
এম গোলাম মোস্তফা ভুইয়া

দেশে বর্তমানে যে জ্বালানি সংকট চলছে, তার মূল কারণ হচ্ছে গ্যাস সরবরাহের স্বল্পতা। এ ঘাটতি হঠাৎই তৈরি হয়নি। বিগত পতিত আওয়ামী লীগ সরকার নিজস্ব উৎস থেকে গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনের বিষয়ে খুব বেশি গুরুত্ব না দিয়ে দেশকে ক্রমেই আমদানিনির্ভর করে তুলেছিল। তাদের পরিকল্পনার অন্যতম অংশ ছিল ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) ও ল্যান্ড-বেজড রিগ্যাসিফিকেশন প্ল্যান্ট স্থাপন।
এখন প্রতীয়মান হচ্ছে, এর কোনোটিই প্রত্যাশামাফিক কার্যকর হয়নি। ২০১১-১২ সাল থেকেই পেট্রোবাংলা গ্যাস আমদানিনির্ভর পরিকল্পনা গ্রহণ করে আসছে। ২০১৬-১৭ সালে নিজস্ব উৎস (পেট্রোবাংলা ও আইওসি মিলিয়ে) থেকে গ্যাসের উৎপাদন যেখানে ২৭০ কোটি ঘনফুটে পৌঁছেছিল, সেটা এখন কমে প্রায় ১৫০ কোটি ঘনফুটে এসে ঠেকেছে। এটা পেট্রোবাংলার অনেক বড় একটি ব্যর্থতা। এর ফলেই এ সংকট আজ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটে দেশের অর্থনীতিতে যখন বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবনে ভোগান্তি যখন চরমে পৌঁছেছে, তখন সরকারও জনগণের সামনে কোনো সঠিক ও গ্রহণযোগ্য জ্বালানি পরিকল্পনা হাজির করতে পারছে না। বরং সরকারের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী বলছেন, ‘গ্রামে কোনো লোডশেডিং নেই। কারেন্টের খাম্বাগুলো লম্বা হওয়ার কারণে কারেন্ট আসতে দেরি হয়।’
মন্ত্রীদের এমন কথা বলা কি আদৌ সাজে? এতে করে কি প্রমাণিত হচ্ছে না যে তারা জনগণের এই সমস্যাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না? আর এসবের সম্মিলিত রূপ হিসেবেই জনমনে একধরনের ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে।
গত দুই সপ্তাহে রাজধানীর বাইরে কয়েকটি মফস্বল শহরে যাওয়ার সুযোগ আমার হয়েছে। সেখানকার অভিজ্ঞতা খুব বেশি সুখকর নয়। প্রায় জায়গায় সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে বলাবলি করছে, ‘ভাই, কারেন্ট কখন যায় বলার দরকার নাই, এখন বলবেন কারেন্ট কখন কখন আসে!’
জ্বালানির অভাবে আমাদের অনেক গ্যাস প্ল্যান্ট বন্ধ আছে, তেল প্ল্যান্টগুলো চলছে না। কেন এই পরিস্থিতি তৈরি হলো? সরকারের জ্বালানি পরিকল্পনার ত্রুটিগুলো কোথায়? বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায়ই বা কী? এসব বিষয়ে কথা না বলে মন্ত্রীদের অসংলগ্ন কথা সমস্যাকে গুরুত্বহীনভাবে উপস্থাপন করছে।
বাংলাদেশের পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, দেশে প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা স্বাভাবিক সময়ে সাড়ে ১১ হাজার থেকে ১২ হাজার মেগাওয়াট। তবে চলতি বছরের তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে সেই চাহিদা ১৬ থেকে সাড়ে ১৬ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। এর বিপরীতে প্রতিদিন বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। অর্থাৎ প্রায় আড়াই হাজার মেগাওয়াটের বেশি ঘাটতি থাকছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশকে মূলত প্রাকৃতিক গ্যাস, জ্বালানি তেল, কয়লা ও সৌরশক্তির ওপর নির্ভর করতে হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে মোট বিদ্যুতের ৫১ শতাংশ উৎপাদন হয় প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে, ২৬ শতাংশ উৎপাদন হয় ফার্নেস অয়েল থেকে এবং বাকি অংশ উৎপাদন হয় অন্যান্য উৎস থেকে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য জ্বালানি হলো প্রাকৃতিক গ্যাস। একসময় বাংলাদেশের বিদ্যুতের ৮০ শতাংশ উৎপাদন হতো প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে, বর্তমানে তা কমে ৫১ শতাংশে নেমেছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ পেট্রোবাংলা নতুন কোনো গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করতে না পারা এবং নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে পর্যাপ্ত উদ্যোগ গ্রহণ না করা।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (লিকুইফায়েড ন্যাচারাল গ্যাস-এলএনজি) বাংলাদেশে ব্যবহার হয়। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্য দুই থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে সংকট তৈরি হয়েছে। তাছাড়া জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে, কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদন সে তুলনায় বাড়েনি।
