যাও, নিজেদের তেল নিজেরা নিয়ে এসো: ট্রাম্প

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ইউরোপকে নিজেদের জ্বালানি নিজেদেরই সংগ্রহ করতে বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইনসেটে ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যালের পোস্ট। ছবি: কোলাজ

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ইউরোপের মিত্রদের পাশে পাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাজ্যসহ কোনো দেশই সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক সহায়তার মাধ্যমে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে রাজি হয়নি। এখন এ যুদ্ধের জেরে যখন এসব দেশ জেট ফুয়েলসহ জ্বালানি তেলের সংকটের মধ্যে রয়েছে, তখন ট্রাম্প এ বিষয়ে তাদের কোনো ধরনের সহায়তা করার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।

ট্রাম্প বলেছেন, তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে গিয়ে এসব দেশকে নিজেদের মতো করে তেল জোগাড় করতে হবে। অবশ্য অন্য একটি বিকল্পও দিয়েছেন তিনি— চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে জ্বালানি কিনতে পারবে তারা।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রুথ সোশ্যালে এক স্ট্যাটাসে ট্রাম্প ইউরোপের দেশগুলোর উদ্দেশে এসব কথা লিখেছেন।

ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন, যুক্তরাজ্যের মতো যেসব দেশ ইরানকে ধ্বংসের অভিযানে জড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, তারা এখন হরমুজ প্রণালির কারণে জেট ফুয়েল পাচ্ছে না। তাদের জন্য আমার দুটি পরামর্শ আছে।

ট্রাম্পের প্রথম পরামর্শ হলো— এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে জেট ফুয়েল কিনতে পারে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জেট ফুয়েলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। আর দ্বিতীয় পরামর্শটি হলো— দেরিতে হলেও সাহস সঞ্চয় করে হরমুজ প্রণালিতে চলে যাওয়া এবং সরাসরি তেল নিয়ে নেওয়া।

ট্রাম্প লিখেছেন, নিজেদের জন্য কীভাবে লড়াই করতে হয়, তা শেখা শুরু করতে হবে তোমাদের। তোমাদের সহায়তা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র আর সেখানে থাকবে না, ঠিক যেমন তোমরাও আমাদের পাশে ছিল না।

ইউরেপের দেশগুলোকে পাশে না পেলেও ইরানকে ধ্বংস করে দেওয়ার কঠিন কাজটি শেষ করে এনেছেন বলে উল্লেখ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। লিখেছেন, ইরান কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। এর পেছনে কঠিন যে অংশটুকু ছিল, সেটি আমরা শেষ করেছি। এখন তোমরা যাও, নিজেদের তেল নিজেরা নিয়ে এসো।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে ইরানে সামরিক অভিযানের নামে হামলা শুরু করে ‍যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে ইসরায়েল ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিসহ সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা করে চলেছে ইরান। এর মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে।

ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও এর কোনো মিত্রদেশের কোনো জাহাজই হরমুজ প্রণালি পার হতে পারবে না, যে পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়। এ প্রণালি উন্মুক্ত করে দিতে ট্রাম্প সামরিক অভিযান চালাতে ইউরোপের দেশগুলোর সহায়তা চেয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো দেশই হরমুজ প্রণালিতে সামরিক বাহিনী মোতায়েনে রাজি হয়নি।

ইউরোপের দেশগুলো বলছে, তাদের সঙ্গে আলোচনা করে এ যুদ্ধ শুরু করেননি ট্রাম্প। ফলে এ যুদ্ধ কেবলই যুক্তরাষ্ট্রের, এ যুদ্ধ তাদের নয়। ইউরোপের দেশগুলোর এমন অবস্থানে তীব্র ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এসব দেশের পাশে থাকবেন না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন তিনি। জ্বালানি তেল ইস্যুতেও ইউরোপকে নিজের পথ নিজে দেখার পরামর্শই দিলেন তিনি।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে ‘আপত্তি’ ইরানি কট্টরপন্থিদের

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে ইরান। আগামী শুক্রবার দুই পক্ষের মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সম্ভাব্য এই সমঝোতা নিয়ে দেশটির কট্টরপন্থি মহলে ‘জোরালো আপত্তি’ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ— চুক্তিতে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কোনো স্পষ্ট নিশ্চয়তা নেই। এ ছ

৫ ঘণ্টা আগে

নেতানিয়াহু চুক্তিটিকে প্রায় ভেস্তে দিয়েছিলেন: ট্রাম্প

নেতানিয়াহুর প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি (নেতানিয়াহু) একজন জটিল মানুষ। সত্যি বলতে, এর (চুক্তি) জন্য আমাদের কাছে তার কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। কারণ, ইরানের কাছে যদি পারমাণবিক অস্ত্র থাকত, ইসরায়েল দুই ঘণ্টাও টিকত না।’

৫ ঘণ্টা আগে

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিকে স্বাগত বিশ্বনেতাদের, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা ৪ দেশের

ইরান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ নেতারা। তারা এই সমঝোতাকে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

৬ ঘণ্টা আগে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তি চুক্তি, ট্রাম্প বললেন ‘এবার তেল সচল হোক!’

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এতদ্বারা হরমুজ প্রণালি কোনো টোল বা শুল্ক ছাড়াই উন্মুক্ত করার পূর্ণ অনুমোদন দিচ্ছি এবং একই সঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিচ্ছি।’ বিশ্ববাসীর উদ্দেশে নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে ট্রাম্প আরও যোগ করেন, ‘বিশ্বের জাহাজগুলো, তোমাদের ইঞ্জিন চালু করো। এবার তেল স

৯ ঘণ্টা আগে