
ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপে নবাগত কেপ ভার্দে গ্রুপ পর্বের মতো নকআউট স্টেজে এসেও চমক অব্যাহত রাখল। আগের মতোই গোলরক্ষক ভোজিনিয়া হয়ে উঠলেন চীনের প্রাচীর। গোটা দলই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে লড়াই করল চোখে চোখ রেখে। দুই দুইবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরল।
৯০ মিনিটের খেলা পেরিয়ে অতিরিক্ত সময়ে গিয়ে ১১১ মিনিটের এক গোলে শেষ পর্যন্ত স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে কেপ ভার্দের। ৩-২ গোলের জয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির দল উঠে গেছে শেষ ষোলোতে, সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ মিসর। অন্যদিকে ম্যাচ জিততে না পারলেও স্টেডিয়ামসহ গোটা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় জয় করে নিয়েছে কেপ ভার্দে।
অথচ ম্যাচের শুরুটা এত কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস দেয়নি। গ্রুপ পর্বের তৃতীয় ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে বেঞ্চের শক্তিমত্তা পরীক্ষা করেছিলেন লিওনেল স্কালোনি। নকআউটে কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথে হাঁটেননি তিনি। অস্ট্রিয়ার ম্যাচের একাদশটিই মাঠে নামিয়েছিলেন।
সেই সঙ্গে আগের মতোই এ ম্যাচেও মাঠে নেমেই লিওনেল মেসি পৌঁছে যান আরও এক নতুন মাইলফলক। প্রথম কোনো ফুটবলার হিসেবে এটি ছিল বিশ্বকাপে তার ৩০তম ম্যাচ, যা ইতিহাসে কোনো ফুটবলারের জন্য সর্বোচ্চ। এটি বিশ্বকাপে তার ২৭তম একাদশে শুরু করা ম্যাচও, এটিও আরেকটি নতুন রেকর্ড।
ম্যাচের শুরু থেকেই কেপ ভার্দেকে চেপে ধরার চেষ্টা করেন মেসিরা। কেপ ভার্দেও লো ব্লকে নেমে না গিয়ে আক্রমণাত্মক খেলতে শুরু করে। এর মধ্যে মেসি একাধিকবার আক্রমণে যান। এর মধ্যে একটি বল তিনি লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। ভোজিনিয়ার একটি দারুণ সেভ মেসিকে গোলের খাতা খুলতে দেননি। প্রথম হাইড্রেশন ব্রেকের আগ পর্যন্ত গোলের দেখা পায়নি কোনো দলই।
হাইড্রেশন ব্রেকের পরই মেসি ম্যাজিক। ২৯ মিনিটের মাথায় রক্ষণভাগ থেকে নিখুঁত এক লম্বা পাস বাড়ান লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। মেসি তখন কেপ ভার্দের অর্ধে দৌড়ে যাচ্ছেন আক্রমণের দিকে। তার দৌড়ের পথে পড়ে বলটি। দারুণভাবে বলটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোলরক্ষক ভোজিনিয়াকে পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে দেন।
চলতি বিশ্বকাপে মেসির সপ্তম গোল এটি। গোলদাতার তালিকায় তিনিই রয়েছেন শীর্ষে। সব মিলিয়ে এটি বিশ্বকাপে মেসির ২০তম গোল। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচে গোলের যে রেকর্ড মেসি গড়েছিলেন, সেই রেকর্ডকে এবার অষ্টম ম্যাচে নিয়ে গেলেন তিনি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে টানা পঞ্চম নকআউট ম্যাচেও গোল পেলেন আর্জেন্টাইন এই ফুটবল জাদুকর।
প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আর্জেন্টিনা আরও কয়েকটি আক্রমণ করলেও গোলের দেখা মেলেনি। বিরতির আগে দারুণ সুযোগ তৈরি করেছিলেন এনজো ফার্নান্দেজ। তার সেই শট দারুণ দক্ষতায় সেভ করেন ভোজিনিয়া। কেপ ভার্দে স্পষ্ট কোনো সুযোগ তৈরি করতে না পারলেও আক্রমণাত্মক খেলার ছন্দেই ছিল। শেষ পর্যন্ত মেসির ওই এক গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।