দেশে বিদ্যুতের লোডশেডিং সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে। প্রচণ্ড খরতাপের মধ্যে বিদ্যুতের অভাবে দেশ জুড়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শহরে কিছুটা কম হলেও গ্রামের পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। কিছু এলাকায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। কোথাও টানা ১০ ঘণ্টার বেশি লোডশেডিংয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ পরিস্থিতিতে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। ক্ষুব্ধ মানুষ বহু স্থানে বিদ্যুতের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন।
বিদ্যুতের সংকটে সারা দেশেই কল-কারখানায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমেছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকরা গল্প-গুজব করে অলস সময় পার করছেন। শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ায় মন দিতে পারছে না। রোগী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা গরমে হাঁসফাঁস করছেন। তাদের প্রাণ ওষ্ঠাগত। এ পরিস্থিতি রীতিমতো উদ্বেগজনক।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি খুব দ্রুত উন্নয়নের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সম্প্রতি রাজধানীতে জ্বালানি-সম্পর্কিত এক সেমিনারে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী সরকারের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী মানুষের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেন। তিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানির চাহিদা ও সরবরাহে বড় ঘাটতির দায় স্বীকারও করেন।
প্রতিমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ ইতিবাচক হলেও তার বক্তব্যে সমাধানের সূত্র নেই। বিদ্যুৎমন্ত্রী বা অন্য কারও কাছ থেকেও আশাবাদী হওয়ার মতো কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। আগামী সাড়ে চার বছরে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে প্রায় ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতির কথা বলেছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী। ভোগান্তির শিকার মানুষ কিন্তু প্রস্তুতির কথা নয়, চলমান সংকট কাটাতে সরকার কী করছে— সেটা জানতে চায়।
দেশে রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, কে মন্ত্রী হচ্ছেন— এসব রাজনৈতিক আলোচনা থাকলেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট। কারণ জ্বালানি সমস্যায় রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশেই জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে বাসাবাড়িতে দীর্ঘ সময় গ্যাস না থাকায় রান্নাবান্না ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় তীব্র গরমের মধ্যে মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে গ্যাস সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হলেও সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশ এখনো এর সুফল পাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে বলে জানানো হলেও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় সংকটের তেমন পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না।
সরকার অবশ্য গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানোর কথা জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীও বিভিন্ন সভা-সমাবেশে সংকট সমাধানে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরছেন। সাধারণ মানুষও সরকারের আশ্বাসের ওপর আস্থা রাখতে চায়। তাদের প্রত্যাশা, সরকারের নেওয়া উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়িত হবে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
তবে সেই প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত, কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ নেওয়া এখন জরুরি। কারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও পারিবারিক ব্যবস্থাপনা— সবকিছুই নির্ভর করছে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহের ওপর। মনে রাখতে হবে, শুধু একটি পদক্ষেপের মাধ্যমে জ্বালানি সংকটের সমাধান করা সম্ভব নয়। এসব উদ্যোগকে একটি সমন্বিত ও সম্মিলিত কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে একসঙ্গে বাস্তবায়ন করতে হবে। তা না হলে দৃশ্যমান স্বস্তি বা ‘ভিজিবল রিলিফ’ পাওয়া সম্ভব হবে না।
