স্পেনে আবাসন সংকটের আন্দোলন গড়াল আগাম নির্বাচনে, ২৯ নভেম্বর ভোট

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আবাসন সংকট নিরসনের দাবিতে স্পেনের রাজপথে নেমেছিল হাজারও জনতা। আন্দোলনের মুখে আগাম নির্বাচন ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে দেশটির সরকার। ছবি: সংগৃহীত
আবাসন সংকট নিরসনের দাবিতে স্পেনের রাজপথে নেমেছিল হাজারও জনতা। আন্দোলনের মুখে আগাম নির্বাচন ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে দেশটির সরকার। ছবি: সংগৃহীত

স্পেনে তীব্র আবাসন সংকট, বাড়তে থাকা ভাড়া ও সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যেই আগাম সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। আগামী ২৯ নভেম্বর ভোট হবে বলে টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে জানিয়েছেন তিনি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এপির খবরে বলা হয়েছে, সানচেজের সংখ্যালঘু সরকার গত সপ্তাহে আবাসন সংকট মোকাবিলায় দুটি জরুরি প্রস্তাব পার্লামেন্টে তুলেছিল। এর মধ্যে ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ থেকে সুরক্ষা ও আবাসন নিয়ে জল্পনাকেন্দ্রিক বিনিয়োগ ঠেকানোর ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু ডানপন্থি বিরোধী দলগুলোর বিরোধিতায় দুটি প্রস্তাবই আটকে যায়।

এরপরই ক্ষোভ আরও ছড়িয়ে পড়ে। গত শনিবার মাদ্রিদসহ স্পেনের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নামে। আয়োজকদের দাবি, সেখানে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা ভাড়া কমানো, দীর্ঘমেয়াদি ভাড়ার চুক্তি ও বড় বিনিয়োগকারীদের মালিকানাধীন বাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন।

ইউরো নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পেনে চলমান এই আবাসন সংকটের প্রতীক হয়ে উঠেছে ৮৭ বছর বয়সী মারিকারমেন আবাসকালকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের ঘটনা। প্রায় সাত দশক ধরে যে বাড়িতে তিনি ছিলেন, সেটির মালিকানা একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের হাতে যাওয়ার পর তার ভাড়া ব্যাপকভাবে বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তাকে উচ্ছেদের দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ার পর জনমনে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়। পরে নতুন মালিকপক্ষ তাকে কম ভাড়ায় বাড়িতে ফেরার সুযোগ দেওয়ার কথা জানায়।

সানচেজের জন্য অবশ্য সংকট শুধু আবাসন ইস্যুতে সীমাবদ্ধ নয়। সংখ্যালঘু সরকার হিসেবে পার্লামেন্টে আইন পাস করাতে তাকে ছোট দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক ভোটাভুটিতে সেই সমর্থন ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। আগাম নির্বাচন ডাকার মাধ্যমে তিনি এবার আরও শক্তিশালী সংসদীয় ভিত্তি পাওয়ার চেষ্টা করছেন।

আবাসন সংকটের প্রতিবাদে উত্তাল স্পেনের রাজপথ। ছবি: সংগৃহীত
আবাসন সংকটের প্রতিবাদে উত্তাল স্পেনের রাজপথ। ছবি: সংগৃহীত

অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল পিপলস পার্টির নেতা আলবার্তো নুনিয়েস ফেইহো আগাম নির্বাচনকে স্বাগত জানিয়েছেন। নির্বাচনের আগে আবাসন সংকট, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সরকারের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

সানচেজের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল আগামী বছর। তার আগেই ভোট ডাকায় স্পেন এখন কয়েক সপ্তাহের তীব্র নির্বাচনি প্রচারে ঢুকে পড়ল।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement