশ অনন্য দেশ হতো’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, দুর্ভিক্ষপীড়িত একটি রাষ্ট্রকে টেনে তুলেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দেশে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্রকে নিজস্ব প্রক্রিয়ায় চলতে দেওয়ার লক্ষ্য ছিল তার। তিনি আরও ১০ বছর বেঁচে থাকলে আজকে বাংলাদেশ একটি অনন্য দেশ হিসেবে গড়ে উঠতো এবং সমাজে এতো নেতিবাচকতা তৈরি হতো না

৬ দিন আগে

সরকার স্বস্তি দিতে চায়, বিরোধীদল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বাজেটের মাধ্যমে জনগণকে স্বস্তি দিতে চাইলেও বিরোধীদল তা মানছে না; তবে ভোটের কালি শুকানোর আগেই সরকার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

৭ দিন আগে