রাজবাড়ীতে পিটিয়ে হত্যার নেপথ্যে চাঁদাবাজি-সন্ত্রাস: সরকার

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১: ১৩
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সরকারি লোগো
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সরকারি লোগো

রাজবাড়ীর পাংশা থানায় গণপিটুনিতে একজনের মৃত্যুর ঘটনায় কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক সংশ্লিষ্টতা ছিল না বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এক বিবৃতিতে সরকার জানিয়েছে, এ ঘটনার নেপথ্যে ছিল চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস।

গত বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাতে রাজবাড়ী পাংশায় সম্রাট বাহিনীর প্রধান সন্ত্রাসী অমৃত মন্ডল ওর‌ফে সম্রাট নিহত হ‌ন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিবৃতি দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিবৃতিতে সরকার ঘটনাটিকে ‘দুঃখজনক হত্যাকাণ্ড’ উল্লেখ করে এ ঘটনা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সংবাদমাধ্যমে ‘বিভ্রান্তিকর’ তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে বলে উল্লেখ করেছে।

সরকার বলেছে, পুলিশের তথ্য ও প্রাথমিক তদন্ত থেকে প্রতীয়মান হচ্ছে, ঘটনাটি মোটেই সাম্প্রদায়িক হামলা নয়। এটি চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে উদ্ভূত সহিংস পরিস্থিতির থেকে সৃষ্ট ঘটনা। নিহত ব্যক্তি শীর্ষ সন্ত্রাসী অমৃত মন্ডল ওরফে সম্রাট চাঁদা দাবির উদ্দেশ্যে এলাকায় উপস্থিত হন এবং বিক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতার সঙ্গে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে প্রাণ হারান।

সম্রাট এর আগে ২০২৩ সালে দায়ের করা হত্যা ও চাঁদাবাজির মামলাসহ একাধিক গুরুতর মামলার আসামি। পুলিশ জানিয়েছে, এসব মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সম্রাটের সহযোগী সেলিমকে একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি পাইপগানসহ আটক করেছিল। এ ঘটনায় এরই মধ্যে তিনটি মামলাও দায়ের হয়েছে।

এ হত্যাকাণ্ডে কঠোর নিন্দা জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সরকার সুস্পষ্টভাবে জানাতে চায়— যেকোনো ধরনের আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড, গণপিটুনি বা সহিংসতা সরকার কোনোভাবেই সমর্থন করে না। এ ঘটনায় যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

সরকার আরও বলছে, একই সঙ্গে সরকার গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, একটি মহল নিহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক হামলা হিসেবে উপস্থাপনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসৎ-উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ ধরনের অপপ্রচার সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।

সরকার সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি বিভ্রান্তিকর, উসকানিমূলক ও সাম্প্রদায়িক বক্তব্য প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।

আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ উল্লেখ করে বিবৃতিতে সরকার বলছে, বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার যেকোনো অপচেষ্টা সরকার কঠোর হাতে দমন করবে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement