লাল কার্ড পেয়েও মাঠে নামবেন বালেগুন, ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৬, ১৪: ৪০
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনকে লাল কার্ড দেখাচ্ছেন ব্রাজিলের রেফারি রাফায়েল ক্লাউস। পরে বালোগুনের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ছবি: এপি

২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো মাঠের খেলার চেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে মাঠের বাইরের ঘটনা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের অভিযোগের পর লাল কার্ড দেখে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়া যুক্তরাষ্ট্রের তারকা ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনকে আবারও খেলার অনুমতি দিয়েছে ফিফা। এই সিদ্ধান্তের পর বিশ্ব ফুটবলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

বিশ্বকাপের প্রথম ২৪ দিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্ট প্রায় পুরোপুরিই রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে ছিল। কিন্তু ট্রাম্পের একটি আবেদন ঘিরে সেই পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে গেল। ফিফার নিরপেক্ষতা, ট্রাম্প ও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক প্রভাব— সবকিছুই এখন প্রশ্নের মুখে।

গত ২ জুলাই বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে লাল কার্ড দেখে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়েন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ গোলদাতা ফোলারিন বালোগুন। ফলে নিয়ম অনুযায়ী আজ সোমবার বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে তার খেলার সুযোগ ছিল না।

কিন্তু রোববার ফিফা সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে তাকে ম্যাচ খেলার অনুমতি দেয়। এরপরই নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘যা সঠিক ছিল, তা করার জন্য এবং একটি বড় অবিচার সংশোধন করার জন্য ফিফাকে ধন্যবাদ! — প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প।’

ট্রাম্পের এই বার্তার পরই শুরু হয় নতুন বিতর্ক। কারণ এর আগে জানা যায়, বালোগুনের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে ফোনে কথা বলে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। ফলে একটি সাধারণ রেফারিং বিতর্ক মুহূর্তেই বিশ্বকাপকে ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

২০১৮ সালে হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে বৈঠকের সময় লাল কার্ড হাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
২০১৮ সালে হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে বৈঠকের সময় লাল কার্ড হাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

যদিও ট্রাম্পের চাপই যে ফিফার সিদ্ধান্ত বদলের একমাত্র কারণ— এমন কোনো প্রমাণ সামনে আসেনি, তবে এমন ধারণা তৈরি হওয়াই বিশ্বকাপের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অনেকের মতে, টুর্নামেন্টটি এত দিন পর্যন্ত ইতিবাচক কারণেই আলোচনায় ছিল। কিন্তু এখন সেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ।

বিশ্বকাপে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল কিংবা ২০০৬ সালের ফাইনালে ফ্রান্সের জিনেদিন জিদানের হেডবাট— এমন বহু ঘটনা এখনো আলোচিত।

১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল। ছবি: সিএনএন/গেটি ইমেজেস
১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল। ছবি: সিএনএন/গেটি ইমেজেস

তবে কোনো রাষ্ট্রপ্রধান ফিফার ওপর চাপ প্রয়োগ করে কোনো খেলোয়াড়কে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলানোর চেষ্টা করেছেন— বিশেষ করে আয়োজক দেশের স্বার্থ জড়িত এমন পরিস্থিতিতে— এমন নজির আগে জানা যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের অনেক সমর্থকের কাছে বালোগুন কীভাবে মাঠে ফিরলেন, সেটি হয়তো খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখা হচ্ছে।

বেলজিয়ামের রয়্যাল ফুটবল ফেডারেশন অভিযোগ করেছে, ম্যাচের আগে যা ঘটেছে তা ফিফার নিয়মের পরিপন্থি এবং এতে ফেয়ার প্লে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দলের কোচ সাংবাদিকদের বলেন, তারা শুধু জাতীয় সম্মান নয়, ‘ফুটবলকেই রক্ষা করতে’ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন। তার ভাষায়, ‘এটি ফুটবলের সততা রক্ষা করে। এটি ফুটবলের নৈতিকতা রক্ষা করে।’

অনেক নিরপেক্ষ সমর্থকের কাছেও এখন প্রশ্ন উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিতলেও সেই অর্জনের ওপর বিতর্কের ছায়া থেকে যাবে কি না।

ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে বেড়েছে প্রশ্ন

আলাদাভাবে বিচার করলে বলা যায়, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে বালোগুন হয়তো কিছুটা কঠোর শাস্তিরই শিকার হয়েছিলেন। কিন্তু ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের অভিযোগের পর এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার কি সত্যিই শুধু ন্যায্যতার ভিত্তিতেই হয়েছে?

