পাকিস্তান যাচ্ছেন উইটকফ-কুশনার, ইরান বলছে আলোচনার পরিকল্পনা নেই

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২: ১১
যুদ্ধে জড়িয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। প্রতীকী ছবি

চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে স্থায়ী শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় পর্বের আলোচনায় অংশ নিতে শনিবার (২৫ এপ্রিল) পাকিস্তানের পথে রওয়ানা হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার। তবে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সরাসরি আলোচনায় বসার পরিকল্পনা নেই।

প্রথম পর্বের আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকা ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এ পর্বে থাকছেন না। এর আগে অবশ্য মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ভ্যান্স এবারও প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান।

এর আগে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও পাকিস্তানের পথে রওয়ানা করবেন। এবার লেভিটের এ বক্তব্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় পর্বের আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা কিছুটা হলেও কাটল।

লেভিট বলেন, আমি নিশ্চিত করে বলছি, আলোচনার জন্য বিশেষ দূত উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার আগামীকাল (শনিবার) সকালে আবারও পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা দেবেন। ভ্যান্স এখনো পাকিস্তানে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত আছেন। তবে আপাতত তিনি যাচ্ছেন না।

হোয়াইট হাউজের এই প্রেস সেক্রেটারি আরও বলেন, প্রেসিডেন্টের (ট্রাম্প) আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইরানিরা এই সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা আশাবাদী, এটি একটি ফলপ্রসূ আলোচনা হবে এবং চুক্তির পথে অগ্রসর হবে।

এর আগে গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি বৈঠক হয়। প্রায় ২১ ঘণ্টার সেই বৈঠক শেষে দুই দলের বিশেষজ্ঞ দল লিখিত শর্ত বিনিময় করে। পরদিন সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকা ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স বলেন, বৈঠকে কোনো সমঝোতা হয়নি। এ অবস্থাতেই তিনি যুক্তরাষ্ট্র ফিরে যাচ্ছেন।

এবার জে ডি ভ্যান্স নিজেই আলোচনায় থাকছেন না। তবে লেভিট বলেন, ‘প্রয়োজন হলে যেকোনো মুহূর্তে পাকিস্তানে যাওয়ার জন্য সবাই প্রস্তুত রয়েছেন।’

ভ্যান্স না থাকলেও প্রথম পর্বের ইসলামাবাদ টকসে তার সঙ্গে ছিলেন ট্রাম্পের ব্যবসায়িক সহযোগী থেকে তার বিশেষ দূত হওয়া উইটকফ ও জামাতা কুশনার। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলে যৌথ হামলার ঠিক আগে জেনেভায় যখন ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা চলছিল, তাতে নেতৃত্ব দেন এই দুজন। ওই আলোচনার প্রক্রিয়া চলমান অবস্থাতেই হামলা হলে তেহরান তাদের বিরুদ্ধে ‘প্রতারণা’র অভিযোগ আনে।

এদিকে আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি জানান, ইসলামাবাদে ইরানের পর্যবেক্ষণ বা বক্তব্যগুলো পাকিস্তানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বাঘাই লিখেছেন, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। তিনি পাকিস্তানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এই বৈঠকটি মূলত ‘যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ বন্ধ এবং এই অঞ্চলে শান্তি পুনরুদ্ধারে’ পাকিস্তানের চলমান মধ্যস্থতা ও প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের যুদ্ধে ৪২টি বিমান হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন কংগ্রেসের অধীন সংস্থা 'কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস' (সিআরএস)-এর সাম্প্রতিক এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। পেন্টাগন ক্ষয়ক্ষতির হিসাব গোপন রাখতে চাইলেও সিআরএস-এর এই প্রতিবেদন মার্কিন প্রশাসনের ভেতরের বড় বিপর্যয়কে প্রকাশ্যে এনেছে।

৮ ঘণ্টা আগে

জাতিসংঘের বিশেষ দূতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র

২০২৫ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র আলবানেজের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ ছিল, তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে মার্কিন ও ইসরাইলি কর্মকর্তা, কোম্পানি ও ব্যবসায়িক নির্বাহীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উৎসাহিত করেছিলেন। খবর আল আরাবিয়ার।

১১ ঘণ্টা আগে

কিউবার রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্র

মিয়ামির ফ্রিডম টাওয়ারে বক্তব্য দেওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চে ঘোষণা করেন, যুক্তরাষ্ট্র কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে বিমান ধ্বংস এবং আরমান্দো আলেহান্দ্রে জুনিয়র, কার্লোস আলবার্তো কস্তা, মারিও মানুয়েল দে লা পেনিয়া ও পাবলো মোরালেসের মৃত্যুর ঘটনায় পৃথক চারটি হত্যার অভিযোগও আ

১১ ঘণ্টা আগে

শর্ত না মানলে ইরানে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতে, ইরান যদি শেষ পর্যন্ত একটি বাস্তবসম্মত সমঝোতায় আসতে রাজি হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল পরিমাণ সময়, শক্তি এবং সম্ভাব্য প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হবে। এই চুক্তিটি অত্যন্ত দ্রুত, এমনকি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেও সম্পন্ন হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

১৩ ঘণ্টা আগে