বিরতির পরপরই আর্জেন্টিনাকে চেপে ধরে কেপ ভার্দে। সেই চাপের ফল মিলতে খুব বেশি সময় লাগেনি। ৫৯ মিনিটের মাথায় দ্রুতগতির এক আক্রমণে ডান প্রান্তে ফাঁকা জায়গায় মেন্দেসকে বল বাড়িয়ে দেন মোরেইরা। অধিনায়ক দারুণ এক কাটব্যাকে বল পাঠিয়ে দেন ডি-বক্সে। সেখানে দেরয় দুয়ার্তে বল পেয়েই নিখুঁত শটে জালে জড়িয়ে দেন। ১-১ গোলে সমতায় ফেরে কেপ ভার্দে।

দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা ঝিমিয়ে পড়া আর্জেন্টিনা গোল হজম করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। ৬৩ মিনিটে লিওনেল মেসি গোলমুখে ছুটে গিয়েছিলেন একেবারে একা। সেখান থেকে মেসির শটটি জালের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু গোলরক্ষক ভোজিনিয়া অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় শরীর ছড়িয়ে দিয়ে মেসিকে গোলবঞ্চিত করেন, যা বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা সেভ হিসেবে থেকে যাবে।
১০ মিনিট পর ফের মেসি-ভোজিনিয়া ডুয়েল, ফের ভোজিনিয়ার বীরত্ব। ৭৩ মিনিটে ফ্রি-কিক নিয়েছিলেন মেসি। আগের ম্যাচেও ফ্রি-কিক থেকে গোল পেয়েছিলেন মেসি। এবারও ফার পোস্ট বরাবর দারুণ শট নেন তিনি। ভোজিনিয়া বিদ্যুৎগতিতে গোললাইন বরাবর ছুটে গিয়ে দারুণ ক্ষিপ্রতায় হাত বাড়িয়ে বলটি ফিরিয়ে দেন।
ম্যাচের বাকি সময়ে দুই দলই কিছু কিছু সুযোগ তৈরি করেছে, কিন্তু মেলেনি গোলের দেখা। শেষ পর্যন্ত তাই গ্রুপ পর্বের মতো নকআউটে এসেও নির্ধারিত ৯০ মিনিটে প্রতিপক্ষকে জয়বঞ্চিত করার অনন্য দৃঢ়তা বজায় রাখল কেপ ভার্দে। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী দলকে রুখে দিয়ে অতিরিক্ত সময়ে খেলা নিয়ে যাওয়ার কেপ ভার্দে চমকে তখন সারা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরাই মুগ্ধ।
অতিরিক্ত সময়ের খেলা শুরু হতে না হতেই গোল। আর্জেন্টিনার এক আক্রমণ কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন কেপ ভার্দের ডিফেন্ডাররা। মাঠের বাঁ প্রান্ত থেকে কর্নার কিক নেন মেসি। ডি বক্সে ম্যাকঅ্যালিস্টার দারুণ এক ফ্লিক করলে বল চলে যায় ডান দিকে ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা লিসান্দ্রো মার্টিনেজের পায়ে। ডিফেন্ডার হলেও একজন ফরোয়ার্ডের দক্ষতায় দারুণ শটে ভোজিনিয়াকে পরাস্ত করে নেয়ার পোস্ট বল জালে জড়িয়ে দেন। ২-১ গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।
তবে আর্জেন্টাইন ফ্যানদের গোলের আনন্দ স্থায়ী হয় মাত্র ১০ মিনিট। ১০৩ মিনিটে, যখন অতিরিক্ত সময়ের বিরতির প্রস্তুতি চলছে, ঠিক সেই সময় সবাইকে চমকে দিয়ে অবিশ্বাস্য এক গোলে কেপ ভার্দে আরও একবার সমতায় ফেরে। বাঁ প্রান্তে বল পেয়ে সিডনি কাবরাল ভেতরের দিকে কাট করেন। এরপর ডান পায়ে দুর্দান্ত এক বাঁকানো শট আশ্রয় নেয় ফার পোস্টের জালে, এমি মার্টিনেজের কিছুই করার ছিল না এ শটের বিপক্ষে।
দুইবার পিছিয়ে পড়েও ২-২ গোলে সমতায় ফেরে কেপ ভার্দে। গোলদাতা কাবরাল বল জালে জড়াতেই সতীর্থদের সঙ্গে উল্লাস করতে করতেই পৌঁছে যান গ্যালারিতে, যেখানে বসে খেলা দেখছিলেন তার পরিবারের সদস্যরা। তাদের সঙ্গে উষ্ণ আলিঙ্গনে গোলের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন।
