নদী বাঁচাতে খুঁটিবিহীন সেতু চান পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘আবর্জনামুক্ত বাংলাদেশ: আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। ছবি: রাজনীতি ডটকম
বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘আবর্জনামুক্ত বাংলাদেশ: আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। ছবি: রাজনীতি ডটকম

নদী বাঁচাতে এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে হলে প্রচলিত খুঁটিযুক্ত সেতুর বদলে খুঁটিবিহীন বা ঝুলন্ত সেতু তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, পিলারভিত্তিক ব্রিজের ঐতিহ্য থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।

বুধবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত ‘আবর্জনামুক্ত বাংলাদেশ: আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরাম (এফইজেবি) এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

সভায় নদী রক্ষা ও ঝুলন্ত সেতু প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদী একটি জীবন্ত সত্তা। কিন্তু আমাদের দেশে যেভাবে পিলার বা খুঁটি দিয়ে সেতু ও কালভার্ট তৈরি করা হয়, তাতে নদীগুলোর তলদেশে পলি জমে তা দ্রুত ভরাট হয়ে যায়। হংকং, যুক্তরাজ্য বা তুরস্কের মতো দেশগুলোতে নদী বাঁচাতে ঝুলন্ত সেতু (সাসপেনশন ব্রিজ) নির্মাণ করা হয়। নদীকে বাঁচাতে হলে আমাদেরও সেই বাস্তবতা মেনে কাজ করতে হবে।

বর্জ্য ও প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে ‘ফোর-আর’ নীতির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, পলিথিন ও একক ব্যবহারযোগ্য (সিঙ্গেল ইউজ) প্লাস্টিক বর্জ্য কমাতে জনগণকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। বাজারে কেনাকাটার সময় নিজেদের চটের বা কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। চলতি আগস্ট মাসের মধ্যে বাজারগুলোতে ক্ষতিকর পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে মনিটরিং ও আইনি অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। পরিবেশ রক্ষায় সবাই দায়িত্বশীল হলে পলিথিনের ব্যবহার কমানো সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী তার মন্ত্রণালয়ের বেশ কিছু অর্জন ও পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, গত ৬ মাসে ২ হাজার একর দখলকৃত বনভূমি উদ্ধারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে গত ৩০ জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ৮০৭ একর জমি উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, কঠোর নজরদারির কারণে এ বছর সুন্দরবনে কোনো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় কক্সবাজারে প্রায় ৪০ লাখের বেশি গাছ লাগানো হয়েছে।

এ ছাড়া কার্বন ট্রেডিং নিশ্চিত করতে উপকূলীয় অঞ্চলে ২ কোটি কেওড়া গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ইটভাটায় কাঠ পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় কাঠ পোড়ানো ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বিভাগীয় কমিশনার ও মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে শুধু পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ নয়, বরং স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিরূপণ করাও অত্যন্ত জরুরি। কারণ, পরিবেশ দূষণের ফলে জনস্বাস্থ্যের যে ক্ষতি হচ্ছে, তা সার্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এফইজেবির সভাপতি মোস্তফা কামাল মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভুঁইয়া, সাংবাদিক নেতা এলাহী নেওয়াজ খান সাজু, সাংবাদিক নূরুল হুদা চৌধুরী, শাহ আবদুল হালিম, মোতালেব মাসরেকি, বুলবুল আহমেদ, দেলোয়ারা ইয়াসমিন ও তারিক হাসান প্রমুখ।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement