ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টারের প্রধান আলি আবদুল্লাহি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের অবরোধ অব্যাহত রাখে এবং ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাংকারের জন্য নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে, তবে তা হবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের মতোই।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে ইরান। আর এসব হামলা চালানোর আগে চীনা স্যাটেলাইট থেকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করেছে দেশটি।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে (বৃহস্পতিবার) আবারও পাকিস্তানের ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনায় বসতে পারে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) গত আলোচনার সঙ্গে জড়িত পাঁচটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
তবে ট্রাম্প যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন তারা মেনে চলা উচিত কি না— তা নিয়ে বিভক্তি দেখা দিয়েছে ইসরায়েলিদের মধ্যে। তাছাড়া ইরান যুদ্ধ শুরুর পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর পক্ষে সমর্থনের হার কমে এসেছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় তেহরানের পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত রাখা নিয়ে দুই দেশ নিজেদের প্রস্তাব আদান-প্রদান করেছে। তবে সমঝোতায় পৌঁছাতে এখনো তাদের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়ে গেছে।
চলমান যুদ্ধের মধ্যেই ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনা বসতে যাচ্ছে লেবানন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর উপস্থিতিতে ওয়াশিংটনে দুই দেশের রাষ্ট্রদূতরা এ বৈঠকে অংশ নেবেন। তবে হিজবুল্লাহ নেতা নাঈম কাশেম ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা প্রত্যাখ্যান করে এ বৈঠক বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছেন।
টাইমস অব ইসরায়েলের খবরে বলা হয়েছে, এরপর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এর মধ্যেই আইডিএফ প্রধান এয়াল জামির সেনাবাহিনীকে ‘উচ্চ সতর্ক অবস্থায়’ যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ইরানের সঙ্গে সংঘাত পুনরায় শুরুর প্রস্তুতিও নিতে বলেছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল সম্ভাব্য ইরানি আকস্মিক হামলার আশঙ্কা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি এখন এমন একপর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সামান্য ভুল পদক্ষেপও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাম্পের অবরোধ ও ইরানের পালটা বাড়তি নজরদারির ঘোষণা স্পষ্টতই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছ
ট্রাম্প পোস্টে লিখেছেন, ‘তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ বা বের হতে চাওয়া সব জাহাজ অবরোধের প্রক্রিয়া শুরু করবে।’ একই সঙ্গে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দেন— ইরান যদি মার্কিন বাহিনী বা বেসামরিক জাহাজে হামলা চালায়, তাহলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার কূটনৈতিক আলোচনায় ইরানের প্রতিনিধি দল দেশের জনগণের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে অনড় অবস্থান নেয়। স্পিকার বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা রাজনৈতিক ও সামরিক বিভিন্ন ক্ষেত্র এবং শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির বিষয়
গত নভেম্বরের নির্বাচনের পর প্রায় ১৫০ দিন সরকারবিহীন থাকা ইরাকে এই নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের পথ সুগম হলো। এমন এক সময়ে তিনি দায়িত্ব নিলেন যখন ইরাক মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার অস্থিরতার প্রভাব কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।
প্রথম দিনে ইসলামাবাদে দুপক্ষের মধ্যে আলোচনা চলাকালে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্টে বলেন, ইরানের প্রতিনিধি দল জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ‘সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’ থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তারা ‘সাহসিকতার সঙ্গে’ আলোচনা করবে এবং ফল যাই হোক, সরকার জনগণের পাশে থাকবে
ইতিহাসের পাঠ বলছে, ১৯৭৯ সাল বছরটিই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার শত্রুমিত্র সম্পর্কে একরকম কাঁটাতারের বেড়া হয়ে রয়েছে। ওই বছর ইরানে যে ইসলামি বিপ্লব ঘটে, তাতে পতন ঘটে রাজতন্ত্রের ধারক রেজা শাহ পাহলভির, যিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ। মূলত তার ক্ষমতার আরোহণও হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের হাত ধরেই।
শনিবার (১১ এপ্রিল) ভোরে মধ্য ও দক্ষিণ গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৭ ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পল অ্যাডামস বলছেন, গত এক বছরে আলোচনার চালাকালে দুবার হামলার শিকার হওয়ার কারণে ইরান এখন নিশ্চয়তা চায়, যেন ভবিষ্যতে আবার এমন হামলা না হয়। তবে বাস্তবতা হলো— কেউই খুব একটা বিশ্বাস করে না যে এসব বড় বড় সমস্যার সমাধান ইসলামাবাদে বসে হয়ে যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ‘পূর্ণ অবিশ্বাস’ নিয়ে ইরান আলোচনায় বসছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়েডফুলের সঙ্গে আলাপকালে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ও উত্তেজনা স্থায়ীভাবে অবসানে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে নির্ধারিত সংলাপে সদিচ্ছা নিয়েই যোগ দিতে ইসলামাবাদে পৌঁছেছে ইরানি প্রতিনিধি দল। তবে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থার সংকটেও ভুগছেন এ দলের সদস্যরা।