বিএনপির ৩১ দফার অধিকাংশ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়েছে: রুহুল কবির রিজভী

বাসস
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিএনপি সরকারের ছয়মাস পূর্তিতে নির্বাচনী ইশতেহার এবং ৩১ দফায় দেওয়া অঙ্গীকারের অধিকাংশ কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয়েছে।

তিনি বলেন, ছয় মাসের লক্ষ্য অনুযায়ী কোথাও ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ, আবার কোথাও ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত একটি বর্ণনা বা বুকলেট আগামীকাল বা পরশুর মধ্যে দেওয়া হবে।

আজ (শুক্রবার) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি সরকারের ছয় মাসের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারকে প্রথমে প্রস্তুতি নিতে হয়, প্রশাসনকে গুছিয়ে নিতে হয় এবং কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ‘ইমপ্লিমেন্টিং ইন্সট্রুমেন্ট’ প্রস্তুত করতে হয়। এই প্রস্তুতি পর্বে সময় লাগে। পরবর্তী ছয় মাসে কর্মসূচিগুলো আরও জোরালোভাবে এগিয়ে যাবে এবং সফলভাবে বাস্তবায়ন হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড প্রদানসহ মোট কত কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে-সেসবের পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যানও প্রতিবেদনে থাকবে।

দলের মহাসচিবের পদত্যাগ নিয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, তার বক্তব্যের সঙ্গে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর বক্তব্যের কোনো বিরোধ নেই। তিনি দলের নির্দেশক্রমেই বিষয়টি জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, আইনগতভাবে শপথ নেওয়ার আগে দলীয় পদ বা সরকারি পদ, যেমন মন্ত্রী বা এমপি থেকে পদত্যাগ করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে দলের মহাসচিব হিসেবে যেহেতু তিনি দলের মনোনীত রাষ্ট্রপতি হয়েছেন, সে কারণে নৈতিক অবস্থান থেকে তিনি দল থেকে পদত্যাগ করেছেন।

পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, দল যেভাবে সিদ্ধান্ত নেবে, সেভাবেই তা জানানো হবে। দলের প্রতিটি পদক্ষেপ সম্পর্কে যথাসময়ে গণমাধ্যমকে অবহিত করা হবে।

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া স্ট্যাটাস এবং সংগঠনটির নতুন কমিটি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা আসেনি। এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়ে থাকলে তা দলের হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হবে। আর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে প্রেস রিলিজের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে অবহিত করা হবে।

এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে আগামীকাল দেশব্যাপী দোয়া অনুষ্ঠানের কর্মসূচি ঘোষণা করেন রিজভী।

তিনি বলেন, ঢাকাসহ সারাদেশে দলীয় কার্যালয়গুলোতে দোয়া অনুষ্ঠান হবে। রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বেলা ১১টায় দোয়ার আয়োজন করা হবে। গুলশান কার্যালয়েও দোয়া মাহফিল হবে। একইভাবে দেশের সব দলীয় কার্যালয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।

রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মূর্ত প্রতীক ও মূল প্রেরণা ছিলেন। তার ওপর বারবার আক্রমণ হয়েছে, গোটা দেশ, জাতি ও গণতন্ত্র আক্রান্ত হয়েছে; দেশের বহু পথ ও মতের রাজনীতি আক্রান্ত হয়েছে। এরপরও তাকে তার কর্তব্য ও কর্ম থেকে বিচ্যুত করা যায়নি। হিমালয় পর্বতের মতো মাথা উঁচু করে তিনি দৃঢ় পায়ে এগিয়ে গেছেন এবং তার অঙ্গীকারে অটল থেকেছেন।

আগামীকালের দোয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের আহ্বান জানান রুহুল কবির রিজভী।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-দপ্তর সম্পাদক মো. মুনির হোসেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য (দপ্তরের দায়িত্বে) ও প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য (দপ্তরের দায়িত্বে) তারিকুল আলম তেনজিং, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইয়াসিন আলী এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদ আউয়াল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Ad
Ad
ad
ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

বিএনপি সরকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর জনগণের অধিকার হরণ করছে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। অতীতে যারা গণতন্ত্র ধ্বংসের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের স্থান ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে হয়েছে।

১ দিন আগে

৮ দফা প্রয়োজনে এক দফায় পরিণত হবে: জামায়াত আমির

শফিকুর রহমান বলেন, ১১ দলীয় লংমার্চ দেখে অনেকের মাথা গরম হয়ে গেছে, জাতির প্রয়োজনে ৮ দফা এক দফায় পরিণত হতে পারে। তিনি আরও বলেন, এক দফা আসলে পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ হবে।

১ দিন আগে

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রয়েছে চীনের

নতুন করে আলোচনা শুরুর ফলে রোহিঙ্গা সংকটকে শুধু একটি মানবিক বোঝা হিসেবে না দেখে আঞ্চলিক সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই সংকটে চীনের কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থও ক্রমেই এক জায়গায় এসে মিলছে। আরও স্থিতিশীল রাখাইন রাজ্য চীনের জন্য বিভিন্ন দিক থেকে লাভজনক হতে পারে।

১ দিন আগে

কোরআনের আলোকে সংবিধান রচনা হতে পারে, কোরআনকে সংবিধান মানা উচিত হবে না: আইনমন্ত্রী

বর্তমান জাতীয় সংসদে সংশোধিত জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) আইন পাসের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আইনে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, যারা ১৯৭১ সালের পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, তৎকালীন আল বদর, তৎকালীন রাজাকার, তৎকালীন মুসলিম লীগ, তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী— এই তৎকালীন শব্দটা আগে

২ দিন আগে
Advertisement