পাকিস্তানের জাতীয় ভূকম্পন কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪৪ মিনিটে রাজধানীসহ পেশওয়ার, সোয়াত, চিত্রাল ও মালাকান্দসহ অন্তত ডজনখানেক শহরে তীব্র কম্পন অনুভূত হয়। গভীর উৎপত্তিস্থল হওয়ায় ভূমিকম্পটি বিস্তৃত এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা আইআরআইবির বরাত দিয়ে আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে তেহরানে পৌঁছে পাকিস্তানের প্রতিনিধি দল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পুনরায় কূটনৈতিক আলোচনা শুরুর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এ সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার কূটনৈতিক আলোচনায় ইরানের প্রতিনিধি দল দেশের জনগণের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে অনড় অবস্থান নেয়। স্পিকার বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা রাজনৈতিক ও সামরিক বিভিন্ন ক্ষেত্র এবং শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির বিষয়
প্রথম দিনে ইসলামাবাদে দুপক্ষের মধ্যে আলোচনা চলাকালে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্টে বলেন, ইরানের প্রতিনিধি দল জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ‘সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’ থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তারা ‘সাহসিকতার সঙ্গে’ আলোচনা করবে এবং ফল যাই হোক, সরকার জনগণের পাশে থাকবে
পল অ্যাডামস বলছেন, গত এক বছরে আলোচনার চালাকালে দুবার হামলার শিকার হওয়ার কারণে ইরান এখন নিশ্চয়তা চায়, যেন ভবিষ্যতে আবার এমন হামলা না হয়। তবে বাস্তবতা হলো— কেউই খুব একটা বিশ্বাস করে না যে এসব বড় বড় সমস্যার সমাধান ইসলামাবাদে বসে হয়ে যাবে।
মার্কিন প্রতিনিধিদলের হয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মূল বৈঠকে বসার আগে জে ডি ভ্যান্স পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় অংশ নিলেন। বৈঠকে ভ্যান্সের সঙ্গে আরও ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।
বৈঠকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও উপস্থিত ছিলেন। তবে বৈঠকের বিস্তারিত সম্পর্কে এখনো কিছু জানানো হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত এ আলোচনা নিয়ে আগের দিনেও অনিশ্চয়তা কাটেনি। তবে দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, দুপক্ষের সঙ্গেই তার কথা হয়েছে। এ আলোচনাকে তিনি ‘বাঁচা-মরার লড়াই’ বলে অভিহিত করেছেন, যেখান থেকে সর্বোচ্চ ইতিবাচক ফল আনতে আশাবাদী পা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের ঠিক ছয় সপ্তাহ পর এই আলোচনা হতে যাচ্ছে। এ আলোচনা থেকে সারা বিশ্বের মানুষের প্রত্যাশা— দুই সপ্তাহের জন্য যে যুদ্ধবিরতিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে, সেটি যুদ্ধে বন্ধের স্থায়ী রূপ পাবে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলবে তেলবাহী জাহাজ; ছয় সপ্তাহ ধরে বৈশ্বিক যে জ্বালানি সংকট
শুক্রবার দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকবি মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, আগামী ৩০ দিনের জন্য ইসলামাবাদের সব গণপরিবহনের ভাড়া ফ্রি থাকবে। যা কাল শনিবার থেকে কার্যকর হবে। এজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৩৫০ মিলিয়ন রুপি ব্যয় বহন করবে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নির্দেশনায় এ সিদ্ধান্ত
পাঁচ দফা প্রস্তাবের প্রথমেই বলা হয়েছে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির কথা। চীন ও পাকিস্তান উভয়ই অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার ও সংঘাত বিস্তারের সম্ভাবনা রোধের আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি মানবিক সহায়তা প্রতিটি যুদ্ধ-প্রভাবিত এলাকায় পৌঁছানো নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
আলি খামেনির মৃত্যু ঘিরে বিভিন্ন দেশের দেওয়া বিবৃতি থেকে এটি স্পষ্ট, মার্কিন বলয়ের দেশগুলো এ হত্যাকাণ্ডকে খুব অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছে না। অন্যদিকে সরাসরি মার্কিন বলয়ে না থাকা দেশগুলোই কেবল এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
ইরানের পর সংযুক্ত আরব আমিরাতও পাক-আফগান সংঘাতে মধ্যস্ততা করার আগ্রহের কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রকারান্তরে সমর্থন জানিয়েছে পাকিস্তানকে। চলমান পরিস্থিতিতে আলোচনায় বসার আগ্রহের কথা জানিয়েছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার।
রাতে কয়েক দফা হামলা চালানোর পর থেমেছে পাকিস্তান। আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ কয়েকটি শহরে তাদের আক্রমণ বন্ধ হয়েছে। হামলার শিকার শহরগুলোর বাসিন্দারা বলছেন, পরিস্থিতি আপাতত শান্ত হয়েছে। তবে সবাই সতর্ক রয়েছেন।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে ‘ভালো প্রতিবেশী’র মতো সম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি। পাশাপাশি সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য মিটিয়ে ফেলার আহ্বানও জানিয়েছেন। বলেছেন, এ কাজে যেকোনো সহায়তা লাগলে ইরান করতে প্রস্তুত।
জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক এক বিবৃতিতে বলেন, সাম্প্রতিক সহিংসতা বৃদ্ধিতে গুতেরেস উদ্বিগ্ন। তিনি দুই দেশের প্রতিই আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাধকতা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুসরণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।