ম্যাচে শুরুতে রেফারি বালোগুনকে লাল কার্ড দেখাননি। পরে ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পরামর্শে রিপ্লে দেখে তিনি সিদ্ধান্ত বদলান এবং গুরুতর ফাউলের দায়ে তাঁকে মাঠ থেকে বের করে দেন।

স্বাভাবিক গতিতে ঘটনাটি খুব গুরুতর মনে হয়নি। তবে ধীরগতির রিপ্লেতে দেখা যায়, বালোগুনের পা প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচের পায়ের পেছন দিয়ে নেমে গিয়ে তাঁর গোড়ালিকে অস্বাভাবিকভাবে বাঁকিয়ে দেয়।

অনেক সমর্থকের দাবি, ভিএআরের কারণে বালোগুন অন্যায্যভাবে শাস্তি পেয়েছেন। তাদের মতে, প্রতিপক্ষকে আঘাত করার কোনো ইচ্ছাই তার ছিল না। কারণ ধীরগতির রিপ্লেতে অনেক সংঘর্ষ বাস্তবের তুলনায় অনেক বেশি ভয়াবহ দেখায়। প্রযুক্তির আগের যুগে এমন অনেক ট্যাকল শাস্তি ছাড়াই পার পেয়ে যেত।

আবার অন্যদের মতে, বর্তমান ফিফা মানদণ্ড অনুযায়ী এটি লাল কার্ড পাওয়ার মতোই ট্যাকল। ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই এমন ঘটনায় খেলোয়াড়দের মাঠ ছাড়তে দেখা যায়।

এর মধ্যেই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচে প্রায় একই ধরনের ট্যাকল করার পরও লিওনেল মেসিকে কেন লাল কার্ড দেখানো হয়নি।

তবে সবচেয়ে বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ফিফার সিদ্ধান্ত। ম্যাচ শেষে ফিফা স্পষ্ট জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিলের কোনো সুযোগ নেই এবং বালোগুন সোমবার সিয়াটলে খেলতে পারবেন না। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি ছিল বড় ধাক্কা, কারণ ফরাসি ক্লাব মোনাকোর এই ফরোয়ার্ডই দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা।

কিন্তু মাত্র এক দিন পর রোববার ফিফা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেও সিদ্ধান্তটির বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। ফলে সমালোচকদের অভিযোগ, ট্রাম্পের আপত্তির পরই যুক্তরাষ্ট্রের এই তারকার জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি বিধিমালার ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করেছে। এই ধারায় পরীক্ষামূলক সময়ের জন্য কোনো শাস্তি পুরোপুরি বা আংশিকভাবে স্থগিত রাখার সুযোগ রয়েছে। ফলে বালোগুনের লাল কার্ড বহাল থাকলেও তাঁর এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা আপাতত কার্যকর হচ্ছে না। তবে ভবিষ্যতে আবার শৃঙ্খলাভঙ্গ করলে আগের নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে নতুন শাস্তিও যুক্ত হবে।

অবশ্য এই ধারা এবারই প্রথম ব্যবহার করা হয়নি। এর আগে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে লাল কার্ড দেখার পর একই ধরনের ব্যবস্থার মাধ্যমে পর্তুগালের ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকেও টুর্নামেন্টের প্রাথমিক পর্বে খেলার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তখনও ফিফার বিরুদ্ধে তারকাখেলোয়াড়কে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল।

বিশ্বকাপে ট্রাম্পের প্রবেশ ছিল অনেকটাই প্রত্যাশিত

বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে ট্রাম্প কোনো না কোনোভাবে আলোচনায় আসবেন—এমন ধারণা আগে থেকেই ছিল। তিনি এর আগে বিশ্বকাপকে একসঙ্গে চলা একাধিক সুপার বোলের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। এত বড় বৈশ্বিক মনোযোগের কেন্দ্র থেকে তিনি নিজেকে দূরে রাখবেন, এমনটি অনেকেই ভাবেননি।

তবে টুর্নামেন্টের শুরুতে তিনি তুলনামূলক আড়ালেই ছিলেন। তখন তার বেশি মনোযোগ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের ২৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন ঘিরে, যেখানে সমালোচকদের অভিযোগ, সেখানেও তিনি অতিরিক্ত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করেছিলেন। কিন্তু বালোগুনের ঘটনা সম্ভবত তার পক্ষেও উপেক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে একটি ট্রফি প্রদর্শন করছেন। ছবি: এএফপি/গেটি ইমেজেস
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে একটি ট্রফি প্রদর্শন করছেন। ছবি: এএফপি/গেটি ইমেজেস

খেলাধুলার প্রতি ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের আগ্রহ রয়েছে। তিনি প্রায়ই বড় ক্রীড়া ইভেন্টকে রাজনৈতিক বার্তা, সাংস্কৃতিক বিতর্ক কিংবা নিজের নেতৃত্বের ভাবমূর্তি তুলে ধরার ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করেন।

চলতি বছরের শুরুতে শীতকালীন অলিম্পিকে কানাডাকে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পুরুষ আইস হকি দলের জয়ের পর ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তার নেতৃত্বেই যুক্তরাষ্ট্র ‘আবার জিতছে’। ফলে জাতীয় ঐক্যের সেই মুহূর্তও রাজনৈতিক রঙ পায়।

ট্রাম্পের রাজনৈতিক জীবনও দেখিয়েছে, নিয়মকানুনকে তিনি খুব একটা বাধা হিসেবে দেখেন না। তার কাছে কীভাবে জয় এল, তার চেয়ে জয়টাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বিষয়টি প্রসঙ্গে অবহিত একটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, বালোগুনের লাল কার্ডের পর ট্রাম্প ইনফান্তিনোর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান।

ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। অনেক সময় ফিফা সভাপতির অবস্থানকে ট্রাম্পের প্রতি রাজনৈতিক সমর্থন হিসেবেও ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

ইনফান্তিনোকে প্রায়ই ট্রাম্পের পাশে দেখা যায়। গত বছর মিসরে অনুষ্ঠিত গাজা শান্তি সম্মেলনেও তিনি উপস্থিত ছিলেন। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অভিষেকের পর ইনস্টাগ্রামে ইনফান্তিনো লিখেছিলেন, ‘আমরা একসঙ্গে শুধু আমেরিকাকেই নয়, পুরো বিশ্বকেও আবার মহান করে তুলব।’

এর আগেও ফিফা সভাপতিকে নানা রাজনৈতিক বিতর্কের মুখে পড়তে হয়েছে। কাতার বিশ্বকাপের স্টেডিয়াম নির্মাণে কথিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ কিংবা ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপ সৌদি আরবকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত— দুটিই তার সমালোচনার কারণ হয়েছিল।

২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর ওয়াশিংটনের কেনেডি সেন্টারে ফিফা পিস প্রাইজ গ্রহণের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এপি
২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর ওয়াশিংটনের কেনেডি সেন্টারে ফিফা পিস প্রাইজ গ্রহণের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এপি

এ ছাড়া গত বছর ডিসেম্বরে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ড্র অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে ফিফা পিস প্রাইজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও সমালোচনা হয়। তবে ইনফান্তিনোর যুক্তি, আয়োজক দেশের নেতার সঙ্গে ফিফা সভাপতির সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকা প্রয়োজন।

এ বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ ২০১৫ সালে ফিফার সবচেয়ে বড় দুর্নীতি কেলেঙ্কারি উন্মোচনে যুক্তরাষ্ট্র সরকার—বিশেষ করে এফবিআই, বিচার বিভাগ এবং আইআরএস—গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

