বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থা ফারাক্কা বাঁধের চেয়েও বড় মরণফাঁদ: নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৬, ১৪: ২৯
নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী। ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থাকে ফারাক্কা বাঁধের চেয়েও বড় ‘মরণফাঁদ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এসসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী।

আজ বুধবার (১৫ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের রাজপথের আন্দোলন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, বর্তমান শিক্ষাকাঠামো দক্ষ জনশক্তি গড়ার পরিবর্তে কেবল একটি বৃহৎ শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠী তৈরি করছে, যা পুরো প্রজন্মকে গভীর অনিশ্চয়তা ও প্রতারণার ফাঁদে ফেলে দিয়েছে।

নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী তার পোস্টে বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় শিক্ষাব্যবস্থা এখনও কোনো সুস্পষ্ট জাতীয় সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেনি এবং বর্তমান বিজ্ঞান, কলা ও ব্যবসায় শিক্ষার কাঠামো দক্ষ জনশক্তি গড়ার পরিবর্তে একটি বৃহৎ শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠী তৈরি করছে।

তিনি আরও বলেন, ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের আদর্শিক চর্চা যতটা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক ভিত্তি নির্মাণে ততটা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। যার ফলে দেশের শিক্ষিত তরুণরা আজ চরম কর্মসংস্থানহীনতায় ভুগছে।

দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভিত্তি এখনও মূলত তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস) শিল্প এবং অদক্ষ বিদেশগামী শ্রমশক্তির ওপর নির্ভরশীল, সেখানে নতুন শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করা হয়নি। কর্মসংস্থান না বাড়িয়ে একের পর এক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়াকেই যেন শিক্ষা সংস্কার হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। অথচ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বৃদ্ধি নয়; বরং রাষ্ট্রের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ, উদ্ভাবনী ও কর্মসংস্থানমুখী মানবসম্পদ তৈরি করা।’

রাষ্ট্র পরিচালনায় দূরদর্শিতার অভাব এবং দলীয় সংকীর্ণ রাজনৈতিক মানসিকতাকে এই ব্যর্থতার জন্য দায়ী করে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী আরও লেখেন, ‘মুখে কোটি মানুষের কর্মসংস্থান ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে বাঙালি জনগোষ্ঠীকে এক গভীর অনিশ্চয়তা ও প্রতারণার ফাঁদে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। একে ফারাক্কা বাঁধের চেয়েও বড় ‘মরণফাঁদ’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, “যখন একটি রাষ্ট্রের নেতৃত্ব শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও প্রকৃত সংস্কারের গুরুত্ব অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়, তখন একটি পুরো প্রজন্ম প্রতিশ্রুতির মোড়কে প্রতারণার শিকার হয়।’

পরীক্ষার্থীদের রাজপথের আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সংহতি ও সমর্থন জানিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ফেসবুকে লেখেন, ‘আজ এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনও সেই বৃহত্তর বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি। অল্প বয়সেই তারা বুঝে গেছে, অন্যায্য সিদ্ধান্ত ও অমানবিক চাপের কাছে নতিস্বীকার করলে তাদের ভবিষ্যৎ আরও অন্ধকার হবে। তাই তারা পরীক্ষার হল ছেড়ে রাজপথে নেমেছে। তাদের এই সিদ্ধান্ত নিশ্চয়ই সহজ ছিল না। হয়তো সামনে আরও নির্যাতন আসবে, অনেকের পড়াশোনা ব্যাহত হবে, কেউ আইনি হয়রানির শিকার হবে, কেউ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হবে। তবুও তারা মাথা নত করেনি।

নিজেদের ভবিষ্যৎ রক্ষার এই সংগ্রাম শুধু একটি পরীক্ষাকে ঘিরে নয়; এটি মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা, ন্যায়সঙ্গত রাষ্ট্র এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই। আমি এই লড়াইয়ের পাশে আছি।’

তরুণ প্রজন্মের এই সাহস, আত্মত্যাগ ও প্রতিবাদকে সম্মান জানিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক, দক্ষতা-নির্ভর ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে নিজের ফেসবুক পোস্টটি শেষ করেন নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী।

Ad
Ad
ad
ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

বিএনপি সরকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর জনগণের অধিকার হরণ করছে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। অতীতে যারা গণতন্ত্র ধ্বংসের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের স্থান ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে হয়েছে।

১ দিন আগে

৮ দফা প্রয়োজনে এক দফায় পরিণত হবে: জামায়াত আমির

শফিকুর রহমান বলেন, ১১ দলীয় লংমার্চ দেখে অনেকের মাথা গরম হয়ে গেছে, জাতির প্রয়োজনে ৮ দফা এক দফায় পরিণত হতে পারে। তিনি আরও বলেন, এক দফা আসলে পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ হবে।

১ দিন আগে

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রয়েছে চীনের

নতুন করে আলোচনা শুরুর ফলে রোহিঙ্গা সংকটকে শুধু একটি মানবিক বোঝা হিসেবে না দেখে আঞ্চলিক সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই সংকটে চীনের কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থও ক্রমেই এক জায়গায় এসে মিলছে। আরও স্থিতিশীল রাখাইন রাজ্য চীনের জন্য বিভিন্ন দিক থেকে লাভজনক হতে পারে।

২ দিন আগে

কোরআনের আলোকে সংবিধান রচনা হতে পারে, কোরআনকে সংবিধান মানা উচিত হবে না: আইনমন্ত্রী

বর্তমান জাতীয় সংসদে সংশোধিত জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) আইন পাসের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আইনে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, যারা ১৯৭১ সালের পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, তৎকালীন আল বদর, তৎকালীন রাজাকার, তৎকালীন মুসলিম লীগ, তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী— এই তৎকালীন শব্দটা আগে

২ দিন আগে
Advertisement