ম্যাচের ডিসাইসিভ মুহূর্তটি আসে ১১১ মিনিটে। এবারও কেপ ভার্দের জন্য বিপদের শুরুটা কর্নারে। বাঁ দিক থেকে আরও একটি কর্নার নেন মেসি। নিঁখুত সেই কর্নার ডি-বক্সের ভেসে গেলে মাঝামাঝি থেকে ডানের দিকে দাঁড়িয়ে থাকা ক্রিস্টিয়ান রোমেরো দারুণ হেড করেন লাফিয়ে উঠে। বলটি কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার দিনেই বোর্হেসের হাতে লেগে খানিকটা দিক পরিবর্তন করে জাল খুঁজে নেয়।
ম্যাচে তৃতীয়বারের মতো লিড নেয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের তখন বাকি মাত্র ৯ মিনিট, সমর্থকরাও জয়ের আভাসে উল্লাসে মেতে ওঠে। গোলটি অবশ্য রোমেরোর নামে থাকছে না স্কোরশিটে। বোর্হেসের হাতে লেগে দিক পরিবর্তন হওয়ায় একে আত্মঘাতী গোল হিসেবে যোগ করা হয়েছে।
শেষ দিকে আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দে দুই দলই দারুণ দুয়েকটি করে আক্রমণ করেছে। কিন্তু দুই গোলরক্ষকের কাউকেই পরাস্ত করতে পারেননি ফরোয়ার্ডরা। শেষ পর্যন্ত রেফারি ১২০ মিনিটের পরও ইনজুরি টাইম শেষে বাঁজি বাজালে হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন মেসি-আলভারেজরা। বিপরীতে গোটা ম্যাচ লড়াই করে শেষ পর্যন্ত হেরে যাওয়া কেপ ভার্দের খেলোয়াড়দের চোখেমুখে ছিল স্পষ্ট বিষাদের ছাপ। স্টেডিয়ামের গ্যালারির একটি বড় অংশও লড়াকু কেপ ভার্দের বিদায়ে ছেয়ে ছিল বেদনায়।

গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচে দুই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন আর উরুগুয়ের সঙ্গে ড্র। সৌদি আরবকেও জিততে দেয়নি তারা। নকআউটে উঠে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের ৯০ মিনিটের খেলায় রুখে দিয়ে তারা প্রমাণ করেছে, ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটি ফুটবল লড়াইয়ের নতুন এক সংযোজন।
মাঠের ফুটবলটাও চমৎকার খেলেছে কেপ ভার্দে। গোছানো রক্ষণ নিয়ে লোক ব্লকে চীনের প্রাচীর তৈরির চেষ্টা করেনি তারা, উন্মুক্ত খেলায় নিজেরাও গোলের জন্য মরিয়া হয়েই খেলেছে। তাতে তাদের আক্রমণভাগের শক্তিমত্তাও খেলায় ফুটে উঠেছে। দ্বিতীয়বার দলকে সমতায় ফেরানো সিডনি লোপেস কাবরালের দুর্দান্ত বাঁকানো শটের গোলটিও এবারের বিশ্বকাপের সেরা গোলগুলোর একটি হিসেবে জায়গা করে নিতে পারে।
সব মিলিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলা আর্জেন্টিনা তাদের চতুর্থ বিশ্বকাপের খোঁজে কেপ ভার্দের ফাঁড়া কাটিয়ে উঠে গেছে রাউন্ড অব সিক্সটিনে। তবে শেষ বত্রিশের এই ম্যাচটিকে কেপ ভার্দের বীরত্বের জন্যই ফুটবলপ্রেমীরা মনে রাখবে দীর্ঘদিন।

বিশ্বকাপে নবাগত কেপ ভার্দে গ্রুপ পর্বের মতো নকআউট স্টেজে এসেও চমক অব্যাহত রাখল। আগের মতোই গোলরক্ষক ভোজিনিয়া হয়ে উঠলেন চীনের প্রাচীর। গোটা দলই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে লড়াই করল চোখে চোখ রেখে। দুই দুইবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরল।
৯০ মিনিটের খেলা পেরিয়ে অতিরিক্ত সময়ে গিয়ে ১১১ মিনিটের এক গোলে শেষ পর্যন্ত স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে কেপ ভার্দের। ৩-২ গোলের জয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির দল উঠে গেছে শেষ ষোলোতে, সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ মিসর। অন্যদিকে ম্যাচ জিততে না পারলেও স্টেডিয়ামসহ গোটা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় জয় করে নিয়েছে কেপ ভার্দে।