এ পরিস্থিতিতে সরকারের প্রথম কাজ হওয়া উচিত সংকটের প্রকৃত কারণ জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা। কোন বিদ্যুৎকেন্দ্র জ্বালানির অভাবে বন্ধ, কোনটি অর্থের অভাবে উৎপাদন কমাচ্ছে, কোথায় গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি এবং কোন কেন্দ্র চালাতে কত ব্যয় হচ্ছে— এসব তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা দরকার।
জরুরি ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো, জ্বালানি আমদানির অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং অপেক্ষাকৃত কম ব্যয়ের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সর্বোচ্চ সক্ষমতায় চালানোর উদ্যোগ নিতে হবে। আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার ঝুঁকি কমিয়ে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জ্বালানি দক্ষতার ওপর গুরুত্ব বৃদ্ধি করতে হবে।
বিদ্যুৎ খাতকে শুধু নতুন কেন্দ্র নির্মাণের দৃষ্টিতে দেখলে চলবে না। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা কত, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রয়োজনের সময়ে কতটা বিদ্যুৎ নির্ভরযোগ্যভাবে ও সাশ্রয়ী মূল্যে সরবরাহ করা যাচ্ছে। বর্তমান সংকট সেই মৌলিক শিক্ষা আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে— অতিরিক্ত সক্ষমতা গর্ব নয়, বাস্তব উৎপাদন ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত বিদ্যুৎ নীতির প্রধান লক্ষ্য।
আজকের লোডশেডিং তাই সাময়িক সংকট হিসেবে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই, এটি বিদ্যুৎ খাতের নীতি ও ব্যবস্থাপনা নতুন করে পর্যালোচনার একটি জরুরি সংকেত। সরকারের কাছে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার অনুরোধ জানাই। লোডশেডিং সমস্যার সমাধান জরুরি হয়ে পড়েছে।
মনে রাখতে হবে, সরকার যতই পরিকল্পনা গ্রহণ করুক না কেন, সেসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে সময় লাগবে। আর ততদিনে চলমান সংকট আরও গভীর ক্ষতি করে ফেলতে পারে। তাৎক্ষণিক সমাধানের কোনো জাদুকাঠি সরকারের হাতে নেই বলেই বিভিন্ন সূত্র থেকে আঁচ করা যাচ্ছে। তাই এ মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হলো— একটিমাত্র উৎস বা একটিমাত্র টার্মিনালের ওপর নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে বহুমুখী উৎসের সুযোগ ও সম্ভাবনা হাতে রাখা।
জ্বালানি নিরাপত্তা মানেই কেবল পর্যাপ্ত সরবরাহ নয়, বরং সেই সরবরাহের উৎস কতটা বৈচিত্র্যময় ও স্থিতিস্থাপক, তার ওপরও নির্ভর করে। একটি টার্মিনালে ত্রুটি দেখা দিলে যেন গোটা জাতীয় গ্রিড অচল হয়ে না পড়ে, সে ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা এখনই গড়ে তোলা প্রয়োজন।
জ্বালানি খাতের এই ভঙ্গুরতা কাটিয়ে উঠতে না পারলে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা কেবল থমকেই যাবে না, বরং তা পিছিয়েও যেতে পারে বহু বছর। সময় এসেছে এই সংকটকে জাতীয় অগ্রাধিকারের তালিকায় সবার ওপরে রেখে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার।
লেখক: কলামিস্ট, রাজনৈতিক কর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

দেশে বর্তমানে যে জ্বালানি সংকট চলছে, তার মূল কারণ হচ্ছে গ্যাস সরবরাহের স্বল্পতা। এ ঘাটতি হঠাৎই তৈরি হয়নি। বিগত পতিত আওয়ামী লীগ সরকার নিজস্ব উৎস থেকে গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনের বিষয়ে খুব বেশি গুরুত্ব না দিয়ে দেশকে ক্রমেই আমদানিনির্ভর করে তুলেছিল। তাদের পরিকল্পনার অন্যতম অংশ ছিল ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) ও ল্যান্ড-বেজড রিগ্যাসিফিকেশন প্ল্যান্ট স্থাপন।
