সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের ৪ ওয়্যারহাউজ সিলগালা

অভিযান চালিয়ে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুর ইসলামের চারটি গুদাম (ওয়্যারহাউজ) সিলগালা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর মধ্যে দুটি গুদাম বৈধ হলেও বাকি দুটির কোনো অনুমোদন নেই। এগুলোতে শুল্কমুক্ত মদ রাখার অভিযোগ ছিল। এ ছাড়া বিদেশি কূটনীতিকদের শুল্কমুক্ত অ্যালকোহল সরবরাহ করার কথা থাকলেও ‘টস বন্ড’ ওয়্যারহাউজের বিরুদ্ধে তা খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগ ছিল।
এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শুরু করে শুক্রবার (২ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত অভিযান চালানো হয় নুর ইসলামের টস বন্ড ওয়্যারহাউজে। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) এ অভিযান পরিচালনা করে।
এনবিআর বলছে, অভিযানে রাজধানীর দক্ষিণ গুলশানের ‘টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেডে’ ‘গুরুতর অসঙ্গতি’ পাওয়ায় ‘অধিকতর যাচাইয়ের জন্য’ ওয়্যারহাউজগুলো সিলগালা করা হয়েছে।
শেখ নুর ইসলামের ওয়্যারহাউজ নিয়ে কয়েক মাস ধরেই নানা অভিযোগ উঠলেও সবশেষ তিনি আলোচনায় এসেছেন জামাতা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায়। গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার দক্ষিণ মানিকদীতে নিউ গিনি আবাসন প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুর চালালে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সালমানের স্টুডিও ‘ব্রাউনফিশ’।
এ ঘটনার জন্য বিএনপির ‘চাঁদাবাজি’কে দায়ী করেন সালমান। ফেসবুক লাইভ করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে নিয়ে নানা মন্তব্য করেন। তবে এ ঘটনায় নিউ গিনি প্রোপার্টিজের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়ার করা মামলায় জমি দখল ও পূর্বশত্রুতার জেরে হামলার অভিযোগ করা হয়েছে।
এ অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এরই মধ্যে গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও কুষ্টিয়া-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরের জামাতা মিজানুর রহমানসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে বুধবার সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব করে বিএফআইইউ।
এ ঘটনার সঙ্গে নুর ইসলামের ওয়্যারহাউজে অভিযানের কোনো সম্পর্ক নেই বলেই জানিয়েছেন এনবিআর ও আয়কর গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, টস বন্ডের অনুমোদিত গুদাম বা ওয়্যারহাউজের সংখ্যা দুটি। কিন্তু অভিযানে দেখা গেছে, সেখানে মোট চারটি ওয়্যারহাউজে পণ্য মজুত করা হয়েছে। বন্ড সুবিধায় আমদানি করা শুল্কমুক্ত পণ্য অননুমোদিত গুদামে স্থানান্তর বা অপসারণ রোধ এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে প্রতিষ্ঠানটির চারটি গুদামই সিলগালা করা হয়েছে।
আগে থেকেই মদ ও বারের ব্যবসায় নানা অনিয়মের অভিযোগ ছিল নুর ইসলামের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে নুর ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের কানাডার নাগরিকত্ব থাকার তথ্য মিলেছিল। কানাডায় তাদের সম্পদের খোঁজ পেয়ে তদন্তও করছিল গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
তদন্তের এর অংশ হিসেবে সিআইসি ও আয়কর গোয়েন্দা ইউনিট কানাডা থেকে যে গোয়েন্দা প্রতিবেদন সংগ্রহ করেছে তাতে নুর ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের কানাডায় অন্ত চারটি কোম্পানির মালিকানার অস্তিত্ব পেয়েছে। তাদের ‘সন্দেহজনক’ লেনদেনের তথ্যও পাওয়া গেছে।


-2b65ab.jpg)













-6731a8-256x144.webp)