অথচ ম্যাচের শুরুটা এত কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস দেয়নি। গ্রুপ পর্বের তৃতীয় ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে বেঞ্চের শক্তিমত্তা পরীক্ষা করেছিলেন লিওনেল স্কালোনি। নকআউটে কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথে হাঁটেননি তিনি। অস্ট্রিয়ার ম্যাচের একাদশটিই মাঠে নামিয়েছিলেন।
সেই সঙ্গে আগের মতোই এ ম্যাচেও মাঠে নেমেই লিওনেল মেসি পৌঁছে যান আরও এক নতুন মাইলফলক। প্রথম কোনো ফুটবলার হিসেবে এটি ছিল বিশ্বকাপে তার ৩০তম ম্যাচ, যা ইতিহাসে কোনো ফুটবলারের জন্য সর্বোচ্চ। এটি বিশ্বকাপে তার ২৭তম একাদশে শুরু করা ম্যাচও, এটিও আরেকটি নতুন রেকর্ড।
ম্যাচের শুরু থেকেই কেপ ভার্দেকে চেপে ধরার চেষ্টা করেন মেসিরা। কেপ ভার্দেও লো ব্লকে নেমে না গিয়ে আক্রমণাত্মক খেলতে শুরু করে। এর মধ্যে মেসি একাধিকবার আক্রমণে যান। এর মধ্যে একটি বল তিনি লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। ভোজিনিয়ার একটি দারুণ সেভ মেসিকে গোলের খাতা খুলতে দেননি। প্রথম হাইড্রেশন ব্রেকের আগ পর্যন্ত গোলের দেখা পায়নি কোনো দলই।
হাইড্রেশন ব্রেকের পরই মেসি ম্যাজিক। ২৯ মিনিটের মাথায় রক্ষণভাগ থেকে নিখুঁত এক লম্বা পাস বাড়ান লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। মেসি তখন কেপ ভার্দের অর্ধে দৌড়ে যাচ্ছেন আক্রমণের দিকে। তার দৌড়ের পথে পড়ে বলটি। দারুণভাবে বলটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোলরক্ষক ভোজিনিয়াকে পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে দেন।
চলতি বিশ্বকাপে মেসির সপ্তম গোল এটি। গোলদাতার তালিকায় তিনিই রয়েছেন শীর্ষে। সব মিলিয়ে এটি বিশ্বকাপে মেসির ২০তম গোল। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচে গোলের যে রেকর্ড মেসি গড়েছিলেন, সেই রেকর্ডকে এবার অষ্টম ম্যাচে নিয়ে গেলেন তিনি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে টানা পঞ্চম নকআউট ম্যাচেও গোল পেলেন আর্জেন্টাইন এই ফুটবল জাদুকর।
প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আর্জেন্টিনা আরও কয়েকটি আক্রমণ করলেও গোলের দেখা মেলেনি। বিরতির আগে দারুণ সুযোগ তৈরি করেছিলেন এনজো ফার্নান্দেজ। তার সেই শট দারুণ দক্ষতায় সেভ করেন ভোজিনিয়া। কেপ ভার্দে স্পষ্ট কোনো সুযোগ তৈরি করতে না পারলেও আক্রমণাত্মক খেলার ছন্দেই ছিল। শেষ পর্যন্ত মেসির ওই এক গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।
বিরতির পরপরই আর্জেন্টিনাকে চেপে ধরে কেপ ভার্দে। সেই চাপের ফল মিলতে খুব বেশি সময় লাগেনি। ৫৯ মিনিটের মাথায় দ্রুতগতির এক আক্রমণে ডান প্রান্তে ফাঁকা জায়গায় মেন্দেসকে বল বাড়িয়ে দেন মোরেইরা। অধিনায়ক দারুণ এক কাটব্যাকে বল পাঠিয়ে দেন ডি-বক্সে। সেখানে দেরয় দুয়ার্তে বল পেয়েই নিখুঁত শটে জালে জড়িয়ে দেন। ১-১ গোলে সমতায় ফেরে কেপ ভার্দে।

দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা ঝিমিয়ে পড়া আর্জেন্টিনা গোল হজম করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। ৬৩ মিনিটে লিওনেল মেসি গোলমুখে ছুটে গিয়েছিলেন একেবারে একা। সেখান থেকে মেসির শটটি জালের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু গোলরক্ষক ভোজিনিয়া অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় শরীর ছড়িয়ে দিয়ে মেসিকে গোলবঞ্চিত করেন, যা বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা সেভ হিসেবে থেকে যাবে।