এখন প্রতীয়মান হচ্ছে, এর কোনোটিই প্রত্যাশামাফিক কার্যকর হয়নি। ২০১১-১২ সাল থেকেই পেট্রোবাংলা গ্যাস আমদানিনির্ভর পরিকল্পনা গ্রহণ করে আসছে। ২০১৬-১৭ সালে নিজস্ব উৎস (পেট্রোবাংলা ও আইওসি মিলিয়ে) থেকে গ্যাসের উৎপাদন যেখানে ২৭০ কোটি ঘনফুটে পৌঁছেছিল, সেটা এখন কমে প্রায় ১৫০ কোটি ঘনফুটে এসে ঠেকেছে। এটা পেট্রোবাংলার অনেক বড় একটি ব্যর্থতা। এর ফলেই এ সংকট আজ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটে দেশের অর্থনীতিতে যখন বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবনে ভোগান্তি যখন চরমে পৌঁছেছে, তখন সরকারও জনগণের সামনে কোনো সঠিক ও গ্রহণযোগ্য জ্বালানি পরিকল্পনা হাজির করতে পারছে না। বরং সরকারের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী বলছেন, ‘গ্রামে কোনো লোডশেডিং নেই। কারেন্টের খাম্বাগুলো লম্বা হওয়ার কারণে কারেন্ট আসতে দেরি হয়।’
মন্ত্রীদের এমন কথা বলা কি আদৌ সাজে? এতে করে কি প্রমাণিত হচ্ছে না যে তারা জনগণের এই সমস্যাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না? আর এসবের সম্মিলিত রূপ হিসেবেই জনমনে একধরনের ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে।
গত দুই সপ্তাহে রাজধানীর বাইরে কয়েকটি মফস্বল শহরে যাওয়ার সুযোগ আমার হয়েছে। সেখানকার অভিজ্ঞতা খুব বেশি সুখকর নয়। প্রায় জায়গায় সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে বলাবলি করছে, ‘ভাই, কারেন্ট কখন যায় বলার দরকার নাই, এখন বলবেন কারেন্ট কখন কখন আসে!’
জ্বালানির অভাবে আমাদের অনেক গ্যাস প্ল্যান্ট বন্ধ আছে, তেল প্ল্যান্টগুলো চলছে না। কেন এই পরিস্থিতি তৈরি হলো? সরকারের জ্বালানি পরিকল্পনার ত্রুটিগুলো কোথায়? বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায়ই বা কী? এসব বিষয়ে কথা না বলে মন্ত্রীদের অসংলগ্ন কথা সমস্যাকে গুরুত্বহীনভাবে উপস্থাপন করছে।
বাংলাদেশের পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, দেশে প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা স্বাভাবিক সময়ে সাড়ে ১১ হাজার থেকে ১২ হাজার মেগাওয়াট। তবে চলতি বছরের তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে সেই চাহিদা ১৬ থেকে সাড়ে ১৬ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। এর বিপরীতে প্রতিদিন বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। অর্থাৎ প্রায় আড়াই হাজার মেগাওয়াটের বেশি ঘাটতি থাকছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশকে মূলত প্রাকৃতিক গ্যাস, জ্বালানি তেল, কয়লা ও সৌরশক্তির ওপর নির্ভর করতে হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে মোট বিদ্যুতের ৫১ শতাংশ উৎপাদন হয় প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে, ২৬ শতাংশ উৎপাদন হয় ফার্নেস অয়েল থেকে এবং বাকি অংশ উৎপাদন হয় অন্যান্য উৎস থেকে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য জ্বালানি হলো প্রাকৃতিক গ্যাস। একসময় বাংলাদেশের বিদ্যুতের ৮০ শতাংশ উৎপাদন হতো প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে, বর্তমানে তা কমে ৫১ শতাংশে নেমেছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ পেট্রোবাংলা নতুন কোনো গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করতে না পারা এবং নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে পর্যাপ্ত উদ্যোগ গ্রহণ না করা।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (লিকুইফায়েড ন্যাচারাল গ্যাস-এলএনজি) বাংলাদেশে ব্যবহার হয়। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্য দুই থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে সংকট তৈরি হয়েছে। তাছাড়া জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে, কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদন সে তুলনায় বাড়েনি।
দেশে বিদ্যুতের লোডশেডিং সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে। প্রচণ্ড খরতাপের মধ্যে বিদ্যুতের অভাবে দেশ জুড়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শহরে কিছুটা কম হলেও গ্রামের পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। কিছু এলাকায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। কোথাও টানা ১০ ঘণ্টার বেশি লোডশেডিংয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ পরিস্থিতিতে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। ক্ষুব্ধ মানুষ বহু স্থানে বিদ্যুতের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন।
