শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ আরও ছড়িয়ে পড়ছে ফ্রান্সে, মঙ্গলবার ফের বড় কর্মসূচি

শিক্ষক সংকট, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন ও শিক্ষাব্যবস্থার নানা সমস্যার প্রতিবাদে ফ্রান্সে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনে উসকানির অভিযোগ তোলা হলেও শিক্ষা খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো অযৌক্তিক নয়। সরকারের এগুলো মন দিয়ে শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, আন্দোলনের দ্বিতীয় সপ্তাহে আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) দেশটির ৪০০ থেকে ৫০০টি স্কুল পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ ছিল। আগামীকাল মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দেশ জুড়ে আরও বড় বিক্ষোভ ও স্কুল অবরোধের কর্মসূচি পালনের ঘোষণা রয়েছে।
ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে জানিয়েছেন, দেশটির প্রায় তিন হাজার ৭০০ উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের মধ্যে ৪০০ থেকে ৫০০টি সোমবার আন্দোলনের কারণে বন্ধ থাকার কথা। এর মধ্যে ২৪টি স্কুলে আগুন দেওয়া বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর ৭৮ জন শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। গত সোমবার থেকে দেশজুড়ে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের বেশির ভাগই কিশোর।
বিক্ষোভের সূত্রপাত গত ২১ সেপ্টেম্বর প্যারিসের উপকণ্ঠের ক্রেতেই এলাকার একটি স্কুলে শিক্ষক সংকটকে কেন্দ্র করে। দ্রুত তা রাজধানী পেরিয়ে দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক দিনের মধ্যে স্কুল অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ। অনেক স্কুলে শিক্ষক পদ খালি পড়ে আছে, অনুপস্থিত শিক্ষকদের বিকল্প পাওয়া যাচ্ছে না এবং কোনো কোনো শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৫ জন পর্যন্ত। একই সঙ্গে পুরোনো ও জরাজীর্ণ ভবন, অতিরিক্ত ক্লাসের চাপ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ব্যবহৃত প্ল্যাটফর্ম নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের একাংশের অভিযোগ, এই ব্যবস্থাটি তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।
আন্দোলনের বিস্তৃতিও ঘটেছে খুব দ্রুতই এবং তা প্রায় গোটা ফ্রান্সেই ছড়িয়ে পড়েছে। ফরাসি সংবাদপত্র লা মন্ড জানিয়েছে, সোমবার শুধু প্যারিস অঞ্চলেই প্রায় ১৬০টি স্কুল বন্ধ থাকার কথা জানানো হয়। গত সপ্তাহের এক পর্যায়ে দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ উচ্চমাধ্যমিক স্কুল কোনো না কোনোভাবে আন্দোলনের প্রভাবে ছিল।
ফ্রান্স সরকারের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে, কারণ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কিছু অবরোধ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। স্কুলে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশ মোতায়েন করতে হয়েছে। সরকার রাজনৈতিক গোষ্ঠীর উসকানির অভিযোগ তুললেও শিক্ষক সংগঠন, অভিভাবক ও শিক্ষাবিশেষজ্ঞদের অনেকে শিক্ষার্থীদের মূল দাবিগুলো নিয়ে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
আন্দোলনের সময়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ফ্রান্স সরকার যখন ২০২৭ সালের বাজেট ঘাটতি কমানোর কঠিন পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে, তখন শিক্ষা খাতের এই অস্থিরতা সরকারের ওপর নতুন সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে। একই সময়ে ফরাসি ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদ ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।


-b88157.jpg)

