১০ মিনিট পর ফের মেসি-ভোজিনিয়া ডুয়েল, ফের ভোজিনিয়ার বীরত্ব। ৭৩ মিনিটে ফ্রি-কিক নিয়েছিলেন মেসি। আগের ম্যাচেও ফ্রি-কিক থেকে গোল পেয়েছিলেন মেসি। এবারও ফার পোস্ট বরাবর দারুণ শট নেন তিনি। ভোজিনিয়া বিদ্যুৎগতিতে গোললাইন বরাবর ছুটে গিয়ে দারুণ ক্ষিপ্রতায় হাত বাড়িয়ে বলটি ফিরিয়ে দেন।
ম্যাচের বাকি সময়ে দুই দলই কিছু কিছু সুযোগ তৈরি করেছে, কিন্তু মেলেনি গোলের দেখা। শেষ পর্যন্ত তাই গ্রুপ পর্বের মতো নকআউটে এসেও নির্ধারিত ৯০ মিনিটে প্রতিপক্ষকে জয়বঞ্চিত করার অনন্য দৃঢ়তা বজায় রাখল কেপ ভার্দে। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী দলকে রুখে দিয়ে অতিরিক্ত সময়ে খেলা নিয়ে যাওয়ার কেপ ভার্দে চমকে তখন সারা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরাই মুগ্ধ।
অতিরিক্ত সময়ের খেলা শুরু হতে না হতেই গোল। আর্জেন্টিনার এক আক্রমণ কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন কেপ ভার্দের ডিফেন্ডাররা। মাঠের বাঁ প্রান্ত থেকে কর্নার কিক নেন মেসি। ডি বক্সে ম্যাকঅ্যালিস্টার দারুণ এক ফ্লিক করলে বল চলে যায় ডান দিকে ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা লিসান্দ্রো মার্টিনেজের পায়ে। ডিফেন্ডার হলেও একজন ফরোয়ার্ডের দক্ষতায় দারুণ শটে ভোজিনিয়াকে পরাস্ত করে নেয়ার পোস্ট বল জালে জড়িয়ে দেন। ২-১ গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।
তবে আর্জেন্টাইন ফ্যানদের গোলের আনন্দ স্থায়ী হয় মাত্র ১০ মিনিট। ১০৩ মিনিটে, যখন অতিরিক্ত সময়ের বিরতির প্রস্তুতি চলছে, ঠিক সেই সময় সবাইকে চমকে দিয়ে অবিশ্বাস্য এক গোলে কেপ ভার্দে আরও একবার সমতায় ফেরে। বাঁ প্রান্তে বল পেয়ে সিডনি কাবরাল ভেতরের দিকে কাট করেন। এরপর ডান পায়ে দুর্দান্ত এক বাঁকানো শট আশ্রয় নেয় ফার পোস্টের জালে, এমি মার্টিনেজের কিছুই করার ছিল না এ শটের বিপক্ষে।
দুইবার পিছিয়ে পড়েও ২-২ গোলে সমতায় ফেরে কেপ ভার্দে। গোলদাতা কাবরাল বল জালে জড়াতেই সতীর্থদের সঙ্গে উল্লাস করতে করতেই পৌঁছে যান গ্যালারিতে, যেখানে বসে খেলা দেখছিলেন তার পরিবারের সদস্যরা। তাদের সঙ্গে উষ্ণ আলিঙ্গনে গোলের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন।
ম্যাচের ডিসাইসিভ মুহূর্তটি আসে ১১১ মিনিটে। এবারও কেপ ভার্দের জন্য বিপদের শুরুটা কর্নারে। বাঁ দিক থেকে আরও একটি কর্নার নেন মেসি। নিঁখুত সেই কর্নার ডি-বক্সের ভেসে গেলে মাঝামাঝি থেকে ডানের দিকে দাঁড়িয়ে থাকা ক্রিস্টিয়ান রোমেরো দারুণ হেড করেন লাফিয়ে উঠে। বলটি কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার দিনেই বোর্হেসের হাতে লেগে খানিকটা দিক পরিবর্তন করে জাল খুঁজে নেয়।
ম্যাচে তৃতীয়বারের মতো লিড নেয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের তখন বাকি মাত্র ৯ মিনিট, সমর্থকরাও জয়ের আভাসে উল্লাসে মেতে ওঠে। গোলটি অবশ্য রোমেরোর নামে থাকছে না স্কোরশিটে। বোর্হেসের হাতে লেগে দিক পরিবর্তন হওয়ায় একে আত্মঘাতী গোল হিসেবে যোগ করা হয়েছে।