বিদ্যুতের সংকটে সারা দেশেই কল-কারখানায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমেছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকরা গল্প-গুজব করে অলস সময় পার করছেন। শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ায় মন দিতে পারছে না। রোগী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা গরমে হাঁসফাঁস করছেন। তাদের প্রাণ ওষ্ঠাগত। এ পরিস্থিতি রীতিমতো উদ্বেগজনক।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি খুব দ্রুত উন্নয়নের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সম্প্রতি রাজধানীতে জ্বালানি-সম্পর্কিত এক সেমিনারে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী সরকারের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী মানুষের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেন। তিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানির চাহিদা ও সরবরাহে বড় ঘাটতির দায় স্বীকারও করেন।
প্রতিমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ ইতিবাচক হলেও তার বক্তব্যে সমাধানের সূত্র নেই। বিদ্যুৎমন্ত্রী বা অন্য কারও কাছ থেকেও আশাবাদী হওয়ার মতো কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। আগামী সাড়ে চার বছরে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে প্রায় ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতির কথা বলেছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী। ভোগান্তির শিকার মানুষ কিন্তু প্রস্তুতির কথা নয়, চলমান সংকট কাটাতে সরকার কী করছে— সেটা জানতে চায়।
দেশে রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, কে মন্ত্রী হচ্ছেন— এসব রাজনৈতিক আলোচনা থাকলেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট। কারণ জ্বালানি সমস্যায় রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশেই জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে বাসাবাড়িতে দীর্ঘ সময় গ্যাস না থাকায় রান্নাবান্না ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় তীব্র গরমের মধ্যে মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে গ্যাস সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হলেও সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশ এখনো এর সুফল পাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে বলে জানানো হলেও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় সংকটের তেমন পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না।
সরকার অবশ্য গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানোর কথা জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীও বিভিন্ন সভা-সমাবেশে সংকট সমাধানে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরছেন। সাধারণ মানুষও সরকারের আশ্বাসের ওপর আস্থা রাখতে চায়। তাদের প্রত্যাশা, সরকারের নেওয়া উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়িত হবে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
তবে সেই প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত, কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ নেওয়া এখন জরুরি। কারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও পারিবারিক ব্যবস্থাপনা— সবকিছুই নির্ভর করছে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহের ওপর। মনে রাখতে হবে, শুধু একটি পদক্ষেপের মাধ্যমে জ্বালানি সংকটের সমাধান করা সম্ভব নয়। এসব উদ্যোগকে একটি সমন্বিত ও সম্মিলিত কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে একসঙ্গে বাস্তবায়ন করতে হবে। তা না হলে দৃশ্যমান স্বস্তি বা ‘ভিজিবল রিলিফ’ পাওয়া সম্ভব হবে না।
এ পরিস্থিতিতে সরকারের প্রথম কাজ হওয়া উচিত সংকটের প্রকৃত কারণ জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা। কোন বিদ্যুৎকেন্দ্র জ্বালানির অভাবে বন্ধ, কোনটি অর্থের অভাবে উৎপাদন কমাচ্ছে, কোথায় গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি এবং কোন কেন্দ্র চালাতে কত ব্যয় হচ্ছে— এসব তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা দরকার।