বিতর্ক শেষ হওয়ার লক্ষণ নেই

বালোগুনকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই ঘটনা এখন নতুন এক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। ফলে ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্য কোনো ক্ষমতাধর নেতাও মাঠের কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে ফিফার ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করবেন না— এমন নিশ্চয়তা আর নেই।

একই সঙ্গে বিশ্বকাপের বাকি প্রতিটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তও এখন বাড়তি নজরদারির মধ্যে থাকবে। যদি ফিফা বালোগুনের ক্ষেত্রে এই বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারে, তাহলে অন্য দেশের খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রেও কি একই নীতি অনুসরণ করতে হবে না— সেই প্রশ্নও উঠছে।

রোববার বিশ্বকাপের আরেকটি বড় খবর ছিল ব্রাজিলের বিদায়। নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হলান্ডের জোড়া গোলে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায়। কিন্তু সেই খবরকেও ছাপিয়ে গেছে ট্রাম্প, ফিফা এবং বালোগুনকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক।

এই ঘটনার পর অনেকের আশঙ্কা, মাঠের বাইরের রাজনৈতিক ঘটনাও হয়তো শেষ পর্যন্ত মাঠের লড়াইয়ের মতোই বিশ্বকাপ ট্রফির ভাগ্য নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে এমন এক টুর্নামেন্টে, যেখানে দুই সপ্তাহ পর শিরোপা বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার কথা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের।

যে বিশ্বকাপ এত দিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিভক্ত রাজনৈতিক বাস্তবতা থেকে বিশ্বকে কিছুটা হলেও ভিন্ন এক আনন্দের উপলক্ষ্য এনে দিয়েছিল, সেই আসরেই এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে রাজনীতি।

[মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন অবলম্বনে]

ad
ad

খেলা থেকে আরও পড়ুন

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সপ্তমবারের মতো বিশ্বজয় অজি মেয়েদের

ফাইনালে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৫০ রান তোলে ইংল্যান্ড। জবাবে মাত্র ১৭.১ ওভারেই ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া। হাতে তখনও ছিল ১৭ বল ও ৭ উইকেট। নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দল অস্ট্রেলিয়া। টুর্নামে

১৫ ঘণ্টা আগে

টেস্টের ব্যর্থতা ভুলে ওয়ানডে সিরিজে ভালো করতে চায় বাংলাদেশ

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে জিম্বাবুয়ে সফরে স্পটভাবেই ফেভারিট ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু জিম্বাবুয়ের সফরের শুরুতেই হোঁচট খায় টাইগাররা। সিরিজের একমাত্র টেস্টে ইনিংস ও ৮৫ রানের বড় ব্যবধানে হেরে বড়সড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ।

১৯ ঘণ্টা আগে

ইউএস-বাংলাকে হারিয়ে এয়ারলাইন্স ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন বিমান বাংলাদেশ

ঢাকার গুলশান ইয়ুথ ক্লাব মাঠে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী এই টুর্নামেন্টে দেশি-বিদেশি ১৬টি এয়ারলাইন্স অংশ নেয়। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে কাতার এয়ারওয়েজকে ১-০ গোলে হারিয়ে তৃতীয় হয় এয়ার ইন্ডিয়া। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জাহাঙ্গীর আলম।

২১ ঘণ্টা আগে

হালান্ডকে ঠেকানোর ছকে ব্যস্ত ব্রাজিল, লক্ষ্য কোয়ার্টার ফাইনাল

আনচেলত্তির ভাষায়, ‘হালান্ডকে সবাই চেনে। আমার ডিফেন্ডারদের তাকে নিয়ে নতুন করে কিছু বলার প্রয়োজন নেই। তারা আমার চেয়েও ভালো জানে সে কীভাবে খেলে। তবে তার শক্তি ও সামর্থ্য সম্পর্কে আমাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। কারণ সে অত্যন্ত বিপজ্জনক একজন ফরোয়ার্ড।’

১ দিন আগে