মিরপুরে স্নায়ুক্ষয়ী লড়াই, কনোলির ব্যাটে হোয়াইটওয়াশ এড়াল অস্ট্রেলিয়া

ক্রীড়া প্রতিবেদক
মিরপুরে তৃতীয় ওয়ানডেতে অজি ব্যাটার কুপার কনোলি (বাঁয়ে) ও টাইগার পেসার শরিফুল ইসলামের (ডানে) লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় হয়েছে কনোলির। ছবি: সংগৃহীত

বোলিংয়ের মতো ব্যাটিংয়েও সিরিজে প্রথমবারের মতো ভালো সূচনা পেয়েছে। পরে বাংলাদেশের বোলাররা বারবার ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও একপাশে ঠাঁই অটল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন অজি ওপেনার কুপার কনোলি। শেষ পর্যন্ত জয় থেকে ৪ রান দূরে থেকে আউট হলেও তার প্রায় দেড় শ ছোঁয়া রানের ইনিংসের ওপর ভর করেই তৃতীয় ওয়ানডে জিতে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়াকে বাগে পেয়ে সিরিজ জিতলেও হোয়াইটওয়াশ করা হলো না টাইগারদের।

রোববার (১৪ জুন) মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ব্যাট করে বাংলাদেশ ৫ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ২৭৪ রান। সিরিজে প্রথমবার দুই দলের মধ্যে টানটান প্রতিদ্বন্দ্বিতার দেখা মেলে। পর্যন্ত ৩ বল হাতে রেখে অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ জিতে নিয়েছে ১ উইকেটে। শেষ ম্যাচ হারলেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের ব্যাটিং ইনিংসের হাইলাইটস ছিল তিনটি অর্ধশতক। তাওহীদ হৃদয় ৮৮ বলে সংগ্রহ করেছিলেন ৮৩ রান। ৭৮ বলে ৫৮ রান করেন লিটন দাস। শেষের দিকে নেমে ৫১ বলে ৫৬ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন মোসাদ্দেক। এ ছাড়া ২৪ রান করেন নাজমুল হোসেন শান্ত, তানজিদ তামিম ১৯ রান করেন ২০ বল খেলে।

অস্ট্রেলিয়ার ৪০ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন সিরিজে প্রথমবার সুযোগ পাওয়া শরিফুল ইসলাম। ১২ বলে ২১ রান করা অজি ক্যাপ্টেন জশ ইংলিসকে স্কয়ার লেগে মোসাদ্দেকের ক্যাচে পরিণত করেন তিনি। ঠিক একবল পরেই ওয়ানডাউনে নামা ম্যাট রেনশকে বোল্ড করে দেন। একটু অফের দিকে এগিয়ে ফ্লিক করতে চেয়েছিলেন রেনশ। শরিফুলের মিডল-লেগে পিচ করা বলটি গিয়ে আঘাত হানে রেনশর লেগ স্টাম্পে।

চারে নামা অ্যালেক্স ক্যারিও থিতু হতে পারেননি উইকেটে। দ্বাদশ ওভারে তাসকিন বল নিয়ে ফিরলে প্রথম বলটিই চালিয়ে খেলতে গিয়েছিলেন ক্যারি। শর্ট কাভারে দাঁড়ানো সৌম্য সরকার উড়ন্ত অবস্থায় এক হাতে দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে ফেরান তাকে। দলের রান তখন ছিল ৭০।

চতুর্থ উইকেটে মারনাস লাবুশেনকে নিয়ে বড় জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন কুপার কনোলি। দুজনে ৭৭ বলে ৬৪ রানের জুটি গড়েন। ২৪তম ওভারে বোলিংয়ে ফিরে আবার আঘাত হানেন শরিফুল। শরিফুলের ফোর্থ স্টাম্প লাইনের বলটি লাবুশেন খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন উইকেটের পেছনে। ক্র্যাম্পের কারণে ফিল্ডিং করতে নামতে না পারা লিটনের বদলি নুরুল হাসান সোহান ডান দিকে ঝাঁপিয়ে অসাধারণ দক্ষতায় তালুবন্দি করলে লাবুশেনকে ফিরতে হয় ড্রেসিং রুমে।