জরুরি ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো, জ্বালানি আমদানির অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং অপেক্ষাকৃত কম ব্যয়ের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সর্বোচ্চ সক্ষমতায় চালানোর উদ্যোগ নিতে হবে। আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার ঝুঁকি কমিয়ে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জ্বালানি দক্ষতার ওপর গুরুত্ব বৃদ্ধি করতে হবে।
বিদ্যুৎ খাতকে শুধু নতুন কেন্দ্র নির্মাণের দৃষ্টিতে দেখলে চলবে না। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা কত, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রয়োজনের সময়ে কতটা বিদ্যুৎ নির্ভরযোগ্যভাবে ও সাশ্রয়ী মূল্যে সরবরাহ করা যাচ্ছে। বর্তমান সংকট সেই মৌলিক শিক্ষা আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে— অতিরিক্ত সক্ষমতা গর্ব নয়, বাস্তব উৎপাদন ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত বিদ্যুৎ নীতির প্রধান লক্ষ্য।
আজকের লোডশেডিং তাই সাময়িক সংকট হিসেবে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই, এটি বিদ্যুৎ খাতের নীতি ও ব্যবস্থাপনা নতুন করে পর্যালোচনার একটি জরুরি সংকেত। সরকারের কাছে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার অনুরোধ জানাই। লোডশেডিং সমস্যার সমাধান জরুরি হয়ে পড়েছে।
মনে রাখতে হবে, সরকার যতই পরিকল্পনা গ্রহণ করুক না কেন, সেসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে সময় লাগবে। আর ততদিনে চলমান সংকট আরও গভীর ক্ষতি করে ফেলতে পারে। তাৎক্ষণিক সমাধানের কোনো জাদুকাঠি সরকারের হাতে নেই বলেই বিভিন্ন সূত্র থেকে আঁচ করা যাচ্ছে। তাই এ মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হলো— একটিমাত্র উৎস বা একটিমাত্র টার্মিনালের ওপর নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে বহুমুখী উৎসের সুযোগ ও সম্ভাবনা হাতে রাখা।
জ্বালানি নিরাপত্তা মানেই কেবল পর্যাপ্ত সরবরাহ নয়, বরং সেই সরবরাহের উৎস কতটা বৈচিত্র্যময় ও স্থিতিস্থাপক, তার ওপরও নির্ভর করে। একটি টার্মিনালে ত্রুটি দেখা দিলে যেন গোটা জাতীয় গ্রিড অচল হয়ে না পড়ে, সে ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা এখনই গড়ে তোলা প্রয়োজন।
জ্বালানি খাতের এই ভঙ্গুরতা কাটিয়ে উঠতে না পারলে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা কেবল থমকেই যাবে না, বরং তা পিছিয়েও যেতে পারে বহু বছর। সময় এসেছে এই সংকটকে জাতীয় অগ্রাধিকারের তালিকায় সবার ওপরে রেখে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার।
লেখক: কলামিস্ট, রাজনৈতিক কর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বাইরের কোনো শক্তি নয়, নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিভাজন। সুন্নি-শিয়া বিভাজন, আরব-অনারব বৈরিতা, রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা সম্মিলিত শক্তিকে দুর্বল করেছে। তাই কোনো অভিন্ন অর্থনৈতিক উদ্যোগের আগে প্রয়োজন আস্থা, সহযোগিতা ও অভিন্ন উন্নয়ন-দর্শন গড়ে তোলা।
৮ দিন আগে
কেন আজ শিক্ষক এত অসহায়? কারণ রাষ্ট্রের আইনেই তাদের সুরক্ষার জন্য আলাদা ও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই। বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ কিংবা শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নীতিমালায় শিক্ষকদের কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান নেই।
৮ দিন আগে
বহু শতাব্দীর পুরুষতান্ত্রিক সামাজিক কাঠামো নারীর সাফল্যকে প্রায়ই সন্দেহের চোখে দেখেছে। একজন পুরুষের পদোন্নতি ‘যোগ্যতার স্বীকৃতি’, আর একজন নারীর পদোন্নতি ‘বিশেষ সুবিধা’— এই ধারণা শুধু বৈষম্যমূলক নয়, এটি তথ্যবিবর্জিতও। কারণ কোনো প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বা পদোন্নতির সমালোচনা করতে হলে তথ্য, নীতি ও যোগ্যতার
৮ দিন আগে
দুর্ভাগ্যজনকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, কাজী জেসিনের যোগ্যতা নিয়ে যুক্তি উপস্থাপনের পরিবর্তে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে— তিনি কার সঙ্গে ‘ঘুমিয়েছেন’, কাকে ‘খুশি করেছেন’ বা কীভাবে এই পদ পেয়েছেন। এসব মন্তব্য কোনোভাবেই রাজনৈতিক সমালোচনা নয়, এগুলো নারীবিদ্বেষের প্রকাশ।
৯ দিন আগে