নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারের এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা না হলে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিক বা হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া হবে। মা ও শিশুর নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতেই সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ১০৬ শিশু। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৯২৫ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৭৮ শিশু, আর চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছে ৯০৪ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৩৯ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১২ হাজার ৪২৫ জন।
এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ২৭২ শিশু মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৮৮, সিলেটে ৮২, চট্টগ্রামে ৫১, বরিশালে ৪০, ময়মনসিংহে ৬২, খুলনায় ২৮ এবং রংপুরে ৮ শিশু মারা গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে সমুদ্র বন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে দুজন চট্টগ্রাম বিভাগের বাসিন্দা। এছাড়া একজন করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা রয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯৩ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে ৬১৯ জন।
শনিবার (২৭ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ছয় শিশুর মধ্যে চারজন ময়মনসিংহের। এ ছাড়া ঢাকা ও খুলনায় একজন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হামে মৃতের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০২ জনে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে মারা গেছে ৬০৯ শিশু, নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৯৩ শিশুর।
চিকিৎসা শিক্ষার আধুনিকায়ন, অগ্রগামী হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা এবং স্বাস্থ্যখাতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মর্যাদাপূর্ণ ‘গ্লোবাল হেলথ অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ পেয়েছেন রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী।
দেশের হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৩ জুন) সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময় কারও শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়নি।
এ দিন ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৩৫ লাখের বেশি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। তবে ১২টি জেলার ৫৮টি উপজেলার ২৯০টি ইউনিয়নের ৭১৪টি ওয়ার্ডে দুর্গম অঞ্চলে রাউন্ড বা ক্যাম্পেইন পরবর্তী চারদিন চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং কার্যক্রম চালানো হবে।
আন্তর্জাতিক চক্ষুরোগসেবা প্রদানকারী সংস্থা অরবিস ইন্টারন্যাশনাল এবং অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক ‘সোস্যাল হেল্প এন্ডেভার ফর বাংলাদেশ (সেবা)’-এর সহযোগী সংগঠন ‘অল্টারনেটিভ অ্যাপ্রোচ’-এর ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত সেবা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
হামের বিস্তার প্রসঙ্গে ড. জিয়াউদ্দিন বলেন, চলতি বছরের প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত শিশুদের বড় অংশই সেই সময়ে জন্ম নেওয়া, যখন নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি ছিল। তবে মার্চে মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর দ্রুত জরুরি টিকাদান কার্যক্রম চালু করা হয় এবং এক মাসের মধ্যে প্রায় শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ৮৮৭ জন। এর মধ্যে ৮০ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। বাকি ৮০৭ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা এক হাজার ৭৮ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯০ হাজার ৯৮২ জন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন পাঁচ মৃত্যুর মধ্যে সিলেট বিভাগে দুই শিশু এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে একজন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।