ক্যামেরন গ্রিন নেমেও বড় গড়েন কনোলির সঙ্গে। তাদের ৭১ বলে ৬৮ রানের জুটি অস্ট্রেলিয়াকে অনেকটা এগিয়ে দেয়। ৩৬তম ওভারে শেখ মেহেদি দারুণ এক কট অ্যান্ড বোল্ডে ফেরান গ্রিনকে। তবে স্বস্তি মেলেনি টাইগারদের। অলিভার পিকও কনোলিকে দারুণ সঙ্গ দেন। মাত্র ৫৭ বলে ৬৪ রানের জুটি গড়েন তারা।

কনোলি-পিক এই জুটি ব্যাট করার সময় মনে হচ্ছিল অস্ট্রেলিয়া সহজেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যাবে। এর মধ্যে ৪৫তম ওভারের শেষ তিন বলে কনোলি তাসকিনকে টানা তিন ছক্কা হাঁকালে জয় চলে আসে অজিদের নাগালের মধ্যে। ৪৫তম ওভার শেষে সমীকরণ ছিল— জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ৩০ বলে ৯ রান, হাতে কখনো ৫ উইকেট।

ঠিক এমন অবস্থান থেকেও ম্যাচ শেষ ওভার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়ার কৃতিত্ব সেই শরিফুলেরই। ৪৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলে পিককে কাভার অঞ্চলে বদলি ফিল্ডার রিশাদ হাসানের ক্যাচ বানিয়ে ড্রেসিং রুমে ফেরান তিনি। পরের বলেই জেভিয়ের বার্টলেটকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়ে ম্যাচে ৫ উইকেট পূরণ করেন।

এ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৪ বলে ৮ রান, হাতে ৩ উইকেট। পরের ওভারে মুস্তাফিজুর রহমান বোলিংয়ে আসেন। ওই ওভারের চতুর্থ বলে বেন ডোয়ার্শিস ফিরতি ক্যাচ দিয়েছিলেন, কঠিন সে সুযোগ ফিজ তালুবন্দি করতে পারেননি। ওভারে ৩ রান দিলে শেষ ৩ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন পড়ে মাত্র ৫ রান।

৪৮তম ওভারে আবার শরিফুলের ম্যাজিক। ওভারের তৃতীয় বলে ডোয়ার্শিসকে পয়েন্টে শেখ মেহেদি হাসানের হাতে ক্যাচে পরিণত করেন তিনি। অষ্টম উইকেটের পতন হয় অস্ট্রেলিয়ার। ম্যাচে ষষ্ঠ উইকেট তুলে নেন শরিফুল। ঠিক এক বল পরেই অ্যাডাম জাম্পা ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন স্লিপে। তানজিদ তামিম সেটি হাতে রাখতে পারেননি। সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট হয় বাংলাদেশের।

৪৯তম ওভারে আবার ফেরেন মুস্তাফিজ। ১২ বলে ৫ রানের সমীকরণে বল শুরু করেন তিনি। স্ট্রাইকে ছিলেন ১৪৯ রান করা কনোলি। প্রথম বলটি ওয়াইড হয়। পরের দুটি বলে ডট আদায় করে নেন ফিজ। তৃতীয় বলটি করেন তার মোক্ষম অস্ত্র স্লোয়ার কাটার। ১১১.৩ কিলোমিটার গতির বলটি অফ স্টাম্পের বেশ খানিকটা বাইরে ছিল। কনোলি কাভারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারতে চেয়েছিলেন। বলটি ব্যাটের নিচের কানায় লেগে আঘাত করে স্টাম্পে। ১৩৪ বলে ১৪৯ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে বিদায় নেন অজি ওপেনার।

কনোলিকে ফিরিয়ে বুনো উল্লাসে মেতে ওঠে বাংলাদেশ দল। জয়ের সুযোগ তখন যে বাংলাদেশের জন্যও উজ্জ্বল। অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ৪ রান, বাংলাদেশের আর মাত্র ১ উইকেট। ওভারের পরের তিনটি বলও মুস্তাফিজ দারুণ করেছিলেন, একটি বল কোনোমতে ব্যাটের স্পর্শ বাঁচিয়ে উইকেটকিপারের হাতে জমা হয়। শেষ বলে আসে ১ রান।

শেষ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন পড়ে ৩ রান। শরিফুলের ১০ ওভারের কোটা শেষ হয়ে যাওয়ায় বোলিংয়ে আনতে হয় তাসকিনকে। প্রথম কাভারে ঠেলে দিয়েই ১ রান নেন রাইলি মেরেডিথ। দ্বিতীয় বলে জাম্পা কোনো রান নিতে পারেননি। ওয়াইডিশ ফুলার লেন্থের তৃতীয় বলটি দুর্দান্ত টাইমিংয়ে কাভার অঞ্চল দিয়ে ঠেলে দেন জাম্পা। সব ফিল্ডার ইনার সার্কেলে থাকায় বলটি ধীরে ধীরে স্পর্শ করেন সীমানা। স্বস্তির এক জয় পায় অস্ট্রেলিয়া। খুব কাছে গিয়েও অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয় বাংলাদেশ।

১০ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে ৬ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখলেন শরিফুল। এটিই তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার। বাকি তিনটি উইকেট ভাগাভাগি করে নিয়েছেন তাসকিন, ফিজ আর শেখ মেহেদি।

১৪৯ রানের আক্রমণাত্মক ও ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলে কনোলিই হয়েছেন ম্যাচসেরা। সিরিজ জুড়ে ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই অবদান রেখে সিরিজসেরা হয়েছেন চার বছর পর দলে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেন।

ad
ad

খেলা থেকে আরও পড়ুন

বিশ্বকাপ অভিষেকেই জোড়া গোল হালান্ডের, ইরাককে উড়িয়ে নরওয়ের দাপুটে জয়

দীর্ঘ অপেক্ষার পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরেই দারুণ সূচনা করেছে নরওয়ে। আর সেই প্রত্যাবর্তনের নায়ক কে হবেন, তা যেন আগে থেকেই লেখা ছিল। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই জোড়া গোল করেছেন ম্যানচেস্টার সিটির তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। তার দুর্দান্ত নৈপুণ্যে ইরাককে ৪-১ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু

৭ ঘণ্টা আগে

এমবাপ্পের জোড়া গোলে সেনেগালকে হারিয়ে ফ্রান্সের দারুণ শুরু

এই জয়কে আরও স্মরণীয় করে তুলেছেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। জোড়া গোল করে তিনি একদিকে যেমন ফ্রান্সের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন, তেমনি বিশ্বকাপেও উঠে এসেছেন সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় তৃতীয় স্থানে।

৭ ঘণ্টা আগে

মেসির হ্যাটট্রিকে বিশ্বকাপে উড়ন্ত সূচনা আর্জেন্টিনার

শুরুটা শঙ্কায়। শেষটা স্বস্তিতে। মাঝের সময়টা আর্জেন্টিনা পার করেছে লিওনেল মেসিতে ভর করে। একাধিক রেকর্ড গড়েছেন। পেয়েছেন নিজের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক। সেইসঙ্গে ১৬ গোল করে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিকও এখন তিনি।

৮ ঘণ্টা আগে

রেকর্ড ভাঙেন না, রেকর্ডের নতুন সংজ্ঞাও লিখে চলেন মেসি!

এক ম্যাচেই যেন সময়কে আবারও হারিয়ে দিলেন মেসি। এর বাইরেও আরও এক অনন্য রেকর্ড গড়েছেন তিনি জাতীয় দলের হয়ে। ২০ বছর আগে ঠিক ১৬ জুন সার্বিয়ার বিরুদ্ধে গোল করে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সবচেয়ে কম বয়সে বিশ্বকাপে গোলস্কোরার হয়েছিলেন তিনি। আলজেরিয়ার এ ম্যাচে গোল করে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করার রেকর্ডও নিজের করে নিয়ে

৯ ঘণ্টা আগে