শেষ দিকে আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দে দুই দলই দারুণ দুয়েকটি করে আক্রমণ করেছে। কিন্তু দুই গোলরক্ষকের কাউকেই পরাস্ত করতে পারেননি ফরোয়ার্ডরা। শেষ পর্যন্ত রেফারি ১২০ মিনিটের পরও ইনজুরি টাইম শেষে বাঁজি বাজালে হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন মেসি-আলভারেজরা। বিপরীতে গোটা ম্যাচ লড়াই করে শেষ পর্যন্ত হেরে যাওয়া কেপ ভার্দের খেলোয়াড়দের চোখেমুখে ছিল স্পষ্ট বিষাদের ছাপ। স্টেডিয়ামের গ্যালারির একটি বড় অংশও লড়াকু কেপ ভার্দের বিদায়ে ছেয়ে ছিল বেদনায়।

গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচে দুই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন আর উরুগুয়ের সঙ্গে ড্র। সৌদি আরবকেও জিততে দেয়নি তারা। নকআউটে উঠে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের ৯০ মিনিটের খেলায় রুখে দিয়ে তারা প্রমাণ করেছে, ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটি ফুটবল লড়াইয়ের নতুন এক সংযোজন।
মাঠের ফুটবলটাও চমৎকার খেলেছে কেপ ভার্দে। গোছানো রক্ষণ নিয়ে লোক ব্লকে চীনের প্রাচীর তৈরির চেষ্টা করেনি তারা, উন্মুক্ত খেলায় নিজেরাও গোলের জন্য মরিয়া হয়েই খেলেছে। তাতে তাদের আক্রমণভাগের শক্তিমত্তাও খেলায় ফুটে উঠেছে। দ্বিতীয়বার দলকে সমতায় ফেরানো সিডনি লোপেস কাবরালের দুর্দান্ত বাঁকানো শটের গোলটিও এবারের বিশ্বকাপের সেরা গোলগুলোর একটি হিসেবে জায়গা করে নিতে পারে।
সব মিলিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলা আর্জেন্টিনা তাদের চতুর্থ বিশ্বকাপের খোঁজে কেপ ভার্দের ফাঁড়া কাটিয়ে উঠে গেছে রাউন্ড অব সিক্সটিনে। তবে শেষ বত্রিশের এই ম্যাচটিকে কেপ ভার্দের বীরত্বের জন্যই ফুটবলপ্রেমীরা মনে রাখবে দীর্ঘদিন।

টরন্টোর মাঠে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোরে বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের ম্যাচে মাঠে নেমেছিল পর্তুগাল আর ক্রোয়েশিয়া। দুই দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শেষ পর্যন্ত ভিএআর হস্তক্ষেপে নির্ধারিত হয়েছে বিজয়ী, ২-১ গোলে জয় পেয়েছে পর্তুগাল।
১ দিন আগে
বিশ্বকাপের ফেবারিট দুই দলের লড়াইয়ের কারণে এ ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ। তবে তা ছাপিয়ে এ ম্যাচ পরিণত হতে যাচ্ছে দুই বন্ধু— পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো আর ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদ্রিচের বিশ্বকাপে শেষ সাক্ষাতের মঞ্চে। ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে এরপর যে আর সময়ের এই দুই মহাতারকার মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাই নেই!
১ দিন আগে
স্কালোনি বলেন, ‘এখনই শুরু আসল লড়াই। কেপ ভার্দে নকআউটে উঠেছে দেখে আমি অবাক হইনি। তারা প্রতিটি প্রতিপক্ষের জীবন কঠিন করে তুলেছে। তারা খুবই কঠিন দল এবং আমাদের জন্যও ম্যাচটা সহজ হবে না।’
২ দিন আগে
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে ম্যাচ জমে ওঠে। প্রথমার্ধে অফসাইডের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোল বাতিল হলে কিছুটা হতাশ হতে হয় স্বাগতিক সমর্থকদের। তবে সেই ধাক্কা সামলে আক্রমণের ধার বাড়ায় তারা। অবশেষে বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে স্বাগতিক দর্শকদের উল্লাসে ভাসিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ১-০ ব্যবধানে এগ
২ দিন আগে